ভোটারবিহীন নির্বাচনে গণতন্ত্র নির্বাসিত -জিবলু রহমান

১৯৮৮ আর ১৯৯৬-এর নির্বাচনকে ভোটারবিহীন নির্বাচনও বলা হয়। ‘প্রহসনের নির্বাচন’-এর তকমা পেয়েছিল স্বৈরশাসক এরশাদের ১৯৮৮ সালের নির্বাচন। ১৯৮৮ সালে ১৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন ১১ জন করে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির একদলীয় নির্বাচনে বিএনপির ৪৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে একতরফা সংসদ নির্বাচন পাড়ি দিতে আওয়ামী লীগ একঝাঁক বিতর্কিত মুখকে নৌকায় তুলেছিল। সন্ত্রাসের গডফাদার, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজ হিসেবে এঁদের পরিচিতি এখন দেশজুড়ে। এঁদের অধিকাংশই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
২০১৪ সালের নির্বাচন প্রার্থীবিহীন (অর্ধেক আসনে একজন প্রার্থী) নির্বাচনের অভিধা বরণ করেছে। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এ নির্বাচনে সবচেয়ে কম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো ‘তামাশার নির্বাচনের কলঙ্ক তিলক’ পরেছে আওয়ামী লীগও। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’-এর স্রষ্টা এরশাদ নিজেই এখন গৃহপালিত বিরোধী দল হওয়ার কলঙ্ক নিয়েছেন। তাকে পোষ মানাতে গিয়ে প্রকাশ্যে গলদঘর্ম হয় তখনকার নির্বাচন বর্জনকারীদের অন্যতম দল আওয়ামী লীগ।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু বিদায়ী রকিব কমিশনের গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ড এর স্বাধীন অস্তিত্বকে প্রশ্নের সামনে ফেলেছে।
একদলীয় নির্বাচনের আগে ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ বিকেল ৫টায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও ১৪ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অনেকের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ দেয়ার হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এ প্রক্রিয়া তদারক করেছেন।
১২ ডিসেম্বর ২০১৩ সিইসির কাছে লেখা এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই তিন দলের ১০ জন প্রার্থীকে জোটবদ্ধ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার অনুরোধ জানান। কমিশন সে অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছিল। বিষয়টি আরপিওর পরিপন্থী ছিল। আরপিওর ২০ ধারায় বলা আছে, একাধিক রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে তা তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও তরীকত ফেডারেশন কখন নির্বাচনী জোট গঠন করেছে, তা তারা কমিশনকে জানায়নি।
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও আমরা শক্তিশালী বিরোধী দল পেয়েছিলাম বলে সেই সরকার ও সংসদে ভারসাম্য ছিল। অন্তত প্রথম দুই-আড়াই বছর। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সেই ভারসাম্য রক্ষিত হয়নি বলে দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রচর্চা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়ে পড়ে। আর ২০১৪ সালে নির্বাচনে বিরোধী দলের অস্তিত্ব নেই বলেই জনমনে ধারণা। ফলে এই ভারসাম্যহীন সংসদ ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতি উপহার দিতে পারবে কি না, সেটাই এখন ক্ষমতাসীনদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্যের সরকার মুখে বললেই হয় না, কাজে দেখাতে হয়। নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা এতটাই আস্থাহীন হয়ে পড়লেন যে উপজেলায় ১৪ দলীয় শরিকদের সঙ্গেও পদ ভাগাভাগি করতে রাজি হলেন না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পথ ও পথের বিবেচনায় আওয়ামী লীগের যেমন কিছু সুবিধা আছে, তেমনি অসুবিধার দিকটি হলো, আওয়ামী লীগ বিপদে না পড়লে কখনো কারও সঙ্গে জোট বাঁধে না। বিপদে পড়লে খেলাফত মজলিসের সঙ্গেও জোট বাঁধতে পারে। অন্য সময়ে একলা চল নীতিতে চলে দলটি।
নির্বাচন কমিশন পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতা রোধ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে কমিশন। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা এর জন্য বহুলাংশে দায়ী। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা ঘটনায় শক্ত ব্যবস্থা না নেয়ায় ইতোমধ্যে কমিশন সমালোচিত হয়েছে।
বিগত নির্বাচনগুলোয় যে সহিংসতা হয়েছে তা গণতান্ত্রিক অধিকারকে শঙ্কার আসনে বসিয়ে দিয়েছে। এতে রাজনীতিবিদদের নির্বাচনে জেতার স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়েছে। এরকম চলতে থাকলে নির্বাচনে জিততে সবাইকে সহিংসতার আশ্রয় নিতে হবে। কারচুপির আশ্রয় নিতে হবে। এভাবে নির্বাচনী সহিংসতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেবে।
নির্বাচনে সহিংসতা, কারচুপি বন্ধ করতে না পারলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে না। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষ্ক্রিয়তা এর জন্য বহুলাংশে দায়ী। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা ঘটনায় শক্ত ব্যবস্থা না নেয়ায় ইতোমধ্যে কমিশন সমালোচিত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এমনকি বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। ইসি এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ক্ষমতাসীন দল দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় নির্বাচনের নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। সিইসি নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত থাকা অবস্থায় নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধ করতে পারেননি। উপজেলা নির্বাচনের সময় সিইসি বিদেশে অবকাশ যাপনে গিয়েছেন। ৩ মার্চ ২০১৪ সস্ত্রীক দেড় মাসের জন্য আমেরিকায় অবকাশ যাপনে গিয়েছেন। এ অবস্থায় তার অবকাশ যাপন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তার এ অবকাশ যাপনের মাধ্যমে অন্য কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। (সূত্র : দৈনিক সংগ্রাম ১২ মার্চ ২০১৪)
নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এ দায়িত্ব পালনে সরকারসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল সহযোগী। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এমন জটিল নির্বাচন যে আরও জটিল হয়ে উঠবে, তা অনুধাবন করে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে, সেসব বিষয়ে প্রয়োজন ছিল সব সহযোগীর সঙ্গে আলোচনা করে পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে সহযোগিতা চাওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা। তেমনটা নির্বাচন কমিশন করতে পারেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এতো কিছুর পরও নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ উচ্চারণ-দেশের প্রতিটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হচ্ছে। অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অভাব কারো কাছে অজানা নয়। কারণ এই নির্বাচন কমিশন সরকারেরই তল্পিবাহী। নির্বাচন সুষ্ঠুর পক্ষে সাফাই গাইতে তারা একেবারে বেশরম। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে অগাধ ক্ষমতা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকারি দলের দুষ্কৃৃতকারীরা বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারা এবং বিরোধী প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ চালানোর পর নির্বাচন কমিশনারের পদক্ষেপ তো কারো অজানা নয়। জনগণ এটি সুস্পষ্টভাবে বোঝে যে, এই নির্বাচন কমিশন নির্বাহী বিভাগ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে বশীভূত। সুতরাং এই সমস্ত কারণে এটি প্রমাণিত যে, এই নির্বাচন কমিশন নিজেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে একটা মস্তবড় বাধা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে সরকারি দলের ক্যাডাররা যেভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে তাতে ভোটাররা আতঙ্কিত। সরকারের অনাচার, অবিচার, বিরোধী দলের ওপর অব্যাহত দমন-পীড়নের দ্বারা সারা দেশকেই বন্দিশালা বানানো হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরেও সরকারি দলের নানাবিধ ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, নাশকতা এবং দখলবাজি চলেছে মহাসমারোহে। এবারো দেশবাসী সরকারি দলের সন্ত্রাসের বিধ্বংসী তাণ্ডব দেখার অপেক্ষায় আছে।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের লোকজন তাণ্ডব চালালেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে ভোটারদের হয়রানির পাশাপাশি যৌথবাহিনী দিয়ে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। আগে আমরা লক্ষ করেছি, সরকারের সাথে অনেকটা একাত্মতা পোষণ করেছেন নির্বাচন কমিশনও। এখনও গোলযোগের ঘটনাগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ দাবি করে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের সমর্থকদেরকেই নাজেহাল ও হয়রানি করছে।
নির্বাচনে প্রার্থীরা তাদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামার আগেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতাসীন দলের লোকদের বাধার কারণে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের কেউ মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি। আবার মনোনয়নপত্র জমাদানের পর তা প্রত্যাহারের জন্যও সরকারদলীয় প্রার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় অন্য প্রার্থীদেরকে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী গণসংযোগকালে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর কয়েক জায়গায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে এমন খবরও পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা অহরহ নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের। আর নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করার পরও কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিএনপিসহ অংশগ্রহণকারী সব দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন সরকারদলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে। এসব কারণে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো দলই নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।
আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে এখন অপ্রতিরোধ্য সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নির্বাচনে যাতে বিরোধী দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হতে না পারে সেজন্য সরকারি দল সন্ত্রাস চালাচ্ছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের পাইকারিভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গুম, খুন অব্যাহত আছে। র‌্যাব, পুলিশ ও প্রশাসন সবাই শুধু এক ব্যক্তির হুকুমই পালন করছে।
যে কোনো দলে গণতন্ত্র না থাকলে কিংবা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না হলে তারা ক্ষমতায় এলেও দেশপ্রেমের ঘাটতি থাকে। হাইব্রিড বা ব্যবসায়ী নেতাদের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে সরকার বা দল চাইলেও উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় লাভের পর একই আদলে ফের ‘ফিফথ ডিভিশন’ নামে সুবিধাভোগী অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা এই ফিফথ ডিভিশনের ভিড়ে ছিটকে পড়ছেন ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোতে ‘অতি আওয়ামী লীগ’ সেজে নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সিভিল প্রশাসনে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে, টেন্ডার বাণিজ্যে এমনকি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতেও তারা ‘ক্রীড়নক’ ভূমিকা পালন করছেন। ফিফথ ডিভিশনের তৎপরতা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক। তাদের তৎপরতায় বিভিন্নভাবে বেকায়দায় পড়ছে খোদ সরকার ও আওয়ামী লীগ।
দেশে আগামী সংসদ নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক সঙ্কট ও সহিংসতা ততোই ঘনীভূত হচ্ছে। কয়েক বছরে ধরে সংলাপের ইতিবাচক একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর একগুঁয়েমির ফলে সেটি পরিপক্বতা পায়নি। বিশেষ করে ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক টেলিফোনে বিরোধী দলের নেতাকে সংলাপের লক্ষ্যে যে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তা শর্ত সাপেক্ষে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় সেই প্রচেষ্টা একধাপ পিছিয়ে যায়।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, বরং ক্রমেই তা সংঘাত-সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনমনে আশঙ্কা বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

SHARE