যে শিক্ষা শিক্ষিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে – ফিরোজ মাহবুব কামাল

যে শিক্ষা শিক্ষিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে - ফিরোজ মাহবুব কামালশিক্ষার মূল লক্ষ্যটি স্রেফ স্বাক্ষর-জ্ঞান, ভাষাজ্ঞান বা পড়ালেখার সামর্থ্য বৃদ্ধি নয়। নিছক তথ্য ও তত্ত্ব জানানোও নয়। এমনকি বিজ্ঞান বা কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ করাও নয়। বরং সে মূল উদ্দেশ্যটি হলো ব্যক্তির ঘুমন্ত বিবেককে জাগ্রত করা। তাকে মানবিক গুণে প্রকৃত মানুষ রূপে বেড়ে উঠতে সাহায্য করা। তখন ব্যক্তির বিশ্বাস, দর্শন ও রুচিবোধই শুধু পাল্টে যায় না, পাল্টে যায় তার কর্মকাণ্ড, আচার-আচরণ ও চিরায়ত অভ্যাস। তখন বাড়ে সত্যকে মিথ্যা থেকে আলাদা করার সামর্থ্য। অসভ্য ও অসুন্দর মানুষ থেকে শিক্ষিত মানুষ তখন ভিন্নতর মানুষে পরিণত হয়। শিক্ষার মাধ্যমে জাতি এভাবেই পায় পরিশীলিত, সভ্য ও সুন্দর চরিত্রের মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশ তা পায়নি। বাংলাদেশের এ বিশাল ব্যর্থতাটি স্রেফ মিথ্যাপূর্ণ গলাবাজি করে ঢাকা যায় না। সে ব্যর্থতার প্রমাণ তো হলো, দেশজুড়ে সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, অরাজকতা, স্বৈরাচারীদের দখলদারি ও দুর্নীতিতে বিশ্বে বারবার প্রথম স্থান অর্জন। এসব ব্যর্থতার কারণ অনেক। তবে মূল ব্যর্থতাটি শিক্ষাব্যবস্থার। গরু-ছাগল বেড়ে ওঠে গোয়ালে এবং মানবশিশু মানবিক গুণে বেড়ে ওঠে বিদ্যালেয়। বাংলাদেশের ব্যর্থতাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা জাতিকে শিক্ষিত করতে এবং ছাত্রদের প্রকৃত মানবরূপে গড়ে তুলতে চরম ভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। এ শিক্ষা শুধু দুর্নীতি, সন্ত্রাস, স্বৈরাচারই বাড়ায়নি, বাড়িয়েছে পরনির্ভরতাও। মেরুদণ্ড গড়ার বদলে সেটিকে বরং চূর্ণ বা পঙ্গু করছে। ব্যক্তির নিজেকে ও তার প্রভুকে জানতেও এটি তেমন সাহায্য করছে না।
শিক্ষার মূল লক্ষ্য, কোনটি সত্য ও কোনটি মিথ্যা এবং কোনটি জান্নাতের পথ আর কোনটি জাহান্নামের পথ- সেটি জানায় ছাত্রের সামর্থ্য বাড়ানো। সেটি না হলে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শয়তানের শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়। তখন ছাত্ররা কর্মজীবনে ডাক্তার, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, প্রকৌশলী, প্রশাসক বা বিচারক হয়েও মিথ্যার জোয়ারে ভাসতে থাকে ও শয়তানের সেপাহিতে পরিণত হয়। এমন দেশে ভিনদেশী শত্রুগণও তাদের পক্ষে বিপুল সংখ্যক ভাড়াটে সৈনিক পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ডিগ্রি নিয়েও এমন ব্যক্তি নিরেট জাহেল, ইসলামের শত্রু ও জাহান্নামের যাত্রীতে পরিণত হয়। ইসলামের বিজয় রুখতে তারা আন্তর্জাতিক কাফির শক্তির সাথেও কোয়ালিশন গড়ে। ইসলামে জাহেল থাকাটিই এজন্যই কবিরা গুনাহ। সকল গুনাহর এটিই হলো জননী। তাই অজ্ঞতা নিয়ে অসম্ভব হয় সত্যিকার মুসলিম হওয়া। তাই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী কোন ব্যক্তি যখন সেক্যুলারিস্ট, জাতীয়তাবাদী বা সমাজবাদী রাজনীতির ক্যাডার বা সমর্থক হয় তখন কি বুঝতে বাকি যে ব্যর্থতাটি এখানে শিক্ষা লাভে?
জীবনে কাজের সংখ্যা অসংখ্য। তবে সফল হতে হলে অধিক গুরুত্বপূর্ণ সে হুঁশটি ষোল আনা থাকতে হয়। সে বোধ থাকলে গাড়ির গায়ে রঙ লাগানোর চেয়ে তার ইঞ্জিন ঠিক করাটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ গণ্য হয়। নইলে সে গাড়ি চলে না। ইসলামের সে ইঞ্জিনটি হলো ঈমান। সে ঈমান পানাহারে বেড়ে ওঠে না- তা যত পুষ্টিকরই হোক। ঈমান বেড়ে হয় এবং পুষ্টি পায় পবিত্র কোরআন-হাদীসের জ্ঞানে। তাই ইসলামে ফরজকৃত প্রথম ইবাদতটি নামায-রোযা বা হজ-যাকাত নয়। সেটি হলো জ্ঞানার্জন। সঠিক ও শক্তিশালী ইঞ্জিনের সাথে যেটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক পথের তথা সিরাতুল মুস্তাকিমের রোডম্যাপ। পবিত্র কুরআনহলো সে রোডম্যাপ। পবিত্র কোরআনের জ্ঞান ছাড়া কোন ব্যক্তির নিজের বুদ্ধিতে তা সে যতবড় বুদ্ধিমানই হোক না কেন, জান্নাতের দেখা পাওয়া অসম্ভব। সেটি এমনকি নবীজী সা.-এর পক্ষে সম্ভব ছিল না। “ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক” অর্থ: “পড় যিনি সৃষ্টি করেছেন সে মহান প্রভুর নামে”, পবিত্র কোরআনে ঘোষিত মহান আল্লাহর এ প্রথম আয়াতটি এবং প্রথম এ হুকুমটি মূলত সে অপরিহার্য বিষয়টিই সুস্পষ্ট করে। এবং সে নির্দেশটি স্রেফ নবীজী সা.-এর প্রতি নয়, বরং প্রতিটি মানুষের উপর। যার মাঝে সে জ্ঞানার্জনের হুকুম পালনে আগ্রহ নাই সে ব্যক্তি নামাযী, রোযাদার বা হাজী হতে পারে; কিন্তু যেরূপ জ্ঞানবান মুসলিম মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে পছন্দীয় সে পর্যায় পৌঁছা কি তার পক্ষে সম্ভব?
যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের সে জ্ঞান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, সে ব্যক্তি তো নিরেট জাহেল। এমন জাহেলগণ মুসলিম হওয়ার পরিবর্তে কাফের, মুনাফিক ও জালেম হয়; পরকালে এরাই অনন্তকালের জন্য জাহান্নামের বাসিন্দা হয়। জ্ঞানার্জন ছাড়া ঈমান-আকিদা যেমন ঠিক হয় না, তেমনি অন্য ইবাদতও সঠিক হয় না। কোরআনি ইলমে সত্যিকার জ্ঞানবান ব্যক্তিকে ইসলামে আলেম বলা হয় এবং সে জন্য মাদ্রাসার ডিগ্রি জরুরি নয়। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে আজ অবধি মুসলিম ইতিহাসে যারা শ্রেষ্ঠ আলেম রূপে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তাদের কারোই এমন ডিগ্রি ছিল না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা ঘোষণা দিয়েছেন, “ইন্নামা ইয়াখশাল্লাহ মিন ইবাদিহিল উলামা”। আয়াতটির অর্থ হলো: মানবসৃষ্টির মাঝে একমাত্র আলেমগণই আল্লাহকে ভয় করে। এর অর্থ দাঁড়ায়, নিজ মনে আল্লাহতায়ালার ভয় সৃষ্টি করতে হলে তাকে আলেম হতে হয়। প্রশ্ন হলো, আল্লাহতায়ালার ভয় ছাড়া কি প্রকৃত মুসলিম হওয়া যায়? মুসলিম হতে হলে তাই আলেমও হতে হয়। সে জন্য জ্ঞানার্জন অপরিহার্য। এবং সে জ্ঞানের সবচেয়ে বিস্ময়কর ও সর্বশ্রেষ্ঠ ভাণ্ডারটি হলো পবিত্র কোরআন। এটিই মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ দান; তেল, গ্যাস বা সোনা-রূপা নয়। কোরআনের জ্ঞান ছাড়া তাই প্রকৃত জ্ঞানী হওয়া চেষ্টা হতে বাধ্য। অথচ বাংলাদেশে জ্ঞানী হওয়ার কাজটি হয়েছে কোরআনের জ্ঞান ছাড়াই। এতে দেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা বিপুল সংখ্যায় বেড়েছে, কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানী বা আলেম বাড়েনি। বরং ভয়ানক ভাবে যা বেড়েছে তা হলো খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের সংখ্যা।

