মজলুমের শরীরে জালিমের আঘাত আলী আহমাদ মাবরুর

আমাদের অনেক ভাইয়ের শরীরেই নির্যাতন ও আঘাতের চিহ্ন আছে। এগুলো নিয়ে তাদের অনেক স্বস্তির জায়গা আছে। আবার কখনো কখনো এই চিহ্নগুলো আফসোসের কারণও হয়ে যায়। বিশেষ করে যখন শারীরিকভাবে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, কিংবা যখন অপরাপর মানুষের মূল্যায়ন সেই অর্থে পাওয়া যায় না, তখন এই আঘাতের চিহ্ন দেখেই অনেকের অশ্রুও ঝরে যায়।
অথচ এই আঘাতের চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। এই আঘাতের চিহ্ন, আপনার জন্য রোজ হাশরের দিন সাক্ষ্য দেবে। রাসূল সা. ও তাঁর সাহাবিরাও তাদের জীবনে এরকম অসংখ্য আঘাত পেয়েছেন। এই চিহ্নগুলো তাই আমাদেরকে মর্যাদার আসনে উপনীত করে। আল্লাহ তায়ালা যেন এই আঘাত আর আঘাতের চিহ্নগুলোর ওসিলায় আমাদের গুনাহগুলোকে মাফ করে জান্নাত নসিব করেন। আমিন।
উহুদের যুদ্ধের দিনে পাহাড় থেকে যখনই মুসলমানরা নেমে গেলেন, তখন কুরাইশ ঘোড়সওয়ারি সেনারা পেছন থেকে এসে মুসলমানের ওপর এবার সজোরে আক্রমণ চালাল। শুধু তাই নয়, কিছুসংখ্যক সাহাবি রাসূলকে সা. একা রেখেই ময়দানের সামনের দিকে চলে যায়। সেই সময়ে রাসূল সা.-এর পাশে মাত্র ৬ জন সাহাবি ছিলেন। অর্থাৎ এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হলো যে, কয়েক শ’ কাফের সদস্য তাদের হাতের মুঠোয় মাত্র ৬ জন সাহাবিসহ রাসূলকে সা. পেয়ে গেলো।
ফলে কাফের সদস্যরা রাসূলে করীমকে সা. আক্রমণ করতে উদ্যত হলো। একটি তীর রাসূলের সা. মাথায় পরিহিত হেলমেটের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে চোয়াল ভেদ করে দাঁত মুবারককে আহত করে। আর বাম পাশ দিয়ে আরেকটি পাথর এসে রাসূলকে সা. আহত করে। ফলশ্রুতিতে, রাসূলের সা. মুখের ডান ও বাম- উভয় পাশ দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। পাশাপাশি, একজন কাফের সদস্য তাকে তলোয়ার দিয়েও আঘাত করল। সব মিলিয়ে, সেই ঘটনায় রাসূলের সা. শরীরের তিনটি জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত ও আহত হলেন।
এরপর, আঘাতের চিহ্ন প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা যে সাহাবির কথা বলতে পারি তিনি হলেন আশারায়ে মুবাশশারাহ, সাইয়্যেদুনা হযরত তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রা.। হযরত তালহা রা. কতটা পরোপকারী ছিলেন, কতটা উদার ছিলেন কিংবা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য তিনি কতটা ব্যাকুল ছিলেন, তা তার জীবনের অসংখ্য ঘটনা দিয়েই বোঝা যায়। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো উহুদের যুদ্ধের ঘটনা। এ দিনটি সাহাবিদের জন্য ছিল খুবই শোকাবহ দিন। রাসূল সা. সেই দিনটিতে মারাত্মকভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। তার হেলমেটের রিং তার গালের ভেতর ঢুকে গিয়েছিল। তার সামনের পাটির দুটো দাঁত শহীদ হয়েছিল। রাসূল সা. আহত হয়েছেন এই খবরটি যখন যুদ্ধের ময়দানে থাকা তালহা বিন উবাইদুল্লাহর রা. কানে যায়, তখন তিনি দৌড়ে রাসূলের সা. তাঁবুর কাছে চলে আসেন। তিনি রাসূলকে সা. নিজের জীবনের বিনিময়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। নবীজিকে সা. শরীরের সাথে লাগিয়ে তালহা রা. রক্ষা করার চেষ্টা করেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসূল সা. বলেন, ‘উহুদের যুদ্ধের সেই বিভীষিকাময় দিনে আমার ডান পাশে ছিলেন হযরত জিবরাইল আ. আর বামপাশে ছিলেন তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রা.। সুবহানআল্লাহ।
শুধু তাই নয়, হযরত তালহা রা. সেদিন নানাভাবে কাফিরদের আক্রমণও সহ্য করে রাসূলকে সা. বাঁচানোর চেষ্টা করেন। শত্রুপক্ষের একজন সেনা রাসূলকে সা. লক্ষ্য করে একটি তীর ছুড়ে। সেই তীরটি রাসূলের সা. দিকে অগ্রসর হচ্ছে দেখে হযরত তালহা রা. তার একটি হাতের তালু দিয়ে সেই তীরটিকে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তীরটি সরাসরি তালহার রা. হাতে প্রবেশ করে। এরপর থেকে হযরত তালহার রা. সেই হাতটি অনেক দিন অবশ হয়েই থাকে। এরপর তালহা রা. তার আরেকটি হাত দিয়ে রাসূলকে সা. জড়িয়ে ধরেন এবং দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানের দিকে সরে যান। হযরত তালহার রা. মেয়ে পরবর্তীতে জানান, উহুদের যুদ্ধের দিনে আমার পিতার গায়ে সর্বমোট ২৪টি আঘাত লেগেছিল। এই আঘাতের চিহ্নগুলো তিনি সারা জীবন বয়ে গেছেন।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রাসূলকে সা. নিরাপদ স্থানে নেয়ার পর তালহা রা. নবীজিকে সা. মাটিতে শুইয়ে দিয়েই নিজে অজ্ঞান হয়ে যান। তার অগণিত আহত স্থান থেকে এত বেশি রক্ত বের হচ্ছিলো যে, তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। হযরত আবু বকর রা. ও হযরত সাদ রা. ততক্ষণে সেখানে পৌঁছে গেছেন। তারা নবীজিকে সা. নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে চাইলেন। কিন্তু নবীজি সা. তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা আমাকে নয় বরং তালহার যত্ন নাও।’ এরপর রাসূল সা. অপলক দৃষ্টিতে তালহার দিকে তাকিয়ে ছিলেন আর বারবার তিনি এই আহত মানুষটির কুরবানি এবং আল্লাহর রাসূলকে সা. রক্ষা করার বেপরোয়া প্রচেষ্টার প্রশংসা করছিলেন। আল্লাহর কাছে হযরত তালহার রা. জন্য তিনি দুআও করছিলেন। রাসূল সা. উহুদের যুদ্ধের পর তালহা রা. সম্বন্ধে একটি মন্তব্যে বলেছিলেন, “যদি তোমরা জমিনের ওপর কোনো জীবন্ত শহীদকে দেখতে চাও, এমন একজন শহীদ যিনি দুই পায়ের ওপর বিচরণ করে তাহলে তোমরা আমার প্রিয় তালহা বিন উবাইদুল্লাহকে রা. দেখে যেও।” এর আগে হযরত তালহা রা. তালহাতুল খাইর, তালহাতুল জুদ এবং তালহাতুল ফাইয়াদ প্রভৃতি উপাধি পেয়েছিলেন আর এবার তিনি জীবন্ত ও বিচরণকারী শহীদ হিসেবেও স্বীকৃত হয়ে গেলেন।
আবার জান্নাতি আরেকজন সাহাবির কথাও এক্ষেত্রে বলা যায়। তিনি হলেন হযরত আব্দুর রহমান বিন আওফ রা.। তিনি একজন সামর্থ্যবান সাহাবি ছিলেন। তিনি যেমন বেশি উপার্জন করতেন আবার সবচেয়ে বেশি ব্যয়ও করতেন। অথচ, এই আব্দুর রহমান বিন আওফ রা. কখনোই কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকেননি। তিনি যুদ্ধের ডাক এলেও বলেননি যে, “আমি এত টাকা দিচ্ছি। আমি যুদ্ধে না যাই। কিংবা এমনও বলেননি যে, আমার জরুরি ব্যবসায়িক কাজ আছে। আমি বরং মদিনায় থেকে অর্থ সংগ্রহ করি।” বরং প্রতিটি যুদ্ধেই তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন।
সরাসরি যুদ্ধ করেছেন বলে তিনি অর্থ সাহায্য করেননি- এমনও নয়। আব্দুর রহমান বিন আওফ রা. যুদ্ধে বা যে কোনো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে অন্য সবার চেয়ে বরং বেশি অর্থ দেয়ার চেষ্টা করতেন। তাবুকের যুদ্ধে তিনি ২০ পাউন্ড স্বর্ণ দান করেছিলেন, যা তখনকার সময়ে রীতিমতো অবিশ্বাস্য। আবার শারীরিকভাবেও আব্দুর রহমান বিন আওফ রা. ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। উহুদের যুদ্ধের সময় রাসূলকে সা. কাফিরদের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে গিয়ে তার শরীরে ২০টিরও বেশি আঘাত লেগেছিল। জীবনে যে কয়দিন তিনি বেঁচে ছিলেন এই আঘাতের চিহ্ন আর ব্যথা নিয়েই তাকে থাকতে হয়েছে।
ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকরও রা. তার জীবনের একটি সময়ে অনেক বেশি আঘাত সহ্য করেছেন। মক্কিযুগে যখনই কাফেররা নবীজিকে সা. শারীরিকভাবে আঘাত করতে যেতো, হযরত আবু বকর রা. মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াতেন এবং রাসূলকে সা. হেফাজত করার চেষ্টা করতেন। শারীরিকভাবে তিনি ততটা শক্তিশালী ছিলেন না। কিন্তু রাসূলের সা. প্রতি তার ভালোবাসা এতটাই বেশি ছিল যে, তিনি নিজের কথা না ভেবে কাফেরদের আগ্রাসী আক্রমণের মাঝে চলে যেতেন। আর কাফেররা সেই সুযোগে তাকে অস্বাভাবিকভাবে নির্যাতন করতো। যেহেতু তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন তাই আঘাত সহ্য করতে করতে অনেক সময় তিনি জ্ঞানও হারিয়ে ফেলতেন। এমন অকথ্যভাবেও তিনি মার খেয়েছেন যে, তার মুখ অনেকবেশি রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিল ফলে বাড়িতে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পর তার মাও তাকে চিনতে পারেননি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন তার জ্ঞান ফিরে আসতো, একটিবারের জন্যেও তিনি নিজের কথা ভাবেননি। সবার আগে তিনি জানতে চাইতেন, নবী মুহাম্মাদ কেমন আছে। তাকে কোনোভাবেই শান্ত করা যেতো না। তিনি বলতেন, আমি নবীজিকে সা. এখনই দেখতে চাই। তার মা বলতেন, তুমি তো দাঁড়াতেই পারছো না, কিভাবে তাকে দেখবে? তারপরও আবু বকর রা. জিদ করতেন। ফলে সেই অসুস্থ মানুষটিকে নিয়েই তার মা চলে গিয়েছিলেন দারুল আরকামে, যেখানে রাসূল সা. উপস্থিত ছিলেন। রাসূল সা. কে সুস্থ ও নিরাপদ দেখার পরই তিনি চূড়ান্তভাবে শান্ত হন।
হযরত বিলালের রা. ঘটনাও এ প্রসঙ্গে বলা যায়। হযরত বিলাল রা. তাওহিদের ঘোষণা দেয়ায় উমাইয়া ইবনুল খালাফসহ অন্যান্য কুরাইশ নেতারা তার ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। এরই পরিণতিতে, তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এমন নির্যাতন তার ওপর তখনকার সময়ে চালানো হতো যে, হযরত বিলালের রা. প্রায়শই মনে হতো, তিনি আর বাঁচবেন না। কুরাইশ নেতারা মারতে মারতে অনেক সময় তাকে বেহুঁশ করে ফেলতো। আমরা বিলালের রা. বুকের ওপর পাথর চাপিয়ে দেয়ার ঘটনা জানি। কিন্তু এর আগে আরো ঘটনা আছে। তাকে তার বাড়িতে বেঁেধ রাখা হতো। দিনের পর দিন তাকে না খাইয়ে রাখা হতো। তারা তাকে পানি না দিয়ে শুকিয়ে ফেলতো। বিলাল রা. আহাদুন আহাদ বলতো বলে তারা তার ঠোঁটের কাছে মূর্তি নিয়ে আসতো এবং তাকে চুমু দিতে বাধ্য করতো। তারা লাত ও উজ্জা অর্থাৎ কুরাইশদের সবচেয়ে বড়ো দুই মূর্তির উপাসনা করার জন্য বিলালের রা. ওপর চাপ প্রয়োগ করতো। হযরত বিলালের রা. মুখে আঘাত করে তার চেহারাও বিকৃত করার চেষ্টা করেছিল। তারা বিলালকে রা. কালো কুচকুচে নারীর সন্তান বলে গালি দিতো। যদিও বিলাল রা. এর পিতা আরব ছিলেন কিন্তু তারা তা বিবেচনায় নিতো না।
অথচ এত কিছুর পরও বিলালের রা. মুখে একটিবারের জন্য তাওাহদের দ্ব্যর্থ উচ্চারণকে তারা থামাতে পারেনি। উমাইয়া ইবনে খালাফ সবার সামনে টেনে হিঁচড়ে বিলালকে রা. মরুভূমিতে নিয়ে যেতেন। তার হাত পা বেঁধে তার ওপর পাথর চাপানো হতো। একই সঙ্গে তাকে শারীরিকভাবে আঘাতও করা হতো। এরপরও বিলাল রা. বলে যেতেন আহাদুন আহাদ।
শারীরিক নির্যাতন ও কুরবানির আরেকটি দৃষ্টান্ত হলেন হযরত খাব্বাব রা.। খলিফা হযরত উমরের রা. খিলাফতকালে একদিন হযরত খাব্বাব রা. খলিফার কাছে গেলেন। খলিফা অত্যধিক সমাদরের সাথে তাঁকে একটা উঁচু গদির ওপর বসালেন। একটা পর্যায়ে, কুরাইশদের হাতে তিনি যে নির্যাতন ভোগ করেছিলেন, খলিফা তা জানতে চাইলেন। কিন্তু খাব্বাব রা. তা জানাতে সংকোচ বোধ করলেন। খলিফার বারবার পীড়াপীড়িতে তিনি চাদর সরিয়ে নিজের পিঠটি আলগা করে দিলেন। খলিফা তাঁর পিঠের বীভৎস রূপ দেখে আঁতকে উঠে জিজ্ঞেস করেন; এ কেমন করে হলো?
