post

ভারতবর্ষে ইসলামী দাওয়াহ ও সংস্কার আন্দোলন

আব্দুদ্দাইয়ান মুহাম্মদ ইউনুছ

২৪ মার্চ ২০২২

[ ১ম পর্ব ]

ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ধরা হয় ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাশিমের সিন্ধু বিজয়ের সময় থেকে। ইসলাম এসময়ে রাজনৈতিকভাবে ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয় একথা সত্য হলেও, ইসলামের সাথে ভারতবাসীর পরিচয় হয় রাসূল সা.-এর সময় থেকেই। ভারতের আধুনিক তামিলনাড়– রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চল মালবারে প্রাচীনকালে এক রাজ্য ছিল। এই রাজ্যের রাজা ছিলেন চেরুমল পেরুমল। তিনি রাসূল সা.-এর কথা শুনতে পান আরব ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। এমনি একটি আরব বণিকদলের সাথে তিনি মদিনা সফরে আসেন এবং রাসূল সা.-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। এর ফলে মালাবার ভারতে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। রাজা পেরুমলের প্রতিষ্ঠিত ভারতের প্রথম মসজিদ এখনো কেরালা রাজ্যে বিদ্যমান। এইচ জে রলিসন তার “ÒAncient and Mediaval History of India” গ্রন্থে বলেছেন, সপ্তম শতকের শুরুতে মালাবার এলাকায় আরব মুসলিম বণিকরা তাদের বসতি স্থাপন করেন। প্রথম ভারতীয় মসজিদ নির্মিত হয় ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে। রাম বর্মা কুলা শেখারা এই মসজিদ নির্মাণ করেন। কেরালার কদুঙ্গেলা এলাকায় এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মালিক বিন দিনার তার ইতিহাস গ্রন্থে এই বিষয়টির ওপর আলোকপাত করেছেন।১

মালাবারের মাপিলিস সম্প্রদায় সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করে। উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হবার কারণে মালাবারের সাথে আরবদের নিবিড় সংযোগ ছিল। এ কারণে তারাই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করে। ধারণা করা হয় যে, মালাবারবাসীর মধ্যে আরবদের রক্ত রয়েছে। মূলত বিয়ে এবং ধর্মান্তকরণের মাধ্যমে এতদঞ্চলে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে। রাসূল সা.-এর একটি বিখ্যাত হাদিস হচ্ছে শেষ জমানায় ভারতের সৈন্যরা দুনিয়ায় আবার ইসলামের ঝাণ্ডা উড়াবে। এ কারণে মুসলমানদের মধ্যে ভারত জয়ের একটি প্রবণতা সবসময় ছিল। সাহাবা রা.-গণও বিভিন্ন সময়ে ভারতের পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শরিক হতেন।  

খলিফা ওমর রা.-এর সময়ে হিজরি ২৩ সালে মোতাবেক ৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে ভারত জয়ের এক অভিযান প্রেরণ করা হয়। হাকাম বিন আমর আল তাগরিব এরূপ একটি অভিযান নিয়ে সিন্ধু নদ পর্যন্ত অগ্রসর হন। এসময় পশ্চিম ভারতেও জলপথে ভারত জয়ের অভিযান চালানো হয়। তবে মুসলমানরা এসময় কোনো ভূমি জয় করতে পারেননি। খলিফার আদেশে অভিযান বন্ধ করার কারণেই এমনটি হয়েছিল বলে ঐতিহাসিকরা মত প্রকাশ করেছেন। আরব জেনারেল আল হাকাম ভারতে তার অভিযান পরিচালনা করার জন্য সাহাবি সুহার বিন আল আবদিকে খলিফা উমর রা.-এর দরবারে পাঠান। সুরার খলিফার কাছে ভারতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, এটি এমন একটি দেশ যা নানা রকমের খারাবিতে পূর্ণ। তিনি বলেন, এখানকার মানুষেরা সাহসী। বিশাল সেনবাহিনীকে এখানে মনে হয় ক্ষুদ্র। ক্ষুদ্র সেনাবাহিনী হারিয়ে যাবে এর বিশালতায়। এ ধরনের বর্ণনা শুনে খলিফা ওমর রা. ভারতে অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে বলেন। 

উসমান বিন আবিন আল আস আল সাকাফি বোম্বের সমুদ্রবন্দর থানার মাধ্যমে প্রথম নৌ অভিযান পরিচালনা করেন ভারতে। তিনি বাহরাইনের গভর্নর ছিলেন। তবে এই অভিযানে আরবরা কোন ধরনের ভূমি জয় করতে ব্যর্থ হয়। যদিও ঐতিহাসিকরা থানার এই অভিযানকে মুসলমানদের একটি সফলতা হিসেবেই দেখে থাকেন। কেননা এই অভিযান তার পূর্ণতা পাবার আগেই খলিফার নির্দেশে বন্ধ করা হয়। ভারতে মুসলিমদের অভিযানে যেসব সাহাবা অংশগ্রহণ করেন তাদের কিছু কিছুও নাম পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে আছেন, আবদুল্লাহ বিন উতবান, আসিম বিন আমর আল তামিমি, সুহার বিন আল আবদি, সুবাইল বিন আদি এবং হাকাম বিন আবি আর সাকাফি। খলিফা উসমানের শাসনামলে উবাইদুল্লাহ বিন মামার আর তামিমি সিন্ধুর মুকরান এলাকায় বিদ্রোহ দমন করেন। শুধু তাই নয় তিনি সিন্ধু নদের অববাহিকা পর্যন্ত আরব প্রভাব বিস্তার করেন। ২৯৬/৩০ সালে উবাইদুল্লাহ ফারসের গভর্নর হয়ে চলে যান। তার স্থলে উমাইর বিন উসমান এখানকার গভর্নর নিযুক্ত হন। 

আমির মুয়াবিয়ার সময়ে আল মুহাল্লাব আব্দুর রাহমান বিন সামুরার অধীনে একজন আরব জেনারেল ভারতে অভিযান চালান। মূল বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি ভারতের কেন্দ্রস্থলে অগ্রসর হন। তার সেনাদলে মূলত নিজের গোত্রের লোকেরাই ছিল। তিনি কাবুলের দিকে অগ্রসর হয়ে লাহোর পর্যন্ত অভিযান চালান। ৪৪ হিজরি (৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি এই অভিযান চালান। অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কোথাও পাওয়া যায় না। তবে ফিরিস্তা এক বর্ণনায় বলেন যে, আল মুহাল্লাব ভারত থেকে ১২ হাজার বন্দি নিয়ে যান যাদের অনেকে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। আল খাতিব আল বাগদাদী বলেন যে, খালাফ বিন সালিম আল সিন্ধি (মৃত্যু ২৩১) মুহাল্লাব পরিবারের একজন সদস্যও হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন। এ থেকে ধারণা করা যায় যে তিনি হয়তো মুহাল্লাবের গ্রেফতার করে আনা কোনো একজন যুদ্ধবন্দির বংশধর ছিলেন। 

ভারতের পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রাম বন্দর ছিল ইসলাম আগমনের আরেকটি কেন্দ্র। মূলত সেসময়ে চীন ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবসা কেন্দ্র। চীন যাবার পথে চট্টগ্রাম বন্দরকে যাত্রাবিরতি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ৬১৮ খ্রিস্টাব্দে সাহাবি আবি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে একটি দল চট্টগ্রাম আসেন বলে মুহাদ্দিস ইমাম আবাদনা মারওয়াজি বর্ণনা করেছেন। তবে ভারতে ইসলাম বিজয়ের বেশে এলেও এখানে এর বিকাশ ঘটেছে মূলত সুফি সাধকদের মাধ্যমে। এ কারণেই ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে সুফি সাধকদের প্রতি বিশেষ অনুরাগ দেখা যায়। 

কাদেরীর মতে (১৯৬৮-৯৭) ভারতে মুসলমানদের শাসন শুরু হয় মুহাম্মদ বিন কাসিমের ভারত জয়ের পর থেকে। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধু জয় করেন। ইসহাক (১৯৫৫) উল্লেখ করেছেন যে, যদিও সিন্ধু জয়ের অভিযান শুরু হয় সাহাবাদের সময় থেকেই ২৩ হিজরি/ ৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে, তবে তা শেষ পর্যন্ত জয় করা হয় তাবিউনদের প্রাথমিক যুগে। প্রাক-ইসলামী যুগ থেকেই ভারতের সাথে আরবদের বাণিজ্যিক, সামাজিক এবং মিত্রতামূলক যোগাযোগ ছিল। অনেক আরব ভারতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী হিসেবে এবং ভারতকে আরবদের বন্ধুতে পরিণত করেছিলেন। পরবর্তীকালে আরবদের সাথে সামাজিক মেলামেশার কারণে ভারতীয়রা ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়। তারা কেবলমাত্র ইসলাম গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হয়নি আরবি ভাষাও খুব ভালো ভাবে শেখে। অনেক ভারতীয় মুসলিম আরব বিশ্বে দীর্ঘদিন অবস্থান করে এবং দেশে ফিরে এসে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। শারফুদ্দিন (১৯৮৪) উল্লেখ করেছেন যে, আদিকাল থেকেই ভারতীয়দের সাথে আরবদের ব্যবসায়িক, সামাজিক এবং সমঝোতামূলক সম্পর্ক ছিল। সুফিরা ভারতীয়দের ইসলামী ছায়াতলে আনতে বিরাট ভূমিকা পালন করেন। তার মানে হলো ইসলাম এবং কুরআন ভারতে এসেছে শতাব্দীকাল আগে। এটি এমন এক সময় ছিল যখন অনেকেই আরবি জানতেন খুব ভালোভাবে। আরবিতে অনেক তাফসির লেখা হয়। তবে পর্যায়ক্রমে আরবি ভাষা তার প্রভাব হারায় এবং তার জায়গায় উর্দু স্থান করে নেয়। তবে এসব অনুবাদ ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে কোনো গুরুত্ব এখন বহন করে না। তবে এগুলো তাফসিরের ভাষা হিসেবে উর্দুর বিবর্তনকে বুঝতে সহায়তা করে।২


সাহাবা ও আরব বণিকদের আগমন 

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, হযরত মুহাম্মদ সা.-এর আগমনের আগ থেকেই ভারতে অনেক আরব বণিকের আগমন ঘটে। তাঁদের সাথে ভারতীয়দের আলাপ-আলোচনা ও সামাজিক এবং বাণিজ্যিক বন্ধনের কারণে আরবি ভাষা অনেক ভারতীয় আরবি ভাষা চর্চা করেন। হযরত মুহাম্মদ সা.-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর কিছু সাহাবা বণিক ভেসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গমন করলেও তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের প্রচার। ভারতবর্ষে প্রথম হিজরি শতাব্দীতেই ইসলামের আগমন ঘটে। আল্লাহর রাসূলের কতিপয় সাহাবার পদধূলিতে ধন্য হয় এই অঞ্চল। রাসূলে কারিম সা. বিদায় হজে উপস্থিত সাহাবাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন যে, “আজকে তোমরা যারা উপস্থিত আছো তাদের দায়িত্ব হচ্ছে যারা অনুপস্থিত রয়েছে তাদের কাছে আমার বাণী পৌঁছে দেওয়া।” আল্লাহর রাসূলের উক্ত নির্দেশনা শোনার পর দাওয়াত ইলাল্লাহর অনুভূতি নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের একটি অংশ বিভিন্ন দেশে ছুটে যান। ভারতীয় উপমহাদেশে কিছু সাহাবার আগমন করেন। হযরত ওমর ফারুক রা.-এর সময়ে হযরত হাকাম ইবন আবুল আস, হযরত মামুন ও হযরত মোহাইমেন প্রমুখ সাহাবা বাংলাদেশ আগমন করেন বলে জানা যায়। মূলত ইসলামের দাওয়াত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে সাহাবাদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা মানবতাকে মানুষের গোলামি থেকে আল্লাহর গোলামির দিকে আহবান করার জন্য বিভিন্ন দেশে ছুটে গিয়েছেন এবং সেই আহবানে সাড়া দিয়ে ইয়াহুদি, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু, অগ্নিপূজক, নাস্তিক অনেকই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। 


সুফি সাধক পীর-দরবেশদের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার

ভারতে ইসলাম প্রচারে সুফি-সাধক, পীর-আউলিয়া এবং উলামায়ে কেরামের বিরাট অবদান রয়েছে। তুরস্ক, খোরাসান ও ইরান থেকে অনেক সুফি-দরবেশ ইসলামকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন।৩ মুসলিম সুফি সাধকদের মাঝে নিযামুদ্দিন আউলিয়া, হযরত মঈনুদ্দিন চিশতী, হযরত শাহজালাল, শাহ মাখদুম, বায়েজিদ বোস্তামী, মাওলানা কারামাত আলী জৌনপুরী প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। তাঁদের কারণে সুফিবাদ ও পীরবাদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষ সুফি, সাধু-সন্ন্যাসী দ্বারা নানাভাবে প্রভাবান্বিত। তাদের অনেকেরই মৃত্যুর পর তাঁদের কবরকে মাজারে পরিণত করে কবর পূজা, মাজার পূজার নামে ব্যবসা চলছে। মাইজভান্ডারী এবং তথাকথিত সুন্নির নামে শিরক-বিদয়াতের অনুসরণ হচ্ছে অনেক অঞ্চলে। সত্যিকারার্থে ইসলামের পুনর্জাগরণের ক্ষেত্রে এই ধরনের শিরক-বিদয়াতের চর্চা এক বিরাট বাধা। একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হচ্ছে সমাজে ইসলামী ভাবধারার লালন এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি। শিরক-বিদয়াতমুক্ত সহিহ ইসলামী তাহজিব-তমদ্দুন মানুষের সামনে তুলে ধরতে। 


ভারতে মুসলিম শাসনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস

ভারতে মুহাম্মদ বিন কাসিম এর নেতৃত্বে সিন্ধু বিজয়ের আগেই বিভিন্ন পীর-দরবেশ ও আরব বণিকদের আগমন ঘটে। মুহাম্মদ ইবন কাসিম উমাইয়াদের অধীনে নিযুক্ত থাকলেও তাঁর রক্তধারায় ছিল ইসলামের আদর্শ। কিন্তু তাঁর শাসন স্থায়ী না হওয়ায় ইসলাম বিস্তৃতির সুযোগ পায়নি। কিন্তু সূচনালগ্ন থেকে ভারতের আর্য সভ্যতা ও দর্শনের সাথে ইসলামী সভ্যতা ও দর্শনের সংঘাত শুরু হয়। একটা পর্যায়ে ভারতীয় জনসাধারণ বৌদ্ধধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু বৌদ্ধ সমাজে নানাবিধ অনাচারের কারণে জনতা ক্রমেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে হিন্দু সংস্কৃতি শ্রেণি বৈষম্য সৃষ্টি করে। যখন ভারতে মানুষের দ্বারা মানুষ চরমভাবে অপমানিত হতে লাগল তখন তুর্কিদের দ্বারা উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারিত হলে সাধারণ মানুষ ইসলামের মধ্যে মুক্তির স্বাদ খুঁজে পায়। পুরোহিতরা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ বজায় রাখার জন্য ইসলামের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে উত্তেজিত করে। কিন্তু ইসলামের তাওহিদের মূলমন্ত্রে মানুষ ব্যাপকভাবে উদ্ধুদ্ধ হয়। এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজন যে যেসব বিজয়ী পাঠান বা তুর্কিরা এদেশে শাসন করেছিলেন তারা ছিলেন নবদীক্ষিত মুসলিম। তাঁরা ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেয়ে তাদের বংশ প্রতিষ্ঠা করার কাজেই বেশি ব্যস্ত ছিলো। এই ক্ষেত্রে কয়েকজন স¤্রাট ব্যতিক্রম ছিলেন। স¤্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামল থেকেই মোগল স¤্রাটদের নীতিতে পরিবর্তন শুরু হয়। স¤্রাট শাহজাহান (১০২৭-১০৬৮) এই পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়। স¤্রাট আকবরের সময়ে রাজদরবারে যেসব অনৈতিকতার বীজ বপন করা হয় এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এরই প্রভাব যেভাবে বদ্ধমূল হয় তা দূর করা সময় সাপেক্ষে ছিল। তাই স¤্রাট জাহাঙ্গীরের সময় সংস্কার শুরু হলেও স¤্রাট আওরঙ্গজেবের সময় তা পূর্ণতা লাভ করে। তিনি রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামী অনুশাসন প্রবর্তন করেন। যদিও তিনি রাজতান্ত্রিকতার ধারাবাহিকতায় মসনদে আসীন হন তারপরও তাঁর সময়কাল ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য সোনালি অধ্যায় ছিল।


ভারতে মুসলিম শাসনের পতন 

মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী ১২০১ সালে বঙ্গ বিজয় করার পর থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন ছিল। মুসলিম শাসনের সময় মুসলমানেরা কখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল না বরং সংখ্যালঘিষ্ঠ থাকার পরও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু, বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীগণ মুসলিম শাসন মেনে নেয়। কারণ ইতঃপূর্বে হিন্দু ও বৌদ্ধ শাসকদের নির্যাতনে ভারতের মানুষ অতিষ্ঠ ছিলো। যেমনিভাবে স্পেনে মুসলিম শাসনের সময় রাজা রডারিকের নির্যাতনে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টানরা মুসলিম শাসন মেনে নেয়। মূলত জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠাসহ মুসলিম শাসনামলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। নাগরিক সুযোগ সুবিধা অনেক বৃদ্ধি পায়। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাট নির্মিত হয়। এক কথায় জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কারণে জনগণ সন্তুষ্টচিত্তে মুসলিম শাসনকে স্বাগত জানায়। 

১৭৫৭ সালে মীর জাফর আলী খানের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন হয়। শেষ মোগল স¤্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের রেঙ্গুন নির্বাসনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা-পাক-ভারত উপমহাদেশে শত শত বছরের মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে। সিপাহি বিপ্লবোত্তর সীমাহীন নির্যাতন, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো অথবা আন্দামানে নির্বাসনে দেওয়ার মাধ্যমে মুসলমানদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস চালানো হয়। ১৮৫৭ সালে ভারতে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন তুমুল পর্যায়ে উন্নীত হয়। এই সময় দিল্লির স¤্রাট বাহাদুর শাহ এক ফরমানের মাধ্যমে বিদেশী সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনসাধারণের প্রতি আহবান জানায়। উক্ত আহবানে জনগণ বিপুলভাবে সাড়া দেওয়ায় ইংরেজদের ক্ষমতার ভিত নড়ে ওঠে। তারা স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতন চালায়। ১৮৫৭ সালে লালবাগের কেল্লা রক্তে রঞ্জিত হয় হাজারো মুসলমানের লহুতে। লালবাগের যেই স্থানটিতে স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের রক্ত ঝরে সেই স্থানটিকে পরবর্তীতে ইংরেজরা কারাগারে পরিণত করে। ইংরেজদের হাতে বন্দী বিপ্লবী মুসলমানদের অনেককেই বিচারের নামে প্রহসন করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এই রকম নিষ্ঠুরভাবে হাজার হাজার মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হয়। সেই সময় যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরবাসে দণ্ডিতদের সংখ্যাই ছিল দশ হাজারের বেশি। আন্দামানে বন্দী ফজলে হক খায়রেবাদী লিখেন, “স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলেই হিন্দুদেরকে আটক করা হতো; আর মুসলমানদেরকে হত্যা করা হতো।” 

১৮৫৭ সালের বিপ্লবের পর মুসলমানদের রাজনৈতিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। ইংরেজগণ বিপ্লবের জন্য একমাত্র মুসলমানদেরকেই দায়ী করে তাদের ওপর অত্যাচারের স্টিমরোলার চালাতে থাকে। বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী ওলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মুসলমানদের অনেকেই ইংরেজদের রোষানলে পড়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেন। কেউ মাল্টা বা আন্দামান দ্বীপে নির্বাসিত হন। কেউ দীর্ঘকাল যাবৎ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে অন্তরঢু থেকে তিলে তিলে নিংশেষ হয়।৪


ভারতবর্ষে কতিপয় সংস্কার আন্দোলন ও অগ্রপথিক 

ভারতবর্ষে ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলনে অনেক মুজাদ্দিদ ও ইসলামী চিন্তাবিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে আর কেউ কেউ সংঘবদ্ধভাবে এই আন্দোলন করেন। এই ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলনের বর্তমান সংজ্ঞায় আন্দোলন না হলেও তাদের কার্যক্রম তার ভিত্তি তৈরি করেছে। আবার এই আলোচনায় এমন কয়েকজন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যাঁদের কার্যক্রম তাদের অনুসারীরা তাযদিদে দীনের কাজ বলে প্রচারণা চালালেও মূলত তাদের চিন্তাধরারায় বিদয়াত ছিল। নিচে এই সম্পর্কে অত্যন্ত সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো: 


জামাল উদ্দিন আফগানির (১৮৩৯-১৮৯৭) সংস্কার প্রচেষ্টা

ঊনবিংশ শতাব্দীতে সৈয়দ জামাল উদ্দিন আফগানি মুসলিম বিশ্বের এক গভীর সঙ্কটকালে জন্মগ্রহণ করেন এবং জাতিকে সঙ্কট উত্তরণে দিকনির্দেশনা দান করেন। সঙ্কটময় সময়ে অনেকেই নীরব দর্শক থাকেন কিংবা সমালোচনা করেই দায়িত্ব শেষ করেন। কিন্তু আফগানি নীরব দর্শক বা নেহায়েত সমালোচক না হয়ে তাঁর মেধা ও যোগ্যতা সঙ্কট উত্তরণে নিয়োজিত করেন। তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি স্থাপনের প্রতি গুরুত্ব দেন। তিনি ছিলেন বিশ্ব প্যান ইসলামী আন্দোলনের পথিকৃৎ। তাঁর আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম দেশগুলোকে আবার সংঘবদ্ধ করে তাদের বুকের উপর থেকে বিদেশী শাসন উৎখাত করা। প্যান ইসলামীজমের মূল কথা ছিল: ১. সকল মুসলিম রাষ্ট্র নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখে পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যজোট গঠন করবে। নিজেদের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলবে। ৩. একে অন্যের অভ্যন্তরঢু বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। আফগানি রাজতন্ত্র কিংবা পশ্চিমা গণতন্ত্রের পরিবর্তে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক কল্যাণমূলক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করতে প্রয়াস চালান। তিনি মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। আফগানি মনে করতেন, আলেমদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কিন্তু একশ্রেণির আলেম উক্ত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম নন। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের আলেমদের সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো তাঁরা ইসলাম রক্ষার নামে আধুনিক জ্ঞানার্জনের পথে বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে ইসলামের সাথেই শত্রুতা করেন। অথচ ইসলাম হচ্ছে জ্ঞান ও শিক্ষার সবচেয়ে সহায়ক আদর্শ।” 

আফগানি একজন সংস্কারক ছিলেন। কিন্তু তিনি সমাজ সংস্কার আন্দোলনে একশ্রেণির আলেমদের প্রচণ্ড বাধার সম্মুখীন হন। একইভাবে অব্যাহত বাধার সম্মুখীন হয়ে তিনি ভারত থেকে তুরস্কে চলে যান। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আলী পাশা তাঁকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন। কিন্তু একপর্যায়ে স্বার্থান্বেষী কতিপয় আলেম তাঁর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষেপে যায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে সুলতানের কাছে অভিযোগ দেয়। সুলতান আব্দুল হামীদ প্রশাসনিক শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে আফগানিকে তুরস্ক ত্যাগের নির্দেশ দেন। তুরস্ক থেকে বিতাড়িত হয়ে আফগানি কায়রো চলে যান এবং সেখানে সেবা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি যুবসমাজকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করেন। এর ফলে মিশরবাসীর মাঝে এক জাগরণ সৃষ্টি হয়। ফলে ফরাসি ও ইংরেজরা আফগানিকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করে। তাদের চাপে মিশর সরকার আফগানিকে মিশর ত্যাগের নির্দেশ দেয় এবং ১৮৭৯ সালে তাঁকে ভারতে নির্বাসনে পাঠায়। কিন্তু নির্বাসিত জীবনের সকল বাধা উপেক্ষা করে আফগানি মুসলমানদের মাঝে তাদের মুক্তির আকাক্সক্ষা জাগ্রত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।


সাইয়েদ আহমদ বেরলবী শহীদের তরিকায়ে মুহাম্মদী আন্দোলন তথা মুজাহিদ আন্দোলন 

ঊনবিংশ শতাব্দী ছিল মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক। মুসলমানেরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। মুসলমানদের এই ধরনের করুণ পরিস্থিতিতে সাইয়েদ আহমদ বেরলবী ইসলামী পুনর্জাগরণে এগিয়ে আসেন। 

সাইয়েদ আহমদ বেরলবী শহীদ ১৮১৮-১৮২০ সালে মুজাহিদুন আন্দোলন শুরু করেন। তিনি আহমদ সরহিন্দ, শাহ ওয়ালী উল্লাহ, শাহ আব্দুল আজিজ ও শাহ আব্দুল কাদিরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই আন্দোলন শুরু করেন। মাওলানা আব্দুল হাই ও মাওলানা শাহ ইসমাঈল শহীদসহ এক সাথে তাঁরা কাজ করেন। সাইয়েদ আহমদ ১৭৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৩১ সালে শাহাদাত বরণ করেন। শাহ ইসমাঈল শহীদ ১৭৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৩১ সালে শাহাদাত লাভ করেন। শাহ ওলিউল্লাহর চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়ে সাইয়েদ আহমদ বেরলবী ও শাহ ইসমাঈল শহীদ ইসলামী পুনর্জাগরণ আন্দোলন শুরু করেন এবং বলতে গেলে তাঁরাই প্রথম ইকামাতে দ্বীনের জন্য সংগঠিত উপায়ে প্রয়াস চালান। ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের জীবনে যেসব অনাচার ও বিদয়াত ঢুকে পড়ে তাঁরা সেগুলো সংস্কারের চেষ্টা করেন এবং দ্বীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মানুষকে সংগঠিত করেন। সেই সময় মোগল সাম্রাজ্যের এক বিরাট অংশে মারাঠাগণ হাঁটু গেড়ে বসে। তখন উপমহাদেশের মুসলমানদের সামনে তিনটি পথ খোলা ছিল: ১. সত্য পথ ত্যাগ করে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা। মূলত এই পথ হচ্ছে মৃত মুসলমানদের জন্য। ২. সত্য পরিত্যাগ না করা এবং এই কারণে যত বিপদই আসুক না কেন তা ধৈর্যসহকারে মোকাবিলা করা। এই পথ হচ্ছে যারা মুসলমান হিসাবে বেঁচে থাকার আশায় তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে চায় তাদের জন্য। ৩. অসত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এই পথ হচ্ছে পৌরুষের সাথে বেঁচে থাকার পথ। এই পথ হচ্ছে মুজাহিদদের পথ। 

সাইয়েদ আহমদ বেরলবী মুসলমানদের সেই দুর্যোগময় সময়ে তৃতীয় পথটিই বেছে নেন। তাঁর প্রধান কাজ ছিল আল্লাহর বান্দাহদেরকে তাওহিদের দিকে আহবান জানানো এবং তাদের চরিত্র সংশোধনের চেষ্টা করা। তিনি তরিকায়ে মুহাম্মদী নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং লেখনীর মাধ্যমে তাঁর সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে জনগণের মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই জন্য তিনি ব্যাপক সফর করেন। সৈয়দ আহমদ প্রতিষ্ঠিত তরিকায়ে মোহাম্মদী আন্দোলন সম্পর্কে উইলিয়াম হান্টার তার ‘দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে, তাঁর একমাত্র শিক্ষা হলো আল্লাহর বন্দেগি করা এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ভিক্ষা করা।’ আদর্শের আলোকে কর্মী তৈরি ছিল তাঁর অন্যতম কাজ। তিনি বলতেন, ‘আন্দোলনের মেজাজ অনুযায়ী কর্মী তৈরি না হলে সফলতা সম্ভব নয়।’ সংগঠনের জেলা দফতরগুলোতে সাধারণ বাইয়াত গ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণের পর কর্মী বাছাই করা হতো। এরপর কর্মীদের মাঝে চলতো প্রশিক্ষণ। তুলনামূলকভাবে অগ্রসর কর্মীদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। তাঁর আন্দোলনের তিনটি স্তর ছিল: সমর্থক, কর্মী ও মুজাহিদ। তরিকায়ে মোহাম্মদী আন্দোলনের কর্মীদের বৈশিষ্ট্য ছিল তারা নিজেকে এবং নিজের সম্পদকে দ্বীনি আন্দোলনের পথে উৎসর্গ করাকে জীবনের চরম সৌভাগ্য মনে করতো। আর যখন কোনো মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করতেন তখন বলা হতো তিনি তাঁর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেছেন। তিনি তাঁর আন্দোলনের জন্য বায়তুলমাল প্রচলন করেন। উক্ত আন্দোলনে যারা শামিল হতো তাদেরকে নিজের পকেট থেকে সামর্থ্য অনুসারে অর্থ প্রদান করতে হতো। সৈয়দ সাহেব যখন ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সে সময় প্রচার করা হয় যে তিনি ইংরেজদের বন্ধু এবং তাঁর আন্দোলনকে ওয়াহাবি আন্দোলন হিসাবে প্রচার করা হয়। সে সময় ইংরেজরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে তাঁর কিছু সহচরকে ক্রয় করার ব্যর্থ চেষ্টা চালান। সৈয়দ সাহেব ১৮২১ সালে কলকাতায় আসেন। বাংলার ওলামায়ে কেরামসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁর সান্নিধ্যে এসে বাইয়াত গ্রহণ করেন। তখন সীমান্তের মুসলিম জনবসতির উপর শিখদের নির্যাতন চরম পর্যায়ে পৌঁছে। তারা মসজিদে আজান বন্ধ করে দেয় এবং গরু জবেহকে বেআইনি করে। তাদের জুলুম সহ্যের বাইরে চলে গেলে ১৮২৬ সালে বেরলবী হাজার হাজার অনুসারী নিয়ে শিখদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তাঁকে ব্রিটিশ, শিখ ও হিন্দু এই তিন শক্তির মোকাবিলা করাসহ অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। ১৮২৮ সালে কঠিন সঙ্কটকালে বাংলাদেশ থেকেই জনশক্তি ও আর্থিক সাহায্য করা হয়। তাঁর আন্দোলনকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলার মুসলমানদের ঘরে ঘরে মুষ্টি চাল রাখার ব্যবস্থা চালু হয়। মুসলিম মহিলারা তাদের অলঙ্কার ও কৃষক তাদের গরু বাছুর বা জমি বিক্রয় করে আর্থিক সাহায্য পাঠায়। 

সৈয়দ সাহেব সীমান্তের বিরাট এলাকায় ইসলামী শরিয়ত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শরিয়তের বিধান চালু হবার পর পুরো এলাকায় শান্তি নেমে আসে। একজনের উপর অন্যজনের জুলুম বন্ধ হয়। ওশর, যাকাত ও খারাজ আদায় ও বণ্টনের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর উক্ত ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়। ওশর ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর মোল্লাদেরকে চাঁদা দেওয়ার নিয়ম বাতিল হয়ে যায় এবং স্থানীয় সরদারদের কর্তৃত্ব লোপ পায়। তারা ইচ্ছামত জনগণকে শোষণ করতে পারতো না। কতিপয় মোল্লা ও সরদার ইংরেজ ও শিখদের সাথে গোপনে যোগাযোগ করে সৈয়দ সাহেবের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়। এমনকি তাঁকে ইংরেজদের চর হিসাবেও আখ্যায়িত করে জনসাধারণের নিকট প্রচার করা হয় যে, সৈয়দ সাহেবের সহযোগিতার পরিবর্তে তাঁর বিরোধিতাই হচ্ছে ইসলামের বড়ো খিদমত। ইংরেজ সরকার এবং শিখরা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। তারা তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে মুজাহিদদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কাউকে ঘুমের মধ্যে আবার কাউকে নামাজের মধ্যে কিংবা পথ চলার সময় হত্যা করা হয়। বিভিন্ন স্থানে রক্ষিত খাদ্যগুদাম লুট করা হয়। এমতাবস্থায় তিনি পাঞ্জতর থেকে হিজরত করেন। সেই সময় কাশ্মীরের কিছু মুসলিম সরদার কাশ্মীরের নির্যাতিত মুসলমানদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য সৈয়দ সাহেবের প্রতি অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ১৮৩১ সালের এপ্রিল মাসে সৈয়দ সাহেব তাঁর অনুগত বাহিনী নিয়ে বালাকোট পৌঁছেন। তখন উক্ত অঞ্চলে শিখ বাহিনীর সেনাপতি ছিল শেরসিংহ। তার সেনাবাহিনীর সংখ্যা ছিল মুসলমানদের কয়েকগুণ বেশি। শেরসিংহ সৈয়দ সাহেবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। এই ধরনের কঠিন অবস্থায় সৈয়দ সাহেব আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে শত্রুর মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৩১ সালের ৬ মে বালাকোট ময়দানে শেরসিংহের বাহিনীর সাথে সৈয়দ আহমদ বেরলবীর অনুসারীদের প্রচণ্ড লড়াই হয়। উক্ত যুদ্ধে সাইয়েদ আহমদ বেরলবী ও মাওলানা শাহ ইসমাঈলসহ দুই শতাধিক মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেন।


