মায়ের কাছে খোলা চিঠি ছাত্রশিবির আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত

শাহীন আহমদ খান
মা  তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে দীর্ঘদিন পর বাড়িতে গিয়েছিলাম। মনে করেছিলাম মন খুলে তোমার সাথে সকল বিষয়ে কথা বলব, তোমাকে জড়িয়ে ধরে হৃদয়ের জ্বলা আগুন নিবৃত্ত করব। ছোটবেলা তোমাকে জড়িয়ে শুয়ার কী যে প্রশান্তি ছিল তা আজও ভুলতে পারি না, সেই অতৃপ্ত আকাক্সক্ষা মিটিয়ে নেবো, তোমার মায়াবী হাতছানির পরশে ধন্য হবো। সত্য কথা হলো মা তোমার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে বটে, কিন্তু উপরে বর্ণিত কোনটাই  পারিনি। মা তুমি মন খারাপ করো না, আমাকে ভুল বুঝবে না এ অবস্থা তোমার সন্তানের একার নয়; এ দেশের অসংখ্য সন্তান তাঁদের মায়ের আদর ¯েœহ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। এ দুনিয়া এত প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য করে তোলা হয়েছে সঙ্কীর্ণ। মা সে দিন বাড়িতে যাওয়ার পর তোমার কাছ থেকে ছুটি নিয়ে স্থানীয় সংগঠনের ডাকে একটি প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম মা বিকেলে এসে তোমার সাথে সব কথা বলব, মনভরে তোমার মায়াবী আচলের পরশে ¯েœহ মমতার বাঁধনে হারিয়ে যাবো। কিন্তু মা হঠাৎ ২টা ফোন- তোমার সাথে আমার পুনরায় সাক্ষাৎ করা অনিশ্চিত করে দিলো, তোমার সেই ¯েœহের পরশ না পাওয়ার জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াল। মা ফোনে বলা হলো আমার নামে নাকি ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে, সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন আমাকে খোঁজছে। এ জন্য এলাকার প্রশাসনকে আমার প্রতি নজর দেয়ার জন্য স্থানীয় নেতারা চাপ দিচ্ছেন ইত্যাদি আর কত। যাক মা এ বিষয় নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন তিনিই উত্তম ফয়সালাকারী। যে দেশে হাজারো  মায়ের প্রাণপ্রিয় যুবক সন্তানেরা কেবল বস্তাবন্দী হয়ে খালে-বিলে-নদীতে ভেসে চলেছে, সে দেশে সত্যিকার বিচারব্যবস্থা কায়েম হোক এটাই তো সকলের একান্ত কামনা। আইনের শাসনের অবর্তমানে গত চার বছর ধরে এ জাতির রক্ত ঝরেই চলেছে, সমান গতিতে চলেছে নারী-ধর্ষণ নির্যাতন। বিচার নেই, আছে শুধু বুকফাটা হাহাকার-কান্না। এই ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই  প্রয়োজন মা সাহসী দুর্বার গণ-জাগরণ। মা আপনি শুনলে হয়তো মন খারাপ করবেন, অনেক মায়ের সন্তানকে মা বাবার চোখের সামনে থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদেরকে রিমান্ড দেয়া হচ্ছে। রিমান্ডের নামে তাদের জীবন যৌবন শেষ করে দেয়া হচ্ছে। কোন কোন অভিভাবকের কাছে বড় অঙ্কের টাকা চাওয়া হচ্ছে, সন্তানের জীবনের দিকে তাকিয়ে কষ্ট হলেও মা-বাবা সে অসাধু পুলিশ অফিসারদের বায়না পুরো করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মা এখানেই শেষ হয়নি, আপনি হয়তো পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন ভাই ওলিউল্লাহ আর মুকাদ্দাসের কথা । যতটুকু জেনেছি তারা তাদের ক্যাম্পাসে স্বভাব চরিত্রে, মেধায় যোগ্যতায় শ্রেষ্ঠ। তারা যে সকল দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী, তা তাদের ক্যাম্পাসের আবাল বৃদ্ধবনিতা সকলেই স্বীকৃিত দিয়েছে। কিন্তু মা দুঃখজনক হলেও সত্য এ দুইজন ভাই ঢাকায় বেড়াতে এসে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে হানিফ পরিবহন থেকে জঅই নামধারী সাদা পোশাকের কিছু লোক তাদেরকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এক বছর হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তাদের কোন সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি।
পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সংগঠনের পক্ষ থেকে আদালত, মানবাধিকার সংস্থার কাছে তাদের খোঁজের জন্য আবদার করা হয়েছে।   কোন ওহভড়ৎসধঃরড়হ দিতে পারেনি। মা সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল, সেখানে আমারও থাকার সুযোগ হয়েছিল, সে জায়গায় তঁদের মা-াবা ভাইবোনদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছিল। সে জায়গায় সাংবাদিক বন্ধুরাসহ আমরা কেউই  চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। কিন্তু জালিম শাসকদের হৃদয়ে একটুও আঁচড় লাগেনি।
মা আপনি হয়ত শুনে থাকবেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার ভাইয়ের কথা। নম্র ভদ্র অমায়িক সদা সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারা, এক অস্বাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। শুধু তাই নয়, মা মেধাবীও বটে, রাবি থেকে কেমিস্ট্রিতে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এমনকি দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও নিবেদিত সিপাহসালার, যাঁর নেতৃত্বে আল্লাহর অপার মেহেরবানিতে ছাত্রশিবির বাতিলের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র চক্রান্ত মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু মা আপনাকে কি যে বলব, আদর্শের লড়াইয়ে যারা পরাজিত, তাদের কাছে এমন মহৎ মানুষের তো কোনো মূল্যই নেই। এ পরাজিত শক্তিই গত দেড় মাস আগে তাকে তাঁর এক আত্মীয়ের বাসা থেকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে, আদালতে হাজির করে, কিন্তু সরকারের আজ্ঞাবহ আদালত একে একে ৫৬ দিন তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে বিরল ঘটনা। ঢাকা শহরের অধিকাংশ থানায় তাঁর নামে মামলা দায়ের করেছে, শুনেছি নাকি তাঁর নামে আরও ৩৫০টি মামলা তৈরি করে রাখা হয়েছে। এগুলো মূল বিষয় নয় মা, রিমান্ডের নামে তাঁর ওপর এমন নির্যাতন করা হয়েছে, যা মধ্যযুগের বর্বর নির্যাতনকেও হার মানিয়েছে। মা তাঁর চোখের টিস্যুগুলো নষ্ট করে দেয়ার জন্য চোখের মধ্যে একের পর এক আঘাত করা হয়েছে, তাঁর যৌবনশক্তি বিলুপ্ত করে দেয়ার জন্য বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়েছে, প্লাস দিয়ে তাঁর আঙুল ও হাতের নখ তুলে দেয়ার  চেষ্টা  করা হয়েছে, আরো কত নির্যাতন। সদা হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণচঞ্চল এই মানুষটি, যার সাথে এক দিন আগে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল, গ্রেফতারের পরবর্তী রিমান্ডের পর যখন তাকে আদালতে হাজির করা হলো তখন আর কী বলব মা, তাঁর সে কী দৃশ্য! আমার পক্ষে তোমার কাছে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তাঁর মা, ভাই বোনদের আর্তচিৎকারে পুরো আদালত পাড়া স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। কোনো মানুষের ওপর জনগণের ট্যাক্সে চালিত সরকারি পুলিশ বাহিনী এমন নির্যাতন করতে পারে, ইতঃপূর্বে এ জাতি তা কখনো স্বচক্ষে অবলোকন করেনি। মা আমি রাসূল (সা) যুগের মক্কার কাফির-কুফ্ফাদের দ্বারা খাব্বাব, খোবাইব, আম্মার, ইয়াসির, বেলাল, সুমাইয়া (রা) এর ওপর নির্যাতনের কথা শুনেছি। কিন্তু শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার ভাইয়ের ওপর নির্যাতন ৯০% মুসলমানের দেশে ইসলামপ্রিয় মানুষকে বিস্মিত করেছে। মা আপনি কি জানেন? কেন তাঁর ওপর এ নির্যাতন, কী তাঁর অপরাধ? মা আমি জানি আপনি বলবেন তিনি প্রশংসিত আল্লাহর ওপর ঈমান এনে তার ওপরে দৃঢ় থেকেছেন। তিনি পথহারা, পঙ্গুপালের মতো জাহান্নামের দিকে ধাবিত তরুণসমাজকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। এ দেশের বাতিল শক্তিগুলো একত্র হয়ে আল্লাহর দ্বীনকে এ জমিন থেকে মুছে ফেলার যখন ষড়যন্ত্র করছিল, তখন তিনি তাঁর বজ্রকণ্ঠে সাহসিকতার সাথে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করেছিলেন।
মা আরও একটি বিষয় হয়ত আপনার মনে আছে, ২০১০ সালে যখন আমি কারাগারে যাই। কারাগারের জীবনটা নিঃসন্দেহে ছিল কষ্টের। কিন্তু যে কয়েকজন ভাইকে পেয়ে, কারাগারের সেই দিনগুলো আনন্দঘন হয়েছিল। হাসিব ভাই, শাহীন হাসান প্রধান ও রাজশাহীর শাহাদাত ভাই তার অন্যতম। কিন্তু আপনাকে কী বলব মা, রাজশাহীর আমাদের সেই প্রিয় ভাই শাহাদাতকে সে দিন র‌্যাব ক্রসফায়ার করে হত্যা করে। ফলে আমাদের প্রিয় ভাইটি চিরদিনের জন্য আমাদের ছেড়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পারি জমান।
মা তার শাহাদাতের খবর পত্রিকায় শুনে ফেইসবুকে তার শাহাদাতকালীন ছবি দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারি নাই, মনে হচ্ছিল তিনি যেন হেসে হেসে বলছেন আমি আমার কৃত ওয়াদা পূরণ করেছি, আমার অসমাপ্ত কাজটুকু তোমাদের ওপর সোপর্দ করে যাচ্ছি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ, সহযোগিতা সহমর্মিতা, সাহসিকতা বারবার মনে পড়ছিল। বর্তমান সময়ে এমন যুবক পাওয়া খুবই দুষ্কর। মা আল্লাহ যেন তার শাহাদাত কবুল করেন, বাংলাদেশের এ মাটিকে তাঁর দ্বীনের জন্য উর্বর করেন, সেই দোয়া তোমার কাছে কামনা করছি।
মা মাঝে অনেক লম্বা করে ফেলেছি ক্ষমা করবেন। মা সে জায়গা থেকে শুরু করছি পরিবেশ অনুকূলে নাই ভেবে আপনার সাথে সাক্ষাৎ না করে প্রোগ্রামস্থল থেকে ঢাকায় চলে আসি। এবং তখনই গাড়িতে বসে চিন্তা করি তোমার সাথের সকল না বলা কথাগুলো চিঠিতে লিখবো…
ওগো আমার জন্মধারিণী, আমার উৎসাহ উদ্দীপনা স্বপ্নের ঠিকানা প্রাণপ্রিয় মা, পত্রে আমার সালাম নেবেন। বাড়িতে এসে আপনার সাথে সাক্ষাতের সর্বশেষ মুহূর্ত আমার চোখের সামনে। আপনার মায়াবী চেহারা আজ আমি দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু আপনার মায়াবী দৃষ্টিপাত, হাত নাড়িয়ে মাথা বুলানোর দৃশ্য আমার দু’নয়নে ভেসে ওঠে, যে হাতগুলো এক সময় আমার চুলগুলো নিয়ে খেলা করত।
ঢাকার এই যান্ত্রিক পরিবেশে আমার চোখের সামনে বারবার ভেসে ওঠে আপনার প্রিয় মুখ। আপনি বলেছেন আমি কি না আপনাকে ভুলে গেছি। বাড়িতে এসে আমার আত্মীয় স্বজন ভাই বোনদের কোন হক আদায় করছি না। এ কথাগুলো বলার সময় নিঃসন্দেহে তুমি অকৃত্রিম ও খাঁটি ভালবাসার টানে বলেছ, তোমার এ কথাগুলো আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আমি তোমাকে কিভাবে বুঝাব যে এ পৃথিবীতে তোমার ভালোবাসাই আমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তুমিই আমার সকল ভালোবাসার শুরু ও শেষ। স্রষ্টা অনুমোদিত তুমিই আমার সকল ভালোবাসার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু। তোমার এবং আমার পরিবার-পরিজনও ভাইবোনদের মায়া মমতা আমাকে সর্বদা আন্দোলিত করে। তবু আজ কেন আমি এত দূরে? কেন তোমার আদর ¯েœহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি? হে আমার শ্রদ্ধেয়া প্রাণপ্রিয় মা! এ প্রশ্ন তুমি অবশ্যই করতে পার। তাহলে শোন, ধনসম্পদের মোহে আমি তোমার কাছ থেকে দূরে নই, ক্ষমতার লালসা কিংবা মসনদ লাভের আশায়, আমি আজ দূরে নই। যেমনটি বর্তমান রাজনৈতিক দলের নেতারা করেন। আমি বরং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অর্পিত কর্তব্যের টানেই তোমার থেকে একটু দূরে আছি। মা তুমি জান বিশ্বে বাতিল শক্তিগুলো আল্লাহর দ্বীনকে এ জমিন থেকে মুছে দিতে চায়, আমরা যুবকেরা বেঁচে থাকতে তাহতে পারে না, হতে দেয়া হবে না। হয় বাতিলের উৎখাত করে সত্যের প্রতিষ্ঠা করবোই নচেৎ সেই প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমাদের জীবনটা শেষ হয়ে যাবে। মা তুমি হয়তো জানো যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের চেয়ে বড় আর কোনো ফরজ বা কর্তব্য হতে পারে না। এটি এমনই মহিমাময় ফরজ, যার প্রতিজ্ঞা করলেই মানুষ জান্নাতুল ফিরদাউসের উপযুক্ত হয়ে যায় (আলহামদুলিল্লাহ)! আমি কেবল প্রতিজ্ঞাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না বরং নিখুঁত বাস্তবায়নে পরিণত করতে চাই।
শ্রদ্ধেয় মা তোমার ও পরিবার পরিজনের বিয়োগ যন্ত্রণা সদ্য শাণিত তরবারি দিয়ে আঘাত করার মতো যা আমার হৃদয়কে প্রতি মুহূর্তে রক্তাক্ত করে। কিন্তু এই বিয়োগ যন্ত্রণাতেও আমি অত্যন্ত আনন্দিত, দারুণ তৃপ্ত। কেননা মায়ের বাঁধন ছাড়া আমার সামনে আর কোনো বাঁধন নেই, শুধু তোমার ভালোবাসাই আমার প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ। এক মহা পরীক্ষা।
আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করছি এই পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়া এবং তাঁর মহব্বত ও নির্দেশকে নিজের ইচ্ছা ও চাহিদার ওপর প্রাধান্য দেয়ার তৌফিক দেন। এ জন্য তোমার অবশ্যই আনন্দিত হওয়া উচিত এ কথা ভেবে যে, তোমার সন্তান খোদার দেয়া পথের ওপর অত্যন্ত দৃঢ় ও মজবুত থাকতে চায়। মা আমার সামনে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসূল (সা) ভালোবাসা  বৈ সব কিছু গুরুত্বহীন। মা আপনি জানেন যারা বাতাসের গতিবেগকে পাল্টিয়ে দিতে চায়, নদীর স্রোতকে বদলিয়ে দেয়ার মতো সৎ সাহস বুকে পোষণ করে তাদের জন্যই ইসলাম, তাদের জন্যই ইসলামী আন্দোলন।
মা আমাদের দেহ ক্ষতবিক্ষত, আজ আমরা অভিভাবক হারা, যাদের কাছ থেকে আমরা ইসলামী আন্দোলন করা ফরজ শিখেছি, আমাদের সেই পিতৃতুল্য নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দেয়ার জন্য এ জালিম সরকার সকল প্রকার ষড়যন্ত্রের জালকে পাকাপোক্ত করেছে। বিচারের নামে প্রহসন আজকে অত্যাচারীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
আজ আমরা ভাই হারা, বন্ধু হারা। আমাদের ভাইদেরকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। আজ আমারদের ভাইদের রক্তে লাল হয়ে উঠছে এদেশের প্রতিটি সবুজ প্রান্তর। হয়তো মা তুমি কামনা কর, তোমার সন্তান বড় হয়েছে, অনেক শৌর্যে বীর্যে ঐশ্বর্যে তোমার কোলে ফিরে আসবে। এরূপ কামনা করো না মা। স্বীয় স্বার্থের জন্য এরূপ কামনা করা যা আল্লাহর নিকট অপছন্দনীয়। দোয়া করবে মা, আল্লাহ যেন তোমার সন্তানের সকল সৎকর্ম তৎপরতা কবুল করেন। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে খুলুসিয়াতের সাথে কাজ করার তৌফিক দেন, নতুবা শাহাদাতের অমিয় সুধা পানে ধন্য করেন। কারণ মা প্রকৃতিতো চিৎকার করে বলছেÑ
জাতির হে তরুণেরা!
হে যুবকেরা!!
জেগে উঠো। বর্তমান দেশের প্রেক্ষাপট ঘোষণা করছে। আগামী দিনে পূর্ব দিগন্তে যে সূর্য উদিত হবে, তা হবে ইসলামের সূর্য, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার সূর্য, নেতৃবৃন্দের মুক্তির সূর্য। মা তুমি কি ভুলে গেছ কবি নজরুল বলেছিলেন “সত্যের তরে, মিথ্যার সাথে করে যাও সংগ্রাম, রণক্ষেত্রে মরিলে অমর হইয়া রইবে নাম।” তুমি জান মা আমি যে শহীদি কাফেলায় সম্পৃক্ত হয়েছি, তা আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ রহমত। এ কাফেলায় সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে মাদকের সয়লাভের এ যুগে আমার ঠোঁট কখনো তা স্পর্শ করেনি। সংগঠনের সহযোগিতা ও আল্লাহর নির্দেশনার আলোকে সর্বদাই এ ঠোঁটকে আল্লাহর যিকির ও তেলাওয়াতে মশগুল রাখার চেষ্টা করি। মা এ মুহূর্তে আমার সবচেয়ে প্রবল ইচ্ছা ও বাসনা হলো শহীদ হওয়া, বীর সেনানী হযরত খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর সঙ্গে হাশরের ময়দানে উপস্থিত হওয়া। এ দুনিয়ার তৃপ্তি ও প্রাপ্তি যেহেতু ক্ষণস্থায়ী, তাই মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার অর্থ কী? মৃত্যু যখন সুনিশ্চিত মা, তবে বিছানায় শুয়ে মরব কেন? তদুপরি শাহাদাতের মৃত্যু তো মৃত্যু নয় মা; বরং প্রকৃত বেঁচে থাকা অনন্তকালের জন্য, কারণ যা আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারায় এরশাদ করেছেনÑ ‘যারা আমার রাস্তায় নিহত হয় তাদেরকে তোমরা মৃত বল না’ বরং তারা জীবিত। তারা আমার পক্ষ থেকে খাদ্য পায়, তোমরা তোমাদের সীমিত জ্ঞান দ্বারা তা বুঝতে পার না। মা আজ চতুর্দিকে বনি আদম নির্যাতিত নিপীড়িত নিগৃহীত। আজকে তারা অধিকার হারা হয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলছে, আমাদের জন্য কি কোন সাহায্যকারী নেই? মা আমাদের মত যুবকরাতো সেই সাহায্যকারীদের কাতারে দাঁড়ানো প্রয়োজন। পরিশেষে মা আমার কোন দুঃসংবাদ যেন আপনাকে পীড়িত না করে, বিনিময়ে আমার বিশ্বাস জান্নাতের সিঁড়িতে তোমার সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে। বাড়ির সকলের কাছে আমার সালাম রইল।
ইতি
আপনার ¯েœহাশীষ
শাহীন আহমদ খান

SHARE

Leave a Reply