যে পাপের ক্ষমা নাই – মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন

পৃথিবীতে জীবন চলার পথে মানুষ সগিরা কবিরাসহ অসংখ্য পাপ কাজে লিপ্ত হয়। কখনো ইচ্ছায় আবার কখনো অনিচ্ছায়। সগিরা গুনাহ আল্লাহ বিভিন্নভাবে ক্ষমা করলেও কবিরা গুনাহ তওবা ছাড়া ক্ষমা করেন না। আবার তওবা করার পর পুনরায় সেই অপরাধ করলে তাদের তওবাও কবুল হয় না। মহান আল্লাহ বলেছেন, “সেসব লোক তাদের দ্বারা যখনই কোন অশ্লীল কাজ সংঘটিত হয় অথবা তারা যখন কোন গুনাহ করে অথবা তারা যদি নিজেদের ওপর জুলুম করে বসে, (সাথে সাথেই) তারা আল্লাহর কথা স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য তাঁর নিকট মাফ চায়; কারণ আল্লাহ ছাড়া গুনাহ মাফ করতে পারে এমন কে আছে? অতঃপর জেনে বুঝে তারা আর এসব গুনাহের কাজে অটল থাকে না। এই হচ্ছে (সেই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত লোকদের) ফলাফল তাদের মালিকের পক্ষ থেকে প্রতিদান, তিনি তাদের ক্ষমা করে দিবেন আর এমন জান্নাতে দাখিল করাবেন যার তলদেশে ঝরণাধারা প্রবহমান। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। সৎকর্মশীল লোকদের জন্য কত সুন্দর প্রতিদান তিনি রেখে দিয়েছেন। (সূরা আলে ইমরান : ১৩৫-১৩৬)

শিরক এমন এক পাপ যা আল্লাহ কখনই ক্ষমা করেন না
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ঘোষণা- “নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাথে কাউকে শরিক করার গুনাহ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্য সকল গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন।” (সূরা নিসা: ৪৮) শিরকের অপরাধ কতটা ভয়াবহ সে সমন্ধে কুরআনের ঘোষণা- “নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করে আল্লাহ তার ওপর জান্নাতকে হারাম করে দেন আর জাহান্নামকে করেন তার স্থায়ী ঠিকানা।” (সূরা মায়িদা: ৭২)

শিরককারীদের কোন আমল গ্রহণ করা হবে না
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “আর তারা যদি শিরক করত, তারা যা আমল করেছিল তা অবশ্যই বরবাদ হয়ে যেত।” (সূরা আনআম: ৮৮)
শিরককারীর সাথে আল্লাহ ও ইসলামের দূরত্ব কতো বেশি তা নিম্নের আয়াত হতে অনুধাবন করা যায়। “আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে (অন্য কাউকে) শরিক করে, তার অবস্থা হচ্ছে- সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল অতঃপর (মাঝ পথে) কোনো মৃতভোজী প্রাণী এসে তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা (জমিনে পড়ার আগেই) বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে (অজ্ঞাত কোন) দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।” (সূরা হজ : ৩১)
হযরত জাবির (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- “বান্দার জন্য সর্বদাই ক্ষমা রয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত হিজাব বা পর্দা পতিত না হয়। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! হিজাব বা পর্দা কী? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরিক করা।”
সূরা আত তাওবায় মুশরিকদের সাথে ঈমানদারদের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, “সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করা হলো আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে, যেসব মুশরিকের সাথে তোমরা চুক্তি করেছিলে তাদের সাথে।” (সূরা তওবা : ১)
কুরআনুল কারিমের ১১৪টি সূরার মধ্যে সূরাতুল লুকমান একটি। হযরত লুকমান তাঁর সন্তানকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে তা এতো বেশি পছন্দ হয়েছিল যে তার নামে উক্ত সূরা নাজিলপূর্বক তার সেই অমিয় বাণী কুরআনে কোট করে দিলেন। হযরত লুকমান তার প্রাণপ্রিয় সন্তানকে ডেকে বললেন, “হে আমার বৎস! আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না যথার্থই শিরক বড় জুলুম।” (সূরা লুকমান : ১৩)
কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জান্নাতবাসীদের ডেকে বলবেন, ও আমার জান্নাতি বান্দারা দুনিয়ায় তোমাদের জন্য যা যা ওয়াদা করা হয়েছে তা ঠিক মতো পেয়েছো? জান্নাতিরা বলবে জি পেয়েছি, আর কিছু বাকি নাই। আল্লাহ বলবেন, না সব কিছু পাওনি। যে আল্লাহকে না দেখে ঈমান এনেছে, রাত জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েছে, আল্লাহর জমিনে তার দ্বীন বিজয়ের সংগ্রামে শহীদ হয়েছে সেই আল্লাহকে এখনও তারা দেখেনি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেদিন জান্নাতিদের সামনে এসে হাজির হবেন। জান্নাতিরা সেদিন আল্লাহর অপরূপ সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে থাকবে আর এভাবে কতো কাল কেটে যাবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। সেদিন সেই সুবর্ণ সুযোগ হতে কেবল তারাই বঞ্চিত হবে যারা দুনিয়ায় আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, “অতএব যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে সে জন্য বেশি বেশি নেক আমল করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদাতে অন্য কাউকে শরিক না করে।” (সূরা কাহফ: ১১০) সূরা আল বায়্যিনায় আল্লাহ মুশরিকদের সৃষ্টির সবচাইতে নিকৃষ্ট জীব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, “আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা নিশ্চিতভাবে জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। তারা সৃষ্টির অধম।” এরপর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা হজের ৩১ নাম্বার আয়াতে শিরককারীদের জীবনের করুণ পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন এভাবে- “একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও, তার সাথে কাউকে শরিক কর না এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল এখন হয় তাকে পাখি ছো মেরে নিয়ে যাবে অথবা বাতাস তাকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ছুড়ে দিবে যেখানে সে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।”
এই সুবিশাল আসমান ও জমিনের মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আফসোস করেন বান্দা কেমনে তার সাথে শরিক করে যিনি মানুষের বসবাসের জন্য জমিনটাকে বিছানা বানিয়েছেন আর আসমানকে ছাদস্বরূপ সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয়, তোমাদের জীবিকার জন্য আকাশ হতে পানি বর্ষণ করে তার দ্বারা ফলমূল উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহর এই কুদরতি ব্যবস্থাপনায় জেনে শুনে কেমনে তার শরিক কর? আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“হে মানব সম্প্রদায় তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের উপাসনা কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববতীগণকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা পরহেজগার ও ধর্মভীরু হতে পার। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা বানিয়েছেন ও আকাশকে ছাদস্বরূপ সৃষ্টি করেছেন এবং আসমান হতে বৃষ্টি বর্ষণপূর্বক তোমাদের জীবিকার জন্য ফল-ফলাদি উৎপাদন করেছেন। সুতরাং জেনে শুনে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির কর না।” (সূরা বাকারা: ২১-২২) মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারিমের সূরাতুল আনআমের ১৫১ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিশ্ববাসীর জন্য ৫টি অধ্যাদেশ জারি করেছেন তার মধ্যে প্রথম দফা হল শিরক। আল্লাহ তায়া’লা বলেন, “হে মুহাম্মাদ এদেরকে বলে এসো আমি তোমাদের শুনাই তোমাদের রব তোমাদের ওপর কী বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।
১) তার সাথে অন্য কাউকে শরিক করো না (২) পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো (৩) দারিদ্র্যের ভয়ে নিজের সন্তানদের হত্যা কর না, আমি তোমাদেরকে জীবিকা দিচ্ছি এবং তাদেরকেও দিব (৪) প্রকাশ্যে বা গোপনে অশ্লীল বিষয়ের ধারে কাছেও যেও না (৫) আল্লাহ যে প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন সঙ্গত কারণ ছাড়া তাকে ধ্বংস করো না
দুনিয়ার জীবনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার গাফুরুর রহিম নামের খাতিরে পাহাড় পরিমাণ গুনাহ করা সত্ত্বেও অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করলেও মুশরিক বান্দাকে ক্ষমা করবেন না। হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহ বলেন- হে আদম সন্তান যদি জমিন ভর্তি গুনাহ নিয়ে আমার সামনে সাক্ষাৎ কর, তবে আমি পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সাক্ষাৎ করব এই শর্তে যে, তুমি কোন কিছুকে আমার সাথে অংশীদার স্থাপন করবে না।” (মুসনাদ আহমেদ: ২১৪৭২)
কাল কেয়ামতের দিন কঠিন হাশরের ময়দানে বিচার ফায়সালা চূড়ান্ত হওয়ার পর আল্লাহ জান্নাতের ফেরেশতাদের ডেকে বলবেন জান্নাতিদের আমল নামায় কোনো শিরক আছে কিনা? যদি কোন জান্নাতি বান্দার আমলনামায় শিরক পাওয়া যায় আল্লাহ তার যাবতীয় সৎকর্ম বাতিল ঘোষণা করে তাকে জাহান্নামে পাঠানোর অর্ডার করবেন। অপর দিকে জাহান্নামের ফেরেশতাদের ডেকে বলবেন, আমার ঐ সমস্ত বান্দা যারা জাহান্নামি হয়েছে তাদের আমলনামা আবার খতিয়ে দেখ কোন শিরকের অপরাধ আছে কিনা? অতঃপর তাদের আমলনামায় কোন শিরকের অপরাধ পাওয়া না গেলে আল্লাহ বলবেন আমার উক্ত বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম, এখন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও।

তাওহিদ ও শিরক
তাওহিদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো একক বা অদ্বিতীয় সাব্যস্ত করা, একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় তাওহিদের অর্থ হলো মহান আল্লাহকে তার সুমহান জাত বা সত্তা, তার সিফত বা গুণাবলি, অধিকার বা কর্তৃত্ব এবং এখতিয়ারের ক্ষেত্রে একক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করাই হল তাওহিদ। পৃথিবীতে সমস্ত নবী এবং রাসূল মানবজাতিকে সর্বপ্রথম তিনটি দাওয়াত দিয়েছিলেন। যার প্রথম দফা হলো তাওহিদ। অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত। ‘লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ’- এই ঐতিহাসিক বাক্যটি দ্বারা মূলত সেই তাওহিদের ঘোষণাই দেয়া হয়েছে। কিন্তু এমন কী তাৎপর্য লুকিয়ে আছে ছোট্ট এই বাক্যটির মাঝে যে, যেই ভূখণ্ডে আল্লাহর প্রেরিত কোনো নবী ও রাসূল এই কালিমার দাওয়াত জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, সেখানেই প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রশক্তি সর্বশক্তি নিয়োগ করে তাদের দাওয়াতকে স্তব্ধ করার চক্রান্ত করেছিলেন। এমনকি কোথাও কোথাও আল্লাহর দ্বীনের পতাকাবাহী নবী রাসূলদেরকে হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছিল। কালিমার দাওয়াত দেয়ার অপরাধে শুধু বনি ইসরাইলরা চল্লিশজন নবী ও রাসূলকে হত্যা করেছিল।
এই কালিমার দাওয়াত দেয়ার কারণেই হযরত ইবরাহিম (আ)কে যেতে হয়েছিল অগ্নিকুণ্ডে, মূসা (আ)কে নীল দরিয়ায় হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এমনকি বিশ্বনবী রহমাতুল্লিল আলামিন জনাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.কে তায়েফের ময়দানে রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত করা হয়েছে, শিয়াবে আবু তালিবে বন্দি করা হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ নবী পরিবারকে। শুধু নবী কিংবা রাসূলই নয় যুগে যুগে যারাই নবী রাসূলদের মতো করে কালিমার আওয়াজকে বুলন্দ করার চেষ্টা করেছিল সেখানকার সমাজপতি ও রাষ্ট্রশক্তি তাদের সামনে বাধার বিন্ধ্যাচল সৃষ্টি করেছিল। কারণ এই কালিমা এমন এক বিপ্লবাত্মক ঘোষণা যে, এই কালিমার দাবিদার কোনো ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নিকট মাথা নত করতে পারে না, কারও ইবাদত করতে পারে না, কারও আইন ও শাসন মানতে পারে না একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। এ জন্য পৃথিবীর তাবৎ শক্তি যারা নিজেরা আইন ও কানুন তৈরি ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত হয়ে সাধারণ মানুষদের নিজের দাস ও গোলাম বানিয়ে রেখেছিল, তাদের তৈরি করা আইন নিজেদের ইচ্ছামত সমাজ ও দেশ পরিচালনা করেছিল তাদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব চিরতরে খতম হয়ে যাওয়ার ভয়ে এহেন কোন নির্যাতন নাই যা ঈমানদার মুসলমানদের ওপর চালানো হয় নাই।
আর তাওহিদের বিপরীত হলো শিরক। তাই কালিমা পড়ে মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত করে, আল্লাহর মনোনীত আইন ও বিচার বাদ দিয়ে মানুষের মনগড়া আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়, আল্লাহর ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে নিজের যাবতীয় বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তবে সে অবশ্যই মুশরিক বলে পরিগণিত হবে।

শিরকের প্রকারভেদ
শিরক মূলত চার প্রকার। যথা-
ক. শিরক বিল জাত: শিরক বিল জাত হল আল্লাহর জাত বা তার সত্তার সাথে শিরক করা। মহান আল্লাহ সূরা ইখলাসে তার পবিত্র জাত বা সত্তার পরিচয় দিয়েছেন অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ১. বলো তিনি আল্লাহ একক। ২. আল্লাহ কারো উপর নির্ভরশীল নন। ৩. তার কোন সন্তান নেই এবং তিনি কারোর সন্তান নন। ৪. এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। (সূরা ইখলাস)
অথচ তামাম দুনিয়ার সকল ইহুদিরা হযরত উযাইর (আ)কে ও খ্রিস্টানরা হযরত ঈসা (আ) কে আল্লাহর পুত্র বানিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“ইহুদিরা বলে, উযাইর আল্লাহর পুত্র এবং খ্রিস্টানরা বলে মসিহ আল্লাহর পুত্র। এগুলো একেবারেই আজগুবি ও উদ্ভট কথাবার্তা। তাদের পূর্বে যারা কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল তাদের দেখাদেখি তারা এগুলো নিজেদের মুখে উচ্চারণ করে থাকে। আল্লাহর অভিশাপ পড়ুক তাদের ওপর। তারা কোথা থেকে ধোঁকা খাচ্ছে! (সূরা তাওবা: ৩০) এ জন্য আল্লাহর জাত বা সত্তার সাথে হযরত উযাইর (আ), হযরত মারইয়াম ও হযরত ঈসা (আ)কে শরিক করার কারণে গোটা দুনিয়ার ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের জন্য আল্লাহ চিরতরে জান্নাত হারাম করে দিবেন এবং জাহান্নাম হবে তাদের চিরস্থায়ী আবাসস্থল।
সূরা মায়িদার ৭২ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তাদের চূড়ান্ত ফায়সালা দিয়েছেন এভাবে “নিঃসন্দেহে তারা কুফরি করছে যারা বলছে মারইয়াম পুত্র মসিহই আল্লাহ। অথচ মসিহ বলেছেন, হে বনি ইসরাইল আল্লাহর বন্দেগি কর, যিনি আমার রব ও তোমাদের রব। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করেছে তার ওপর আল্লাহ জান্নাতকে হারাম করেছেন এবং তার আবাসস্থল জাহান্নাম। আর এ ধরনের জালেমদের কোন সাহায্যকারী নাই।” (চলবে)
লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply