ভারতের হস্তক্ষেপ উপমহাদেশের ভাগ্যাকাশে কালো মেঘ

সিরাজুর রহমান

খবরটা ছোট, কিন্তু একটু বিবেচনা করলেই দেখা যাবে বিষয়টা উপমহাদেশের ভাগ্যাকাশে কালো মেঘ হয়ে আছে। নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার ১৫ জুলাই সংখ্যায় এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলোতে হস্তক্ষেপ না করেই নয়াদিল্লি দেশটির সেকুলার ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে জোরদার করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।’ একটু পটভূমি এখানে প্রয়োজন। ভারত নিজেকে সেকুলার রাষ্ট্র বলে প্রচার করলেও আসলে কিন্তু সে দেশের রাজনীতি মোটেও ধর্মনিরপেক্ষ নয়। ভারতের প্রধান বিরোধী দল হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এ দলটি বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রে ও বিভিন্ন রাজ্যে শাসন করেছে। অনেকেই পূর্বাভাস দিয়েছেন আসছে বছরের নির্বাচনে বিজেপি আবার কেন্দ্রে সরকার গঠন করবে। পর্যবেক্ষকেরা আরো বলছেন তেমন অবস্থায় গুজরাট রাজ্যের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই হবেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি কখনো নিজেকে সেকুলার বলে দাবি করেনি। বরং হিন্দুত্ববাদের প্রচার ও প্রসার তাদের অন্যতম বিঘোষিত উদ্দেশ্য। শিবসেনাসহ বিজেপির কোনো কোনো অঙ্গদল ভারতের ২০ কোটি মুসলমানকে সে দেশের নাগরিক বলে স্বীকার করতে রাজি নয় ও প্রায়ই তাদের ভারত থেকে বহিষ্কারের দাবি ঘোষণা করে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙার আন্দোলন শুরু করে বিজেপি। সে দলের শীর্ষ নেতারা মসজিদ ভাঙার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভারতব্যাপী মুসলমানেরা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলে বিজেপির সমর্থকেরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, হাজার হাজার মুসলমান নিহত হন। গুজরাটে ২০০২ সালের দাঙ্গায় দুই হাজারেরও বেশি মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল। বিজেপি দলীয় রাজ্য সরকার দাঙ্গা সম্বন্ধে তদন্তে আগ্রহ দেখায়নি। বরং ভারতেও বহু মহল থেকে অভিযোগ হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাঙ্গাকারীদের পরোক্ষ উৎসাহ দিয়েছেন। অবশেষে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে এ দাঙ্গা সম্বন্ধে তদন্ত হচ্ছে। সে তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত না হলে নরেন্দ্র মোদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এই নরেন্দ্র মোদি যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে সে দেশের মুসলমানদের কপালে দুর্দিন আছে। ভারতে সেকুলারিজম কোথায়? প্রায়ই নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা হয়ে থাকে। ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র কুরআনের অবমাননা কোনো কোনো ভারতীয় কর্মকর্তার যেন ‘হবি’ শখের খেলা। মাত্র গত সপ্তাহে কাশ্মিরে পবিত্র কুরআনকে অপবিত্র করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের ওপর বিএসএফের গুলিবর্ষণে সাতজন মুসলমান মারা গেছেন। ভারতের রাষ্ট্রীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে মুসলিম সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বৈষম্য করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি তালিকাও এই জঘন্য বৈষম্যের নগ্ন ছবি তুলে ধরবে। ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি এবং মুসলিম সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বৈষম্য বন্ধ করার কোনো সক্রিয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে শুনিনি। অপর দিকে বাংলাদেশে বর্তমান সরকার চাকরি-বাকরিতে সংখ্যালঘু হিন্দুদেরই প্রাধান্য দিচ্ছে, অত্যন্ত অনানুপাতিক হারে হিন্দুদের সব রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং সে উদ্দেশ্যে শত শত দক্ষ অভিজ্ঞ ও পদস্থ মুসলিম কর্মকর্তাকে বছরের পর বছর ওএসডি করে রাখা হয়েছে। যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্ক মানুষই বলবে পরের দেশ বাংলাদেশে কোনো শক্তিকে জোরদার করার ভারতীয় চেষ্টা অবশ্যই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ। আমাদের দেশের মানুষ কাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাবে, কারা এ দেশে সরকার গঠন করবে, তা পুরোপুরি তাদের ব্যাপার। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র বলতে এটাই বোঝায়। সেখানে নাকগলানোর অধিকার কোন আইন ও কোন নীতি ভারতকে দিয়েছে সে প্রশ্ন অবশ্যই উঠবে। সত্য বটে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আমলে ভারতীয়রাই যবনিকান্তরালে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। বাংলাদেশের নয়, বরং ভারতের কল্যাণচিন্তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। ভারতকে জলেস্থলে ও রেলে করিডোর দান কূটনৈতিক ও সমরনৈতিক দিক থেকে তো বটেই, অর্থনীতির দিক থেকেও বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সবচেয়ে বড়ে কথা, এই করিডোর আমাদের সার্বভৌমত্বকে পদদলিত করারই শামিল। নানাভাবে বাংলাদেশের শ্রমশিল্পকে ধ্বংস করে এ দেশকে ভারতীয় পণ্যের ‘বন্দী বাজার’ করে রাখাই যে প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া আর সবাই সেটা স্বীকার করবেন। বিডিআর হত্যা ও শাপলা চত্বরে বিদেশী ঘাতক? বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে চালু আছে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিডিআর বিদ্রোহের সময় কিছুসংখ্যক বিদেশী ঘাতক সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করেছিল। আরো জোরালো অভিযোগ আছে, গত ৬ মে ভোরে শাপলা চত্বরে ঘুমন্ত হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের গণহত্যার জন্যও রাতের আঁধারে ‘বিদেশী ঘাতকদের’ আনা হয়েছিল। এত কিছুর পরে নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে ‘বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ না করেই’ বাক্যাংশটা পরিহাস বলেই মনে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা প্রায় ছয় বছর দিল্লিতে ভারত সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সরকার রাজধানীর সুশীলসমাজের সাথে তাদের মেলামেশার সুযোগ দেয়নি। তাদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ছিল পুুরোপুরি গোয়েন্দা সংস্থা র’য়ের ওপর। র’ তখন তাদের ‘মগজ ধোলাই’ করে দিয়েছিল বলে অনেকের ধারণা। সেটা কতখানি সত্যি বলতে পারব না। তবে আধুনিক কূটনীতি ও গোয়েন্দাগিরিতে এ ধরনের ব্যাপার অহরহ ঘটে থাকে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতা পেয়েই শেখ হাসিনা যেভাবে হিন্দু তোষণ ও টুপি-দাড়িধারী মাত্রেরই বিরুদ্ধে দলন ও নির্যাতনের পথ ধরেছেন তাতে কোনো সন্দেহ থাকে না যে ভারতের সন্তুষ্টি উৎপাদন তার একটা বড় লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী আশা করেন তাকে বাকশালী কায়দায় গদিতে বহাল রাখতে ভারত মদদ দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। দিল্লির সরকার ও ভারতীয় মিডিয়া ক্রমেই সোচ্চারভাবে বলে যাচ্ছে, শেখ হাসিনাকে গতিতে রাখা ভারতের স্বার্থে জরুরি। ভিন্ন দেশের নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলার চেষ্টা গণতন্ত্রে ও সভ্যসমাজে নিন্দিত এবং অগ্রহণযোগ্য ব্যাপার। ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ঘনিষ্ঠ মিত্র। তবে দুই দেশের মধ্যে সরকার-সরকারে মতান্তর প্রায়ই ঘটে থাকে। কিন্তু ব্রিটেনে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের এবং নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে অন্য দেশের রাষ্ট্রীয় নেতারা এমন কোনো ধরনের মন্তব্য করেন না, যাকে সে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করে অভিহিত করা যেতে পারে। বিগত প্রায় পৌনে পাঁচ বছর ধরে ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে ভারত বাংলাদেশে যা করতে চেয়েছে, তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। এ ধরনের কোনো গর্হিত নীতি কার্যকর করতে বিচক্ষণ ‘বাহনের’ প্রয়োজন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি সে ধরনের বিচক্ষণ বাহন নন। শুধু জামায়াতে ইসলামই নয়, পাইকারিভাবে মুসলিম নির্যাতন করে তিনি জামায়াতের জনপ্রিয়তা বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক কথায় ও কাজে সন্দেহাতীত প্রমাণ হয়, জামায়াতের প্রভাবকে সরকার খুবই ভয়ের চোখে দেখছে। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করা, জামায়াতে ভাঙন ধরানো ও এই দলটিকে নিষিদ্ধ ও নিবন্ধনবিহীন করার চেষ্টা সে ভয়েরই প্রমাণ দেয়। খেলোয়াড় নির্বাচনে দিল্লির মারাত্মক ভুল বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মুসলমান ও তারা সনাতনীভাবে ধর্মানুরাগী। তবু বর্তমান সরকারের আগে পর্যন্ত এ দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা পাশের দেশের জন্যও দৃষ্টান্তস্বরূপ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের মুসলিমবিরোধী কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় সে অবস্থার সম্পূূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। দেশের গরিষ্ঠ মানুষ এখন ভাবতে শিখেছে, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ধর্মবিশ্বাসের বিরোধী। ধর্মনিরপেক্ষতা এখন আর বাংলাদেশের মানুষের বিবেচনা নয়, ইসলাম রক্ষাই এখন তাদের বড় চিন্তা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ২০১১ সালের আগস্ট মাসে মুখ ফুটেই বলেছিলেন যে জামায়াতের কারণেই বাংলাদেশের মানুষ ভারতবিরোধী হয়ে পড়ছে। প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন । পশ্চিম পাকিস্তানিদের আধিপত্য ও শোষণের কারণেই পূর্ব পাকিস্তানিরা শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হয়েছিল। তেমনি ভারতের আধিপত্যবাদ, শোষণ ও ‘দাদাগিরির’ কারণেই বাংলাদেশে ভারত-বিদ্বেষ গড়ে উঠছে। যেসব অত্যাচার আর অবিচার তারা মুসলিম পাকিস্তানের কাছ থেকে সহ্য করেনি, হিন্দু ভারতের দিক থেকে সেসব অত্যাচার আর শোষণ তারা মেনে নেবে বলে আশা করা মূর্খতা হবে। শেখ হাসিনার মতো মোটা বুদ্ধির আনাড়ি খেলোয়াড়কে দিয়ে বাংলাদেশে ‘সেকুলারিজমের’ শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করে দিল্লির সরকার মারাত্মক ভুল করেছে। জামায়াতের বিরুদ্ধে অতিমাত্রিক নির্যাতন সাধারণ বাংলাদেশীকে দলটির প্রতি আরো বেশি সহানুভূতিশীল করে তুলেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াত নেতাদের ফাঁসি দেয়ার জন্য উদগ্রতা দেশবাসীকে আরো সন্দিগ্ধ করে তুলেছেÑ বিশেষ করে এ কারণে যে রাজাকার ও আল বদরদের অনেকে আওয়ামী লীগে ঢুকে গেছেন, কেউ কেউ বর্তমান সরকারের মন্ত্রীও হয়েছেন। তাদের সংরক্ষণ দিয়ে জামায়াত নেতাদের ও দু’জন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলাকে সে জন্যই রাজনৈতিক বিচার বলে দেখা হচ্ছে। শাহবাগে যারা ফাঁসি ফাঁসি বলে রক্তপীপাসু জিগির তুলছিল তাদের উদ্যোক্তা ও সংগঠকেরা নাস্তিক ও ইসলামবিরোধী ব্লগার বলে জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর সরকারের ইসলামবিরোধী মনোভাব সম্বন্ধে কারো মনে সন্দেহ রইল না। অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি আমরা তখনো বলেছি সরকারের উচিত ছিল এই ব্লগারদের সাময়িকভাবে হলেও গ্রেফতার করে জাতীয় ক্রোধ ও উত্তেজনা প্রশমিত করা। তার পরিবর্তে মাহমুদুর রহমান ও আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর পুরাতন আক্রোশ চরিতার্থ করে সরকার পরিস্থিতিকে ভয়ানক বিস্ফোরক করে তুলেছিল। তারই প্রতিফলন ঘটেছে হেফাজতে ইসলাম আন্দোলনে। এ আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন না। আন্দোলনকারীরা তৃণমূলপর্যায়ের সাধারণ ধর্মভীরু মুসলমান। শাপলা চত্বরে বেপরোয়া ও পাইকারিভাবে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে আরো মারাত্মক ভুল করেছে সরকার। ইসলাম ক্রোধ এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ৬ মের এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই কোনো কোনো সরকার সমর্থক পত্রিকা পুলিশি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলেছিল যে সে রাতে শাপলা চত্বরে এক লাখ ৫২ হাজার বুলেট ব্যবহার করা হয়েছিল। বহু ভেবেচিন্তে এখন সরকার বলছে সে রাতে কেউ মারা যায়নি, পুলিশ এখন বলছে সে রাতে তারা কোনো গোলাগুলি ব্যবহার করেনি। হেফাজতিরা জামা-কাপড়ে লাল রঙ মেখে শাপলা চত্বরে শুয়ে ছিল বলে প্রধানমন্ত্রী গোটা বিশ্বকে হাসিয়েছেন। অথচ মানবাধিকার সংস্থা অধিকার ৬১ জন নিহতের পরিচয়ক প্রকাশ করেছে এবং আগেই বলেছি যে, জোরালোভাবে কথা চালু আছে সে রাতে শাপলা চত্বরে গোপনে কিছু বিদেশী ঘাতককে আনা হয়েছিল। অন্য দেশে অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে (নির্বাচন ও সেকুলারিজমের শক্তি বাড়ানোসহ) হস্তক্ষেপ শালীন কিংবা গ্রহণযোগ্য আচরণ নয় বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তো নয়ই। বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ করে ভারত এখন যে অশুভ নজির সৃষ্টি করছে, সে নজির অনুসরণ করে বাংলাদেশীরা ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে’ উলফাসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য দিতে উৎসাহ বোধ করতে পারে।

লেখক : বিবিসি বাংলা বিভাগের
সাবেক প্রধান

SHARE

Leave a Reply