মোশাররফ হোসেন খানের কবিতা -আমি রক্ত-পিচ্ছিল পল্টন থেকে বলছি

হে বাংলাদেশ,
আমি রক্ত-পিচ্ছিল পল্টন থেকে বলছি-
এসো, ঐতিহাসিক পল্টনে এসো,
আমাদের সম্মিলিত মুষ্টিবদ্ধ হাতগুলো
ঊর্ধ্বে তুলে আর একবার প্রমাণ দেই-
এদেশ আমার, এই মাতৃভূমি নিরাপদ জনপদ।

আমি অগ্নিঝরা পল্টন থেকে বলছি-
হে বাংলাদেশ তোমার কি মনে আছে ২০০৬-এর অক্টোবরের কথা
তোমার কি মনে আছে লগি-বৈঠার তাণ্ডবে শহীদের রক্তে ভেজা
২৮শে অক্টোবরের সেই দিনের কথা!
তোমার কি মনে আছে পল্টনের পিচঢালা কালো রাজপথ
শহীদের রক্তে লাল হবার কথা
যে রক্তের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল বুড়িগঙ্গায়!
পল্টন, মতিঝিল, ফকিরেরপুলসহ গোটা ঢাকার রাজপথ ছিল
লগি-বৈঠাধারী হায়েনাদের অভয় অরণ্য!

কোনো হায়েনার হিংস্রতা এখানে আর থাবা মেলতে পারবে না
কোনো লগি-বৈঠার তাণ্ডবে এখানে আর একটি প্রাণও হারাবে না
এখানে আর কখনো রক্ত ঝরবে না।

এ আমার স্বাধীন সার্বভৌম দেশ-
এ আমার শস্য-শ্যামল, কোমল ও কঠিনে গড়ে ওঠা এক শিলাদৃঢ় ভূমি
মাতৃভূমির বুক আর কখনো চৌচির হতে দেব না
ছেড়ে দেব না এখানকার এক ইঞ্চি ভূমি।

হে পল্টন সাক্ষী দাও
হে মতিঝিল সাক্ষী দাও
হে বায়তুল মোকাররমের আকাশ ছোঁয়া মিনার সাক্ষী দাও
হে ডি আইটির সুউচ্চ চূড়ার ঘড়ি সাক্ষী দাও
এ আমাদের পবিত্র ভূমি
এ ভূমির প্রতিটি ইঞ্চি জমিন পবিত্রতায় ভাস্বর।

আমি পল্টন থেকে বলছি-
চেয়ে দেখ, ঐ ছুটে আসছে তিতুমীরের বাহিনী
এখানেই গড়ে উঠবে বাঁশের কেল্লা
চেয়ে দেখ, এ মাটিকে পবিত্র করার জন্য ঘোড়া দাবড়িয়ে ছুটে আসছে
বখতিয়ারের অশ্ববাহিনী
ফকির বিদ্রোহের বীর সেনানীরা
শহীদ বেরলোভীর সাহসী সাথীরা
খান জাহান আলীর অনুসারীরা
এ ভূমিকে আর কেউ অপবিত্র করতে পারবে না।
শত শহীদের রক্তে রঞ্জিত এ ভূমি-
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বুুড়িগঙ্গা, কপোতাক্ষ শহীদের রক্তস্নাত
আর কোনো শহীদের রক্তঝরা অক্টোবর এখানে রচিত হবে না
এখন থেকে লেখা হবে হে পল্টন,
তোমার আর এক নতুন ইতিহাস।

আমরা সাহসে ও সংগ্রামে উজ্জীবিত, দীপ্তিমান
আমাদের মাথার ওপর রয়েছে সুনীল আকাশ
প্রদীপ্ত সূর্য, প্রজ্বলিত চন্দ্র-তারা, গ্রহ-নক্ষত্র
আমাদের মাথার ওপর দিয়ে সাহসের ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে যাচ্ছে
পাখির ˜ঙ্গল।

ভয়কে পেছনে ফেলে ছুটে  চলেছে দেখ শহীদ মালেকের কাফেলা
কোনো তস্করের সাধ্য নেই এই পবিত্র ভূমির দিকে হাত বাড়ায়।
এখন সমস্বরে বলে ওঠো হে পল্টন-

“ রক্ত-পাথারে ভেসেছি কত জীবনের কথা ভাবিনি
এসেছে ঝড়-ঝঞ্ঝা বজ্র বৃষ্টি তবুও আমরা থামিনি।”

না, এ কাফেলা থামতে জানে না কখনো।

SHARE