মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান ও মিথ্যাচারের রাজনীতি

ড. নাজিবুল ইসলাম

যখনই নির্বাচন আসে তখনই দেখা যায় আওয়ামী লীগ ও আওয়ামীপন্থী কিছু বাম দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধুয়া তোলে। তাদের বশংবদ কিছু চিহ্নিত বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও পারফর্মারদের দিয়ে নামে বেনামে কিছু সংগঠন তৈরি করা হয়। এসব সংগঠনের প্রায় প্রত্যেকটাতেই গুটিকয়েক চিহ্নিত ব্যক্তিকেই ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। এরা প্রথমে নিরপেক্ষতার ভান করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই নিরপেক্ষতার মুখোশটাও নিজেরা ছিঁড়ে ফেলে এবং সরাসরি দলীয় পক্ষপাত প্রকাশ করে। কুড়ি বছর ধরে আমরা এই রকমই ঘটতে দেখছি। মুক্তিযুদ্ধের এই স্বঘোষিত প্রেমিকরা সারা বছর ঘুমিয়েই কাটায়। তাদের ঘুম ভাঙে নির্বাচন এলে। নির্বাচনের পরও কিছুদিন তার জের চলে। তারপর নিতান্তই কোনো ইস্যু না পেলে এ নিয়ে আর তাদের মাতম করতে দেখা যায না। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেও আমরা তাদেরকে একই কায়দায় সক্রিয় হতে দেখেছি। তারপর কিছুদিন তাতে খানিকটা ভাটা পড়লেও ইদানীং আবার তাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রশ্নে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে।
এদের বক্তৃতা, আলোচনা ও লেখালেখি থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে তারা ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতাকে বোঝায়। আরো পরিষ্কার করে বললে, তারা ধর্ম বিশেষত ইসলাম, ইসলামী মূল্যবোধ, ইসলামী সংস্কৃতি, ইসলামী সংগঠন ও ব্যক্তিত্বকে উচ্ছেদ ও বর্জন করাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রধান ও প্রথম স্তম্ভ বলতে চায় এবং এই চেতনা কোনো সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭১ সালে কোনো ব্যক্তি যদি রাজাকার আলবদর হয়েও থাকে, কিন্তু এখন যদি সে আওয়ামী লীগ সমর্থক হয় তাহলে তার সাথে দহরম মহরমে অসুবিধা নেই। যেমন নুরুল ইসলাম ফয়জুল হক প্রমুখ যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছিলেন তাদেরকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে বা মন্ত্রী বানাতে আওয়ামী লীগের অসুবিধা হয় না। আবার ১৯৭১ সালে যদি কেউ সরাসরি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েও থাকে কিন্তু পরে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে, তাহলেও সে স্বাধীনতাবিরোধী যেমন মেজর জলিল। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হওয়া সত্ত্বেও স্রেফ তার আওয়ামী ভারত বিরোধিতার কারণে তাকে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে। মুক্তিযুদ্ধে আরেক সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষেত্রেও একই। আর কেউ যদি হয় ইসলমাপন্থী, তাহলে তো কথাই নেই। রাজনীতির বাইরের মানুষ সমকালীন বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদের কথাই ধরা যাক। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, তবু স্রেফ ইসলামকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য তাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে গালাগাল করা হয়। কারো জন্ম যদি হয় ১৯৭১ সালের পরও, তবু রক্ষা নেই। যেমন ইসলামী ছাত্রশিবির বা তার নেতাকর্মীদের জন্ম ১৯৭১ সালের পর হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে বিরোধী বলে চিহ্নিত করে আওয়ামীপন্থীরা। ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম খান ১৯৭১ সালে শিশু ছিলেন। সে সময় তার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়া তো দূরের কথা যুদ্ধ কী তা বুঝতে পারারই কথা নয়। তা সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ থেকেই বোঝা যায় তথাকথিত স্বঘোষিত স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের এসব গবেষণা, তথ্য এবং মোটিভ কী।
এ কথা অস্বীকার করা যাবে না, করা উচিতও নয় যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তার পরম্পরা আছে। সেই পরম্পরাকে স্মরণ করলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বোঝা এবং আওয়ামী লীগের ধর্ম ব্যবসায় ও মিথ্যাচারের রাজনীতি অনুধাবন করা সহজতর হবে।
আওয়ামী লীগের জন্ম ১৯৪৯ সালের মুসলিম লীগের পেট থেকে। তখন তার নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। মুসলিম লীগের কিছু নেতাকর্মী মূল দল থেকে বেরিয়ে এসে এ দল গঠন করেছিলেন। কারা ছিলেন তারা? যারা মুসলিম লীগের অন্তর্দলীয় দ্বন্দ্বে পর্যুদস্ত হয়ে নেতৃত্ব ও ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। শুরুতে মুসলিম লীগের আদর্শ লক্ষ্য থেকে তাদের আদর্শ লক্ষ্য আলাদা কিছু ছিল না। এই দলের গঠনতন্ত্রের ১১টি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের দশম ধারাটি ছিল : ÔTo dessiminate knowaedge of Islam and its high moral and religius Principles among people.’ (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও দলিলপত্র, গতিধারা, ঢাকা : পৃষ্ঠা- ৪৫) সেটা প্রকৃতপক্ষে ছিল দ্বিতীয় মুসলিম লীগ। লোকে এটাই মনে করত সে জন্য গঠনতন্ত্রে জোর দিয়ে বলা হয় Awami Muslim League is definitely a separate organization.মূলত ক্ষমতায় যেতে না পারার ক্ষোভ এবং ক্ষমতায় যাওয়ার তুমুল উন্মাদনা থেকেই আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম। তাই ক্ষমতা নিয়ে কাড়াকাড়ি বাড়াবাড়ির স্বভাব আওয়ামী লীগের জন্মগত দোষ।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী এবং গণতন্ত্রী দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে যে ২১ দফা কর্মসূচি দিয়েছিল তাতে ধর্মনিরপেক্ষতা বা বাঙালি জাতীয়তাবাদের উল্লেখ পর্যন্ত ছিল না। সমাজতন্ত্রের কথা তো দূরের ব্যাপার। বরং শুরুতেই লেখা ছিলÑ ‘নীতি : কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক নীতির খেলাপ করে আইন প্রণয়ন করা হবে না এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে নাগরিকগণের জীবন ধারণের ব্যবস্থা করা হইবে। (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও দলিলপত্র, গতিধারা ঢাকা ; পৃষ্ঠা ৮৩)

এ দেশর হিন্দুরা তখনো কংগ্রেস করত। মুসলিম লীগ তো নয়ই আওয়ামী মুসলিম লীগকেও তারা সমর্থন করত না। কিন্তু কালক্রমে কংগ্রেস বুঝতে পারল আলাদাভাবে কংগ্রেস করে ভারতীয় কংগ্রেসের পাকিস্তানবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। বরং মুসলমানদেরই এই কোনো একটা দলে ঢুকে পড়ে দলের ভেতর ধীর অথচ অবিরাম মোটিভেশন এবং প্রেসার গ্রুপের ভূমিকার মাধ্যমেই সেটা অধিকতর সহজে ও ভালোভাবে করা যাবে। আর আওয়ামী মুসলিম লীগ মনে করল কংগ্রেসকে পেলে তাদের ভোটের শক্তি বাড়বে। বলা বাহুল্য, এই মিলনে উভয়েরই উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। আওয়ামী মুসলিম লীগ তার নাম থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়েছে এবং ক্রমে ক্রমে ইসলাম ও মুসলিম চেতনা থেকে দূরে সরে গেছে। ১৯৫৫ সালের ২৩ শে অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ গঠিত হয় এবং ১৯৫৬ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত প্রচারপত্রে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ দূর করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্ত নির্বাচন দাবি করে। কিন্তু তখনো একটি তত্ত্ব হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে গ্রহণ করেনি। ১৯৬৯ সালে আইউব খানের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করার জন্য ৮টি রাজনৈতিক দল নিয়ে যে ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক) গঠন করা হয়েছিল আওয়ামী লীগ ছাড়াও তার অন্যতম প্রধান শরিক ছিল জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম ও কাউন্সিল মুসলিম লীগ। কারণ তখনো আওয়ামী লীগ পাকিস্তান বা পাকিস্তানের আদর্শিক ভিত্তি বা দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি।
১৯৬৯ সালে ১লা আগস্ট আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিল তাতে রাষ্ট্রীয় আদর্শের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। ইসলাম, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ বা সমাজতন্ত্র কোনো কিছুরই প্রসঙ্গ তাতে ছিল না। ৬ দফার ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসিত পূর্ব পাকিস্তান গড়ার অঙ্গীকারই ছিল মুখ্য। সে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা পাকিস্তানের জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে। এই সংবিধানের Preamble শুরু হয় In the name of Allah, the Beneficial, Merciful… দিয়ে। এই প্রস্তাবিত সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদের বলা হয়Ñ Further resolving that guarantees shall be embodied in this constitution to enable the people of Pakistan, Muslim, Hindu, Buddhist, Christian, Persian and of other religions to profess and practice their religions and to enjoy all rights, privileges and protection due to them as citizen of Pakistan and in pursuance of this object to enable the Muslims of Pakistan, individually and collectively, to order their lives in accordance with the teachings of Islam as set in the Holy Qur’an and the Sunnah.(আওয়ামী লীগ সংবিধান কমিটি কর্তৃক ৬ দফার ভিত্তিতে প্রণীত পাকিস্তানের খসড়া শাসনতন্ত্র (অংশ) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র, দ্বিতীয় খণ্ড, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদশ সরকার, তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা, ১৯৮২, পৃষ্ঠা ৭৯৩)। অর্থাৎ প্রস্তাবিত এই সংবিধানে সকল নাগরিকের ধর্র্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়। কিন্তু আদর্শ হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ বা সমাজতন্ত্রের কোনো উল্লেখ মাত্র ছিল না। বরং মুসলমানরা যাতে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারে তার ব্যবস্থার কথা সুস্পষ্টরূপে বলা হয়। বলা বাহুল্য, পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে এই সংবিধানই কার্যকর হতো।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। কে কখন স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এ নিয়ে বিতর্ক আছে। শেখ মুজিবুর রহমান বা জিয়াউর রহমান যেই তা করে থাকুন, তারা কেউই তাদের সে ঘোষণায় বলেননি স্বাধীন বাংলাদেশের মূলনীতি কী হবে। শেখ মুজিব তার ঘোষণা ‘জয় বাংলা’ বলে শেষ করার আগে বলেন, May Allah bless you (দেখুন আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট)।
১৯৭১ সালে ২৫ শে মার্চের পর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং পাকিস্তান গণপরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাাচিত বেশির ভাগ সদস্য ভারতে আশ্রয় নেন। তারা ১০ এপ্রিল কলকাতায় সমবেত হয়ে একটি প্রবাসী আইন পরিষদ গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করেন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তী নাম মুজিবনগর) এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে পাঠ করা হয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত আইন পরিষদ ২৬ শে মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর বলে ঘোষণা করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই ঘোষণাপত্র প্রবাসী সরকার পরিচাালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে গৃহীত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সংবিধান প্রণীত হওয়া পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
এই ঘোষণাপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়, ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর এবং ১৯৭১ সালে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছিল। জনগণ আওয়ামী লীগের ১৬৭ জনকে নির্বাচিত করে। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যা ও নির্যাতন শুরু করে। এ অবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে একত্র হয়ে শাসনতন্ত্র প্রণয়নপূর্বক জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সে জন্য পারস্পরিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে স্বাধীন বাংলা করার আইনের ধারবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১ জারি করে। এতে বলা হয় : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে চালু থাকবে, তবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য করা যাবে। (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা, ১৯৮২, পৃষ্ঠা ৪-৬)
১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রচার দফতর একটি সার্কুলার জারি করে। সেটি শুরু হয় আল্লাহু আকবার দিয়ে, আর জয় বাংলা বলে শেষ করার আগে লেখা হয় : স্মরণ করুন আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অতীতের চাইতে ভবিষ্যৎ নিশ্চয়ই সুখকর। বিশ্বাস করুন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী।