নিসার আলী তিতুমীরের জিহাদ আন্দোলন

ভারতে জিহাদ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা নিসার আলী তিতুমীর পশ্চিম বাংলার ২৪ পরগণায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুব বেশি উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন না। তবে ইসলামের বিভিন্ন শাখায় জ্ঞানার্জন করেন এবং শরীরচর্চায় পারদর্শী ছিলেন। জমিদার পরিবারে বিবাহ করেন। ১৮২২ সালে সৈয়দ আহমদ বেরলবী হজ্জ থেকে ফেরার পথে তাঁর হাতে তিনি বাইয়াত গ্রহণ করেন। তারপর ১৮২৩ সালে হজ্জে যান। হজ্জ থেকে ফেরত এসে ফরিদপুরের নারকেল বাড়িয়ায় জিহাদ আন্দোলন শুরু করেন। তিনি তাওহিদ, উখওয়াহ ও আমর বিল মারুফ এবং নেহি আনিল মুনকারের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। সেই সময় মুসলমানেরা হিন্দুদের প্রভাবে ধুতি পরতো। তিনি তার অনুসারীদেরকে ধুতি পরতে নিষেধ করেন। সেই সময় হিন্দুরা ইংরেজি শিক্ষা লাভ করে সরকারি অফিসে চাকরি করতো আর ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে মুসলমানদের জমির মালিক সেজে বসে। ব্রিটিশরা হিন্দু জমিদারদেরকে সব ধরনের সুযোগ প্রদান করতো। মসজিদ বানালে হিন্দুরা মুসলমানদেরকে জরিমানা করতো। কুরবানির সময় গরু জবেহ নিষিদ্ধ করা হয়। মুসলমানরা দাড়ি রাখলে ট্যাক্স দিতে হতো আর হিন্দুদের পূজার জন্য কর দিতে বাধ্য হতো। তিতুমীর এই অন্যায় এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেন। সেই সময় হিন্দুরা ব্রিটিশদেরকে বুঝায় যে তিতুমীর ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই হিন্দুরা ব্রিটিশদের সহযোগিতা নিয়ে যৌথভাবে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করে। তারা আদালতে মামলা দায়ের করে। হিন্দুদের কালি মন্দিরে গরু জবাই করে রক্ত লাগিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। এমতাবস্থায় ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর তিতুমীর হিন্দু জমিদার, নীলকর, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু বাঁশের লাঠি দিয়ে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারেননি। উক্ত যুদ্ধে তিনি ও তাঁর সেনাপতি গোলাম মাসুমসহ অসংখ্য অনুসারী শহীদ হন। 


মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরীর তায়ায়উনি আন্দোলন

মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী (১৮০০-১৮৭৩) পূর্ববাংলা এবং আসামে তায়ায়উনি বা রাহি আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলন কোন জিহাদি আন্দোলন ছিল না বরং ব্রিটিশদের সাথে সহযোগিতামূলক ছিল। তিনি হাজী শরীয়তুল্লাহর ফারাযেজি আন্দোলনের বিরোধিতা করে অনেক বাহাস করেন। তিনি শিরক-বিদয়াতের বিপক্ষে ভূমিকা রাখেন তবে মিলাদসহ অনেক রুসম পালন করতেন। প্রথম পর্যায়ে তিনি সৈয়দ আহমদ বেরলবীর মুরিদ হন তবে এক পর্যায়ে নবাব আব্দুল লতিফের সাথে মিলিত হয়ে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। সৈয়দ আহমদ বেরলবী ভারতে দারুল হারব ঘোষণা করলেও তিনি ভারতকে দারুল আমান বা শান্তির দেশ বলে ঘোষণা দেন। ১৮৫৭ সালে ভারত পুরোপুরি ব্রিটিশদের হাতে চলে গেলে তিনি ব্রিটিশদের বিরোধিতাকে আত্মহত্যার শামিল বলে মনে করে বিরোধিতার পরিবর্তে সহযোগিতার কৌশল অবলম্বন করেন। তাই ব্রিটিশ ভারতে জুমা ও ঈদের নামায আদায়কে বৈধ বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু তারপরও ১৮৫৭ সালে তাঁকে ব্রিটিশরা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতে নিয়ে যায় কিন্তু অনেক ব্রিটিশ মহিলার সম্ভ্রম রক্ষায় তাঁর ভূমিকার কারণে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন 

হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০) ছিলেন ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা। হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ সালে মাদারীপুর জেলার শিবচর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল জলিল এলাকার খাজনা আদায়ের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। আট বছর বয়সে পিতার মৃত্যু হলে তাঁর চাচা আজিমের ¯েœহপরশে লেখাপড়া করেন। তিনি কলকতায় গিয়ে কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং আরবি ও ফারসি ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ১৭৯৯ সালে মাওলানা বাশারত আলীর সাথে মক্কায় যান এবং সেখানে প্রায় দুই দশক অবস্থান করে হাদিস, তাফসির, আরবি সাহিত্য, ফিকাহ ও উসূলশাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। মক্কাতে অবস্থানকালে তিনি হানাফি, শাফেয়ি, মালেক ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের অনুসারী উলামায়ে কেরামের সান্নিধ্যে বিভিন্ন মাজহাব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। কিন্তু তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী থাকেন। তিনি ১৮২০ সালে দেশে ফেরত আসলে লোকেরা তাঁর জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার কারণে তাঁকে ‘কুতুবে বাঙ্গাল’ উপাধি দেন।

১৭৭০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। কারো কারো মতে উক্ত দুর্ভিক্ষে তিন ভাগের একভাগ মানুষ মারা যায়। এমনকি অনেকই মৃতদের গোশত খেয়ে জীবন রক্ষা করে। ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে মুসলমানদের সম্পত্তি কুক্ষিগত করা হয়। সেই সময় রাজনৈতিকভাবে একদিকে মুসলমানেরা ক্ষমতাচ্যুত। অপরদিকে ধর্মীয় দিক থেকে নানা ধরনের কুসংস্কারের অনুপ্রবেশ ঘটে মুসলিম সমাজে। হাজী শরীয়তুল্লাহ মুসলিম সমাজে জারিগান, পূজা, হিন্দুয়ানি আচার রীতি তথা ধুতি সিঁদুর, শিরক-বিদয়াতের প্রচলন দেখে বিচলিত হন। তিনি যখন নিজগ্রামে এসে আজান দেন কেউ মসজিদে আসেনি। এর অর্থ হচ্ছে মুসলমানেরা আজান ও নামাজের সাথে পরিচিত ছিল না। তাঁর চাচা মারা গেলে তার দাফন অনুষ্ঠানে বিদয়াতি কার্যক্রম তিনি বন্ধ করেন। এরপর তিনি শুরু করেন দাওয়াতি কার্যক্রম। তিনি মূলত মানুষদেরকে ইসলামের মৌলিক কর্ত্যব্যসমূহ তথা ফরজ পালনের শিক্ষা দিতেন বলে তাঁর আন্দোলন ফরায়েজি আন্দোলন নামে অভিহিত হয়। হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের সাথে ব্রিটিশদের সংঘাত হয়। এই ক্ষেত্রে শিরক-বিদয়াতে লিপ্ত অজ্ঞ মুসলমানদের একটি অংশ শরীয়তুল্লাহর কার্যক্রমে বাধা প্রদান করেন। হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন নির্যাতিত কৃষক প্রজাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। হিন্দু জমিদারগণ পূজা-পার্বণে মুসলমানদের কাছ চাঁদা দাবি করতো এবং গরু জবাই নিষিদ্ধ করে। শরীয়তুল্লাহ এর প্রতিবাদ করেন। মূলত সৈয়দ আহমদ বেরলবীর আন্দোলন চলাকালে ফরিদপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে ‘ফরায়েজি আন্দোলন’ নামে একটি সংস্কার আন্দোলন পরিচালিত হয়। এ আন্দোলনটি তরিকায়ে মোহাম্মদী আন্দোলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। হাজী শরীয়তুল্লাহ তাঁর বালক সন্তান দুদু মিয়াকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা নিসার আলী তিতুমীরের কাছে দীক্ষার জন্য পাঠান। মাওলানা সাইয়েদ নিসার আলী তিতুমীর ছিলেন ইসলামী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি সাইয়েদ আহমদ বেরলবীর খলিফা হিসাবে ইংরেজ ও হিন্দু জমিদারদের অত্যাচারের মোকাবিলায় জনগণকে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন এবং ইসলামী অনুশাসনের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের জন্য সবাইকে আহবান জানান। মুসলমানি নাম রাখা, ধুতি ছেড়ে লুঙ্গি পরা, এক আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক না করা, কুরআন ও হাদিসের খেলাফ কাজ বন্ধ করা ছিল তাঁর আন্দোলনের মূল কর্মসূচি। ফরিদপুরের নারকেল বাড়িয়ার এক মসজিদ কেন্দ্রিক তাঁর সমাজ সংস্কার আন্দোলন পরিচালিত হয় এবং ইসলামী শাসনের ভিত্তিতে স্বাধীন ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালান। তিতুমীর শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর আদর্শ প্রচার করলেও ইংরেজদের এজেন্ট হিন্দু জমিদারগণ চক্রান্ত করে উক্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে প্রতিরোধমূলক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য মুসলমানদের উপর জুলুম বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে তিতুমীরের সাথে ইংরেজ ও হিন্দু জমিদারদের যুদ্ধ শুরু হয়। বিভিন্ন খণ্ডযুদ্ধে ইংরেজ ও জমিদারদের পরাজয় হয়। কিন্তু ১৮৩১ সালের ১৯ শে নভেম্বর এক যুদ্ধে ইংরেজদের কামানের গোলার আঘাতে তিতুমীর ও তাঁর পুত্র জওহর আলীসহ অনেকই শাহাদাত বরণ করেন। প্রধান সেনাপতি গোলাম মাসুমসহ তিন শতাধিক বন্দী হন। পরবর্তীতে গোলাম মাসুমকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

(আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)

লেখক : বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট

1. William Logan, Malabar Manual, Asian Education Services, 1996. 

2. Hakim, ibid, p,29-30

3. এই প্রসঙ্গে মুজিবুর রহমান তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেন, The Muslim Sufis wished to propagate their ideas, and they could do this only in the language of the people. They were not interested in the Hindus but in the Muslims of the lower classes. The Muslims thus made a wide breach in the ramparts begin which the linguistic prestige of Sanskritt- and also, let us remember of Arabic and to some extent Persian- was entrenched…some sufi was so favourite to Hindi.

৪. জুলফিকার আহমদ কিসমাতী, (১৯৭৬) আজাদী আন্দোলনে আলেম সমাজ, ঢাকা, বর্ণলিপি মুদ্রায়ন

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির