মুসলিম উম্মাহ অতীত, বর্তমান ও … -ড. বি. এম. মফিজুর রহমান আল-আযহারী

বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৭ বিলিয়নের কিছু বেশি। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলিম। ২০০৯ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের মোট মুসলিম জনসংখ্যা ১.৫৭ বিলিয়ন, খ্রিস্টান ২.১ বিলিয়ন, হিন্দু ৯০০ মিলিয়ন, বৌদ্ধ ৪০০ মিলিয়ন ও ইয়াহুদি ১৯ মিলিয়ন। অর্থাৎ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩১% খ্রিস্টান, ২৩% মুসলিম, ১৪% হিন্দু, ৬% বৌদ্ধ আর ০.২২% ইয়াহুদি।
একটি জাতির পুনর্জাগরণের জন্য যা কিছু দরকার সবই আছে মুসলিম উম্মাহর। তবুও প্রায় এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মুসলিম উম্মাহ পশ্চাদপদ ও দুর্বল জাতি হিসেবে জীবন যাপন করছে।
বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ মানবসম্পদ ও দুই-তৃতীয়াংশ প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী মুসলিম উম্মাহ। এতদসত্ত্বেও গোটা বিশ্বের মোট সম্পদে তাদের প্রাপ্তি মাত্র ৬%। বিশ্বের সমস্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ বাস করে মুসলিম দেশে। যাদের দৈনন্দিন আয় হচ্ছে দুই ডলারের চেয়ে কম। বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি ধনী রাষ্ট্রের মধ্যে একটিও মুসলিম দেশ নেই।
জাপানে এমনও গাড়ির কোম্পানি রয়েছে, যার বার্ষিক আয় কোন কোন মুসলিম রাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেটের চেয়েও বেশি, যার জনসংখ্যা ৭০ মিলিয়নেরও বেশি।
বিশ্বের ৫০ হাজার প্রথম সারির মানসম্পন্ন পণ্যের মধ্যে একটি পণ্যের উৎপাদকও কোন মুসলিম দেশ নয়। সবগুলোই অমুসলিম রাষ্ট্র।
মুসলিমবিশ্বের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ শত শত মিলিয়ন ডলার। স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার ক্ষেত্রে তারা সবসময় পিছিয়ে পড়ছে। একজন মধ্যবিত্ত গোছের মুসলিম পাশ্চাত্যের একজন মধ্যবিত্তের চেয়ে জীবনমানে বিশ বছর পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্বে ধূমপায়ীদের সর্বোচ্চ সংখ্যা মুসলিম বিশ্বেই। মুসলিমবিশ্ব থেকেই তামাক কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করে। ৪০% মুসলিম যুবক উচ্চশিক্ষার সনদ নিয়েও মানসম্পন্ন পেশায় চাকরি পাচ্ছে না। তাই তারা বিদেশে পাড়ি জমায়। বিদেশে যেখানেই যাওয়া যায় সেখানেই লক্ষ লক্ষ মুসলিম প্রবাসী পাওয়া যায়। বিশ্বে যেখানে বেকারত্বের সমস্যা ৪-৬%। সেখানে মুসলমানদের পূর্ণাঙ্গ বেকারত্বের সংখ্যা ২০%। আর অপর্যাপ্ত আয়ের বেকারত্বের সংখ্যা ৬০%। মুসলিমবিশ্বের দরিদ্রতা দেখলে যে কোন ললাট বেয়ে বেদনার ঘাম ঝরে। বিশ্বের বিবদমান ৩০টি বিষয়ের মধ্যে ২৮টিই হলো মুসলিমবিশ্বে।
বিগত তিন দশকে আড়াই মিলিয়ন মুসলিম নিহত হয়েছে যুদ্ধে। ইরাকেই নিহত হয়েছে ৬ লাখের বেশি। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ জেলবন্দী হচ্ছে মুসলিমবিশ্বে। বিশ্বের ৮০%টি ফাঁসির ঘটনা ঘটছে মুসলিম দেশগুলোতে। সারা পৃথিবীর সমস্ত শরণার্থী ৮০% মুসলিম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা খাতে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম বিনিয়োগ করা হয় মুসলিম দেশগুলোতেই। আমেরিকা একাই ব্যয় করে বিজ্ঞানগবেষণায় ১৬৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা এ ক্ষেত্রে বিশ্বের সমগ্র বরাদ্দের ৩২%। এর পরে আসে জাপানের অবস্থান। বিজ্ঞানগবেষণায় তার বাজেট হচ্ছে ১৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বের ২৪%। তারপর হচ্ছে উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো। ক্রমিক অনুসারে, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা।
সমগ্র আরববিশ্ব ব্যয় করে মাত্র ৫৩৫ মিলিয়ন ডলার মাত্র। যাদের গবেষকদের সংখ্যাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে জানা যায় না। অথচ একা ইসরাইলই ব্যয় করে এ ক্ষেত্রে ৯ বিলিয়ন ডলার। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ইসরাইল মোট জাতীয় বাজেটের ৩৪.৬% ব্যয় করে। ইসরাইলে গবেষকদের সংখ্যা হচ্ছে মোটামুটি ২৪ হাজার। কোন কোন পরিসংখ্যানের হিসাবে ৯০ হাজার।
সমকালীন মুসলিশবিশ্বের এই হলো সামান্য কিছু চিত্র, যা মুসলমানদের অনুন্নতি, পশ্চাদপদতা ও পতিত অবস্থারই হৃদয়বিদারক বাস্তবতা বহন করে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, অধঃপতন ও পশ্চাদপদতা মুসলিমদের অলঙ্ঘনীয় ভাগ্যের স্থায়ী লিখন, মুসলিমরা সত্তাগতভাবেই পশ্চাদপদ, যা কখনো পরিবর্তনশীল নয়। বরং এটি একটি সাময়িক ধাপ মাত্র। কারণ, এই মুসলিমরাই বিশ্বকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, সভ্যতায়-সংস্কৃতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত। মুসলিম মনীষীদের লেখা বই-পুস্তকই ছিলো পাশ্চাত্যের একমাত্র পাঠ্যপুস্তক।
মুসলিম রসায়নবিদ মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়ার হাম ও বসন্ত রোগ সম্পর্কে লিখিত ‘আল-জুদারী ওয়াল হাসবাহ’ বইটি ১৪৯৮ থেকে ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ল্যাটিন ও ইউরোপীয় সকল ভাষাসহ চল্লিশবার শুধু ইংরেজি ভাষাতেই অনূদিত, মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছিল। দশম খন্ডে লিখিত চিকিৎসাবিষয়ক তাঁর আরেকটি বই ‘কিতাবুল মানসুরী’ পনেরো শতকের শেষ দিকে মিলান শহরে ল্যাটিন ভাষায় এবং পরবর্তীতে ফরাসি ও জার্মানি ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়। তার লেখা আরেকটি মহামূল্যবান গ্রন্থ ‘আল-হাবী’। এতে সর্বপ্রকার রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ও চিকিৎসার প্রণালী ও ওষুধের ব্যবস্থা ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ অবদান হিসেবে এই গ্রন্থখানা ইউরোপীয় চিন্তারাজ্যে অসামান্য প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়েছিল। সিসিলির রাজা প্রথম চার্লস এই বৃহৎ গ্রন্থের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছিলেন। ষোল শতক পর্যন্ত সমগ্র ইউরোপের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গ্রন্থ ছিল পাঠ্য।
মুসলমানদের কাছে অস্ত্রোচিকিৎসার ব্যাপারে সমগ্র ইউরোপ ঋণী। শুধু ইউরোপই নয়; সমগ্র জগৎকে আবুল কাসেম আল-জাহরাবী, তার আশ্চর্য দক্ষতা দেখিয়েছেন। তিনি কর্ডোভার বিখ্যাত হাসপাতালের শ্রেষ্ঠতম অস্ত্রোচিকিৎসাবিশারদ ও প্রধান চিকিৎসক ছিলেন। খ্রিস্টান, ইয়াহুদি, আরবি, আজমি শিক্ষার্থীরা শিক্ষালাভের আশায় তাঁর বাড়িতে ভিড় জমাতো।
নাকের ছিদ্রে ওষুধ দেয়ার যন্ত্র, দাঁতের গোড়া পরিষ্কার করার যন্ত্র, দাঁতের গোড়ার গোশত কাটার যন্ত্র, চোখের পালকে গোশত কাটার যন্ত্র, মূত্রনালীর পাথর বের করার যন্ত্র, ভাঙা হাড় বের করার যন্ত্র, জরায়ুর মুখ প্রশস্ত করার যন্ত্র ও সাধারণ চিকিৎসার বহু রকমের যন্ত্র তিনি আবিষ্কার করেন।
ধাতু সম্পর্কে জাবির ইবনে হাইয়্যানের মৌলিক মতামত আঠারো শতক পর্যন্ত ইউরোপের রসায়ন শিক্ষায় বিনাদ্বিধায় গৃহীত হতো। পাতন, ঊর্ধ্বপাতন, পরিশ্রবণ, দ্রবণ, কেলাসন, ভম্মীকরণ, বাষ্পীকরণ ও গলানো প্রভৃতি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার আবিষ্কার তাঁরই দ্বারা সম্ভব হয়েছিল। নাইট্রিক এসিড, আর্সেনিক, এন্টিমনি, সিল্ভার নাইট্রেড, কিউরিক ক্লোরাইড, পটাশ, সোডা, বিভিন্ন রকমের গন্ধক, সিলভার অব সালফার, ভিট্রিয়ল, সল্ট অ্যামোনিক, সল্টপিটার ও লেড এসিটেড প্রভৃতির আবিষ্কার তিনিই সর্বপ্রথম করেছিলেন।
মুসা আল খারেজমী সৌরমন্ডল ও জ্যোতির্মন্ডল সম্বন্ধে গবেষণা করে পৃথিবীর জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। সর্বপ্রথম পৃথিবীর মানচিত্র তিনিই এঁকেছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম ডিগ্রির মাপে পৃথিবীর ব্যাস ও পরিধি নিরূপণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ইউরোপীয় গবেষকগণ এটিকেই তাদের গবেষণার মূল ভিত্তিরূপে গ্রহণ করেছিলেন। বীজগণিতের জন্মদাতা তিনি। তাঁর আল-জাবর নামক বীজগণিতের মৌলিক গ্রন্থ হতে ইউরোপীয় ‘এলজেবরা’ শব্দটি চয়ন করা হয়। দ্বাদশ শতাব্দীতে মিস্টার ‘জিরার্ড’ ল্যাটিন ভাষায় এই গ্রন্থখানি অনুবাদ করেন। এই অনুবাদ ষষ্ঠদম শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বীজগণিতের প্রধান ও প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
মুসলিম বৈজ্ঞানিক আবুল হাসান সর্বপ্রথম দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞানই নয়; ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবেও বিশ্বের বিশাল অংশ ছিলো মুসলিম রাষ্ট্রের সরাসরি সীমানাভুক্ত। রাসূল (সা) এর যুগে তা গোটা আরব উপদ্বীপকেই শামিল করে নেয়। এরপর খোলাফায়ে রাশেদার ত্রিশ বছর শাসনামলে মুসলিম সা¤্রাজ্য সম্প্রসারিত হয়ে শামের বিস্তীর্ণ এলাকা (সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ফিলিস্তিনের) পাশাপাশি সাইপ্রাস (কুবরুস), ইরাক ও মিসর পর্যন্ত পৌঁছায়। উমাইয়্যা যুগের নব্বই বছরের শাসনামলে মুসলিমবিশ্ব বিস্তৃত হয় বিশাল এলাকাজুড়ে। পূর্বে ইরান, ভারত, চীন, মধ্য এশিয়া। পশ্চিমে উত্তর আফ্রিকা, আন্দালুস স্পেন, পর্তুগাল ও দক্ষিণ ফ্রান্স।
এরপর আব্বাসীয় যুগে ইসলাম মধ্য এশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন নতুন নতুন এলাকায় ঢুকে পড়ে। এ ছাড়া, পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকায় ইসলাম তার অবস্থান বিস্তৃত করে নেয়। মামলুকদের শাসনামলে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে ভারতের সব দিক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকায়। এরপর ১৪৯২ সালে স্পেন ইসলামী বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়। আসে তুরস্কভিত্তিক উসমানী যুগ ১৩০০ সালে। যা উত্তর আফ্রিকাসহ তুরস্ক, বালকান, পূর্ব ও মধ্য ইউরোপ, পশ্চিম আফ্রিকা, ভারত, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানী খিলাফাতের সমাপ্তি ঘটে। ১৯২৪ সালে তুরস্ক থেকে ইসলামী খিলাফত বিলুপ্তি ঘোষণা করে কামাল আততুর্ক এবং তুরস্ককে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে ঘোষণা দেয়।
তারপর কালক্রমে অধিকাংশ মুসলিম দেশ ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। তারপর আবার ধীরে ধীরে স্বাধীনতা ফিরে পেতে থাকে। পৃথিবীতে আজ ইসলামী সম্মেলন সংস্থার সদস্য রূপে ৫৬ মুসলিম দেশ থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে মুসলিম দেশের সংখ্যা হলো ৮৬টি।
অনেক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণ বসন্ত পূর্বাভাসের মত সর্বত্র এখন আলোচ্য বিষয়।
২০০৭ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বের বর্ধমান ছয়টি ধর্মের মধ্যে ইসলামই হচ্ছে প্রথম। আর খ্রিস্টান ধর্ম হচ্ছে ষষ্ঠ। ভ্যাটিকান পত্রিকা ‘রুমানো লি’ তে এক সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে যে, এই প্রথমবারের মতো ইতিহাসে ইসলাম ক্যাথলিক ধর্মকে ছাপিয়ে উঠলো। ক্যাথলিকরা বিশ্বের অধিবাসীদের ১৭.৪% ভাগ। আর মুসলিমদের সংখ্যা হচ্ছে শতকরা ১৯.২ ভাগ। (যা বাস্তবে এখন ২৩% এর কম নয়)। এভাবে প্রটেস্ট্যান্ট, ক্যাথলিক, অর্থোডক্স আলাদা হিসাব করলে ইসলামই হবে পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্ম।
বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইউরোপে ২০০৭ সালে মুসলমানদের মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৩ মিলিয়ন। অর্থাৎ ৫.২%। এদের মধ্যে ১৬ মিলিয়ন রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৩.২%।
এ সংখ্যা আজ দ্রুত হারে বেড়েই চলছে।
ফ্রান্সের বড় বড় নগরী যেমন, প্যারিস, নিস, মারসিলিয়া তে ২০ বছরের নিচে মুসলিম অধিবাসীদের সংখ্যা হচ্ছে ৩০%। আশা করা হচ্ছে ২০২৭ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ৪৫% পৌঁছাবে। অর্থাৎ ৩৯ বছরের মধ্যে ফ্রান্সের এক -পঞ্চমাংশ অধিবাসী হবে মুসলমান।
ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত Jeune Afrique  ম্যাগাজিন উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিসেম্বর ২০০১ এর ঘটনার পর থেকে ফ্রান্সে সর্বাধিক বিক্রীত পুস্তকের মধ্যে রয়েছে ফরাসি ভাষায় অনুবাদসহ “চল্লিশ হাদিস” বইটি। ম্যাগাজিনটি আরো উল্লেখ করে যে, ফ্রান্সে ক্যাথলিকদের পরে ইসলামই হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। বছরে প্রায় ৫০ হাজার ফরাসি ইসলাম গ্রহণ করে।
অন্য দিকে, ব্রিটেনে গত ত্রিশ বছরে মুসলমানদের সংখ্যা ৮২ হাজার থেকে ত্রিশ গুণ বেড়ে ২.৫ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। সেখানে এখন এক হাজারেরও বেশি রয়েছে মসজিদ। যেগুলোর অধিকাংশ ছিলো গির্জা। ব্রিটেনে বছরে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ ব্রিটিশ ইসলাম গ্রহণ করে।
হল্যান্ডের নতুন জন্মগ্রহণকারীদের ৫০% ভাগই হলো মুসলিম। এর অর্থ হচ্ছে, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে তার অর্ধেক জনসংখ্যাই হবে মুসলিম।
রাশিয়ায় বর্তমানে ২৩ মিলিয়নের চেয়ে বেশি মুসলিম রয়েছে। যা মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। আশা করা হচ্ছে যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই রুশ সেনাবাহিনীর ৪০% এ উপনীত হবে মুসলিমদের সংখ্যা।
২০০৮ সালে রাশিয়ার ‘প্রাফদা’ (Pravda) পত্রিকায় বলা হয়েছে যে, ২০৫০ সাল নাগাদ ইসলাম হবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ধর্ম। বর্তমানে সেথায় খ্রিস্টান অর্থডক্সের পর ইসলামকে দ্বিতীয় ধর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়।
বেলজিয়ামের অধিবাসীদের ২৫% এবং নতুন জন্মগ্রহণকারীদের ৫০% এখন মুসলিম।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এক তথ্যে বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সাল নাগাদ অর্থাৎ আগামী ১৭ বছরের মধ্যে ইউরোপে জন্মগ্রহণকারীদের এক-তৃতীয়াংশ হবে মুসলিম।
প্রথমবারের মত জার্মানি সরকার জানিয়েছে, জনসংখ্যা বর্ধনের গড়ে যে নিম্নমুখিতা সৃষ্টি হয়েছে, তা বন্ধ করা এখন সম্ভব নয়। কারণ, তা এমন পর্যায়ে চলে গেছে, যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। এতে আরো বলা হয় যে, ২০৫০ সালের মধ্যে জার্মানি মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সেখানে গড়ে প্রত্যেক দুই ঘন্টায় একজন করে ইসলাম গ্রহণ করে। অর্থাৎ বছরে ৪০০০ এর বেশি লোক ইসলাম গ্রহণ করছে। প্রতিদিন গড়ে ১২ জন। প্রতি তিন মাসে প্রায় ৩৫০ জন। এটা হচ্ছে সরকারি হিসেব। বিভিন্ন ইসলামী সেন্টারের হিসেবে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি। কারণ অনেকে ইসলাম গ্রহণ করে তা রেজিস্ট্রেশন করে না। এই হিসেবে সেখানে বছরে ১০ থেকে ১৫ হাজার লোক ইসলাম গ্রহণ করে। অর্থাৎ প্রত্যেক ৪৫ মিনিটে একজন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী খোদ জার্মানিতে এখন ২৫০০ মসজিদ রয়েছে।
ইতালিতে কর্মরত বিভিন্ন ইসলামী সংস্থার তথ্যানুসারে সেথায় প্রতি বছর শতাধিক মসজিদ নির্মিত হচ্ছে।
১৯৭০ সালে আমেরিকায় মুসলিমদের সংখ্যা ছিলো এক লক্ষ মাত্র। তা বেড়ে ২০০৮ সালে দাঁড়িয়েছে ৯ মিলিয়নে। ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী ত্রিশ বছরে এ সংখ্যা আরো বেড়ে ৫০ মিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াবে। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে বলা হয়েছে যে, আমেরিকায় বর্তমানে সবচেয়ে দ্রত বর্ধনশীল ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। বর্তমানে আমেরিকাতে মসজিদের সংখ্যা হচ্ছে ১২০৯। যার অর্ধেকই নির্মিত হয়েছে গত বিশ বছরের মধ্যে। এগুলো আমাদের দেশে প্রচলিত মসজিদের মতো নয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে : মাদ্রাসা, লাইব্রেরি, সামাজিক সেন্টার, পুস্তক বিক্রয় স্টল, খাবার ঘর, সেমিনার হল এমনকি আবাসনের ফ্ল্যাটও। ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা শতকরা ১৭ থেকে ৩০ ভাগ। এনবিসি চ্যানেলের তথ্যানুযায়ী, প্রতি বছর ২০,০০০ আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করে। আমেরিকার মুসলমানদের ২৫% জনই নতুন মুসলিম।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত জরিপের মধ্যে সংখ্যাতাত্ত্বিক কিছু পার্থক্য থাকলেও ইসলামের প্রসারতা ও দ্রুত বর্ধনশীলতার প্রশ্নে সবগুলোর অবস্থান অভিন্ন।
আসলে, পুনর্জাগরণ ও উত্থানের বিষয়টি বিশ্বব্যবস্থাপনায় আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআলার একটি অমোঘ বিধান। যে কোন জাতির দুটো অবস্থাই হতে পারে। শক্তি ও দুর্বলতা। কোন জাতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে পারে। সে লক্ষ্যে পৌঁছাবার জন্য সঠিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করে দৃঢ়পদে এগিয়ে যায়। সামনে রাখতে পারে সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। বরণ করে নিতে পারে এই পথে যে কোন ত্যাগ ও কোরবানি। পক্ষান্তরে, কোন জাতি যখন তার উদ্দেশ্য ভুলে যায়। আদর্শ সম্পর্কে থাকে অজ্ঞ। হারিয়ে ফেলে তার কর্মপদ্ধতি। জিহাদের ওপর পার্থিব স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। চরিত্রকে ধ্বংস করে। ভোগ-বিলাসে নিমজ্জিত হয়ে দায়িত্বের প্রতি হয় উদাসীন। তখন দুর্বলতা তাকে পরিবেষ্টন করে নেয়। সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যায় সে। এভাবে ক্রমান্বয়ে চূড়ান্ত ধ্বংসের তলে হারিয়ে যায় সে জাতি।
পৃথিবীর নেতৃত্ব এক সময় ছিল শুধুই প্রাচ্যমুখী বা পূর্বকেন্দ্রিক। তারপর গ্রিস ও রোমের উত্থানের পর তা চলে যায় পাশ্চাত্যে। অতঃপর আবার মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদ (সা)-এর নবুওয়তের মাধ্যমে তা চলে আসে প্রাচ্যে। তারপর প্রাচ্যবাসীরা অলস নিদ্রায় ঘুমিয়ে পড়ে। এক সময় তা আবার চলে যায় পাশ্চাত্যে। এই সেই পাশ্চাত্য যারা আজ নেতৃত্বের নামে গোটা বিশ্বকে জুলুম, নির্যাতন ও অনৈতিকতার বিষাক্ত ছোবল দিয়ে মুর্মূষু পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বিগত শতাব্দীগুলোতে ঘটে যাওয়া হাজারো তিক্ত বাস্তবতার আলোকে বিশ্ব অনুধাবন করতে শুরু করেছে, পাশ্চাত্যের স্বার্থপর, ভোগবাদী, ধর্মহীন সভ্যতায় মানবতার মুক্তি নেই। মানবরচিত মতবাদগুলো জীবন সমস্যার সমাধানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
তাই বিশ্ব আজ নতুন এক সভ্যতার পানে তাকিয়ে রয়েছে। যেখানে মানুষকে প্রকৃত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হবে। সর্বাত্মক ও সর্বজনীন ন্যায়বিচারের গ্যারান্টি থাকবে। দেহ ও আত্মার প্রতি যুগপৎ গুরুত্বারোপ করা হবে। মানুষ খুঁজে পাবে, জীবনের মূল লক্ষ্য। খুঁজে তার মৌলিক পরিচয় ও শেষ পরিণামে সাফল্যের সন্ধান। সেই সভ্যতার নামই হলো ইসলাম। এ জন্যই আল্লাহ মুসলিমদেরকে বিশ্বমানবতার জন্য সাক্ষী তথা শিক্ষক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলছেন :
“এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্য।” (সূরা আল বাকারা : ১৪৩)
তাই ইসলামই হলো মানবতার আগামী দিনের কাক্সিক্ষত সভ্যতা। বিশ্বনেতৃত্ব এখন তাদের জন্য অপেক্ষমাণ। ইসলামের পুনর্জাগরণ ও চূড়ান্ত বিজয় এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।
তাই হতাশা নয়; বরং মানবতার কল্যাণ সাধনের প্রতিজ্ঞায় পুনর্জাগরণের মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে মুসলিম উম্মাহর এখন এগিয়ে যাওয়ার সময়। তাদের বিজয় অনিবার্য। কুরআন ও হাদিসের মধ্যে উম্মাহর এই বিজয়ের বহুমুখী সুসংবাদ অকাট্যভাবে দেয়া হয়েছে। কুরআনুল কারিমের তিন স্থানে আল্লাহ সব ধর্ম ও মতবাদের ওপর ইসলামের এই বিজয়ের সুসংবাদ দিয়ে বলছেন,
“তিনি প্রেরণ করেছেন আপন রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের ওপর জয়যুক্ত করেন।” (সূরা তাওবাহ : ৩৩, আল-ফাতহ : ২৮, আসসাফ : ৯)। ইসলাম শুধু ধর্ম হিসেবে নয়; বরং রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবেও গোটা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবে, নি¤েœর হাদিসদ্বয় থেকে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।
হযরত তামিমুদ্দারী (রা) রাসূল (সা) থেকে বর্ণনা করেন :
(মহাবিশ্বের) যেথায় দিনের আলো ও রাতের আঁধার গিয়ে পৌঁছায় সেথায় গিয়ে ইসলাম পৌঁছাবে। (ভূপৃষ্ঠে) এমন কোন মাটির ঘর বা ঝুপড়িও থাকবে না, যেখানে আল্লাহ ইসলামের কালেমা প্রবেশ করাবেন না। সম্মানীর ঘরে সম্মানের সাথে এবং অসম্মানীর ঘরে অসম্মানীর সাথে। আল্লাহ ইসলামকে সম্মানিত করবেন। আর কুফরকে করবেন লাঞ্ছিত।” (আহমাদ, হাকিম)
হযরত সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা) বলছেন :
“আল্লাহ আমার জন্য পৃথিবীকে সঙ্কুচিত করলেন। তখন আমি তার পূর্ব ও পশ্চিম পর্যন্ত দেখলাম। অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতের রাজত্ব সেই পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, যে পর্যন্ত জমিন আমার জন্য সঙ্কুচিত করা হয়েছিল।” (মুসলিম)।
হজরত আমার ইবনুল ‘আস বলেন,
আমরা একদা রাসূলের চারপাশে বসে লিখছিলাম। এমন সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন শহরটি আগে বিজয় হবে? কনস্টানটিনোপল (আজকের ‘ইস্তাম্বুল’) না কি রোম? রাসূল (সা) জবাব দিলেন, হিরাক্লিয়াসের শহর (অর্থাৎ কনস্টানটিনোপল) প্রথমে বিজয় হবে (আহমাদ, দারমি)।
এই সুসংবাদের ৮০০ শত বছর পর ২৩ বছরের উসমানী যুবক মুহাম্মাদ বিন মুরাদ আল-ফাতিহের হাতে এই নগরীর বিজয় অর্জিত হয় ১৪৫৩ সালে। এখন আমরা ইতালির রাজধানী রোম বিজয়ের জন্য অপেক্ষা করছি। এবং সেদিন অবশ্যই আসবে।
খিলাফাতে রাশেদার যুগে ইসলামের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিজয় সম্পাদিত হয়েছে। এবং আরব উপদ্বীপ থেকে কুফর চিরতরে বিদায় নিয়েছে। পরবর্তীতে উমাইয়া, আব্বাসীয়, উসমানীয় খিলাফতের যুগে ইসলামের রাজনৈতিক বিজয় বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হয়েছে, যা ইতঃপূর্বে আমরা আলোচনা করেছি। অতঃপর রাজনৈতিক বিজয় সঙ্কুচিত হয়ে গেলেও ধর্মীয় বিজয় সর্বদা ক্রমবর্ধমান রয়েছে। বর্তমানে যা অতি দ্রুতবেগে এগিয়ে চলছে, যা পরিসংখ্যানের দ্বারা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। মানুষ নাস্তিক্যবাদ ও ভোগবাদের মধ্যে এবং মানুষের মনগড়া ধর্মসমূহে মানসিক শান্তি ও সুখ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে দ্রুত ইলাহি ধর্ম ইসলামের দিকে ফিরে আসছে। বস্তুবাদীরা যতই ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে ও ইসলামী নেতৃবৃন্দের ওপর জুলুম করবে, মানুষ ততই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে। এভাবেই ইসলাম যখন মানুষের হৃদয় দখল করবে, তখন পৃথিবীর রাজনীতি, অর্থনীতি সবই ইসলামের দখলে চলে আসবে।
আদর্শিক বিজয়ের স্বরূপ হলো আদর্শ কবুল করার মাধ্যমে বিজয় আসা। আর রাজনৈতিক বিজয়কে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করলে ইসলামী বিজয় বাধাগ্রস্ত হয়। বরং ইসলামী বিজয়কে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করলে রাজনৈতিক বিজয় ত্বরান্বিত হয়। লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল হবার কারণে অনেক দেশে ইসলামী বিজয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দৃঢ়চিত্ত, ঈমানদার ও দূরদর্শী নেতৃত্ব ইসলামী বিজয়ের জন্য অপরিহার্য। সেই সাথে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আল্লাহর নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা যদি কোন আন্দোলনের লক্ষ্য না হয়, তাহলে সেখানে আল্লাহর সাহায্য নেমে আসে না। মনে রাখতে হবে, ইসলাম কখনোই পরাজিত হয় না। পরাজিত হই আমরা আমাদের দোষে। আমরা যতই ত্রুটিমুক্ত হবো, আল্লাহর রহমত তত নিকটবর্তী হবে। সাময়িক বস্তুগত বিজয়ে শত্রুরা হাসবে। এটাই ওদের দুনিয়ার সান্ত¦না। পরকালে ওরা জাহান্নামের ইন্ধন হবে।
‘ওরা চায় মুখের ফুৎকারে আল্লাহর জ্যোতিকে নিভিয়ে দিতে অথচ আল্লাহ স্বীয় জ্যোতিকে (ইসলামকে) পূর্ণতায় পৌঁছানো ব্যতীত ক্ষান্ত হবেন না। যদিও অবিশ্বাসীরা তা অপছন্দ করে।’ (সূরা আত-তাওবাহ : ৩২)
সবকিছু বিবেচনায় এনে এ কথা বলা যায় যে, মুসলিম উম্মাহ আজ একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শত শত ব্যর্থতার মাঝেও তার সামনে রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও বিজয়ের অপার সম্ভাবনা। মনে রাখতে হবে, মুসলিম উম্মাহ কোন শিকড়হীন বৃক্ষ নয়। এর শিকড় এত গভীরে প্রোথিত যে, যত ঝড়-বন্যা-সাইক্লোনই আসুক না কেন, তাতে হয়ত এর ডাল-মগডালগুলো প্রচন্ডরূপে আন্দোলিত হবে, এদিক-সেদিক দুলবে, কিন্তু এর শিকড় উৎপাটিত হবে না। এ বৃক্ষ প্রতিনিয়ত সুফল দিতেই থাকবে। মুসলিম উম্মাহ নয়তো সমুদ্রের কোন ফেনার মত যে, অদৃশ্যে হারিয়ে যাবে। বরং তারা এমন খনিসদৃশ, যা মানবতার কল্যাণে পৃথিবীতে বেঁচে থাকে। তার ওপর দিয়ে যখন বিপদ-বিপর্যয় বয়ে যায়, তখন অবিশ্বাসীরা মনে করে, সে মরে গেছে। আসলে সে মরে না। সাময়িক দুর্বল হয় মাত্র। কারণ, তার মধ্যে রয়েছে এমন উপাদান যা নতুন করে জীবন সঞ্চার করতে পারে। রাতের আঁধার হয়ত কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভোর হবে না কোন দিন। ফজরের আজান আর শোনা যাবে না। আজকের বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ সেই আজান ও ভোরের অপেক্ষায় শুধু প্রহর গুনছে। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে, যোগ্য নেতৃত্ব ও সঠিক কর্মপদ্ধতির অভাব। এ বিষয়ে চলছে নিত্যনতুন গবেষণা। প্রকাশিত হচ্ছে গবেষকদের মত-অভিমত। হ
লেখক : অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ
সাবেক পরিচালক, সেন্টার ফর ইউনিভার্সিটি রিকোয়ারমেন্ট কোর্সেস
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম

SHARE

Leave a Reply