১৯৭১ সালের ২০ মে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ এম কামারুজ্জামান বলেন, Our struggle is not opposed to Islam. The value and teachings of Islam shall be preserved. (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও দলিলপত্র, গতিধারা, ঢাকা : পৃষ্ঠা ৪৫)
১৯৭১ সালের ২১ জুলাই আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি ও এমএনএরা আবার সভায় মিলিত হন। সেখানে তারা যেসব সিদ্ধান্ত নেন তার মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র সম্পর্কে কোনো কথা ছিল না। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর ভারত কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ার পরদিন, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতির উদ্দেশে দেয়া তার ভাষণে প্রথম বাংলাদেশের মূলনীতি হিসেবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র’ শব্দ দু’টি উচ্চারণ করেন। পরদিন অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদও শব্দ দু’টি উচ্চারণ করেন। ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা বিভাগ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, The goverment of Bangladesh is committed to a socialist pattern of economy based on democracy and democratic values. (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা, ১৯৮২, পৃষ্ঠা ৪৫৮)। এই কথাটা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। আওয়ামী লীগ ইতঃপূর্বে কখনই সমাজতান্ত্রিক ধরনের অর্থনীতির অঙ্গীকার করেনি। বলা বাহুল্য, এই প্রতিবেদনেও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলা হয়নি।
ওপরের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও তথ্যাবলি এটাই প্রমাণ করে যে, মুসলিম লীগের ধারাবাহিকতায় গঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ। সে কারণে তার মূলনীতিও ছিল মুসলিম লীগের মতোই মুসলিম জাতীয়তাবাদী আদর্শে উজ্জীবিত। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনাও তা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না। ডিসেম্বর মাসে এসে আমরা এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করি। ১৯৫৫ সালের পর মাঝে মধ্যে ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, সমাজতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলা হয়নি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনী মেনিফেস্টো, প্রস্তাবিত সংবিধান এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে এসব কথা ছিল না। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত পাকিস্তান গণপরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের আওয়ামী লীগ সদস্যবৃন্দ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করেন এবং প্রবাসী সরকার গঠন করেন। সুতরাং এই সরকারের কোনো ম্যান্ডেট ছিল না রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, সমাজতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে সে ম্যান্ডেট দেয়নি। ভারত ও রাশিয়ার চাপে অথবা তাদেরকে সন্তুষ্ট করতেই এটা যে করা হয়েছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। ১৯৭২ সালের এই সংবিধানকে অনেক বিশেষজ্ঞই তখন clone or copy of Indian constitution বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এ থেকে একটা সন্দেহ জাগে যে, আওয়ামী লীগ ১৯৫৫ সালে তার মূল নাম থেকে মুসলিম শব্দটি ঝেড়ে ফেলার সময় থেকেই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে মনে মনে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সে কথা বললে বা ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে জনগণের সমর্থন পাওয়া যাবে না এই ভয়ে তখন তা প্রকাশ করেনি। ১৯৭১ সালের শেষপর্যায়ে এসে তারা মনে করেছে এখন তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। আর মুখোশ পরে থাকার প্রয়োজন নেই। তাই বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে এতটা মর্যাদার সঙ্গে সামনে আনা হলো।

মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করেই আওয়ামী লীগ ক্ষান্ত হয়নি। রাষ্ট্রীয় ও সরকারিভাবে ধর্মহীনতাকে উৎসাহিত করেছিল। এর ফলে ধর্ম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ধর্ম পালনকারী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী শুধু যে নিগৃহীত হতে শুরু করে তাই নয়, এদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছিল। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও ধর্মের ভিত্তিতে দল গঠন নিষিদ্ধ করা হলো। মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী বা নেজামে ইসলামী স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করে থাকলে বড় জোর এ দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা যেত। ব্যক্তিগতভাবে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিল তাদের রাজনীতি করার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা যেত। তা না করে ধর্মকে, বিশেষত ইসলমাকে, রাষ্ট্র ও জনগণের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হলো, প্রতিপক্ষ বানানো হলো স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও প্রগতির। আধুনিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার ও পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত ইউরোপ আমেরিকা কিংবা যে ভারতের ডিকটেশন বা প্রেসক্রিপশনে এই সংবিধান প্রণীত হয়েছিল সেই ভারতেও ধর্মকে প্রতিপক্ষ বানানো হয়নি। তাতে তাদের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়নি। ধর্মের ভিত্তিতে দল গঠনকে নিষিদ্ধ করে আওয়ামী লীগ শুধু যে গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাই নয়, এর মাধ্যমে এই দলটি নিজেই নিজেকে ধর্মবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে। অথচ ১৯৭১ সালে শেষ পর্যন্তও আওয়ামী লীগ সম্পর্কে মানুষের এই ধারণা ছিল না।
পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে এতটাই আঁকড়ে ধরে যে, ইসলমাকে রাষ্ট্রধর্ম এবং সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সন্নিবেশ করার প্রবল বিরোধিতা করে। অদ্যাবধি তার এই অবস্থানের কোনো নড়চড় হয়নি। কিন্তু গত শতাব্দীর নব্বই দশকে এসে আওয়ামী লীগ অনুধাবন করে অর্থ, পেশিশক্তি এবং বিদেশী মুরুব্বিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও স্রেফ ধর্মবিরোধিতার কারণে সে ভোটের রাজনীতিতে বারবার মার খাচ্ছে। তখন অতীতের জন্য জনগণের কাছে মাফ চাওয়া, মাথায় স্কার্ফ পরা, নেতাকর্মীদের মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া এবং নৌকার মালিক তুই আল্লাহ স্লোগান আসতে থাকে। এই করে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় গিয়ে তখন আবার স্বমূর্তি ধারণ করে। ধর্মীয় সংগঠন, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে দেয় দলটি। ২০০১ সালে তার আবার পতন হয়। তারপর থেকে অদ্যাবধি তার ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী স্বভাবের কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ করে নির্বাচনের কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের মুখে নতুন কথা শোনা গেলো। সে কথাটা হচ্ছে, আসন্ন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হবে না। মজার ব্যাপার হলো, কথাটা প্রথমে বলেন সাবেক সমাজতন্ত্রী নেত্রী মতিয়া চৌধুরী। তারপর সেটা স্পষ্ট ভাষায় উচ্চারণ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং। বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের নেতৃত্বে আসীন একটি দলের মুখে কুরআন-সুন্নাত বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হবে নাÑ কথাটা খুবই বেমানান, অস্বাভাবিক, স্ববিরোধী আর সেই কারণে অবিশ্বাস্য। এটা যে সাধারণ, অশিক্ষিত, অসচেতন ধর্মপ্রাণ মানুষকে ভুলিয়ে ভোট পাওয়ার জন্য করা হয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে এখনো কঠিন হাতে আঁকড়ে ধরে আছে। তা থাকতেই হবে। কারণ এই অস্ত্র দিয়ে ভুলিয়ে সংখ্যালঘুদের সিংহ ভাগ ভোট পেতে হয় দলটিকে। সংখ্যালঘুদের অর্থে ভোট থেকেও যদি বঞ্চিত হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ ২৫-৩০টার বেশি আসনে বিজয়ী হতে পারবে না সে কথা সবার জানা। সে জন্য তাদেরকে সন্তুষ্ট বা আশ্বস্ত রাখার স্বার্থেই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে ত্যাগ করতে পারবে না আওয়ামী লীগ।
সুতরাং কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হবে না, কথাটা ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। তার জাজ্বল্যমান প্রমাণ শেখ হাসিনার পুত্র আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি লেখা। লেখার শিরোনামStemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh। এটি ছাপা হয়েছে Harvard International Review তে (অনলাইন দেখুন)। তিনি একা এটি লিখতে পারেননি, লিখেছেন কালু সিয়োভাকো নামক একজন সাবেক আমেরিকান সৈনিকের সঙ্গে যৌথভাবে। এই ভদ্রলোক ইরাক ও সৌদি আরবে কাজ করেছেন। এই প্রবন্ধে জয় কোনো রাখঢাক না করে সোজাসাপ্টা বলে দিয়েছেন, ইসলামই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শত্রু। তারপর বলেছেন, League win the upcoming December election Islamism will be averted, this de redicalization plan has great potential for success. The Bangladesh, the time is ripe for them to support these initiatives, in the careful balancing act between Islam and governance in a Muslim country, it appears that the pendulum has tiped to the side of secularism, the Awaami League must build on this momentum to ensure its long term success.. অর্থাৎ তার সার কথা হলো, আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে (২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ এর অনুষ্ঠিত) বিজয়ী হলে ইসলামকে দূরে সরিয়ে রাখা হবে, বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। এখনই তার সর্বোৎকৃষ্ট সময়। মুসলিম দেশে ইসলামের চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকেই অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য আওয়ামী লীগকে অবশ্যই এই পথে এগোতে হবে। শেখ হাসিনার পুত্র এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় অবশ্যই তার মা এবং আওয়ামী লীগ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই নীতিনির্ধারণী প্রবন্ধ লিখেছেন এবং বিশ্ববাসীকে জানানোর জন্য তা ইন্টারনেটে ছেড়েছেন। অথবা তারা এই মতামতকে সমর্থন ও অনুমোদন করেছেন। সে জন্যই তারা এর প্রতিবাদ করেননি। এ থেকেই বোঝা যায় কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হবে নাÑ কথাটা কত বড় ধাপ্পাবাজি।
যাই হোক, যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেখানে ফিরে যাওয়া যাক। বলছিলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা। আমরা ওপরের তথ্যাবলি থেকে সহজেই বুঝতে পারছি যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ও তার আগে আওয়ামী লীগের সংগ্রাম, নীতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকারে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। পরে এটা জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে বিগত প্রায় দেড় যুগ থেকে। ওপরের আলোচনা ও তথ্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ছিল গণতন্ত্র ও ধর্র্মীয় মূল্যবোধে উজ্জীবিত, স্বাধীন ও সার্বভৌম, বৈষম্য ও শোষণহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করা। এই কথাই বলা হয়েছে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মেনিফেস্টো, ১৯৭০ সালের আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো ও প্রস্তাবিত সংবিধান এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার রাজনীতি করতে গিয়ে বারবার এ নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। বিগত নির্বাচনের সময় নতুন করে সেই পুরনো মিথ্যাচার ও ভণ্ডামি করা হয়েছে। এখনো চলছে তার জের। ইদানীং ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, সমাজতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সংবিধানের মূল স্তম্ভ হিসেবে পুনঃস্থাপন করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী শিক্ষানীতি চালু করা যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে ইসলামী ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোকে দমন করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড ও উদ্যোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জাতির সঙ্গে নতুন প্রতারণার খেলা শুরু করেছে। এই খেলার একমাত্র উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে ভারতীয় রাজনীতি ও সংস্কৃতির দাসত্ব বলয়ের মধ্যে বন্দী করা ছাড়া তার কিছু নয়।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply