ভীষণ নয়, চাই ‘ভিশন বাংলাদেশ’

স্বাধীনতার চেতনা ঘিরে ঘৃণার বহ্নিশিখা এবং সাম্যবাদী নেরুদা ও গেটিসবার্গে লিঙ্কনের দিক্ষা

ড. আহসান হাবীব ইমরোজ

বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়

“In order to ensure for the people of Bangladesh equality, human dignity and social justice”

বাংলাদেশ। আজ অভ্যুদয়ের চার দশক অতিক্রম করে যৌবনের চুড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিভেদ, ঘৃণা এবং সংঘাতের গহীন সাগরে জাতি আজ নিমজ্জিত। সুযোগ্য নেতৃত্বে, জাতীয় ঐক্য তৈরির ব্যর্থতা এর অন্যতম কারণ বলে চিন্তাশীলদের অভিমত। বিশ্ব মানচিত্রে এ দেশের আয়তন পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় এক-সহস্রাংশ। বিশ্বের স্বাধীন ১৯৫টি রাষ্ট্রের ভিতর আয়তনে এ দেশের অবস্থান ৯৪তম কিন্তু  জনসংখ্যায়  ৮ম। জনসংখ্যার ঘনত্বে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৩য়। আমাদের এই জনসংখ্যাকে আমরা বিপদ হিসেবে মনে করি! কিন্তু জনঘনত্বে আমাদের চেয়ে ৬ গুন নিয়ে হংকং, ৭ গুন বেশি নিয়ে সিঙ্গাপুর উন্নয়নের পথে বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ তাদের দক্ষ নেতৃত্ব তাদের স্বল্প সময়ে ঐক্যবদ্ধ করে পরিকল্পিত প্রচেষ্টায় বিপুল জনসংখ্যাকে বিপদ নয় বরং সম্পদে পরিণত করতে পেরেছে।
বাংলাদেশও একটি সোনালি সম্ভাবনার দেশ। কৃষি, রেমিটেন্স, গার্মেন্টসসহ যে কয়েকটি ক্ষেত্র এদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে তার সবগুলিই জনশক্তি নির্ভর। আমাদের আরব বিশ্বের মত তৈলসম্পদ নেই, নেই উন্নত দেশগুলির মত পরিকল্পিত বিশাল শিল্প কিংবা দক্ষ জনশক্তি। আছে কেবল বিপুল কিন্তু অদক্ষ-অর্ধদক্ষ জনসংখ্যা। এই বিপুল জনসংখ্যার চাহিদা পূরণের মাধ্যমে দেশকে উন্নত করতে চাইলে অবশ্যই তাদেরকে প্রশিক্ষিত এবং ঐক্যবদ্ধরূপে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
চলমান বিভেদ, ঘৃণা এবং সংঘাতময় অস্থির পরিস্থিতি আমাদের সেই বিপুল সম্ভবনার মূলেই যেন আজ কুঠারাঘাত করছে। দেশবরেণ্য চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলাদেশের সকল বন্ধুরাষ্ট্রই আজ চিন্তাক্লিষ্ট- কেন স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও এ সম্ভাবনাময় জাতি আজ গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে?
বিশ্বের বহু দেশ যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে, স্বাধীন হয়েছে তাদের উদাহরণসমূহ আমাদের সামনে আছে, যেমন ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা এমনকি ভারত। তারা কীভাবে যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সাঁই সাঁই করে এগিয়ে যাচ্ছে।  আর আমরা কোথায়?
কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যখন আমাদের রাজনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার কিংবা দুর্নীতির কুৎসিত চেহারা ফুটে ওঠে তখন ক্ষমতাসীনরা কিভাবে ভেংচি মারেন, এমনকি পারলে ‘সে মিডিয়াটি টয়লেট পেপারের মতোই যেন ছুড়ে ফেলবেন’ এমন ভঙ্গিমা করেন। কিন্তু আবার সেই মিডিয়াই  যখন  বাংলাদেশকে খাদ্য-উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি, গার্মেন্টসের মতো সফল ক্ষেত্রে উন্নয়নের রোল-মডেল হিসেবে তুলে ধরে, তখন কেমন দুই কান ছুই-ছুই হাসি দিয়ে ক্ষমতাসীন পণ্ডিতরা- স্পেশাল সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেন- ‘এ সবই আমাদের সরকারের সাফল্য’ বলে প্রচার করে।
কী নির্জলা মিথ্যাচার! নিরেট জনসম্পদ নির্ভর কয়েকটি খাত যেমন কৃষি, বিদেশে কর্মরত জনশক্তির রেমিটেন্স এবং গার্মেন্টসসহ বেসরকারি উদ্যোগগুলির অগ্রগতিসমূহ বাদ দিলে সরকার তার সাফল্যের ঝুড়ির তলানীতে আর কী পাবে? এটা নিশ্চতভাবে বলা যায় সে হেনরি কিসিঞ্জারের উদ্ধৃত সেই কুখ্যাত বটমলেস বাস্কেট ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না।
আর জাতীয় প্রবৃদ্ধির সেই প্রধান অনুসঙ্গ কৃষি, রেমিটেন্স, গার্মেন্টস-এর সাথে জড়িত সেই সকল প্রকৃত যোদ্ধারা কলুর বলদের মতো কী নিদারুণ কষ্ট করে দেশের উন্নয়নের চাকা ঘুরাচ্ছে। তাদের মুখে কী হাসি আছে? তারা কী সুখে আছে?
আমাদের দেশের কর্দমাক্ত মাঠে কাজ করা  উৎপাদনের মূল কারিগর কৃষক,  আগুনঝরা রোদ আর তুমুল বর্ষণে যাদের সোনাবরণ শরীর তামাটে বর্ণ আর লিকলিকে আকার ধারণ করেছে,  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বের দেশে দেশে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে লিপ্ত আছে  আমাদের সোনার ছেলেমেয়েরা যাদের অনেকেই অ্যাক্সিডেন্টে পিষ্ঠ হয়ে, আগুনে পুড়ে স্বদেশের উন্নয়নের ভিত্তিমূলে তাদের সোনালি যৌবন বিলিয়ে দিচ্ছে। দেশের সম্ভাবনাময় গার্মেন্টস অঙ্গনে তাজরিন ফ্যাশানে  জীবন্ত পুড়ে ছাই হয়ে কিংবা রানা টাওয়ারের কংক্রিটের নিচে পড়ে দলিত ও পিষ্ঠ গলিত লাশ হয়েও সেই নির্বিকার সোনার মানুষেরা রোবটের মতো কাজ করে যাচ্ছে। দেশগঠনের সেই আসল যোদ্ধাদের রক্ত-ঘাম আর লাশের ভষ্মের উপরেইতো তৈরি হয়েছে আমাদের তথাকথিত নেতৃবৃন্দের লুণ্ঠনের উল্লাস আর রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরতার ক্ষমাহীন বিলাস। নয় কী?
আমাদের বক্তব্যবাগীশ, দুর্নীতিবাজ আর সন্ত্রাসনির্ভর রাজনৈতিক নেতারা দেশের জন্য কে কী উৎপাদন করতে পেরেছেন?  দেশের প্রবৃদ্ধির ঝুড়িতে তাদের সঞ্চয় কতটুকু শুধু বাগাড়ম্বর বুলি ছাড়া? কিন্তু হায়! কী দুর্ভাগ্য সেটিও যে শঠতা, ঘৃণা আর অশ্লীলতার গন্ধে ভরপুর।
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার চেতনা কিংবা একাত্তরের চেতনা’ এই শব্দমালাসমূহ গত ৪২ বছর যাবত আমাদের দেশে প্রায় কথায় কথায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়’- সেই প্রাচীন প্রবাদবাক্যের আলোকে সমাজে তেমন ফল দেখা যাচ্ছে না। দেশের প্রধান ব্যক্তি থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ের পাতিনেতা পর্যন্ত সবাই এই জিগিরে ব্যস্ত।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মন্ত্রী ও দলীয় এমপিদের রাজনৈতিক জ্ঞানের একটি লিখিত পরীক্ষা নিতেন এবং তিনি তা গুরুত্ব দিয়ে বিচার করতেন। তার মৃত্যুর মাত্র দেড়মাস আগে নেয়া একটি পরীক্ষায় ৫০ জন মন্ত্রী ও দলীয় নেতা অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু পাস করেন মাত্র ১০ জন;            (সূত্র : অ্যান্থনী ম্যাসকার্নহাস, বাংলাদেশ ঃ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড, হাক্কানী পাবলিশার্স- পৃ. ১৬২)। অপর বৃহৎ দল বেশ চালাক, তারা এখন পর্যন্ত এ রকম কোনো পরীক্ষার ঝামেলায় জড়াননি। কিন্তু পরীক্ষা নিলে ফলাফল কি এর চাইতে খুব ভালো হবে? মনে হয় না। এসকল নেতৃবৃন্দকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়- আচ্ছা বলুনতো, মুক্তিযুদ্ধের বা স্বাধীনতার কিংবা একাত্তরের চেতনা কী কী? ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় সর্বোচ্চ ১% পাস করবেন কি না সন্দেহ। আমার কলেজজীবনে নিজের উদ্যোগে এরকম খাপছাড়া(!), কিন্তু প্রয়োজনীয় অনেকগুলি প্রশ্নসম্বলিত একটি কুইজ কম্পিটিশনের আয়োজন করেছিলাম। ঐতিহ্যবাহী সেই কলেজের সাবেক ছাত্রদের ভিতর থেকে বৃহৎ দুই দলের একটির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হয়েছিলেন এমনকি এদেশের উপ-রাষ্ট্রপতিসহ এ পর্যন্ত ৭ জন মন্ত্রীও হয়েছেন। একাদশ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত প্রায় ১৭০০ ছেলে-মেয়ে সেই কুইজে অংশ নিয়েছিল। তাদের সঠিক উত্তর দেয়ার সুবিধার্থে সারাদেশের এমনকি বিশ্বের যে কোনো বই বা ব্যক্তির সহযোগিতা নেয়ার অবারিত অনুমতি ছিল। নির্দিষ্ট করে ঠিক এই প্রশ্নটি- মুক্তিযুদ্ধের বা স্বাধীনতার কিংবা একাত্তরের চেতনা কী কী? এটিও ছিল। ছাত্র-ছাত্রীরা তৎকালীন শিক্ষক ও বড় বড় নেতাদের রীতিমত গলদঘর্ম করে ছেড়েছিল। সহৃদয় পাঠক, অনুমান করতে পারেন কতজন এ প্রশ্নটির সঠিক উত্তর দিতে পেরেছিল? হ্যাঁ, মাত্র ১ জন। ১৭০০ এর ভিতর মাত্র ১ জন। কুমিল্লার একটি প্রতিভাবান ছেলে- নাম আলাউল করিম।
প্রখ্যাত আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, যার হাতেই রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা (Proclamation of independence), যেটি একাত্তরের ১০ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে ১৯৭০-এর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ গণপরিষদ বসিয়ে অনুমোদন (ratify) করেন এবং যার ভিত্তিতে ১৭ এপ্রিল একই স্থানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং এই সরকারই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে পাকিস্তানি হানাদার সামরিক জান্তাকে পরাভূত করে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। সে ঘোষণার অংশবিশেষ নিম্নরূপ :
We the elected representatives of the people of Bangladesh as honor bound by the mandate given to us by the people of Bangladesh whose will is supreme, duly constituted ourselves into a Constituent Assembly, and Having held mutual consultations, and  In order to ensure for the people of Bangladesh equality, human dignity and social justice. [Source: History of Bangladesh War of Independence: Documents, Vol. 3, Ministry of Information, Government of the Peoples’ Republic of Bangladesh, Dhaka, 1982, pp. 4-6]
Equality-সাম্য, human dignity- মানবিক মর্যাদা and social justice-সামাজিক সুবিচার। মূলত এই তিনটি বিষয়ই ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধের, স্বাধীনতার কিংবা একাত্তরের মূল চেতনা’।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবে ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, “১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে মিলিত হয়ে ১৯৭০ সালের অবাধ নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যে স্বাধীনতার সনদ ঘোষণা করেন তাতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটেছে। জনপ্রতিনিধিরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়পরায়ণতার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে ঘোষণা করা হয় ঐতিহাসিক সনদে। স্বতঃস্ফূর্ত এ ঘোষণায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় অর্থাৎ জনগণের সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা তার মধ্যেই নিহিত রযেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
মুক্তিযুদ্ধের এ চেতনা কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্টি হয়নি। সৃষ্টি হয়নি কোনো দল কর্তৃক। এ চেতনা ধারণেও নেই কোনো বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া অধিকার। মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সার্বজনীন। মুক্তিযুদ্ধ ছিল এ দেশের মুক্তিপাগল জনতার, যারা মৃত্যুভয়কে জয় করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সুর সার্বজনীনতার সুর। এ সুর জাতীয় চেতনার সুর। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামী জনগণের মুক্তিকামী চেতনাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৭ এপ্রিলের স্বাধীনতা সনদে এর প্রকাশ ঘটেছে তারপরও বাংলাদেশের সংবিধান রচনায়, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় এবং দেশের সকল ধর্মের ও বর্ণের জনগণের স্বাধীন বাংলাদেশের চিৎশক্তির একাত্মতায়।
সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে কোনো কোনো মহল নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে জানা যায়। দেখা যায়, ক্ষমতাসীনরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আওয়ামী আবরণ ও আভরণে সজ্জিত করতে দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ। রাষ্ট্র সরকারের মধ্যে, এমনকি সরকার ও দলের মধ্যে পার্থক্য তা সযতেœ মুছে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দলীয় চেতনায় পরিণত করতে দৃঢ় সঙ্কল্প। এ প্রচেষ্টা শুভ নয়, নয় সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তা হলে সমাজে সৃষ্টি হবে বিভাজন। বিনষ্ট হবে জাতীয় ঐক্য।”
কিন্তু আমাদের কী দুর্ভাগ্য!  যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হতে পারতো আমাদের ঐক্য, উন্নয়ন এবং ন্যায়পরায়ণতার চাবি-কাঠি, আজ সেটিকেই আমাদের ব্যর্থ রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশকে বিভাজন এমনকি চরম অস্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঘুটি হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। তারা এটা করছে কী অজ্ঞতার কারণে? যদি তা না হয় তবে সাধারণকে তারা বিষয়টি অবগত করছে না কেন? নাকি জেনে বুঝে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার?
দেড় দশক আগে দেশের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী বদরউদ্দিন ওমর বলেছিলেন, “বাংলাদেশে কথায় কথায় এবং প্রায় প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যে কোনো মতভেদকে স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ ও বিপক্ষ শক্তির মতভেদ হিসাবে প্রচার করা হয়। এটা একটি খুব পরিচিত মতলববাজিতে পরিণত হয়েছে।” (দৈনিক আজকের কাগজ, ৮ এপ্রিল, ১৯৯৭)
সামনে নির্বাচন, তাই বিগত সময়ের সকল ব্যর্থতা ঢাকতে আবারও জিগির তোলা হচ্ছে জনগণের সেই স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা” বা “স্বাধীনতার পক্ষ/বিপক্ষ” ইত্যাদি বিষয়াবলির। এ প্রসঙ্গে বর্তমান সরকারের খুবই গুনগ্রাহী  ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজারে গত বছর ৭ ডিসেম্বর, ২০১২ সংখ্যায় ‘ভোটের উত্তাপে শীতের কামড়ও হার মানছে ঢাকায়’ শিরোনামে প্রেমাংশু চৌধুরী লিখেন, “হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসে শ্রেষ্ঠ চরিত্র কোন্টি, মিসির আলি না হিমু, তা নিয়ে জোর বিতর্ক হলেও ঢাকার মানুষ একটি বিষয়ে একমত, হাসিনা-সরকার কিছুতেই মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম পরাতে পারছে না। এই ক্ষোভ প্রশমিত করতে হাসিনা-সরকার একাত্তরে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নাশকতায় নামা রাজাকার নেতাদের শাস্তি দিতে চাইছে।”
বিদগ্ধ ব্যক্তিদের দৃষ্টিতে যৃদ্ধাপরাধীদের বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূক্ত কিংবা স্বচ্ছ নয়। এ প্রসঙ্গে কর্তাব্যক্তিদের জন্য আনলাকি হলেও কমপক্ষে ১৩টি বিষয়ের অবতারণা করা যায়, যার উত্তর তারা অদ্যাবধি দিতে পারেননি; কিন্তু একদিন অবশ্যই দিতে হবে জনতার আদালতে।
১. সবচেয়ে জঘন্য যুদ্ধাপরাধী বলে শনাক্ত করা ১৯৫ জন পাকিস্তানি সৈন্যকে শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মতিতে ভারত আগেই পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে দিলো।
২.    তারপর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের জন্যও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন তিনি।
৩.    এরপর শেখ হাসিনা নিজে জামায়াতে ইসলামীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াত ১৯৮৬ সালে একত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে তাদের পাশে বসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কলাকৌশল এঁটেছেন।
৪. জুন মাসের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেত্রী জামায়াত নেতাদের দোয়া নিয়ে আসেন। নির্বাচনে একক গরিষ্ঠতা পেলেও আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পায়নি।
৪২ বছর পরে শেখ হাসিনা আবার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছেন। কিন্তু বহু কারণে এ বিচারের প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ :
ক)    প্রথমত, একাত্তরে যারা বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছেন তাদের অনেকে পরে আওয়ামী লীগেও ঢুকে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ এখন আবার প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়। বর্তমান সরকার তাদের বিচারপ্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেনি, শুধু যারা জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপিতে ছিলেন তাদেরই বিচারে তোলা হয়েছে। তাই কারোরই আর সন্দেহ রইল না যে, এই বিচার-বিচার খেলা একটা রাজনৈতিক চাল।
খ)    ট্রাইব্যুনালের বিচারের গোটা প্রক্রিয়া সম্পর্কেই বিশ্বসমাজ সন্দেহ প্রকাশ করেছে। যেভাবে তথাকথিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে দেশী ও বিদেশী আইন বিশেষজ্ঞরা সেটাকে ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিমত দিয়েছেন।
গ)    বিদেশী আইনজ্ঞ, এমনকি পর্যবেকদেরও ট্রাইব্যুনালে আসতে দেয়া হচ্ছে না।
ঘ)    ট্রাইব্যুনালের প্রথম প্রধান বিচারপতি মামলা পরিচালনার কলাকৌশল ইত্যাদি নিয়ে ব্রাসেলসে অবস্থিত এক ব্যক্তির সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা ও পরামর্শ করেছেন।
ঙ)    এমনকি ওই বিচারপতি সে ব্যক্তিকে এ আভাসও দিয়েছেন যে, সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী অভিযুক্তদের ফাঁসি দেয়া হলে পুরস্কার হিসেবে তার পদোন্নতিরও আশা আছে।
চ)    বিচারের আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা অনর্গল ঘোষণা করেছেন যে, অভিযুক্তদের সবার ফাঁসি হবে।
ছ)    তাদের কেউ কেউ আগাম বলে দিয়েছিলেন সেসব ফাঁসির রায় কোন তারিখের মধ্যে দেয়া হবে। অর্থাৎ বিচারকদের আগাম নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল সরকার।
জ)    তা সত্ত্বেও বিচারক যখন কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন তখন  আওয়ামী লীগের কিছু ক্যাডার, বহু ভারতীয় এজেন্ট এবং কিছুসংখ্যক ধর্মদ্রোহী, ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিকদের দিয়ে শাহবাগের মোড়ে একটা তাণ্ডব সৃষ্টি করে।
ঝ)    শাহবাগ জাগরণের প্রথম দিকে আইন প্রতিমন্ত্রী জানান, এই জাগরণ আগে হলে কাদের মোল্লার রায় ভিন্ন হতে পারত। এই জাগরণে উপস্থিত থেকে কয়েকজন মন্ত্রী ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই স্লোগানে অংশ নেন। এরপর দেশের প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনলকে রায় দেয়াকালে জনগণের আবেগ-অনুভূতিকেও বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানান। এমন পরিস্থিতিতে চাপা পড়েছে সুশাসন, মানবাধিকার আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার তাগিদ।
আর এই শাহবাগের তরুণদের নিয়েইতো হাজারো কথা; তার উত্তর কে দেবে? শেয়ারবাজারের ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর হাহাকার এই তারুণ্যের কানে পৌঁছায়নি। হলমার্ক এই দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থকে তছনছ করে ছেড়েছে, সেই ক্রোধ শাহবাগ স্কয়ারের এই তারুণ্যকে স্পর্শ করেনি। পদ্মা সেতুতে আবুল নামক ইঁদুরেরা পুরো জাতির ভাগ্যের শিকাটি ছিঁড়ে ফেলেছে, সেই হতাশা এই তারুণ্যকে ছুঁতে পারেনি। কুইক রেন্টাল এ জাতির গলায় যে ফাঁস লাগিয়েছে, সেই কষ্ট এই তারুণ্যকে নাড়া দিতে পারেনি। সাগর-রুনীর ট্র্যাজেডি এই তারুণ্যের দ্রোহে একটুও দোলা লাগাতে পারেনি। গুম ও খুনের কারণে শত শত নারী ও শিশুর কান্না বাতাসে ভাসছে, তারুণ্যের কানে সেই আহাজারিগুলো পৌঁছতে পারেনি।
শত শত বছর যুদ্ধবিগ্রহ কাটিয়ে ইউরোপের দেশগুলো এখন মিত্র সেজে সামনে অগ্রসর হচ্ছে। এক কালের চরম শত্রু জাপান ও আমেরিকা সব ভুলে গিয়ে উন্নয়ন সহযোগী ও বন্ধু হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরস্পরিক ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এরা বহন করছে না। এদের রাজনীতি আবর্তিত হয় জনগণের কোয়ালিটি অব লাইফ বা জীবন-মানের উন্নয়নের জন্য। ওদের সংস্কৃতি, ওদের সাহিত্য নিবেদিত সেই একই উদ্দেশ্যে।
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ আরও বলেন, “ব্রিটিশ ইতিহাসের এক সুনির্দিষ্ট মাইলফলক গৌরবময় বিপ্লবের (১৬৮৮) যে বাণী অর্থাৎ  সাম্য, স্বাধীনতা এবং অধিকার, ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান সাম্য, স্বাধীনতা ও সৌভ্রাতৃত্ব, আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণার যে সমাহস্ত্র সাম্য, স্বাধীনতা ও সুখের অšে¦ষণ, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মূল বাণী ঘোষিত হয়েছে স্বাধীনতা সনদে এবং তা হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা (Equality, Human dignity and Social justice)। সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার সহজ সরল রাজপথ হলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। মানবিক মর্যাদা সুনিশ্চিত হয় সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যে, ধর্মীয় স্বাধীনতায় এবং সর্বপ্রকার আধিপত্যের নিগড় থেকে মুক্ত পরিবেশে। সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত হয় দারিদ্র্য ও ক্ষুধা থেকে মুক্ত পরিবেশে, রোগ ব্যাধি ও অপুষ্টির হাত থেকে মুক্তিতে, রোগ মুক্তিতে, কর্মসংস্থানের ব্যাপকতায় এবং সকল কর্মকে সম্মানজনক হিসেবে চিহ্নিত করে সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজীয় যথেষ্ট পরিমাণ উপার্জনে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রকৃত প্রস্তাবে ঐক্যের চেতনার, বিভক্তির নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাতি গঠনের, জাতীয় শক্তিক্ষয়ের নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সৃজনশীলতার, ঐক্য প্রতিষ্ঠার।”
সুতরাং সমৃদ্ধির জন্য ঐক্য ও সংহতিই হতে পারে আজকে দেশের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঘৃণা বা বিবাদ-বিসম্বাদ আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের কোমল হৃদয়কে কুড়ে কুড়ে নিঃশেষ করে দিবে। আজকে এই ক্রান্তিকালে চরম ঘৃণার সংস্কৃতি যারা নানা মঞ্চ কিংবা মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপকভাবে উস্কে দিচ্ছেন; তাদেরই এক দীক্ষাগুরু  চিলির বিশ্ববিখ্যাত কমিউনিস্ট কবি পাবলো নেরুদার ‘ঘৃণার ক্ষতি’ বিষয়ক কিছু কবিতাগুচ্ছ স্মরণ করছি। ইচ্ছে করলে শাহবাগ তারুণ্যও মিডিয়া কর্তাদের ব্যবস্থাপনায় এটি সারা দেশে “সেই বিখ্যাত ৩ মিনিট নিরবতার” মতোই একযোগে পাঠ করা যেতে পারে-
Hate is like a swordfish,
working through water invisibly
and then you see it coming
with blood along its blade,
but transparency disarms it.
(PABLO NERUDA, Autumn Testament)
আমাদের নেতৃত্ব, মিডিয়া এবং শাহবাগের তারুণ্য যত দ্রুত অজ্ঞতার কুয়াশা কিংবা মূল সমস্যাকে পাশ কাটানোর অসতোদ্দেশ্যের মোহকে ছিন্ন করতে পারবেন ততটাই তরান্বিত হবে দেশ, দশ  এমনকি  তাদের নিজেদের মঙ্গল।
সমগ্র পৃথিবীতেই চলছে আজ ঘৃণার রাজত্ব। সেই দেড়শত বছর আগে ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গেটিসবার্গে মাত্র আড়াই মিনিটে ১০টি বাক্যে মাত্র ২৭২ শব্দের যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা সমসাময়িক শতাব্দীতে সমগ্র পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা বক্তব্য হিসেবে ধরা হয়। কে ছিলেন সেই ঐতিহাসিক বক্তা? একজন কাঠুরিয়ার ছেলে হিসেবে মাত্র ৯ বছর বয়েসে মা হারিয়ে মাত্র ১ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে তিনি বড় হন। মাত্র এক কক্ষের একটি জীর্ণ ঘরেই  তার বাল্যকাল কাটলেও তিনি ১৩২ কক্ষ বিশিষ্ট হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেছিলেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে। হ্যাঁ, তিনি আব্রাহাম লিঙ্কন। ৬ ফিট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার  এই ব্যক্তি আমেরিকার ৪৪ জন প্রেসিডেন্টের ভিতর শুধু সবচেয়ে দীর্ঘদেহীই নন  বরং সবচেয়ে জনপ্রিয়। গত জানুয়ারি, ২০১৩ -এ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক ও পরিসংখ্যানবিদ নেট সিলভারের পক্ষ থেকে বিগত সময়ের প্রায় ৫৩৮টি জরিপের ভিত্তিতে আবারও লিখেন আমেরিকার ৪৪ জন প্রেসিডেন্টের ভিতর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন আব্রাহাম লিঙ্কন। গেটিসবার্গের মাত্র আড়াই মিনিটের বক্তৃতায় লিঙ্কন মানবতার সাম্য, ঐক্য, গণতন্ত্র এবং জনগণের সরকারের কথা বলেছিলেন যার অভাব আজ সারা বিশ্বে বিশেষ করে আমাদের দেশে এবং চলমান সময়ে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। আমরা গণতন্ত্র ও সুশাসনের সব প্রবক্তারা তার সেই বিখ্যাত উক্তিকে একটু স্মরণ করতে পারি- “Government of the people, by the people, for the people, shall not perish from the Earth.”
Read more at: http://www. brainyquote.com/quotes/quotes/a/abrahamlin101395.html#JmHjGe0QuvcDW3X3.99
কঠিন গৃহযুদ্ধের পরও তিনি কিভাবে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে আমেরিকাকে বিশ শতকের সূচনাতেই বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে  বসিয়েছিলেন তার আরেকটি জনপ্রিয় এক লাইনের বাণী থেকেই সেটি আমরা অনুধাবন করতে পারবো-“destroy my enemies when I make them my friends.Ó
Read more at http://www. brainyquote.com/quotes/quotes/a/abrahamlin108529.html#JAsjYFQ9wd1RydrK.99

শেষ করছি সেই পাবলো নেরুদারই এক লাইন কবিতা দিয়েই যার ক্যাপ মাথায় পাইপমুখের সেই বিখ্যাত ছবি অথবা এক-আধলা কবিতার বাণী ড্রইংরুমে ঝুলিয়ে রেখে অনেকে কৃতার্থ হন। যিনি ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হন কিন্তু মাত্র ২ বছরের মাথায় ক্যান্সারে মারা গেলেও আজও তদন্ত হচ্ছে হয়তো এই মৃত্যুর পেছনে চিলির তৎকালিন শাসক পিনাচোটের ষরযন্ত্র ছিল। ঘৃণার আগুনে জীবন দিলেও ভালোবাসাই ছিল তার কবিতার মূল সুর।
জানি না আমাদের দেশের শাশ্বত পলিমাটির কোমল হৃদয়ে যে কংক্রিট কাঠিন্য লেপ্টে দেয়ার ভয়ঙ্কর অপচেষ্টা চলছে তাতে এর কোনো আচর লাগবে কিনা
Love! Love until the night collapses!
(PABLO NERUDA, “Come Up with Me”)

SHARE

Leave a Reply