যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং সরকারের উদ্দেশ্য

কাজী আনাস ইবনে কারীম

অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মানববন্ধন

কোন সমাজে যখন নতুন কোন অন্যায় বা মিথ্যাচারের আগমন ঘটে তখন ঐ জিনিস গ্রহণ করতে মানুষের মাঝে সাধারণত একটা আপত্তিবোধ জেগে ওঠে, এমনকি ঐ বিষয় নিয়ে নানান রকম মতবাদ মানুষের মনে জাগ্রত হয়। কেউবা সহসা প্রতিবাদ করার জন্য এগিয়ে আসে আবার কেউ নিজেই নিজের সাথে এক প্রকার সাঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। কিন্তু তখন সর্বব্যাপী ঐ অন্যায়ের প্রতিবাদে এগিয়ে আসার প্রবণতা অনেকাংশে কম দৃশ্যমান হয়।
আর যখনই সর্বব্যাপী ঐ অন্যায়ের প্রতিবাদের অভাবে মানুষের জন্য প্রায় ধবংসস্বরূপ অন্যায়টি চলমান থাকে তখন একসময় দেখা যায় ঐ কাজকে সমাজ থেকে আলাদা বা দূর করা খুবই দুরূহ কাজ অথবা বলে যে এটা সমাজের জন্য না হলেই নয়, আবার কেউ মনে করে এটাই সঠিক। আবার কোন কোন সময় দেখা যায় কোন সত্যকে গোপন রাখতে রাখতে পরবর্তীতে তা মানুষের নিকট প্রায় অসত্য আকারে রূপ ধারণ করে। আর এই অবস্থার একমাত্র কারণ হলো যে সমাজপতিদের দাসত্ব হিসেবে সমাজে অবস্থান করার কারণে, তাই সমাজপতিরা যখন যা চায় তা আমরা সহসা মেনে নিই কিন্তু বিবেকবোধ দিয়ে চিন্তা করি না।
আমি যে বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাচ্ছি তা হলো যে, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং সরকারের উদ্দেশ্য। বিষয়টি আলোচনা করার আগে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। বলা হয় আমরা দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ। আসলে কি তাই? না কি আমাদের জন্ম স্বভাব দাসত্ব করা! জবাব নিঃসন্দেহে দ্বিতীয়টিই হবে।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু কিভাবে এসেছে তা নিয়ে কোন অভিমত ব্যক্ত করার প্রয়োজন নেই। তবে এই নির্বাচনে তাদের প্রতিশ্রুতি ছিলÑ ১০ টাকা দরে চাল দেয়া, ঘরে ঘরে চাকরি দেয়া, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি রোধ করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা এবং ইত্যাদি। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, অনেক টিভি আলোচনায় দেখলাম তারা নাকি ১০ টাকা চাল দেয়ার কথা বলেননি। এটা মিডিয়ার বানানো। আমি নিজে সে মিটিংয়ে ছিলাম যেখানে বলা হয়েছিল-
২০ টাকায় চাল খাবো না- ধানের শীষে ভোট দেবো না।
১০ টাকায় চাল খাবো – নৌকা মার্কায় ভোট দেবো।
আর ফেসবুকের কল্যাণে এটার ভিডিও ক্লিপ অনেকের কাছেই রয়েছে।
সরকারের এসব নানান প্রতিশ্রুত বিষয়ের মাঝে শুধু শোনা যায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জনগণ আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়েছে, আর তা শুধুমাত্র বের হয়ে আসছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মুখ দিয়ে অজর ধারায়। এই কথার বিস্তার ঘটে তাদের সাধারণ কর্মীবাহিনীসহ জনসাধারণের মাঝে। আর এমনিভাবে ১০ টাকা দরে চাল, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিরোধ, ঘরে ঘরে চাকরি ইত্যাদি বিষয়গুলো সরকার অস্বীকারের মধ্য দিয়ে তা আলোচনার বিষয় দূরের কথা, মানুষ এগুলো প্রায় ভুলেই গেছে।
এখন প্রশ্ন, যেখানে দেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে, একটি সরকারের কাছে তাদের চাওয়া পাওয়া কী থাকতে পারে। যেখানে শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ সর্বত্র চাকরির খোঁজে পায়ের জুতা ক্ষয় করে ফেলছে, যেখানে ২৩-২৪ বছর লেখাপড়ার জীবন শেষে একটি চাকরির নিশ্চয়তা পায় না। পূর্বে ধারণা করা হতো টাকা দিলে চাকরি হয়, কিন্তু বর্তমানে সেই সম্ভাবনাও কল্পনার জগতে পাড়ি জমিয়েছে, যেখানে দারিদ্র্যের কশাঘাতে থাকা মানুষের দৈনিক আয়ের অর্ধেক চলে যায় চাল কিনতে, সে দেশের মানুষের চাওয়া পাওয়া কী থাকতে পারে। যে দেশ বিশ্বের মধ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত একটা রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত শুধু তাই নয়, চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। আর নির্মম পরিহাসের শিকার আর্তনাদে ভরপুর মানুষগুলো এবং সন্তানকে খাওয়াতে না পেরে বাবা-মায়ের আত্মহত্যা অথবা বাবা-মা কর্তৃক সন্তান হত্যা অথবা শেয়ারবাজারের দুর্নীতির  রোষানলে পড়ে যারা আজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছে, তাদের চাওয়া পাওয়া কী যুদ্ধাপরাধের বিচার, এটা কি জনসাধারণের দাবির কোন এক পর্যায়ে পড়ে? তারা কি জানতে চায় স্বাধীনতা সংগ্রামে ৩০ হাজার লোক, তিন লক্ষ কিংবা ৩০ লক্ষ লোক শহীদ।
মনে হয় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনার্স, মাস্টার্স পাসের প্রয়োজন নেই, অন্তত জীবনে যে একবার স্কুলে যায়নি তারও বুঝতে কষ্ট হবে না। জানি না আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা এবং যারা যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা কোন পর্যায়ের ব্যক্তি।
এখন একটু ভাবুন আমরা এই আধুনিক বিশ্বের কোন প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।
তারপরেও কি আমরা বলব, এই দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যেই মানুষ এই সরকারকে ভোট দিয়েছে এবং এটাই জাতির দাবি।
এখানে আরো একটা প্রশ্নের কি অবতারণা হয় না যে ১৪ কোটি মানুষ ১৯৭১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঘুমাচ্ছন্ন ছিল? অথবা এই সরকার কি অতীতে ক্ষমতায় আসেনি? অথবা এই সরকার ছিল তাদের এই প্রতিশ্রুতি। জাতির কাছে আমার প্রশ্ন কেন আমরা এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাই।
আমার মনে হয় এটা আমাদের এক প্রকার নয়, সম্পূর্ণই একটা দাসত্বের বহিঃপ্রকাশ
সরকার প্রতিনিয়ত বলছে যুদ্ধাপরাধ বিষয়টি আজ জাতীয় দাবি, ১৬ কোটি মানুষের দাবি, যে দেশের মানুষ তার মৌলিক অধিকার পাচ্ছে না, মৌলিক অধিকার প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে হচ্ছে সেখানে মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না এমন একটা বিষয় কিভাবে জাতীয় দাবি এবং ১৬ কোটি মানুষের দাবি হতে পারে?
আর এখনই মানুষ ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে রাস্তায় মানববন্ধন করে, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে মিছিল, সেমিনার, টকশো বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে যখন এই কাজগুলো করা সেই সকল মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটা চাকরি হিসেবে গণ্য হয়, আর এই পদ্ধতিটিই হল জনগণকে ধোঁকা দেয়ার মূল চাবি কাঠি।
বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি যেভাবে তুঙ্গে উঠে এসেছে এবং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে প্রতিদিন একটা আলোচ্য বিষয় হচ্ছে তা এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থাক দূরের কথা ১৯৭১ সালের পর কোন সময় এতটা প্রাধান্য পায়নি। এর কারণ কী?
তাহলে এই প্রশ্নের কি অবতারণা হয় না যে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি ১৯৭১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত একবারের জন্যও জাতীয় দাবি হয়নি? এবং যেটাকে বলা হয় জাতির কলঙ্ক দূর করবে সে বিষয়টি স্বাধীনতার ৪১ বছর পর কিভাবে একটা জাতীয় দাবি হয়?
আজ আমাদের কাছে কি এই বিষয়টি স্পষ্ট নয় যে সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়কে সামনে রেখে তাদের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল ২০২১-তে পৌঁছা! এটা নিতান্তই হাস্যকর।
বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের ডিজিটাল হওয়াকে এইভাবে তুলনা করলে মনে হয় ভুল হবে না, যে এক ব্যক্তি প্রতিদিন তিন মুঠো ভাত তো দূরের কথা দিন রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাকে এক মুঠো ভাত জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সে যদি স্বপ্ন দেখে অথবা বলে যে আমি আগামী আট বছরের ভেতরে বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের অন্যতম একজন হবো, হয়তবা তার গলার জোরে কথাটা খাপ খেলেও তার অবস্থার আলোকে কথাটা একেবারে বেমানান।
এমনিভাবে আজ বাংলাদেশের মানুষকে অনেক অলৌকিক স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ডিজিটাল হবে, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে। কিন্তু দেশের বর্তমান অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করলে ঘোর অন্ধকার ছাড়া কোন স্বপ্ন চোখের সামনে দৃশ্যমান হয় না।
যাক, ধরে নেয়া যায় সরকারের কাছে এমন এক মন্ত্র আছে যার মাধ্যমে সরকার দেশের দরিদ্রতা, চরম পর্যায়ের দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সর্বত্র সন্ত্রাস, পররাষ্ট্র নির্ভরতা ইত্যাদি সকল প্রকার সমস্যা নিমেষেই কাটিয়ে উঠে দেশকে একটা ডিজিটাল দেশে পরিণত করবে।
কিন্তু একটা প্রবাদ আছে ‘সব ভাল যার শেষ ভাল তার’। সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলার জনসাধারণকে যে অলীক স্বপ্ন দেখানো হয়েছে সেই (ডিজিটাল ২০২১) সেই স্বপ্নের বলি কি- বিডিয়ার বিদ্রোহে ৫৭ জন উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তার মৃত্যু, সীমান্তে ফেলানীর লাশসহ শত শত লাশের বর্বর চিত্র, শেয়ারবাজারে সরকারের লুটপাটের মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ ধস, যার কারণে অনেক বিনিয়োগকারীর আত্মহত্যার মতো জগন্য পাপ বেছে নেয়া, পদ্মা সেতুতে চরম আকারে দুর্নীতি যা গোটা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে, ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে দেশকে মরুভূমিতে রূপান্তর ইত্যাদি কি ডিজিটাল প্রত্যাশী একটি সরকারের প্রথম ধাপ? যদি এগুলো প্রথম ধাপ হয়ে থাকে তাহলে ২০২১ সালে পর্যন্ত এই ডিজিটাল রূপ কী পরিমাণ আকার ধারণ করবে তা আর বলার অপেক্ষা থাকে না।
বর্তমানে দেশের সর্ববিষয়ে ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইস্যুটির ব্যবহার, বর্তমান সরকারের সূচনা লগ্নে বিডিআারের বিদ্রোহে যে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যে বর্বর চিত্র হার মানিয়েছে অর্থাৎ যারা ৭১ সালে স্বাধীনতার চিত্র দেখেনি, সরকার তাদেরকে যে নগ্ন চিত্র দেখিয়েছে তা নাকি যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার উদ্দেশে। সীমান্ত হত্যা, শেয়ারবাজার লুট, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি হলমার্ক কেলেঙ্কারি, হাজারীবাগ বস্তিতে আগুন, তাজরিন গার্মেন্টসে আগুন,  ফেলানির লাশ, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধŸগতি, হরতালে বিশ্বজিৎসহ ডজনখানেক লোককে নির্মমভাবে খুন, চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ধসে পড়া ইত্যাদি এ সবকিছুই নাকি যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র, সত্যিকার অর্থে কি তাই?
সত্যিকার অর্থে যুদ্ধাপরাধের বিচার এই প্রতিপাদ্যক সামনে রেখে সরকার সকল ক্ষেত্রে তার ব্যর্থতা ঢেকে আসছে এবং ঢাকতে চায়, এই দেশকে একটা পররাষ্ট্রনির্ভর করতে চায় এবং সরকারের অবস্থাকে আরো শক্তিশালী এবং পাকাপোক্ত করার পদ্ধতি গ্রহণ মাত্র। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় একাত্তর সালে যেরকম পকিস্তানের সাথে দেশের স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের যুদ্ধ হয়েছে, না জানি আবার কবে এই দেশের মানুষকে ভারতের সাথে দেশের স্বাধীনতা নিয়ে যুদ্ধ করতে হয়।
কিন্তু সর্বক্ষেত্রে সরকার তাদের এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছলেও একজায়গায় এখনো ভালোভাবে সফল হয়ে উঠতে পারেনি আর তা হলো পদ্মা সেতু, অর্থাৎ সরকার জনগণকে এই কথা বলার সুযোগ পায়নি যে বিশ্বব্যাংক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য সরকারের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। আর বিশ্বব্যাংককেও এই বলে ধমক দিলে ‘ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়’, অর্থাৎ না জানি বিশ্বব্যাংক ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয়। মাঝে মাঝে দেখা যায় সরকার তাদের এজেন্ডার সাথে সংশ্লিষ্ট একটা বিষয় দিয়ে মানুষের মাঝে যুদ্ধাপরাধের বিষয়কে আরো পাকাপোক্ত করে থাকে আর তা হলো যুদ্ধাপরাধে বিচার হলেই নাকি জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে (?)।
আমার প্রশ্ন সরকারের কাছে অথবা যারা এই ধারণায় বিশ্বাসী যে, কলঙ্ক বলতে সরকার কোন জিনিসকে বুঝাতে চেয়েছে, এটা কোথায়ই বা থাকে। আর এই কলঙ্ক দূরীকরণের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ কতটুক, মানুষ কতটুকু দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্তি পাবে, এই দেশ কতটুকু পরিমাণ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া থেকে মুক্তি পাবে। এরকম সহস্র ‘কতটুক’ এর কথা বলা যাবে।
তর্কের খাতিরে সত্য ধরে নিলেও কলঙ্ক দূর করার মধ্য দিয়ে কি ক্ষুধার্র্ত মানুষের পেটে এক মুঠো ভাত পড়বে? এই কলঙ্কের কথা সরকারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অথবা উপাধিপ্রাপ্ত কিছু বুদ্ধিজীবী এবং সরকারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অন্য নামে কিছু গোষ্ঠীও বলে থাকে। আর এই সুযোগে সরকার ঐ সকল লোকদেরকে জাতির সামনে সাধারণ মানুষ হিসেবে তুলে ধরছে।
আর তারই ধারাবাহিকতায় বলে যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারতো সাধারণ মানুষের চাওয়া। অন্য দিকে সত্যিকার অর্থে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং সরকারের ধারণাকেই প্রাধান্য দেয়।
সত্যিকার অর্থের কলঙ্ক হতো এটাই যদি বিশ্বব্যাংক বলত আমরা ঋণ  দেবো না, যদি যুদ্ধাপরাধের বিচার না করা হয়। যদি বিদেশী প্রতিষ্ঠান বলত আমরা তাজরীন গার্মেন্টসের সাথে চুক্তি বন্ধ করলাম, যতক্ষণ না সরকার তাদের একাত্তর সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে। যদি আমেরিকা বলত আমরা বাংলাদেশের সাথে সকল প্রকার আমদানি-রফতানি বন্ধ করলাম, যতক্ষণ না তারা তাদের স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন না করে। অথবা বিদেশ থেকে সাহায্য বন্ধ হয়ে যেত, আন্তর্জাতিক কোন চুক্তির সাথে আমাদের সংযুক্ত করা হতো না, অথবা বিদেশী কোন রাষ্ট্র আমাদের দেশ থেকে শ্রমিক নিতে অস্বীকার করত, তাহলেই তখন বুঝতাম যে সত্যিই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা অতীব জরুরি। আর তখনই কলঙ্কের অর্থ স্পষ্ট হতো। আর তখন যুদ্ধাপরাধের বিচার হতো জাতীয় দাবি এবং জাতীয় ইস্যু।
কিন্তু নিয়মিতভাবেই তো বিদেশী বিনিয়োগ হচ্ছে, আমদানি হচ্ছে, রফতানি হচ্ছে, বিদেশ থেকে সাহায্য পাচ্ছি, আন্তর্জাতিক সম্পর্কও বিদ্যমান, তাহলে কলঙ্কটা কোথায়?

SHARE

Leave a Reply