ভাষার লড়াই

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। পাঠক চিন্তার গত সংখ্যার বিষয় ছিল “ভাষার লড়াই”। এ সংখ্যার বিষয় “বাংলা নববর্ষ”। লিখবেন ২৫০ থেকে ৩০০ শব্দের মধ্যে। লেখার নিচে আপনার পূর্ণ নাম ও ঠিকানা থাকতে হবে। Attached ফাইলটি অবশ্যই ‘Pathok Chinta’ নামে হতে হবে। পাঠক চিন্তা এই ই-মেইলে পাঠাতে হবে : chhatra_sangbad@yahoo.com। -বিভাগীয় সম্পাদক

Vashaভাষা আন্দোলন বাঙালির এক গৌরবময় ইতিহাস। মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম করা ও জীবন দেয়া এই পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। ১৯৫০-এ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকেরা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে সালাম, রফিক, বরকতসহ অনেক ছাত্র-জনতা নিজের জীবনের বিনিময়ে ভাষার স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন। এই হলো আমাদের ভাষার লড়াইয়ের বিজয় ইতিহাস।
কিন্তু সত্যিই কি আমাদের লড়াই শেষ? সত্যিই কি আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভাষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে পারছি? না, স্বাধীনতা অর্জন করলেও আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে পুরোপুরি সক্ষম হইনি। আজ আমাদের দেশে হিন্দি সিরিয়ালের প্রচণ্ড দাপট। বিজাতীয় ভাষা, সংস্কৃতির চাকচিক্য, জৌলুসে বুড়ো-বুড়ি ছেলেমেয়ে, তরুণরা নিজেদের ভাষা সংস্কৃতি ভুলতে চলেছে। ডোরেমন বন্ধ করা হলেও বাকি চ্যানেলগুলো বন্ধ করা হয়নি। ফলে আমাদের ভাষার ওপর হিন্দির প্রভাব ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। আজকালকার এফএম রেডিওগুলোতে, টেলিভিশনের ফ্যাশন শো, গ্লামার ওয়ার্ল্ড, টকশোগুলোতে এখনকার তরুণ প্রজন্মরা মিক্সড ফ্লেবার চুইংগাম-এর মত করে বাংলা ভাষা ব্যবহার করে। তাদের একটা বাক্যে হাজার খানেক বিদেশী শব্দের জগাখিচুড়ি না করলে যেন স্মার্টনেস আর বজায় থাকে না। আর তা ছাড়া বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর মতো একজন মানুষ যে কথায় কথায় ইংরেজি বুলি ছোড়ে ইডিয়েট, ননসেন্স, রাবিশ ইত্যাদি ছাড়া যার বাক্যই সম্পূর্ণ হয় না, সেখানে ভাষার লড়াই শেষ মনে করা মারাত্মক ভুল হবে।
আমাদের দেশের কিছু লোক ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিয়ে, শহীদ মিনারে গিয়ে নিজেদের ভাষাপ্রেমিক বলে প্রমাণ করতে চায়। কী এক প্রতারণা; আমাদের মাতৃভাষা দিবস ২১ শে ফেব্রুয়ারি নয়, এটা ৯ ফাল্গুন। আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হলেও অফিস আদালতে ইংরেজি ভাষা প্রচলিত।
বর্তমানে আমাদের ভাষা বলি বা সংস্কৃতি দারুণ সঙ্কটে। এখন যেন ভাষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষাই এক বিরাট অগ্নিপরীক্ষা। এ সময় আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে যখন আমাদের দেশের গণমাধ্যমে বিজাতীয় শব্দ ব্যবহার করা হয়, নৃত্যানুষ্ঠানে নোংরা হিন্দি গান-বাজনা ব্যবহার করা হয়; এশিয়ান টিভি, চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন দেশী চ্যানেলে হিন্দি সিরিয়ালগুলোর নামে পোশাকের দোকানগুলো ভরে যায় তখন আমাদের দেশের নব্য আবু জেহেলরা শাহরিয়ার কবির সাহেবরা, জাগরিত তরুণ প্রজন্মরা কোথায় থাকেন? তখন তাদের দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, চেতনাবোধ কি ভারত ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে? জাগরিত তরুণ প্রজন্মের আকাশ ফাটানো গলায় কি ইনফেকশন হয়? কী ঢঙ!
আজ যদি আল্লাহ আমাদের দেশের ভাষা শহীদের বা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আবার জীবিত করতেন, সর্বপ্রথম কবর থেকে উঠে তারা এসব মুখোশধারী বিদেশী দালালদের জবাই টুঁটি চেপে ধরতেন।
পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের ভাষার লড়াই একবার সংঘটিত হয়েছিল, তা শেষ হয়নি, অব্যাহত রয়েছে। এখন আবার সময় এসেছে প্রিয় মাতৃভাষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য আরেকবার গর্জে ওঠার। সময় এসেছে বিজাতীয় ভাষা সংস্কৃতির কালো হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার। তাই বলছি, ভাষার লড়াই শেষ হয়নি, লড়াই যে আবার ফিরে এসেছে…।
শামসুননাহার শিমু
জয়পুরহাট

SHARE

Leave a Reply