মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার নামে ধর্মকে অবমাননা নয় -জালাল উদ্দিন ওমর

কিছু ব্যক্তি ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে বক্তৃতা আর লেখালেখি করছে। এরা নিজেদেরকে আধুনিক, প্রগতিশীল এবং মুক্তমনা বলে পরিচয় দেয় আর মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার কথা বলে ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করে। তারা ইসলামী মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং এর বিধিবিধানকে কটাক্ষ করে কথা বলে এবং লেখালেখি করে। তারা এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, নিয়ন্ত্রণকর্তা আল্লাহ এবং তার প্রেরিত মানবতার মুক্তিদূত, সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সা.কে কটাক্ষ, অবজ্ঞা এবং অপমানিত করে। একই সাথে তারা কুরআন-হাদিস এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিথ্যা এবং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মন্তব্য করে। এই সব ব্যক্তিদের ইসলাম ধর্মকে অবমাননার কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ব্যথিত। আল্লাহ, মহানবী সা. এবং কুরআন হাদিসসহ ইসলামকে অবজ্ঞার ঘটনায় তারা মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। একজন মুসলিম হিসেবে এ ঘটনায় আমিও ব্যথিত এবং মর্মাহত। আমি এ ধরনের অন্যায়, অসভ্যতা, দায়িত্বহীনতা এবং মানবতাবিরোধী কাজের প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাই। একই সাথে এই ধরনের গর্হিত কাজের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। সাথে সাথে এ ধরনের অন্যায় কাজ চিরতরে বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। দুঃখজনক হলেও সত্য, গণতন্ত্র, সভ্যতা ও মানবাধিকারের প্রবক্তা বলে দাবিদার একটি জনগোষ্ঠী এসব অপকর্মকে মুক্তচিন্তা এবং বাকস্বাধীনতা হিসেবে অভিহিত করে এবং তাদেরকে সমর্থন করে। তারা মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে এই অপকর্মের পক্ষে সাফাই গায়। কিন্তু সবার উদ্দেশ্যেই বলছি- অপরের ধর্ম, ধর্মবিশ্বাস, ধর্মীয় রীতিনীতি, ধর্মের প্রবক্তা এবং এর সম্মানিত ব্যক্তিদের অপমান এবং অবজ্ঞা করাটা কখনো মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। বরং এটা হচ্ছে চরম অন্যায়, অভদ্রতা, অসভ্যতা এবং বিকৃত রুচির পরিচয়। এটা গর্হিত এবং উসকানিমূলক কাজ, যা কখনো সুফল বয়ে আনে না। বরং সমাজে শান্তি নষ্ট করে এবং অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একই সাথে সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে এবং উগ্রতার জন্ম দেয়। মনে রাখা দরকার যে কোন ব্যক্তির যে কোন ধর্মকে মানার বা অস্বীকার করার অধিকার রয়েছে। স্বয়ং স্রষ্টাও মানুষকে সে অধিকার দিয়েছেন। তবে অপরের ধর্মকে অবজ্ঞা এবং অসম্মান করার অধিকার কারো নেই।

এ পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় সাতশ আশি কোটি মানুষের বসবাস। এর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষই কোন না কোন ধর্মের অনুসারী। অর্থাৎ প্রায় সব মানুষই স্রষ্টায় বিশ্বাসী। হয়তো কারো মাঝে ধর্মের প্রভাব কম আর কারো মাঝে ধর্মের প্রভাব বেশি। কিন্তু এক কথায় তারা ধর্মে বিশ্বাসী। এ ধারাবাহিকতাই সৃষ্টির আদিকাল থেকে চলে আসছে, বর্তমানেও চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। এ ধর্মই নিয়ন্ত্রণ করছে মানুষের সভ্যতা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং জীবনধারা। এই ধর্মই গঠন করেছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং দেশ। একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবকিছুই ধর্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কেউ যদি না মানে সেটা হচ্ছে ধর্ম থেকে বিচ্যুতি। তাই একজন ব্যক্তি সেক্যুলার হলেও তার বিয়ে এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ধর্মীয় রীতিতেই সম্পন্ন হয়। সমাজের যা কিছু সত্য, সুন্দর, মহৎ এবং চির কল্যাণকর- তার সবই ধর্ম হতে উৎপন্ন। আর ভিন্ন ধর্মের রীতিনীতি ভিন্ন হলেও, ধার্মিকরা সবাই বিশ্বাস করে এই সৃষ্টিজগতের একজন ¯্রষ্টা আছেন। তিনিই সবকিছুর সৃষ্টিকারী, লালনকারী এবং পালনকারী। সবাই বিশ্বাস করে যে মৃত্যুর পরে তার কৃতকর্মের জন্য স্রষ্টার কাছে বিচারের মুখোমুখি হবে এবং কৃতকর্মের ফলাফলের ওপর কেউ চির সুখের জান্নাত আবার কেউ চির দুঃখের জাহান্নামে স্থান লাভ করবে। প্রত্যেক ধর্মেই একজন প্রধান ব্যক্তি রয়েছে যারা এই ধর্মকে ধারণ করেছেন, অনুসরণ করেছেন এবং প্রচার করেছেন। এই সব ব্যক্তিরা নিজ নিজ ধর্মের অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত এবং পবিত্র। তাই এই সব ব্যক্তিদের অপমান তাদের অনুসারীদের কেউই সহ্য করতে পারে না। হযরত ঈসা (আ) যেমন খ্রিষ্টানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত, গৌতম বুদ্ধ যেমন বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত, শ্রীকৃষ্ণ যেমন হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ঠিক তেমনি হযরত মুহাম্মদ সা.ও মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত। আর হযরত ঈসা সা. এর অপমান যেমন কোন খ্রিষ্টান সহ্য করতে পারে না, গৌতম বুদ্ধের অপমান যেমন কোন বৌদ্ধ সহ্য করতে পারে না, শ্রীকৃষ্ণের অপমান যেমন কোন হিন্দু সহ্য করতে পারে না, ঠিক তেমনি হযরত মুহাম্মদ সা.-এর অপমানও কোন মুসলমান সহ্য করতে পারে না। সুতরাং প্রত্যেক মানুষের উচিত তার নিজ ধর্ম এবং ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করার পাশাপাশি অপরের ধর্ম এবং ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদেরও সম্মান করা। আর শ্রদ্ধা এবং সম্মান না করলেও কখনোই এবং কিছুতেই অপরের ধর্ম এবং ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে অসম্মান, অবজ্ঞা এবং অপমান করা যাবে না। কারণ এতে সমাজের শান্তি, সম্প্রীতি এবং ভালোবাসা নষ্ট হয়। সৃষ্টি হয় অশান্তি, অরাজকতা, হিংস্রতা ও বর্বরতা। যার আগুনে পুড়ে সর্বনাশ হয় সমাজ, ধ্বংস হয় সভ্যতা। সুতরাং এই ধ্র্রব সত্যটা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবারই অনুসরণ করা উচিত এবং করতে হবে।

বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় দেড়শত কোটি মুসলমানের বসবাস। সুতরাং ইসলাম এবং মুসলমানরা বিশ্বশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ কিছু ব্যক্তি মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস, রীতিনীতি এবং এর প্রধান ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সা.কে অবজ্ঞা এবং হেয়প্রতিপন্ন করছে। ইসলামকে অবমাননার এ ঘটনা নতুন এবং বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, বরং এটা যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হয় ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’ নামক একটি চলচ্ছিত্র যেখানে নাকুলা বাসিলে অত্যন্ত সুকৌশলে হযরত মুহাম্মদ সা.কে অপমানিত এবং হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। পশ্চিমারা এটা বাকস্বাধীনতা বলে নাকুলা বাসিলেকে সমর্থন করে। এর কিছুদিন পর ফ্রান্সের একটি ম্যাগাজিন শারলি এবদো হযরত মুহাম্মদ সা.কে ব্যঙ্গ করে কার্টুন প্রকাশ করে। শারলি এবদোর এই ঘটনা এখনো চলমান এবং এটাকেও কিছু ব্যক্তি এমনকি ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমামুয়েল ম্যাক্রোঁ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে সমর্থন করে। সালমান রুশদি ১৯৮৮ সালে হযরত মুহাম্মদ সা.কে অবমাননা করে লিখেছিল স্যাটানিক ভার্সেস নামক উপন্যাস। তখনো পশ্চিমারা মুক্তচিন্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে সালমান রুশদিকে সমর্থন করেছিল। এমনকি ব্রিটিশ সরকার সালমান রুশদিকে নাইট উপাদিতে ভূষিত করেছিল। এভাবে কিছু ব্যক্তি দেশে দেশে ধারাবাহিকভাবেই ইসলাম ধর্ম এবং হযরত মুহাম্মদ সা.কে অবজ্ঞা, অসম্মান এবং হেয়প্রতিপন্ন করে চলেছে। কিন্তু শান্তি, সম্প্রীতি এবং মানবতার স্বার্থেই এসব কাজ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

যেসব ব্যক্তি ইসলাম এবং হযরত মুহাম্মদ সা.কে অবজ্ঞা এবং অসম্মান করছে আর এসবকে মুক্তচিন্তার, বাকস্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে সমর্থন করছে, তাদের জানা উচিত এসব কাজ কারো জন্যই কোন ধরনের কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং ক্ষতিই বয়ে আনবে। কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহকে অস্বীকার বা কটাক্ষ করে, তাহলে তাতে মহান আল্লাহর মান, সম্মান, ক্ষমতা কিছুই কমবে না। মহান আল্লাহ হচ্ছেন এই মহাবিশ্বের সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, লালনকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংসকারী। তিনি একক, অদ্বিতীয় এবং চিরঞ্জীব। তিনি সর্বময় ক্ষমতার মালিক। তিনি কারোই মুখাপেক্ষী নন বরং সবাই তার মুখাপেক্ষী। একইভাবে হযরত মুহাম্মদ সা.কে অবজ্ঞা করায় তাহার মান সম্মানও বিন্দুমাত্র কমবে না। ঠিক তেমনি ইসলামকে কটাক্ষ করায় ইসলামেরও কোনো ক্ষতি হবে না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. হচ্ছে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত একজন ব্যক্তি– যার খ্যাতি, সুনাম এবং প্রভাব শত শত বছর ধরে পৃথিবীকে যেমন আলোকিত এবং প্রভাবিত করেছে, ঠিক তেমনি তা অনন্তকাল ধরে অব্যাহত থাকবে। কিছু ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সা.কে অবজ্ঞা করলেও যুগে যুগে এই পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ তাকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসেছে- যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শুধু যে মুসলমানরা হযরত মুহাম্মদ সা.কে সম্মান করে তাই নয়, বরং অনেক অমুসলিম শিক্ষাবিদও যুগে যুগে হযরত মুহাম্মদ সা. সম্মান করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমি এখানে সে রকম কয়েকজনের বক্তব্য উল্লেখ করছি। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা অধ্যাপক এবং বুদ্ধিজীবী মাইকেল এইচ হার্ট বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে পৃথিবীর শুরু থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত সেরা একশ জন মানুষ নিয়ে ১৯৭৮ সালে লিখেছেন ‘দি হানড্রেড’ নামক বই, যেখানে তিনি হযরত মুহাম্মদ সা.কে এক নম্বর পজিশনে স্থান দিয়েছেন। তিনি বলেন, Muhammad (saw) is the only man in history who was supremely successful on both the religious and secular level. রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয় বলেন– Muhammad (saw) has always standing higher than Christianity. তিনি যখন মারা যান তখন তার পকেটে মুহাম্মদ সা. এর বাণীসংবলিত একটি বই পাওয়া গিয়েছিল। খ্যাতনামা ব্রিটিশ দার্শনিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেন As a father, As a Teacher, As a law giver, As a law maker, As a reformer of the Society, As a Messenger, As a commander Muhammad (saw) is the superman of the world. আর এটা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের দেয়ালে লিখিত আছে। প্রফেসর রামাকৃষ্ণ রাও বলেন- In all the departments of human activities Muhammad (saw) is alike a hero. ïay ZvB bq– Muhammad (saw) honoured by United State Supreme court as one of the greatest law givers of the world in 1935. এ রকম হাজারো উদাহরণ দিতে পারব, কিন্তু প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি পাবে বিধায় দিলাম না। আর অপরকে অসম্মান করে নিজেকে যেমন কখনো সম্মানিত করা যায় না, ঠিক তেমনি অপরকে ছোট করে নিজেকে কখনো বড় করা যায় না। সবারই মনে রাখা উচিত ইসলাম ধর্ম তার আপন মহিমায় মহিমান্বিত। আর ইসলামকে অবমাননা করলে ইসলামের কোন ক্ষতি হয় না। অপর দিকে ইসলাম এবং মহানবীকে কটাক্ষ করে এই সব ব্যক্তিরা নিজেদেরই ক্ষতি করেছে এবং এটা তাদের জন্য বুমেরাং হবে।

এদিকে ইসলাম এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.কে অবমাননার কারণে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলেও তাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং কখনো সহিংস হওয়া যাবে না। মুসলমানদেরকে হতে হবে ধৈর্যশীল, সহনশীল এবং ক্ষমাশীল। আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়া যাবে না। কখনোই আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না। শুধু তাই নয়, অমুসলমানদের ধর্ম, ধর্মীয় রীতিনীতি এবং তাদের ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে কখনোই অবজ্ঞা এবং অসম্মান করা যাবে না। বরং সম্মান করতে হবে। এ বিষয়ে স্বয়ং আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন- আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাকে ডাকে, তাদেরকে তোমরা গালি দিও না, কেন না তারা সীমালংঘন করে অজ্ঞানবশত আল্লাহকেও গালি দিবে (সূরা আনয়াম : ১০৮)। সুতরাং অমুসলিমরা, তাদের ধর্ম, তাদের দেবতা এবং তাদের ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তি সবই মুসলমানদের কাছে নিরাপদ। আর মন্দের প্রতিবাদ কখনো মন্দ দিয়ে হয় না। ভালো কাজ দিয়েই মন্দ কাজের প্রতিবাদ করতে হবে। ইসলাম সেটাই শিক্ষা দিয়েছে। আল্লাহ তায়লা বলেন, “মন্দের মোকাবেলা কর যা উত্তম তা দ্বারা।” (সূরা মুমিনুন : ৯৬) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, “ভাল কাজ এবং মন্দ কাজ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা, ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো।” (সূরা হামিম সাজদাহ : ৩৪)। সুতরাং যেকোনো মূল্যে মুসলমানদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে ধর্ম এবং ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে অবমাননা করে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাচ্ছে। সুতরাং ষড়যন্ত্রকারীদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা যাবে না। আর ইসলাম সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না এবং তা সমর্থনও করে না। ইসলাম হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সার্বজনীন মানবাধিকারের গ্যারান্টি।

পরিশেষে ধর্মবিরোধী এসব ব্যক্তিদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলছি- অনুগ্রহ করে মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কারো ধর্মবিশ্বাসকে অবজ্ঞা/অসম্মান করবেন না। একইভাবে আল্লাহ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এবং ইসলামকে অবমাননা করবেন না। আপনার ইচ্ছা হলে আপনি নাস্তিক হউন অথবা যেকোনো ধর্মের অনুসারী হউন। কিন্তু অপরের ধর্মবিশ্বাসকে অপমান করবেন না। কারণ এই অধিকার আপনার নেই এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের আইনে এই অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। আর আপনাদের অবজ্ঞাসূচক বক্তব্যে এবং লেখনীতে ইসলামের কোন ক্ষতি হবে না। একইভাবে এতে আপনাদেরও কোন উপকার হবে না। আর মুক্তচিন্তা মানে সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করা নয়। মুক্তচিন্তা মানে ধর্মের প্রভাব এবং বিশ্বাস থেকে মুক্ত হওয়া নয়। একই ভাবে বাকস্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা করা নয়। যে কাজ দ্বারা অন্যের স্বাভাবিক কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই কাজ করার অধিকারটা ব্যক্তি স্বাধীনতা নয়। আর বিশ্বজুড়ে যারা আজ সৃষ্টিকর্তাকে মানছে এবং ধর্মের পথে চলছে সবাই কিন্তু মূর্খ নয়। তারা জ্ঞান বিজ্ঞান, আভিজাত্য এবং আধুনিকতায় পিছিয়ে নেই। এসব ধার্মিকরা অনেক উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের জীবন অনেক সুন্দর, উন্নত এবং আধুনিকতায় পরিপূর্ণ। তাদের জীবন বেশ ভালোভাবেই কেটেও যাচ্ছে। হে মুক্ত চিন্তার অধিকারী ব্যক্তিরা- আপনারা নিজেদের সৃষ্টি, হাজারো প্রাণী বা উদ্ভিদের সৃষ্টি এবং এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিয়ে একবার ভাবুন। একইভাবে এই মহাবিশ্বের পরিচালনা নিয়ে একবার ভাবুন। তাহলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। আসুন আমরা অপরের ধর্মকে অবমাননা থেকে বিরত থাকি এবং অপরের ধর্মকে সম্মান করি। এর মাধ্যমে একটি শান্তি এবং সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তুলি। এতেই বিশ্বমানবতার জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

লেখক : প্রকৌশলী এবং উন্নয়ন গবেষক

SHARE

Leave a Reply