মেরাজ : উদ্দেশ্য ও শিক্ষা

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী

মক্কাবাসীর ব্যাপারে হতাশ হয়ে নবুওয়াতের দশম বছরে রাসূলুল্লাহ (সা) তায়েফে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল তাদের কাছে দীনের দাওয়াত পৌঁছানো এবং মক্কার কোরাইশদের মোকাবিলায় সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া। তায়েফবাসী ও অত্যন্ত নির্ধয় ও নিষ্ঠুরভাবে প্রত্যাখ্যান করলে তার দাওয়াত  ও নবুওয়াতকে। শুধু প্রত্যাখ্যানই  করল না॥ তার ওপরে এমন অমানুষক ও  পৈশাচিক  জুলুম নির্যতান চালান যা নজীরবিহীন। নবী মুহাম্মদ (সা) অবশেষে তায়েফবাসী থেকেও হতাশ হয়ে ফিরে এলেন নিজের জন্মভূমিতে। মক্কার কোরাইশ নেতৃবৃন্দ এটা জেনে আরো বেপরোয়া হয়ে রাসূলের (সা) বিরোধিতা করল যে, মুহাম্মদ (সা) তায়েফে গিয়ে শুধু প্রত্যাখ্যানতই হয়নি, তিনি সেখানে নজীরবিহীন নির্যাতানের শিকার হয়েছেন। নবী মুহাম্মদ (সা) মুতয়েম বিন আদির আশ্রয়ে ও নিরাপত্তায় থাকার কারণে কিছুটা নিরাপদ বসবাসের সুযোগ পেলে ও আবু জাহেল, আবু লাহাব ও তার অনুচরদের বিরোধিতা থেমে যায়নি। নবুওয়াতের দশম বছরের শেষে সময়কাল থেকে হিজরতের পূর্ব পর্যন্ত তিনটি বছর চির নবী মুহাম্মদ (সা) ও তার সাথীদের (রা) জন্যে ঈমানের অগ্নি পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে।
জাগতিক বা বস্তগত দৃষ্টিকোণ থেকে রাসূলের (সা) এই আন্দোলনের সাফল্যে নূন্যতম কোন সম্ভাবনা ও ছিল কল্পনার বাইরে। এমতাবস্তায় নবী মুহাম্মদ (সা) নতুন আঙ্গিকে দাওয়াতের সূচনা করলেন হজ্জ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন মেলাকে কেন্দ্র করে। হজ্জের মৌসুমে এটা শুরু করলেও এ ধারা চালু  রাখতেন বছর ব্যাপী। এর মাধ্যমে আরবের প্রসিদ্ধ ও প্রভাবশালী গোত্রসমূহের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের কাছে তার নবুওয়াতের পরিচিত তুলে ধরেন, তাদেরকে আল্লাহ দীন কবুলের দাওয়াত পেশ করেন এবং এই কাজ করার জন্যে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তাদের কওমের কাছে রাসূলে (সা) কে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেন। দাওয়াতের এই ধারাবাহিক কার্যক্রম চলতে থাকে হিজরতের চূড়ান্ত নির্দেশ আসার পূর্ব পর্যন্ত। আল্লাহর রাসূলে এই আহ্বানে আরবের বিভিন্ন গোত্র থেকে তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া না গেলেও রাসূলে (সা) রেসালাতের খবর ছড়িয়ে পড়ে পায় সর্বত্রই। প্রায় সব গোত্রের মধ্য থেকে কম বেশি দুই চারজন লোক ইসলাম কবুল করে এবং মুহাম্মদ (সা) এর অনুসারীদের মধ্যে শামিল হয়। মক্কা নগরীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যখ লোক নবী মুহাম্মদ (সা) এর ডাকে সাড়া দিয়ে ঈমানের দাবি  পূরণে চরম ঝুকি নিতে ছিল সাদা প্রস্তুত ইতোমধ্যে মদিনার আওস, খারাজ গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরও অনেকেই ঈমানের আলোকে আলোকিত হয় রাসূলে (সা) হজ্জ্ব মৌসুমে পরিচালিত দাওয়াতী অভিযানের ফলে।্
হিজরাত পর্যন্ত রাসূলের (সা) এই নতুন প্রেক্ষাপটের দাওয়াতী তৎপরতার উপর বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব না হলেও আমরা মোটামুটিভাবে বিষয়টি উপলব্ধির চেষ্টও করব। তার আগে আমরা আলোচনা করতে চাই মুহাম্মদ (সা) এর নবুওয়াতী জিন্দেগীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে পরিচিত মি’রাজ সম্পর্কে। নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয় এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি। মেরাজের এই ঐতিহাসিক ঘটনাটিকে আগের ও পরের দুটো  অবস্থাকে সমানে রেখ বোঝার চেষ্টা করলেই এর গুঢ় রহস্য ও তাৎপর্য সহজেই অনুধাবন ও উপলব্ধি করা যেতে পারে।
মেরাজের আগের অবস্থা আমাদের এ পর্যন্তকার আলোচনা থেকে পরিস্কার। রাসুল (সা) মক্কাবাসী থেকে সাড়া তো পানইনি। ররং পেয়েছেন কঠোর বিরোধিতা ও বাধা প্রতিবন্ধকতা। এখান থেকে তায়েফে গিয়েও মুখোমুখি হলেন একই অবস্থার। মক্কায় ফিরে এসে হজ্জ উপলক্ষ্যে আগত বিভিন্ন গোত্রের কাছ থেকেও তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া পেলেন না। এই অবস্থা নিঃসন্দেহে হতাশ নিরাশার কারণ ঘটায় মক্কায় রাসূল (সা) তার সাথী-সঙ্গীদের অবস্থান করা হয়ে ওঠে অসম্ভব ও দুঃসহ ব্যাপার।  তাই রাসূলে (সা) কিছু সাথী-সঙ্গীদের শুরু হয়ে মক্কা ত্যাগের পালা। চিত্রের অপর দিকটি হল, মক্কা থেকে দূরে মদিনায় শুরু হতে থাকে রাসূলে (সা) দাওয়াত কবুলে অনুকূল পরিবেশ। মক্কায় চরম প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার যাঁতাকলে নিষ্পিষ্ট মুষ্টিমেয় ঈমানদার লোকদের মদিনায় হিজরতের মাধ্যমে আল্লাহ দীন নবী মুহাম্মদের (সা) নেতৃত্বে বিজয়ী হওয়াই ছিল কুদরতের ফায়সালা। সেই বিজয়ের আগে যে ঘটনাটি ছিল একান্তই প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য, সেটিই সংঘটিত হল হিজরতের এক বছর আগে, যা মেরাজুন্নবী হিসেবে পরিচিত। শেষ নবী মুহাম্মদ (সা) শুধু নবী নন, নবীদের ও নেতা সাইয়্যদুল মুরসালীন। তাই তার রেসালাতের বিশেষ মর্যাদা আল্লাহ প্রদত্ত সনদ প্রাপ্তির এটাই ছিল তার প্রতি মহান আল্লাহ বিশেষ উপহার। মেরাজুন্নবীর ওপর আমরা কোনো গবেষণাধর্মী আলোচনয় যাব না। নবী মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ (সা) প্রদর্শিত থেকে আল্লাহর দীন কায়েমের আন্দোলনের একজন মাঠকর্মী হিসেবে এ থেকে যে শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য, সেটাকে মাথায় রেখেই আমরা  মেরাজের আলোচনার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।
মুহাম্মদ (সা) সর্বশেষ নবী হওয়ার কারণে তাঁর মাধ্যমে দীনের পরিপূর্ণতা বিধান ছিল আল্লাহ তায়ালার মহাপরিকল্পনা। দীনের শুধু প্রচার নয়, দীনকে বিজয়ী করা, কিয়ামত পর্যন্ত বিজয়ী করাও ও রাখার ক্ষেত্রে অনুসারনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা, সবটাই ছিল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মহা পরিকল্পনার অংশ বিশেষ। এই দীন যাদের হাতে বিজয়ী হবে যা বা হয়, তাদেরকে আল্লাহ পক্ষ থেকে পালন করতে হয় একটি পবিত্র আমানত সংরক্ষণের কঠিন দায়িত্ব। যার অনিবার্য দাবি হর কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তার কাছে জবাবদিহির অনুভূতি নিয়ে মানবসমাজে ন্যায় ইনসাফ, শান্তি কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এতবড় দায়িত্ব আনজাম দেওয়া কেবলমাত্র তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা ঈমানের অগ্নিপরীক্ষায় চূড়ান্তরূপে উত্তীর্ণ হয়। হযরত ইব্রাহীমকে (আ) মানবজাতির ইমামের মর্যাদ প্রদানের আগে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাকে কঠিন তম পরীক্ষায় ফেলেছেন, আর ইব্রাহীম (আ) প্রতিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন অত্যন্ত সাফল্যে সাথে। এর পরই আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, ‘আমি তোমাকে মানবজাতির জন্যে ইমাম বানিয়েছি।
ঈমানের অগ্নিপরীক্ষার এই স্তরে, এই পর্যায়ে বস্তুজগতের কোনো কিছুর ওরপরই দায়ীর কোনো আশা ভরসা র সুযোগ তাকে না। সুযোগ থাকে না এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো ওপর ভরসা করার, আস্থা রাখার। নবী মুহাম্মদ (সা) তার মক্কার জীবনের এমনি একটি পর্যায় যখন অতিক্রম করছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তেই নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরে নিবশ্বজাহানের মালিক আল্লাহ তাকে নিয়ে যান জড়জগতের সীমা ছাড়িয়ে ঊর্ধালোকে তার কুদরাতে কামেলার কেন্দ্র বিন্দুতে। তৌহিদের নিদর্শনাবলীর তথা আল্লাহর আয়াতসমূহের চাক্ষুষ অবলোকের জন্যে সমস্ত নবী রাসূলে দাওয়াতের মৌলিক বিষয় ছিল তৌহিদ, রেসালাত ও আখেরাতের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের ভিত্তিতে মানুষের চিন্তা ধারায় পরিবর্তন আনা, যার অনিবার্য দাবি মানুষের মনমগজ ও চরিত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজ জীবনকেও প্রভাবিত করে। বিপ্লবী পরিবর্তন সাধনে সক্ষম হয় ভোগবাদী জড়বাদী সভ্যতা ও জীবন ধারায়।
তৌহিদ, রেসালাত ও আখেরাতের মত এই তিনটি মৌলিক বিষয়ের মূল ভিত্তি হল আল্লাহ তৌহিদ মেনে নেওয়া। তৌহিদের সঠিক পরিচয়ের জন্যেই রেসালাতের ব্যবস্থা। তৌহিদের পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটে আখেরাতে চূড়ান্ত বিচারের মাধ্যমে। অতএব এই তিনটি মৌলিক বিষয়ের মুল তৌহিদই। এই তৌহিদের ব্যাপারে সম্যক উপলব্ধির জন্যেই আল্লাহ তায়ালা গোটা সৃষ্টি লোকের রহস্য নিয়ে চিন্তাভাবনার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সৃষ্টিলোকের ওপর যে নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র তাঁরই প্রতিষ্ঠিত এর চাক্ষুষ ও বাস্তব ধারণা লাভের সুযোগ করে দেন আল্লাহ সুবনাহু ওয়া তায়ালা তার প্রিয় নবীকে মেরাজের মাধ্যমে ঊর্ধলোকের সফরে ব্যবস্থা করে।
গোটা বিশ্বলোকের সকল কিছুর ওপর নিরংকুশ কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত এক আল্লাহর । তার এই ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার কেউ নেই। অতএব তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই দীনের বিজয় ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। এই আস্থা, এই বিশ্বাস মজবুত ও সুদৃঢ় করাই মেরাজের মূল লক্ষ্য। সেই সাথে রেসালাতের সেলসেলার শেষ হচ্ছে সর্বশেষ নবীর মাধ্যমে, অতএব এই পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা সাক্ষাতের ও ব্যবস্থ্া করেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই সফরের কর্মসূচির মাধ্যমে। মুহাম্মদ (সা) শেষ নবী এবং নবীদের নেতা এটা প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে বায়তুল মাকদাসে বা মসজিদে অকাসায় তার ইমামতিতে সমস্ত নবীদের নামাজেরও আয়োজন করা হয় এ সফরে। বেহেশত দোজখের দৃশ্য দেখানো হয় প্রতীকিভাবে আখিরাত বিশ্বাসের যতার্থতা প্রমাণের ও একিন সৃস্টির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে। মে’রাজের মূল ঘটনা মোটামুটি সকলের জানা বিষয়। নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরের একটি শুভ মুহূর্তে  আল্লাহর রাসূলকে গভীর রাতে তার বাস ভবন থেকে নিয়ে যাওয়া হয় মসজিদুল হারামে। জিব্রাইল আমীন (রা) নিয়োজিত ছিলেন এ সপরের যাবতীয় ব্যবস্থাপনায়। মসজিদের হারাম থেকে বোরাক নামক যানবাহনে করে নবী মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে যাওয়া হয় মসজিদে আকাসায়। সেখানে তার ইমামতিতে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করা হল, তিনি সর্বশেষ নবী এবং সকল নবীদের নেতা। এরপর এখান থেকে একটি কুদরতি সিঁড়ি বেয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জড় জগতের সীমা পেড়িয়ে ঊর্ধ্বলোকে তিনি পৌঁছে যান আল্লাহর কারখানায়ে কুদরাতের নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দুতে। সেখানে পৌঁছে তিনি প্রত্যক্ষভাবে মুশাহাদা (অবলোকন) করেন আল্লাহর নিরংকুশ ক্ষমতা প্রতিপত্তির যাবতীয় নিদর্শন পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে । ধন্য হন মহান মালিকের একান্ত সান্নিধ্যে। প্রাপ্ত হন রাব্বুল আ’লামীনের পক্ষ থেকে রহমাতুল্লিল আলামীন হিসেবে দায়িত্ব পালনের বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা।
মেরাজের এই সফরে হযরত আদম (আ) থেকে নিয়ে হযরত মুসা (আ) পর্যন্ত বিভিন্ন নবী রাসূলের সাথে সাক্ষাতের পর এখানে মানুষের দুনিয়ার জীবনের কৃতকর্মের ফলকে- কিভাবে ভোগ করছে (ভবিষ্যতে করবে) প্রতীকিভাবে তা দেখানো হয়। রাসূল (সা) দেখতে পেলেন হযরত আদমকে ঘিরে আছে অনেক লোক। তিনি ডানে তাকালে হাসছেন আর বামে তাকালে কাঁদছেন। রাসূল (সা) এ সম্পর্কে জানতে চাইলে, বলা হল এরা সবাই আদমের বংশধর। আদম (আ) তার নেক বংশধরদের দেখলে হাসতেন আর অসৎ বংশদরদের দেখলে কাঁদতেন। এরপর নবী (সা) কে বিস্তারিত দেখার জন্যে সুযেগা করে  দেওয়া হয়। এক স্থানে তিনি দেখলেন কিছু লোক ফসল কাটছে, যত কাটছে ততই বাড়ছে। এরা কারা? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা হয় এরা আল্লাহর  পথে জিহাদকারী। এরপর দেখলেন কিছু লোকের মাথা পাথর মেরে চূর্ণ করা হচ্ছে। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হল এরা ঐসব লোক যাদের অনিহা ও অসন্তোষ তাদেরকে নামাজের জন্যে উঠতে দিত না। এরপর তিনি এমন কিছু লোক দেখতে পেলেন যাদের কাপড়ের আগে পিছে তালি দেওয়া । আর তারা পশুর মত ঘাস খাচ্ছে। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হল, এরা তাদের মালের জাকাত আদায় করত না, দান খয়রাতও করত না।
এরপর তিনি এমন একজন লোক দেখলেন যে ব্যক্তি কাঠ জমা করে বোঝা হিসাবে উঠাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও আরো বেশি কাঠ তার বোঝার সাথে যোগ করছে। এই লোকটির পরিচয় জানতে চেয়ে উত্তর পেলেন, এ ব্যক্তিটির ওপরে এতবেশি দায়িত্বের বোঝা ছিল যে, সে বহন করতে পারতো না। তা সত্ত্বেও বোঝা কামানোর পরিবর্তে আরো অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা নিজের কাঁধে চাপিয়ে নিত।
এর পরের দৃশ্যে তিনি দেখলেন, কিছু  লোকের ঠোট ও জিহ্বা কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে।  এদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলা হল, এরা ছিল কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তা। মুখে যা আসে তাই বলতো এই সমাজে ফেৎনা সৃষ্টি করতো তারপর একস্তানে একটি পাথর দেখা গেল, যার মধ্যে ছিল সামান্য ফাটল। তার মধ্য থেকে একটা মোটাসোটা বলদ বেরিয়ে এলো। পরে এর মধ্যে ঢুকতে চেয়ে পারল না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলো বলা হল, এটা হল এমন দায়িত্বহীন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত যে ফেৎনা সৃষ্টি করার মত উক্তি করে লজ্জিত হয়ে প্রতিকার করতে চায়, কিন্তু পারে না।
এক স্থানে রাসূল (সা) দেখলেন, কিছু লোক তাদের নিজেদের গোশত কেটেকেটে খাচ্ছে। তাদের পরিচয় বলা হল, এর অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ ও কটূক্তি করতো। তাদের পাশেই এমন কিছু লোক ছিল, যাদের হাতে নক ছিল তামার তৈরি। তাই দিয় তরা তাদের মুখ ও বুক আঁচড়াচ্ছিল। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হল, এরা মানুষের অসাক্ষাতে তাদের নিন্দা চর্চা করতো। তাদের সম্মানে আঘাত করতো। কিছু লোকের ঠোট দেখা গেল উঠের ঠোঁটের মত এবং তারা আগুন খাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে বলা হল, এরা ইয়াতিমের মাল সম্পদ ভক্ষন করতো।
এরপর রাসূল (সা) এমন কিছু লোক দেখতে পেলেন, যাদের পেট ছিল অসম্ভব বড়ো এবং বিষাক্ত সাপে পরিপূর্ণ । লোকজন তাদেরকে দলিত মথিত করে তাদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে। কিন্তু তারা কিছু করতে পারছে না। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হল এরা ছিল সুদখোর।
এরপর আল্লাহর নবী এমন কিছু লোক দেখলেন, যাদের একদিকে রাখা ছিল ভাল গোশত। অপর দিকে রাখাছিল পচা দুর্গন্ধযুক্ত গোশত। তারা ভালগোশত রেখ পচা গোশত খাচ্ছিল। বলা হল, এরা ছিল এমন লোক যারা নিজেদের হালাল স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে যৌন বাসনা চরিতার্থ করতো। সেই সাথে এমন কিছু স্ত্রী লোক দেখলেন যারা তাদের স্তনের সাহায্যে লটকে ছিল। তাদের সম্পর্কে বলা হল য এরা ছিল এমন স্ত্রী লোক, যারা সা তাদেরস্বামীর ঔরসজাত নয় এমন সন্তানকেও নয় এমন সন্তানকে ও স্বমীর ঔরসজাত হিসেবে দাবি করতো।
এই সব দৃশ্যাবলী পর্যবেক্ষণকালে নবী (সা) এর সাক্ষাৎ  হয় এমন এক ফেরেশতার সাথে যাকে রুক্ষ এবং কাটখোট্টা মেজাজের মনে হচ্ছিল। নবী (সা) জিব্রাইলকে (আ) জিজ্ঞেস করলেন এতক্ষণ যত ফেরেশতার সাথে দেখা হল, সবাইকে তো খোশ মেজাজে দেখলাম। ইনি এমন কেন? জিব্রাইল (আ) বললেন এর হাসি-খুশির কোনো কারবার নেই। এ যে জাহান্নামের দারোগা। একথা শুনে আল্লাহর রাসূল (সা) জাহান্নাম দেখতে চাইলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার দৃষ্টির পথ থেকে পর্দা উঠিয়ে দেওয়া হল এবং দোজখ তার ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হল।
এরপর আল্লাহর রাসূল (সা) এক এক করে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আসমান পর্যন্ত ভ্রমণ শেষ করে  এখানে পর্যায়ক্রমে হযরত ইয়াহইয়া, হযরত ঈসা (আ) হযরত ইউসুফ (আ) হযরত ইদ্রিস (আ), হযরত হারুন (আ) হযরত মুসা (আ) ও হযরত ইব্রাহীম (আ) এর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান। সাক্ষাৎপান বিরাট প্রাসাদ বায়তুল মামুরের। সেখানে সকল ফেরেশতাদের যাতায়াত চলছিল।
এরপর রাসূল (সা) এর যাত্রা শুরু হয় আরো অতিরিক্ত ঊর্ধ্বলোকে। তিনি পৌঁছে যান সিদরাতুল মুনতাহায়। এটি হচ্ছে মহান রাব্বুল  ইজ্জাতের দরবার ও জড়জগতের মধ্যবর্তী একটি স্থান। যাকে আমরা ঊধ্বলোক ও জড়জগতের মাঝে বিভক্তকারী সীমান্ত এলাকা হিসেবে ও চিহ্নিত করতে পারি। এখানে সকল সৃষ্টির জ্ঞান শেষ হয়ে যায়। এরপর যা কিছু আছে তা সবই অদৃশ্য। যার জ্ঞান না কোনো নবীর আছে না কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতার। অবশ্যই আল্লাহ যদি তার নিকট থেকে কাউকে বিশেষ কিছু জ্ঞান দিতে চান। সেটা ভিন্ন কথা, একান্তই ব্যতিক্রম। এই ব্যতিক্রম মর্যাদাই পেলেন শেষ নবী মুহাম্মদ (সা)। এই স্থান থেকে রাসূলকে (সা) বেহেশত পর্যবেক্ষণ করানো হয়। তিনি দেখতে পান এখানে আল্লাহর নেক বান্দাদের জন্যে রয়েছে এমন সব নেয়ামতের ব্যবস্থা যা কোনো দিন মানুষের কোনো চোখ দেখেনি, কান শুনেনি কোনো মানুষের মত তা কল্পনাও করতে পারেনি।
সিদরাতুল মুনতাহায় জিব্রাইল (আ) থেকে যান। এরপর নবী (সা) একটু সামনে অগ্রসর হন, অত:পর এক সুউচ্চ অথচ অনুকূল সমতল স্থানে রাসূল (সা) দেখতে পান মহামহিম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা দরবার তাঁর সামনে। এখানে তাঁকে দান করা হয় কথোপকথনের মর্যাদা। এই মুহূর্তে যা কিছু নির্দেশনা পান তা ছিল নিম্নরূপ :
১। প্রতিদিনের জন্যে ফরজ নামাজ
২। সুরায়ে বাকরার শেষ দু আয়াতের শিক্ষা
৩। শিরক ব্যতীত সব  গোনাহ মাফের আশ্বাস
৪। যে ব্যক্তি একটি নেক কাজের ইচ্ছা ব্যক্ত করে তার জন্যে একটি নেকি লেখা হয়। আর যখন এর ওপর আমল করে তখন দশটি নেকি লেখা হয়। কিন্তু যে অসৎ কাজের ইচ্ছা করে তার বিরুদ্ধে কিছু লেখা হয়নি। তবে যখন সে এর ওপর আমল করে তখন তার আমলনামায় মাত্র একটি গোনাহ লেখা হয়।
ফেরার পথে রাসূল (সা) সেই সিঁড়ি বেয়ে মসজিদে আকসায় অবতরণ করেন। এখানে পুনরায় সব নবীদের উপস্থিতিতে নামাজে শরীক হন এবং ইমামতি করেন। সম্ভবত: এটা ছিল ফজরের নামাজ। অত:পর বোরাকে আরোহন করে ফিরে আসেন মক্কায়।
মেরাজের সফর থেকে ফিরে আসার পর ভোরে সবার আগে রাসূল (সা) এ বিষয়ে অবহিত করলেন উম্মে হানীকে (রা)। এরপর নবী মুহাম্মদ (সা) যখন বাইরে রওয়ানা করেন তখন উম্মে হানী (রা) তাকে অনুরোধ করে বললেন, আল্লাহ ওয়াস্তে এ ঘটনাটি কারও কাছে বলবেন না। এতে করে আবার তারা ঠাট্টা বিদ্রƒপ করার একটা হেতু পেয়ে যাবে। আমি এ কথা অবশ্যই বলব বলে রাসূল (সা) বেরিয়ে গেলেন। মসজিদে হারামে পৌঁছেতেই সামনে পরে যায় আবু জাহেল, সে বলে উঠলো, নতুন কোনো খবর আছে কি? হুজুর জবাবে বললেন, হ্যাঁ আছে। আমি আজ রাতে বায়তুল মাকদাস গিয়েছিলাম। আবু জাহেল বিদ্রƒপের স্বরে বলল, বায়তুল মাকদাস? রাতারাতিই ঘুরে এলে? আর সাত সকলেই এখানে হাজির? হুজুর বললেন, হ্যাঁ তাই। আবু জাহেল বলল, তাহলে লোকজন জমা করি! সকলের সামনে বলবে তো? হুজুর বললেন, অবশ্যই।
এরপর আবু জাহেল চিৎকার করে লোকজন জমা করে হুজুরকে বলল এবার তুমি তোমার কথা বল। হুজুর পুরো ঘটা সকলের সামনে তুলে ধরলেন। লোকেরা ঠাট্টা বিদ্রুপ করা শুরু করে দির। কেউ হাত তালি দিল। কেই অবাক বিস্ময়ে মাথায় হাত রাখল, বলল, দুমাসের সফল মাত্র এক রাতে? অসম্ভব, একেবারেই অসম্ভব। আগে কেবল সন্দেহ ছিল, এখন দৃঢ় বিশ্বাস হল তুমি পাগলই বটে। (আবু সাইদ কুদরীর বর্ণনা, মাসনাদে আহমদ, নাসায়ী, বায়হাকী প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে)।
মেরাজের এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মক্কা শহরে। কাফের মুশরিকের ঠাট্টা মশকরার পাশাপাশি কিছু মুসলমানদের মনেও সৃষ্টি হয় দ্বিদাদ্বন্দ্বের। মুসনাদে আহমদ, বুখারী, তিরমিযী, বায়হাকী ও নাসায়ী হাদিস গ্রন্থের বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা মতে কিছু সংখ্যক মুসলমান ইসললাম  থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন ও করে। এ অবস্থায় কাফের মুশরিকদের কেউ কেউ বলে যায় হযরত আবু বকরের (রা) নিকট এই আশায় যে, মুহাম্মদ (সা) অতি ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সাথী যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে এ আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে। হযরত আবু বকর (রা) এ ঘটনা শোনার পর বলেন, যদি মুহাম্মদ (সা) এ কথা বলে থাকেন, তা হলো তা অবশ্যই সত্য হবে। এতে আশ্চর্যের কি আছে? আমি তো প্রতিদিন শুনি তার কাছে আসমান থেকে বার্তা আসে। সে সবের সত্যতাও তো অমি স্বীকার করি।
অতঃপর হযরত আবু বকর (রা) মসজিদুল  হারামে কা’বা বায়তুল্লাহের সন্নিকটে যান, সেখানে আল্লাহর রাসূল (সা) উপস্থিত ছিলেন। ঠাট্টা বিদ্রুপের জনতার ভিড়ও ছিল সেখানে। তিনি হুজুরকে জিজ্ঞেস করেন, সত্যিই কি আপনি এসব বলেছেন? হযরত আবু বকর (রা) আরো বললেন, বায়তুল মাকদাস আমার দেখা আছে আপনি সেখানকার চিত্র বর্ণনা করুন হুজুর তাৎক্ষণিকভাবে বায়তুল মাকদাস তার সামনেই বিদ্যমান, তিনি তা দেখে দেখে বর্ণনা দিচ্ছেন। হযরত আবু বকরের (রা) গৃহীত এই ব্যবস্থায় এবং হুজুরের বাস্তবসম্মত উত্তরে কাফের মুশরিদের এপরিকল্পনাও নস্যাৎ হয়ে যায়। এবং তারা দারুণভাবে হতাশ হয়। উপস্থিত জনতার মধ্যে এমন অনেক লোকই ছিল যাদের ব্যবসা বাণিজ্য উপলক্ষে বায়তুল মাকদাসের আশপাশ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। তারা রাসূলের (সা) বর্ণনাকে সঠিক বলে মনে করে।
এরপর ও আবু জাহেলের গোষ্ঠী খুশি না হয়ে আরো প্রমাণ দাবী করতে থাকে। হুজুর (সা) তার চলার পথে বিভিন্ন বাণিজ্য কাফেলার সাথে দেখা হবার কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে ঐ সব কাফেলা ফিরে এল তাদের কাছ থেকে ঘটনার স্বীকৃতিও পাওয়া যায়। এভাবে প্রতিপক্ষের মুখ বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু এরপরও তাদের অনেকেই ভাবতে তাকে। এমনটি কিভাবে হতে পারে? আজও কার কার মনে এ প্রশ্ন আছে যে, এমনটি কিভাবে হতে পারে। অবশ্য আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তিনি যা চান তাই করতে পারেন, তিনি কুন ফাইয়াকুনের মালিক। এই বিশ্বাস যাদের  আছে, তাদের মনে এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ শংশয় থাকার প্রশ্নই উঠে না।
মে’রাজের  এই ঘটনার পর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় নির্ধারণ পূর্বক হাতে কলমে এ নামাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় জিব্রাইল (আ) এর তত্ত্বাবধানে। যে নামাজের নির্দেশ আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে আসেন নবী মুহাম্মদ (সা) পবিত্র তোহফা এবং আল্লাহ নৈকট্য লাভের কার্যকর উপায় হিসেবে। মেরাজের পটভূমিতেই নাজিল হয় সুরায়ে নবী ইসরাইল। যেখানে মেরাজের উল্লেখের সাথে সাথেই বনী ইসরাইলে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শেষ নবী মুহাম্মদ (সা) দুনিয়াবাসীর প্রতি সাধারণভাবে ঈমানদারদের প্রতি বিশেষভাবে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ এবং অপূর্ব  নেয়ামত। বনী ইসরাইল আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ে ব্যর্থ হবার কারণে অবিশপ্ত হয়েছে। অনুরূপ অবস্থা যেন উম্মতে মুহাম্মাদীর না হয় সে মর্মে এতে রয়েছে সতর্কবাণী। সূরায়ে বণি ইসরাইলেরর বিষয় বস্তুর প্রতি দৃষ্টি দিলে সহজেই বোঝা যায়, এতে কাফের মুশরিকদেরকে বনী ইসরাইল ও অন্যান্য কওমের ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। অন্যথায় তাদের ধ্বংস অনিবার্য, এই মর্মে সতর্কও করা হয়েছে। মেরাজের পরেই অহিরতের পর মদিনায় আল্লাহর রাসূল (সা) মুখোমুখি হতে হবে বনী ইসরাইলের লোকদেরকেও। অতএব তাদের জন্যেও তাদের অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নবী মুহাম্মদ (সা)-এর নবুওয়াতকে শেষ  সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করারও আহ্বান জানানো হয় তাদেরকে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির পরিণতি বেদনায়দায়ক ও ভয়াবহ হতে পারে। মানুষের সৌভাগ্য আর দুর্ভাগ্যের সফলতা ও ব্যর্থতার মূল ভিত্তি সম্পর্কে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী উপদেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে তৌহিদ, আখিরাত, নবুয়াত ও কুরআন যে সত্য তাও তুলে ধরা হয়েছে প্রমাণ্য যুক্তির ভিত্তিতে। এই মৌলিক বিশ্বাসের ব্যাপারে সৃষ্টি সন্দেহ সংশয় দূর করার পাশাপাশি অবিশ্বাসীদের অজ্ঞতার পরিণতি উল্লেখ করেতাদের প্রতি ভয় ভীতিও প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশেষ করে সূরায়ে বনী ইসরাইলে ২৩ নম্বর আয়াত থেকে ৩৯ নম্বর আয়াত পর্যন্ত ইসলামী আখলাক এবং সভ্যতা সংস্কৃতির তথা সমাজ ব্যবস্থার প্রধান প্রধান মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছে। যার উপরে ভিত্তি করে মানুষের সমাজ পরিচালনাকারী ছিল নবী মুহাম্মদ (সা) উপস্থাপিত দাওয়াতের মূল দাবি। উল্লেখিত সমূহের বক্তব্যকে আমরা একটি ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজের ইশতেহার বা মেনিফেষ্টো হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। যেটা পেশ করা হয়েছিল আরবাসীকে সামনে রেখে, যাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই নীলনকশার উপর ভিত্তি করেই মুহাম্মদ (সা) প্রথমে নিজ দেশে অতঃপর গোটা দুনিয়ার মানুষের জীবনের পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করতে চান।
লেখক : আমির,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

SHARE

Leave a Reply