মিসরের অতীত ইতিহাস ও ইসলামী আন্দোলন

ড. মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম
মিসর ইসলামী আন্দোলন বিজয়ী হয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দেলনে গণতান্ত্রিক  গণ অভ্যুত্থান ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মিসরে ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়েছে।
মিসর তথা আরব বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ও সর্বাধিক জনপ্রিয় ইসলামী সংগঠন হচ্ছে মুসলিম ব্রাদারহুড বা ইখওয়ানুল মুসলিমুন। মিসরের গণআন্দোলন যা স্বৈরাচারী শাসক হোসনী মোবারকের শাসনকাল ১৪ অক্টোবর ১৯৮১-১১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ অপ শাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত গণরোশের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সূচিত হয়ে আরব বসন্ত নামে অভিহিত হয়ে বিজয় লাভ করেছে। আরব বসন্ত নামে গণআন্দেলনে মিসরে লাভবান হয়েছে ইসলামী আন্দোলন এটি আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে।  শেখ হাসানুল বান্না (র.) ১৯০৬-১৯৪৯) প্রতিষ্ঠিত সংগঠন আল ইখওয়ানুল মুসলিমুন পথের চড়াই উতরাই পেরিয়ে মিসরে আজ বিজয়ী শক্তির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। মিসরে মানুষ জেগে উঠছে। নিজ শক্তিতে একটা তাৎপর্যপূর্ণ বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে।
মিসর পরিচিতি
মিসর একটি অতি প্রাচীন দেশ। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিক ভূগোলবিদ হিরোডটাস মিসরকে অভিহিত করেছিলেন নীলনদের দান বলে। মরুভূমি ঘেরা সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা এ দেশটির মাঝখান দিয়ে আবহমান কাল থেকে বেয়ে চলছে এ নীলনদের স্বচ্ছ সুনীল সজ্জীবন স্রোতধারায় আজও স্নাত হয়ে চলেছে পূরনো সভ্যতার পরিচয়বাহী দেশ মিসর। আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলে বড় বড় হ্রদ থেকে নীল নদের উৎপত্তি এ নদ গিয়ে পড়েছে ভূমধ্যসাগরে। শীত ও বসন্তে নীলনদ শান্তভাবে চলে কিন্তু  বর্ষায় দুকূল ছাপিয়ে আশপাশের সমস্ত জায়গা ভাসিয়ে দেয়। প্লাবনে নদীর উপকূলবর্তী অঞ্চল উর্বর হয়ে ওঠে, এতে ফসল ভালো হয়। এ জন্যেই নীলনদকে বলা হয় মিসরের প্রাণ। বর্তমানে মিসর মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূণ দেশ।
মিসরের অবস্থান আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর পূর্বকোণে। অবশ্য সুয়েজ উপসাগর দিয়ে মিসরের একটি অংশ সিনাই উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত যাকে সাধারণত এশিয়ার মধ্যে ধরা হয়। মিসরের উত্তরে ভূমধ্যসাগর, উত্তর-পূর্বে ইসরইল, পূর্বে ইসরাইল, আকাবা ও  লোহিত  সাগর, দক্ষিণে সুদান ও পশ্চিমে লিবিয়া। আয়তন ৩,৮৬,৯৯০  বর্গমাইল (১০,০০১,৪৫০ বর্গকিলোমিটার)। দেশটির ৯০ ভাগই মরুভূমি। ফলে ৯৯ ভাগ লোকই বাস করে নীলনদের ব-দ্বীপ ও অববাহিকা এলকায়। লোকসংখ্যা গড়ে আট কোটি। এর শতকরা ৯৫ ভাগই সুন্নী মুসলিম, বাকিরা অধিকাংশই কস্টিক খ্রিস্টান। সরকারি ভাষা আরবি। ইংরেজি ও ফরাসিও বেশ প্রচলিত। ১৯৭১ সালের ২ রা সেপ্টেম্বর থেকে এদেশের সরকারি নাম ‘আরব রিপাবলিক অব ইজিপ্ট’। স্থানীয় নাম মিসর।  ১৯৪৫  সালের ২৪ আক্টোবর দেশটি জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত হয়। রাজধানী কায়রো। প্রধান শহর পোর্ট আলেকজান্দ্রিয়া, ইসলামিয়া, পোর্ট সাইদ, মনসুরা, গিজা, সুয়েজ, দোতা, আসিয়ূত, আখমিন, সিনিয়া, টানটা জাগসিস।
রাজনৈতকি ইতিহাস
মিসরের রয়েছে ৬ হাজর বছরের পুরনো রাজনৈতিক ইতিহাস। সুপ্রাচীনকালে নীল উপত্যকা ছিল সেমিটিক জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি। আল কুরআন ও বাইবেলের বর্ণনা থেকে জানা যায়  যে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০০ অব্দে মিসরে ফিরাউন বংশ শাসন করতেন। ফিরাউন রাজাদের কবরের উপর নির্মিত পিরামিড ও  স্ফিংস এখানো পর্যটকদের আকৃষ্ট করে এবং বিস্ময়ের উদ্রেক করে। এ ফিরাউন বংশের ৩১তম রাজার মাসনামলে খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২ অব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার মিসর আক্রমণ ও অধিকার করেন। মিসরে গ্রিক রাজশক্তির আধিপত্য কায়েম হয়। আলেকজান্ডার নিম্ন মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে আলেকজান্দ্রিয়া নগরী স্থাপন করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে আলেকজান্ডারে মৃত্যুহলে তাঁর তিন সেনাপতি গ্রিক সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। মিসর পড়ে সেনাপতি টালমীর ভাগে। খ্রিস্টপর্ব ৩০ অব্দে রোমানরা মিসর দখল করে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০ হতে ৩৯৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মিসরে রোমন এবং ৩১৫-৬৪২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাইজেন্টাইন শাসন চালু ছিল।
মিসরে ইসলামী আন্দোলনের বিজয়
সপ্তম শতকের শুরুতেই মিসরে ইসলামের আবির্ভাব ও বিকাশের সূচনা হয়। মহানবী (সা) তাঁর জীবদ্দশায় মিসর ও আলকজানিন্দ্রায় রোমক শাসনকর্তা বাদশাহ জুরায়হ মকুকাশ ইবনে ইয়ামিনকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানিয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেন। হযরত হাহিব ইবনে আবি বালতা (রা) মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রের দূত হিসেবে উক্ত পত্র নিয়ে মকুকাশের দরবারে পৌঁছেন। মকুকাশ দূতকে উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করেন। কিবতীদের মধ্যে সুখ্যাতির অধিকারী মরিয়ায়ে কিবতীয়া ও শিরীন নামে দুজন দাসী, মূল্যবান কাপড় এবং দুলদুল নামের একটি ঘোড়া উপঢৌকন হিসেবে মদীনায় প্রেরণ করেন কিন্তু ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারটি সুকৌশল এড়িয়ে যান। দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা)-এর শাসনামলে (৬৩৪-৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ) হযরত আমর ইবনুল আস (রা) (৬৩৯-৪২) মিসরের রোমক শাসনকর্তাকে সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত করে গোটা মিসরকে ইসলামী শাসনাধীনে আনয়ন করেন। মিসর মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। এ সময়ে আধুনিক কায়রোর নিকটবর্তী আল ফুততা নামক স্থানে নতুন রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয়। উমাইয়া ও আব্বাসীয় বংশের শাসনের পর ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে মিসরে ফাতেমী বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বংশের প্রথম শাসক জহর আল ফুসতাতের পরিবর্তে আল কাহিরা বা কায়রোতে রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন। নতুন রাজধানীকে সুশোভিত করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা  গৃহীত হয়।
১১৭১ সালে সুলতান গাজী সালাউদ্দিন আইয়ূব ফাতেমী শাসন উচ্ছেদ করে মিসরের শাসনভার গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনকাল (১১৭১-৯৩) মিসর ও ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে। তাঁর শাসনামলে ১১৯০ সাল তৃতীয় ক্রুসেড সংঘটিত হয়। সুলতান সালাউদ্দিন মসুলিমবিদ্বেষী উগ্রবাদী খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করে পবিত্র জেরুজালেমের উপর মুসলিম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
সপ্তম শতাব্দীতে মুসলিমগণের মিসর বিজয় মিসরের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক সুদূর প্রসারী ফলাফলের সূচনা করে। মুসলমানরা শুধু একটি ভূখণ্ড জয়ের উদ্দেশ্যেই মিসরে আগমন করেননি, তারা সেখানে সঙ্গে করে বয়ে এনেছিলেন পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান দ্বীন ইসলাম এবং জীবনদবাদী ভূমিকা ও শিক্ষা।
সুদূর অতীতকাল থেকেই আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রাসূলগণ মিসরে আল্লাহর দ্বীন প্রচার করে গেছেন। এদের মধ্যে হযরত ইয়াকুব (আ), হযরত ইসুউফ (আ), হযরত মুসা (আ), হযরত আইয়ূব (আ) প্রমুখ নবীদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু কালের বিবর্তন ও উপযুক্ত আদর্শিক  নেতৃত্বের অভাবে পরবর্তীকালে মিসরিয়রা তাঁদের প্রচারিত দ্বীন ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়ে পড়ে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দে রোমান কর্তৃক মিসর বিজয়ের প্রায় একশ বছরের মধ্যে প্রায় সমগ্র মিসরবাসী খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করে।
মিসরে ইসলামী শক্তির বিজয়ের পর এ অবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। ইসলামের সাম্য-ভ্রাতৃত্ব ও উদারতার বাণী মিসরীয়দের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে। উল্লেখ্য মিসরের রোমান শাসকরা ছিলেন বাইজেন্টাইন চার্টের অনুসারী। ফলে ব্যাপক মিসরীর কস্টিক খ্রিস্টানরা তাদের অত্যাচারের শিকার হন। এবং সবদিক দিয়েই তাদের কোনঠাসা করে ফেলা হয়। শাসকগোষ্ঠীর সাথে তাদের সম্পর্ক বরাবরই ছিল বৈরী ভাবাপন্ন্। ইসলামে সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান ও উদারতায় খ্রিস্টানরা আকৃষ্ট হয়। এবং মুসলিম অভিযানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে বিজয়কে সহজসাধ্য করে তোলে। অবিলম্বে মিসরের তৎকালীন জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানরা মিসরে একটি সুসংঘঠিত কল্যাণের রাষ্ট্রববস্থা এবং নতুন ভবিষৎ সংস্কৃতির প্রচলন করে। দেশের সর্বত্র অসংখ্য মসজিদ এবং জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র  প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। অতীতের সকল আচার-আচরণ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মিসর একটি নতুন পরিবর্তনের  স্রোতাধারায় অবগাহন করে। ৯৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কায়রোর আল আজহার মসজিদকেন্দ্রিক শিক্ষাকেন্দ্র (বর্তমান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়) ইসলামী জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে।
আফ্রিকা মহাদেশে ইসলামের আলো বিস্তারে মিসরের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কেননা আল আজহারকে কেন্দ্র করে এখানে বড় বড় ইসলামী চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরামের সমাবেশ ঘটছিল। এ সব ইসলামী চিন্তাবিদ ও উলামাগণ ইসলামী দাওয়াত, ইসলামী জ্ঞানবিজ্ঞান ও ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন। এদের মধ্যে শেখ মুহাম্মাদ আবদুহু, সাইয়েদ বসীদ রিদা, মাহমুদ সালতুত, শেখ তানতাবী, শাকীব আর সালমান, শায়খ হাসানুল বান্না (১৯০৬- ১৯৪৯), আবদুল হাকিম আবেদীন, আহমদ আবদুল আযীয, হাসান আর হুদাইবি (১৮৯১-১৯৭৩), কুতুব শহীদ (১৯০৬-১৯৬৬), আবদুল কাদের আওদাহ, শেখ সাইয়েদ উমর তিলমিসানী, ড. মুহাম্মাদ কুতুব, সাঈয়েদ রমজান মিসরী, তারিক রমাদান, আর শাম্মুন আল হুদায়রী (১৯২১-২০৪), জয়নাব আল গাজালী (১৯১৭ -২০০৫), উস্তাদ মুস্তাফা মশহুর (১৯২১-২০০২) প্রমুখের নাম বিশেষভাব উল্লেখযোগ্য।
এখানে উল্লেখ যে, ১২৫০ সালে গাজী সালাউদ্দিন আইয়ূবী প্রতিষ্ঠিত আইয়ুবী বংশের শাসনের অবসান ঘটে। এ সময় মামলুক বংশ ক্ষমতা দখল করে। মামলুক বংশের রাজত্ব মিসরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সুদূর প্রসারী প্রভাব বিস্তার করে। ক্রুসেডারদের সাথে দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে ইসলামের বিজয় পতাকাকে উড্ডীন করেন। ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞান, শিল্প সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করে এক অনবদ্য ইতিহাস রচনা করেন। প্রায় চারশত বছর মামলুক শাসনের পর ১৫১৭ সালে অটোমান সুলতান  সেলিম (১৫১২-২৪) মিসর জয় করে মামলুক শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটান। মিসর অটোমান সালতানাতের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। এ সময় মিসরের তুর্কী শাসনকর্তাকে পাশা বলা হত। অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে ফরাসি বীর নেপোলিয়ন মিসর আক্রমণ করেন। নেপোলিয়ন বেশি দিন মিসরে তার অধিকার বজায় রাখতে পারেননি। মাত্র ৩ বছর মিসর শাসন করে। ১৮০৪ সালে ইংরেজদের সাথে সঞ্চলিত এক চুক্তির মাধ্যমে ফরাসি বাহিনী মিসর ত্যাগ করলে মিসরে স্বল্প স্থায়ী ফরাসি শাসনের অবসান ঘটে। ১৯১৪ সালে মিসর ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয়। ১৯২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ সরকার একক ঘোষণায় মিসরকে শর্তাধীনে স্বাধীনতা দান করে। সীমিত স্বাধীনতার নামে শিকার আবার রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজা প্রথম ফুয়াদকে মিসরের ক্ষমতায় বসান হয়। রাজা প্রথম ফুয়াদের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র করুক মিসরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৯৩৬-১৯৫২ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন মিসরের রাজা। ১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই তাঁর জামাতা জেনারেল নাগিবের নেতৃত্ব্ েসেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। ১৯৫৩ সালের ১৮ জুন মিসরকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে কর্নেল জামাল আবুদল নাসে (১৯১৮-১৯৭০) নাগিবকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন। নাসের বামপন্থী আবেগ দ্বারা জড়িত ছিলেন। ১৯৫৬ সালের ২৩ জুন নাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২৬ জুলাই ১৯৫৬ প্রেসিডেন্ট নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন। এ বছর ৩১ অক্টোবর ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরাইল মিসর আক্রমণ করে। কিন্তু বিশ্ব জনমতের চাপে তাদেরকে সরে যেতে হয়। ১৯৭০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নাসের মারা গেলে আনোয়ার সাদত প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৮১ সালের ৬ অক্টোবরে সাদত নিহত হন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসনী মোবারক পরের দিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি  ছিল মিসরের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। ২০১০ সালের শেষের দিকে আরববিশ্বে শুরু হয় রাজনৈতিক সুনামি। তিউনিসিয়ায় ১৭ ডিসেম্বর গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ১৪ জানুয়ারি তিউনিশিয়ায় বিপ্লব সংঘটিত হয়। তিউনিসিয়া থেকে এ অভ্যুত্থানের রেশ ছড়িয়ে পড়ে মিসরে। মিসরে ২৫ জানুয়ারি ২০১১ সাড়া জাগানো সরকার বিরোধীগণের বিক্ষোভের মুখে ১৮ দিনের মাথায় ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ প্রেসিডেন্ট হোসনী মোবারকের পতন হয়। সাধিত হয় নীল বিপ্লব। তাহরীর স্কোয়ারের নাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
(চলবে)
লেখক : ব্যাংকার ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply