মুমিন জীবনে ইসলামী আন্দোলনের অপরিহার্যতা

atiq-vi

মো: আতিকুর রহমান#

নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাদের (বেশি) পছন্দ করেন, যারা তার পথে এমনভাবে কাতারবন্দী হয়ে লড়াই করে, যেন তারা এক সীসাঢালা সুদৃঢ় প্রাচীর। (সূরা আস সাফ : ৪) আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে বান্দার ওপর অর্পিত অপরিহার্য পালনীয় দায়িত্ব কর্তব্যসমূহের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন অন্যতম। আল্লাহ তায়ালার প্রকৃত বান্দাহ হওয়ার জন্য পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হওয়া আবশ্যক। আর ইসলামী সমাজ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ জন্য ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে ইকামতে দ্বীনের বড় ফরজটি আদায় করলে অন্যান্য ফরজ আদায় করা বান্দার জন্য সহজ হয়ে যায়।

ইসলামী আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
আধুনিক আরবি ভাষায় ইসলামী আন্দোলনের প্রতিশব্দ হলো আল হারকাতুল ইসলামিয়াহ। কিন্তু আল কুরআনের এ ক্ষেত্রে একটি নিজস্ব পরিভাষা আছে। সেই পরিভাষাটি হলো আল জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে জিহাদ। যাকে আধুনিক পরিভাষায় ইসলামী আন্দোলন বলা হয়।
আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী করা তথা ইকামতে দ্বীনের কাজ আঞ্জাম দেয়ার জন্য যে সংগঠন সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে তাকে ইসলামী আন্দোলন বলা হয়। সুতরাং যে দেশে আল্লাহর আইন ও রাসূলের (সা) আদর্শ কায়েম নেই তা কায়েমের চেষ্টাই ইসলামী আন্দোলন।

ইসলামী আন্দোলন চেনার উপায়
যে আন্দোলনের মধ্যে নিম্নোক্ত ৫টি কাজ থাকবে তাকেই পূর্ণাঙ্গ ইসলামী সংগঠন বা আন্দোলন বলা যাবে। আর তা হচ্ছেÑ ১. দাওয়াত ইলাল্লাহ ২. শাহাদাত আলান্নাস ৩. কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ ৪. ইকামাতে দ্বীন ও ৫. আমর বিল মারুফ ওয়া নেহি আনিল মুনকার।

ইসলামী আন্দোলনের উদ্দেশ্য
ক.    প্রাথমিক উদ্দেশ্য- দ্বীন কায়েমের জন্য একদল ইসলামী চরিত্রসম্পন্ন আত্মনিবেদিত লোক তৈরি করা
খ.    পার্থিব প্রধান বা চূড়ান্ত উদ্দেশ্যÑ আল্লাহপ্রদত্ত জীবনবিধান রাসূলের (সা) পন্থায় মানবসমাজে কায়েম করা। এ ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালানোর দায়িত্ব বান্দার আর সফলতার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার। নিজে ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত না থেকে আন্দোলন যদি বিজয়ীও হয় তাতে ব্যক্তির কোনো লাভ নেই কিন্তু নিজে ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকলে আন্দোলন বিজয়ী না হলেও ব্যক্তি নিজে সফল। অনেক নবীও দ্বীন বিজয়ী করতে পারেননি বরং তারা আল্লাহর দ্বীনের জন্য শহীদ হয়েছেন, এমতাবস্থায় তারা কি ব্যর্থ? না, তারা ব্যর্থ নয়, তারাই সফল।
মহান আল্লাহ বলেন, এ মানুষদের ভেতর (আবার) এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা আল্লাহ তায়ালার (এতটুকু) সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজের জীবন (পর্যন্ত) বিক্রি করে দেয়, আল্লাহ তায়ালা (এ ধরনের) বান্দাদের প্রতি সত্যিই অনুগ্রহশীল। (সূরা আল বাকারা-২০৭)
গ.    সংগঠনভুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যÑ আল্লাহর সন্তুষ্টি, রাসূলের শাফায়াত ও আখিরাতের সাফল্য।
ইসলামী আন্দোলনের
প্রয়োজনীয়তা
১.    দ্বীন তথা জীবনব্যবস্থাকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়া, যেখানে মানুষ একমাত্র আল্লাহর বিধানের অনুগত থাকবে। (সূরা বাকারা-১৯৩)
২.    রাসূল (সা)কে পৃথিবীতে প্রেরণের মিশনকে সফলকাম ও পূর্ণতা প্রদানের জন্য। (সূরা সফ-৯, তাওবাহ-৩৩, ফাতহ-২৮)
৩.    নির্যাতিত মানবতার মুক্তির জন্য। (সূরা নিসা : ৭৫)
৪.    মানুষের হিদায়াত ও সংস্কার সাধনের জন্য। (সূরা আলে ইমরান : ১০৪ ও ১১০)
৫.    দুনিয়াবাসীর ওপর সাক্ষী হিসেবে ভূমিকা পালনের জন্য। (সূরা বাকারা : ১৪৩)
৬.    আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য। (সূরা তাওবাহ : ৪১, বাকারা : ২৪৪)
৭.    অপ্রীতিকর ও অপছন্দনীয় হলেও ইসলামী আন্দোলন করা আবশ্যক। (সূরা বাকারা : ২১৬)
৮.    আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা, গোনাহ মাফ ও আখেরাতের সফলতা অর্জনের মাধ্যমে চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য। (সূরা সফ : ১০-১২)
৯.    আল্লাহর সাথে মুমিনগণ নিজের জীবন ও ধন-সম্পদ বিক্রির যে চুক্তি সম্পাদন করেছে তার বাস্তবায়নের জন্য। (সূরা তওবাহ : ১১১)
১০.    আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে দুনিয়ায় খলিফা পদে অভিষিক্ত করেছেন। সে খলিফার দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনের জন্য। (সূরা বাকারা : ৩০, ইমরান : ১১০ ও ১০৪)
১১.    মুসলমান হিসেবে জীবনের সমগ্র পরিসরে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার জন্য। যেমন, চিন্তা-ভাবনা, আদর্শ, মতবাদ, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা, আচরণ, ব্যবহারিক জীবন, লেনদেনসহ সমগ্র প্রচেষ্টা ও কর্মের পরিসর পুরোপুরি ইসলামের কর্তৃত্বাধীনে নিয়ে আসার জন্য। (সূরা বাকারা : ২০৮)
১২.    ঈমানের দাবির সত্যতা পেশ করার জন্য। ইসলামী আন্দোলনে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে ঈমানের দাবির সত্যতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি হয়। (সূরা আনকাবুত : ২-৩, বাকারা : ২১৪)
১৩.    আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের করা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য। (সূরা তাওবাহ : ১৬, আলে ইমরান : ১৪২)
১৪.    ইসলামী আন্দোলনকারীর জন্য আল্লাহর নিকট বড় মর্যাদা রয়েছে। (সূরা তওবা : ২০-২২, নিসা : ৯৫-৯৬, বাকারা : ২১৮)
১৫.    আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিকিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মুমিন ব্যক্তির জন্য ইসলামী আন্দোলন আবশ্যক। (সূরা নিসা : ৭৪)
১৬.    যেসব শক্তি আল্লাহর বন্দেগি, তাঁর সন্তুষ্টি লাভ ও তার পথে চলার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাদের বাধা ও প্রতিবন্ধকতাকে প্রতিহত করে আল্লাহর যথাযথ বন্দেগি, দুনিয়াতে তার কালেমাকে বুলন্দ এবং কাফির ও নাস্তিক্যবাদের কালেমাকে নিম্নগামী করার জন্য ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক। (সূরা হজ : ৭৮)

এ ছাড়াও কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা মুমিনজীবনে ইসলামী আন্দোলনকে অপরিহার্য করেছে। (সূরা নিসা : ৭৬, তওবা : ১৩, ৩৮, ৭৩, আনকাবুত : ৬, ৬৯, মায়িদা : ৩৫, ইউসুফ : ৪০, নূর : ৫৫, বাকারা : ১৯৩)

ইসলামী আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা ও মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূল (সা) ইরশাদ করেনÑ
১.    হযরত আবু আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা)কে বলতে শুনেছি, যার দুই পা আল্লাহর পথে ধুলোমলিন হয়, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। (বুখারি, তিরমিজি ও নাসায়ি)
২.    হযরত আবু জর গিফারি (রা) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা)! কোন আমল সবচেয়ে উত্তম? জবাবে রাসূল (সা) বললেন, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এবং তার পথে জিহাদ। (মুসলিম)
৩.    হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহর পথে একটি সকাল ও একটি সন্ধ্যা ব্যয় করা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। (বুখারি)
৪.    হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহতে অংশগ্রহণ করেছে, তার উদাহরণ হচ্ছে ঐ ব্যক্তির মতো যে অবিরামভাবে রোজা রাখে ও নামাজ পড়ে। (বুখারি)
৫.    হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আমি কি তোমাকে দ্বীনের মূল সূত্র, এর খুঁটি এবং সর্বোচ্চ চূড়ার সন্ধান দেবো না? আমি বললাম, হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা)! আপনি তা অবশ্যই আমাকে বলবেন। তখন রাসূল (সা) বললেন, প্রকৃত দ্বীনের মূল হচ্ছে ইসলাম, সুতরাং যে ইসলাম গ্রহণ করবে সে নিরাপত্তা লাভ করবে, খুঁটি হলো নামাজ এবং তার সর্বোচ্চ চূড়া হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)
৬.    হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন, যে মুসলিম ব্যক্তি উটের দুধ দোহনের সমপরিমাণ সময় (অল্প সময়) আল্লাহর পথে লড়াই করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। (তিরমিজি)
৭.    হযরত আবায়া ইবনে রিফায়া (রা) বলেন, আমি জুময়ার দিকে যাওয়ার সময় আবু আবেসের সাথে সাক্ষাৎ হলো। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রাসূলে করীম (সা)কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর পথে যার পদযুগল ধুলোয় মলিন হলো আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। (বুখারি)
৮.    হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, যে কেউ আল্লাহর পথে আঘাতপ্রাপ্ত হলে কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে আসবে, তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে এবং রঙ হবে রক্তের মতো আর ঘ্রাণ হবে মিশকের মতো। (বুখারি)

ইসলামী আন্দোলন না করার পরিণাম
১.    কুরআনের বিধান পুরোপুরি অনুসরণ না করার কারণে ব্যক্তি দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সূরা বাকারা : ৮৫)
২.    আল্লাহর হেদায়াত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হবে। (সূরা তাওবাহ : ২৪)
৩.    আখেরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। (সূরা তাওবাহ : ৩৯, ৮১)
৪.    ইসলামী আন্দোলন না করা অবস্থায় মারা গেলে মুনাফিকের মৃত্যু হবে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করলো, কিন্তু জীবনে ইসলামী আন্দোলন করলো না, এমনকি ইসলামী আন্দোলন করার চিন্তাও করলো না, সে যেন মুনাফেকির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলো। (মুসলিম)
৫.    ইসলামী আন্দোলন না করা নেককার লোকের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন না।
হযরত হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করবে এবং তাদেরকে কল্যাণকর কাজ করার জন্য উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করবে। অন্যথায় আল্লাহ তায়ালা যে কোনো আজাবে তোমাদের সকলকেই ধবংস করে দেবেন। কিংবা তোমাদের মধ্য থেকে সর্বাধিক পাপাচারী, অন্যায়কারী ও অত্যাচারী লোকদেরকে তোমাদের ওপর শাসনকর্তা নিযুক্ত করে দেবেন। এ সময় তোমাদের মধ্যে নেককার লোকেরা (আজাব থেকে) মুক্তি পাবার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা ও কান্নাকাটি করবে। কিন্তু তাদের দোয়া আল্লাহ কবুল করবেন না। (মুসনাদে আহমদ)

হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, হে জনসমাজ, আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই বলেছেন যে, তোমরা অবশ্য অবশ্যই ন্যায় কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে লোকদেরকে বিরত রাখবে সেই অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই, যখন তোমরা আমাকে ডাকবে কিন্তু আমি সাড়া দেবো না; তোমরা আমার কাছে চাইবে কিন্তু আমি তোমাদেরকে দেবো না; তোমরা আমার কাছে সাহায্য কামনা করবে, কিন্তু আমি তোমাদের সাহায্য করবো না। (মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ)

ইসলামী আন্দোলনের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ দিক
ইসলামী আন্দোলনে এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে যা অন্য আন্দোলন থেকে ইসলামী আন্দোলনকে অনন্য করে রেখেছে।
১.    সংগঠনভুক্ত সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ক মজবুত থাকা। (সূরা আস সফ : ৪)
২.    সংগঠনের দায়িত্বশীল ও কর্মীর মধ্যে সুশৃঙ্খল ঞবধস ড়িৎশ করার যোগ্যতা। গাড়ির চাবি ঘুরলে যেমন গাড়ির সব অংশ একযোগে কাজ করে তেমনি সক্রিয়তা থাকা।
৩.    পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভ্যাস। পরামর্শভিত্তিক কাজ করলে দ্বিগুণ সাওয়াব হয়, ভুল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। ভুল হলেও নেতা দায়ী থাকে না। (সূরা ইমরান : ১০৪, আশ-শুরা : ৩৮)
৪.    ইহতিসাব তথা পারস্পরিক সমালোচনার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দানের ব্যবস্থা। অপর ভাইয়ের ত্রæটি সংশোধনের জন্য পেছনে গিবত না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শান্তভাবে বলাই হলো ইহতিসাব।
৫.    আত্মসমালোচনা : আত্মসমালোচনা করলে অহঙ্কার থাকে না। ভুল-ত্রুটি দূর হতে থাকে এবং দিন দিন ব্যক্তির নৈতিকতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যোগ্যতা বাড়ে।

ব্যক্তিগতভাবে সংগঠনের লোকদের মধ্যে যে চারটি গুণ থাকা অপরিহার্য :
ক) ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা
খ) ইসলামের প্রতি অবিচল বিশ্বাস
গ) ইসলাম মোতাবেক আমল-আখলাক
ঘ) ইকামতে দ্বীনকে জীবনের আসল লক্ষ্য মনে করা

পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহর নবী প্রথম অহিপ্রাপ্তি শেষে কম্বল মুড়ি দিয়ে শোয়ার পর বলা হয়েছেÑ “হে বস্ত্র মুড়ি দিয়ে শয়নকারী, ওঠো এবং সাবধান করে দাও, তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। (সূরা মুদ্দাসসির : ১-৩)
আল্লাহর রাসূল (সা) অহি পাওয়ার পর বিশ্রামের সুযোগ হয়নি, অতএব আমাদেরও বসে থাকার সময় নেই। যেহেতু ইসলামী আন্দোলন ঈমানের অপরিহার্য দাবি, তাই আসুন সবাই মিলে ইসলামী আন্দোলনের কাজে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ি এবং আল্লাহর সন্তোষ অর্জন করে পরকালে মুক্তি লাভ করি।

লেখক : সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply