মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে শিক্ষা ব্যর্থ কেন? -ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

আজকের আধুনিক পৃথিবীতে প্রতিনিয়তই বিজ্ঞানে চোখধাঁধানো উন্নতি, অগ্রগতি আমাদেরকে আন্দোলিত করছে। কিন্তু সেই অগ্রগতিই যেন আমাদের সমাজের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিচ্ছে! একই সাথে তার কারণ ও প্রতিকার যদি আমাদের জানা না থাকে তাহলে নৈতিকতাবিহীন বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার যুবসমাজের জন্য ধ্বংসের কারণ হতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সর্বত্র বস্তুর প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। এটিকে মানুষের জন্য অশুভ হিসেবে গণ্য করেছেন অনেকেই। তাই শিক্ষার মাধ্যমে আত্মিক শক্তিতে শিক্ষার্থীদের উজ্জীবিত করতে না পারলে, বস্তুগত জগৎ যেন কখনই মানুষ, মানবতা ও মনুষ্যত্বের বিকাশ সাধন করতে পারবে না। শিক্ষায় আত্মিকতাই হতে হবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তাহলে কেবল সৎ, যোগ্য, দক্ষ, দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা সম্ভব।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব জাহানের কথা আমাদের সকলেরই জানা। আইয়্যামে জাহিলিয়াতের বর্বরতার কথা চিন্তা করলে মানুষ আঁতকে ওঠে। ইমলাম তমসাচ্ছন্ন আরবকে সভ্য-দুনিয়ার কাছে তুলে ধরেছে। আরববাসী সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক উন্নতির অনেক উদাহরণ সভ্য-দুনিয়ার সামনে উপস্থিত করেছে। আর তা সম্ভব হয়েছিল একমাত্র তদানীন্তনকালের প্রচলিত শিক্ষা, যে শিক্ষা একমাত্র অলঙ্ঘনীয় শিক্ষা, আদর্শ শিক্ষা ও নির্ভুল শিক্ষার মাধ্যমে। তখনই মানুষ সর্বোত্তম মানুষে পরিণত হয়। এই প্রসঙ্গে কবি গোলাম মোস্তফা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বিশ্বনবী’তে উল্লেখ করেছেন ‘… যুগ-যুগান্তর ধরিয়া যে মহাসত্যের জন্য ধরণী প্রতীক্ষা করিয়া আসিতেছিল, যে বাণী প্রেরণ করিবেন বলিয়া আল্লাহ বহু যুগ পূর্ব হইতেই প্রতিশ্র“তি দিয়া আসিতেছিলেন, সেই বাণী আজ অবতীর্ণ হইল। যে বাণীর আরম্ভই হইল : এক সময় তিনি স্পষ্ট শুনিতে পাইতেন, কে যেন তাঁহাকে হাতছানি দিয়া ডাকিয়া কহিতেছে, “মুহাম্মদ তুমি আল্লাহর রাসূল।” পাহাড়-পর্বত, তরুলতা সকলেই যেন তাহাকে চিনে, সকলেই যেন তাঁহাকে তাজিম করে। মুহাম্মদ কিছুই স্পষ্টরূপে বুঝিতে পারেন না, কেবলি ইহাদের কথা ভাবেন। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে মুহাম্মদ আর ঘরে থাকিতে পারিলেন না। আপন অন্তরের প্রদীপ্ত চেতনায় আপনি অধীর হইয়া ঘরে-বাইরে ছোটাছুটি করিতে লাগিলেন। একটা শঙ্কা, একটা ভীতি, একটা উদ্বেগ, সঙ্গে সঙ্গে অজানাকে জানিবার জন্য একটা দুর্জয় কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা তাঁহাকে একেবারে অভিভূত করিয়া ফেলিল। এই সময় হইতে তিনি মানসনেত্রে এক অপূর্ব জ্যোতি দর্শন করিতে লগিলেন। কোন্ সুদূর হইতে যেন এক সুললিত সুর-তরঙ্গ ভাসিয়া আসিয়া তাঁহার কর্ণকুহরে প্রবেশ করিতে লাগিল। সংসারের কর্ম-কোলাহলে পাছে তাঁহার এই আধ্যাত্মিক চেতনা ব্যর্থ হইয়া যায়, সমাজ-জীবনের পঙ্কিলতার মধ্যে পাছে সেই পবিত্র জ্যোতির গতি¯্রােত রুদ্ধ হইয়া যায়, এই আশঙ্কায় তিনি মক্কার অনতিদূরে ‘হেরা’ নামক এক নিভৃত পর্বত-গুহায় আশ্রয় লইলেন। রমজান মাস। মুহাম্মদ রোজা রাখিয়া নিশিদিন ইবাদত-বন্দেগি করেন। হেরার নিভৃত প্রকোষ্ঠে সারারাত্র জাগিয়া কাটান। রজনী গভীর। মুহাম্মদ ধ্যানমগ্ন। এমন সময় হঠাৎ তিনি শুনিতে পাইলেন কে যেন তাঁহাকে ডাকিতেছে : “মুহাম্মদ!” মুহাম্মদ নয়ন মেলিয়া দেখিলেন, এক জ্যোতির্ময় ফেরেশ্তা তাঁহার সম্মুখে দন্ডায়মান। তাঁহারই জ্যোতিতে গুহা আলোকিত হইয়া গিয়াছে। ইনিই আল্লাহর বাণীবাহক ফেরেশ্তা ‘জিবরাইল’। মুহাম্মদ  তখন স্তম্ভিত। বাহিরের জ্ঞান তাঁহার লোপ পাইয়াছে, এক মহামূর্তের তিনি সম্মুখীন হইয়াছেন। সহসা নূরের আখরে লেখা এক জ্যোতির্ময়ী বাণী মুহাম্মদের নয়নকোণে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল। জিবরাইল মুহাম্মদকে বলিলেন : “পাঠ কর”। মুহাম্মদ কম্পিতকণ্ঠে উত্তর দিলেন : “আমি পড়তে জানি না”। জিবরাইল যখন মুহাম্মদকে দৃঢ়ভাবে আলিঙ্গন করিলেন, মুহাম্মদের মনে হইল তাঁহার সমস্ত অস্তিত্ব আলোকময় হইয়া গেল। ফেরেশতা পুনরায় তাঁহাকে বলিলেন : “পাঠ কর।” মুহাম্মদ এবারও পূর্ববৎ উত্তর দিলেন : “আমি পড়তে পারি না”। জিবরাইল তখন আবার তাঁহাকে আলিঙ্গন করিলেন। এইরূপ তিনবার করিবার পর মুহাম্মদের মুখ হইতে নিঃসরিত হইল : “ইকরা বিস্মি রাব্বিকাল লাজি খালাক”।
“পাঠ কর তোমার সেই প্রভুর নামে-যিনি সমস্ত সৃষ্টি করিয়াছেন-যিনি এক বিন্দু রক্ত হইতে মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন, পাঠ কর- তোমার সেই মহিমাময় প্রভুর নামে, যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিক্ষা দিয়াছেন,
যিনি মানুষকে অনুগ্রহ করিয়া অজ্ঞাতপূর্ব জ্ঞান দান করিয়াছেন।” পাঠ কর অর্থাৎ জ্ঞান লাভ কর।  সমগ্র কুরআনের সর্বপ্রথম বিষয়বস্তুই হইল জ্ঞান। (গোলাম মোস্তফা : ২০০:৭৯)
দার্শনিক শিক্ষাবিদ প্রফেসর সাইদুর রহমান তাঁর ‘অহ An Introduction to Islamic Culture and Philosophy’’ গ্রন্থে ইসলাম ধর্মে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়ার দৃষ্টান্ত দেখাতে গিয়ে বলেছেন, Though himself unlettered (ummi) Muhammad (SM) was the first to realise the necessity of literacy.’

অধ্যাপক রেমন্টের মতে, ÔEducation means the process of development in which consists the passage of the human body from infancy to maturity, the process whereby he gradually adapts himself in various ways to the physical, social and spiritual environment’ (Raymont : 1963 : 17) শিক্ষা সম্পর্কে ঋগবেদে বলা হয়েছে যে, শিক্ষা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং আত্ম-অভ্যাস ব্রতে উদ্বুদ্ধ করে। উপনিষদে বলা হয়েছে যে, শিক্ষা হলো এমনই একটি প্রক্রিয়া যার চূড়ান্ত অর্থ ‘মানুষের মুক্তি’। চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের শিক্ষাতত্ত্বের মূল কথা হলো শিক্ষা নানাগুণে গুণান্বিত উন্নত চরিত্রের ‘ভদ্রলোক’ তৈরি করবে, ‘যে’ হীনতা জয় করে সত্য অনুসন্ধানে নিয়োজিত থাকবে। (খাতুন : ১৯৯৯ : ১৪) সক্রেটিস ও পেটোর শিক্ষাদর্শনেও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
জাতিসংঘও শিক্ষার ধারণায় মানুষের জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছে। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো শিক্ষাকে মানুষের সর্বজনীন গুণাবলির বিকাশ ও মানব উন্নয়নের উপায় হিসেবে গণ্য করে বলেছে, ÔEducation is the means for bringing about desired changes in behaviours, values and life style, and for promoting public support for the continuing and fundamental changes that will be required if humanity is to alter its course… Education, in short is humanity’s best hope and most effective means to the quest to achieve sustainable human development’(উদ্ধৃতি : লতিফ : ২০০৫:৮-৯) সাথে সাথে ইউনেস্কো জীবনযাপনের সকল কর্মকান্ডের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান দক্ষতা ও উপলব্ধি অর্জনের নির্দেশনা হিসেবেও শিক্ষাকে গণ্য করেছে। এ প্রেক্ষিতে ইউনেস্কোর ভাষ্য হচ্ছে, ÔEducation is Organized and sustained instruction designed to communicate a combination of Knowledge, skills and understanding valuable for all the activities of life.’ (UNESCO : 2002)
জোহান হেনরিকের মতে ‘শিক্ষা হচ্ছে মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিসমূহের স্বাভাবিক, সুষম ও প্রগতিশীল বিকাশ।’  (Education is natural, Harmonious and progressive development of man’s innate power)- পেস্তালৎসি। জন ফেডারিক হারবার্ট বলেন, ‘শিক্ষা হচ্ছে মানুষের নৈতিক চরিত্রের বিকাশ সাধন’ (Education is the development of moral character) পার্সি নানের ভাষায় : ‘শিক্ষা বলতে শিশুর ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশকে বোঝায় যার সাহায্যে সে নিজের সর্বোত্তম ক্ষমতা অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে স্বকীয় অবদান রাখতে পারে।’  (Education is the complete development of the individuality of child, so that he can make original contribution to human life according to the best of capacity).
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যেন এখন তার আসল লক্ষ্য হারাতে চলছে। শিক্ষার অন্তর্নিহিত ভাব এখন অন্তঃসারশূন্য। তাই বিখ্যাত মনীষী Sir Stanely Hull Gi g‡Z, ‘If you teach your children three R’s : Reading, Writing and Arithmetic and leave the fourth ‘R’:Religion, then you will get a fifth ‘R’: Rascality. অর্থাৎ ‘যদি আপনি আপনার শিশুকে শুধু তিনটি ‘জ’ (Reading, Writing, Arithmetic) তথা পঠন, লিখন ও গণিতই শেখান কিন্তু চতুর্থ ‘‘R’ (Rascality) তথা ধর্ম না শেখান তাহলে এর মাধ্যমে আপনি একটি পঞ্চম ‘R’ (Religion)  তথা নিরেট অপদার্থই পাবেন। এ ব্যাপারে বার্ট্রান্ড রাসেলের একটি উক্তি উলেখযোগ্য: ‘তথ্য ও তত্ত্বভিত্তিক জ্ঞান (Informative knowledge) যদি বৃদ্ধি পায়, কিন্তু নৈতিক মানভিত্তিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা (Wisdom)  যদি সে অনুপাতে বৃদ্ধি না পায় তাহলে সে জ্ঞান শুধু দুঃখকে বাড়িয়ে দেয়।’ আজ শিক্ষার যত বাড়ছে জাতির অবক্ষয় তত বৃদ্ধি পাচ্ছে!
আলবার্ট সিজার তার  Teaching of Reference of or Life গ্রন্থে শিক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা রাখতে গিয়ে বলেছেন, “ÒThree kinds of progress are significant. These are progress in knowledge and technology, progress in socialization of man and progress in spirituality. The last one is the most important..” তার ভাষায় ‘আধ্যাত্মিকতার বিকাশই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদেরকে আত্মার বিকাশ, আধ্যাত্মিকতার উন্নতি সাধন, মানসিক পরিশুদ্ধতা অর্জনে ব্রত হতে হবে। ধর্মীয় সেই নৈতিক শিক্ষা মানুষকে মনুষ্যত্ব দান করে, মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, চরম সভ্যতায় উন্নীত করে, পরম আলোকে পৌঁছে দেয়, কল্যাণ দান করে ইহকালীন ও পরকালীন।
আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক পেটো, অ্যারিস্টটল তাদের দর্শনচিন্তায়ও সত্যিকারের সৎ ও নিষ্ঠাবান নাগরিক তৈরি করতে নৈতিকতার প্রয়োজন বলেছেন।
জাতীয় জীবনে আমরা আজ অগ্নিগিরির পাশে দন্ডায়মান। সমাজকে এ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মানুষ তার চিন্তাপ্রসূত জ্ঞানের মাধ্যমে পৃথিবীর আদি থেকে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যুগে যুগে মনীষীরা নানা পথ-মতের সন্ধানে ব্যাপৃত হয়েছেন। করেছেন জীবন উৎসর্গ, সংগ্রাম আরও কত কী! সমাজবিজ্ঞানীরা সমাজের নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে সমাধানের সূত্র অনুসন্ধান করেছেন।
দার্শনিকরা নানা মত-দর্শনে ভেতর এর অর্থ খুঁজে ডুবুরির মত ভূমিকা পালন করছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণে ও বাস্তবায়নের অসঙ্গতিকে দোষারোপ করছেন। সমাজবিজ্ঞানীরা আবার বলছেন সমাজের নানা ত্রুটির কারণেই অশান্তি মূল কারণ। আইনবিদরা এর সমাধানে  নতুন নতুন আইন করেই চলেছেন। রাজনীতিবিদ সোজাই বলে দেন ক্ষমতার পালাবদলে পূর্ববর্তীরাই সর্বনাশের মূল। কিন্তু এভাবে আমরা কি আসলেই পারব পরিবর্তন ঘটাতে?।
অনুরূপভাবে ধর্ম প্রবর্তকগণও নিজ নিজ ধর্মমতের ভেতর এর সমাধান খুঁজছেন। বিজ্ঞানীরা কিন্তু নতুন ধাঁধালো আবিষ্কার আর তত্ত্ব  মানুষের হাতে তুলে দিয়ে বলছেন- এই নাও শান্তির পায়রা। শতাব্দীকাল পর শতাব্দী সে শান্তির সোনার হরিণ আজও ধরা দেয়নি! তাই আজ জানা প্রয়োজন আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের কাঠামো ও এর পরিধি। জানতে হবে আমাদের জাতিসত্তাকেও। বুঝতে হবে আমাদের মূল্যবোধকে।
আমাদের অবস্থা আজ কপালপোড়া বাড়িওয়ালার মত, যার ঘরে আগুন লেগেছে। প্রতিবেশীরা প্রত্যেকেই আগুন নিভাতে এগিয়ে এসেছে। কারো হাতে খড়কুটো, কেউ বা কাঁথা কম্বল, কেউবা তেলভর্তি টিন এনে ঢালছে। বড়ই মহৎ উদ্দেশ্য, আগুন নিভাতে হবে! বাঁচাতে হবে প্রতিবেশীকে। রক্ষা করতে হবে ঘরবাড়ি এবং মানবপ্রাণ। কিন্তু না বরং যে ঘর কিছু সময় নিয়ে জ্বলাবার কথা তা দ্রুততম সময়েই পুড়ে ছাই হলো। এ অভাব আন্তরিকতার নয়, বরং কিসের মাধ্যমে আগুন নিভাবে সেই জ্ঞানের অভাব।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আসল গলদ নির্ধারণ না করে আমরা যদি এগোতে থাকি তাহলে পাশের সংখ্যা বাড়বে, কিন্তু শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যটি হাসিল হবে না। এই শিক্ষাব্যবস্থা জাতিকে আর ভালো কি উপহার দিতে পারবে বলুন? লেবু গাছে আম প্রত্যাশা করে যেমন লাভ নেই আমাদের অবস্থাও আজ তাঁর ব্যতিক্রম হবে কি?
এ  জন্যই আল্লাহ তা’য়ালা জ্ঞান অর্জনকে ফরজ করেছেন। সকল জ্ঞান নয়; সেই জ্ঞান যার মাধ্যমে মানুষ সত্যের কল্যাণ এবং সুন্দরের সন্ধান পেতে পারে।
Religion is another source of moral values. Most religions have built-in lists of do’s and don’ts, a set of codes by which its adherents should live. Individuals who are followers of a particular religion will generally make a show of following that religion’s behavioral code. It is interesting to note that these codes may widely vary; a person whose religion provides for polygamy will experience no guilt at having more than one spouse while adherents to other religions feel they must remain monogamous.
সক্রেটিসও তার শিষ্যকে সেই উপদেশটি দিয়েছিলেন, ‘‘কহড়ি ঞযুংবষভ’’ অর্থাৎ নিজেকে জান। সক্রেটিসের বাণী নিয়ে আমরা গর্বিত। অথচ আমরা ইসলামের সেই কথাটি যদি জানতাম যে রাসূল (সা) বলেছেন : ‘‘মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু’’- তুমি যদি আলাহকে চিনতে চাও তাহলে নিজকে জানো। ইসলামের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ অনেক গৌবরগাথা। কিন্তু আমরা তা জানি না বলেই ধার করা কথা বলতেই অনেকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এটি  আজ আমাদের একটি মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। আমরা যদি তা জানতাম তাহলে আমার আদর্শের প্রতি হয়ত শ্রদ্ধাবোধ অন্যদেরও আরো বৃদ্ধি পেত।
মুসলমানদের নিকট কি মূল্যবান জিনিস আছে তা না জানার কারণেই আমরা আজ অন্যের দারস্থ। এই জাতির অবস্থা হচ্ছে সেই গাধার মতো যে, কেতাব বহন করে চলছে কিন্তু তার জানা নেই তার মাথায় কত মূল্যবান সম্পদ আছে। অথচ আমাদের সমস্যা সমাধানে মানবতার ধর্ম আল-ইসলাম আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে মূল্যবোধের অবক্ষয়জনিত মানবতাবিধ্বংসী সমস্যার একটি চিরন্তন সমাধান দিয়েছে।
(চলবে)

SHARE

Leave a Reply