খাব্বাব বললেন: পৌত্তলিকরা আগুন জ্বালালো। যখন তা অঙ্গারে পরিণত হলো, তারা আমার শরীরের কাপড় খুলে ফেললো। তারপর তারা আমাকে জোর করে টেনে নিয়ে গিয়ে তার ওপর চিত করে শুইয়ে দিল। আমার পিঠের হাড় থেকে মাংস খসে পড়লো। আমার পিঠের গলিত চর্বিই সেই আগুন নিভিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তাঁর পিঠের চামড়া শ্বেতীরোগীর মত হয়ে গিয়েছিল। (হায়াতুস সাহাবা-১/২৯২, মুসতাদরিক, সিরাতে ইবনে হিশাম, টীকা-১/৩৪৩)
হযরত কায়েস বিন আবি হাজিম রা. থেকে বর্ণিত। “আমরা একবার হযরত খাব্বাব বিন আল আরাতের কাছে গেলাম। তার শরীরে অকথ্য নির্যাতনের অসংখ্য চিহ্ন ছিল। আমরা তাকে প্রশ্ন করলাম আপনি এত ব্যথা কী করে সহ্য করেন? তিনি বললেন, যদি আল্লাহর রাসূল মৃত্যু কামনা করা নিষেধ না করতেন তাহলে আমি হয়তো এ অত্যাচারের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুই কামনা করতাম।” (আল বুখারী)
আরো অনেক সাহাবির ঘটনাই এ সংক্রান্তে আলোচনা করা যায়। কিন্তু আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যায় বলে আমরা সেই দৃষ্টান্তগুলো পরবর্তী সময়ের জন্য তুলে রাখলাম। সবসময় মনে রাখা প্রয়োজন, যারা জিহাদের ময়দানে কিংবা যারা পরিস্থিতির মাঝে থেকে বাতিলকে মোকাবেলা করে তাদের সাথে অন্য কারো অবস্থানের তুলনা হয় না। কেউ মূল্যায়ন করুক বা না করুক, আল্লাহর কাছে আমাদের শহীদবর্গের এবং চারিপাশে থাকা অসংখ্য জীবন্ত শহীদগণের আত্মত্যাগ সবসময়ই মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চয়ই তারা যে কষ্ট পেয়েছেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে যেভাবে জুলুম সহ্য করেছেন, আঘাতের চিহ্ন বয়ে নিয়ে জীবন যাপন করছেন, এগুলোই রোজ হাশরের দিনে তাদের নাজাতের ওসিলা হয়ে যাবে।
উহুদের ময়দানে রাসূল সা. গোটা ময়দানটি ঘুরে সমস্ত শহীদের লাশগুলোকেই দেখছিলেন আর বলছিলেন, “হে আল্লাহ আমি তাদের সবার পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছি। আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে, সংগ্রাম করতে গিয়ে যারা সামান্য আঘাত পায়, হাশরের ময়দানে সেই আঘাতের চিহ্ন নিয়েই সে দাঁড়াবে। আঘাতের সেই স্থানগুলো থেকে তখন রক্তপাত হতে থাকবে। সেদিন সেই রক্তের রং ও ঘ্রাণ হবে মেশকের মতো।”
রাসূলের সা. এই কথাগুলো আমাদের আহত ও শহীদ সকল ভিকটিম তথা এই প্রজন্মের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলের কুরবানি ও কষ্টগুলোকে কবুল করে দিন। আমিন।
লেখক : গবেষক, অনুবাদক ও সাংবাদিক

SHARE

Leave a Reply