পালিত হচ্ছে না জ্ঞানার্জনের ফরজ

খাওয়ার অর্থ কোন কিছু শুধু মুখে পুরা নয়, বরং সেটি চর্বণ করা, গলাধঃকরণ করা এবং হজম করা। নইলে সেটি খাওয়া হয় না, এবং তাতে দেহের পুষ্টিও বাড়ে না। বরং তাতে খাদ্যের অপচয় হয়। খাওয়ার টেবিলে বসে কোন শিশু সেটি করলে সে শিশুর পিতা তাতে খুশি হয় না। তেমনি পড়ার অর্থ শুধু তেলাওয়াত নয়, বরং যা পড়া হয় তার অর্থ পুরোপুরি বোঝা। অথচ বাংলাদেশে কুরআন পড়ার নামে ¯্রফে তেলাওয়াত হয়, কুরআন বুঝা হয় না। কুরআনি জ্ঞানার্জনের ফরযও এতে আদায় হয় না। অথচ পবিত্র কুরআনে “আ’ফালা ইয়াতাদাব্বারুন” অর্থ: তোমরা কেন গভীরভাবে মনোনিবেশ করো না? এবং “আ’ফালা তাকুলুন” অর্থ: তোমার কেন নিজের বিবেক বুদ্ধিকে কাজে লাগাও না? এরূপ প্রশ্ন রেখে মহান আল্লাহ তায়ালা মূলত পবিত্র কুরআন বুঝার উপর অপরিসীম গুরুত্ব দিয়েছেন। নবীর যুগে সাহাবাগণ সেটি বুঝেছিলেন। তাই সে সময় যারা নিরক্ষর ছিলেন বা ভেড়া চরাতে তারাও দ্রুততার সাথে অতি উচ্চমানের জ্ঞানী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, বাংলাদেশের আলেমগণ এরূপ অর্থ না বুঝে যারা স্রেফ তেলাওয়াত করে তাদের কাজকে নিন্দা করেন না। বরং সেটিকে সওয়াবের কাজ বলে প্রশংসা করেন। ফরজে আইন পালনের বদলে স্রেফ সওয়াব হাসিলই তাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশে কুরআন তেলাওয়াতের আয়োজন বিপুলভাবে বেড়েছে কিন্তু কুরআন বুঝার আয়োজন বাড়েনি।
অথচ না বুঝে নিছক তেলাওয়াতের যে নফল সওয়াব সেটি হাসিল না করলে কারো গুনাহ হয় না। তা ছাড়া মাথা টানলে যেমন কান এমনিতেই আসে, বুঝে কুরআন পাঠ করলে তেলাওয়াতের সওয়াব তো সে সাথে জুটতোই। কিন্তু কুরআন না বুঝলে মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুমের যে চরম অবাধ্যতা হয় এবং তাতে সিরাতুল মুস্তাকিমে চলা যে সম্ভব হয় না -সে হুঁশ কি তাদের আছে? মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুমের প্রতিটি অবাধ্যতাই তো কুফরি। পবিত্র কুরআনের অর্থ বুঝা যে কতটা জরুরি সেটি বুঝা যায় আল্লাহ তায়ালার পবিত্র ঘোষণার মাধ্যমে- “ইয়া আইয়োহাল্লিযিনা আমানু লা তাকরাবুস সালাতা ওয়া আনতুম সুকারা হাত্তা তা’লামু মা তাকুলুনু।” (সূরা নিসা, আয়াত ৪৩)। আয়াতটির অর্থ “হে ঈমানদারগণ! তোমার নামাযের নিকটবর্তী হয়ো না যদি মদ্যপ অবস্থায় থাকো; এবং ততক্ষণ পর্যন্ত নয় যতক্ষণ না তোমরা যা বলো তা বুঝতে না পারো।” আয়াতটি যখন নাযিল হয়েছিল তখনও মদ্যপান হারাম ঘোষিত হয়নি। ফলে অনেকে মদ্যপ অবস্থায় নামাযে দাঁড়াতো। কিন্তু তার ফলে নামাযে দাঁড়িয়ে মুখে যে আয়াতগুলো তাঁরা তেলাওয়াত করতেন তাঁর অর্থ তাঁরা বুঝতেন না। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সেটি আদৌ পছন্দনীয় হয়নি। তিনি চান না যে, কেউ তাঁর নাযিলকৃত পবিত্র কুরআন পাঠ করবে অথচ তার অর্থ বুঝবে না। এটি মদ্যপ অবস্থাতেই সম্ভব। তবে আরেকটি কারণেও সেটি সম্ভব সেটি হলো না বুঝে কুরআন তেলাওয়াত। তাই ইসলামে মদ্যপান যেমন হারাম ঘোষিত হয়েছে, তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে পবিত্র কুরআন বুঝে তেলাওয়াতের ওপর। কুরআন বুঝার সে গুরুত্বটি বুঝার কারণেই প্রাথমিক যুগের অনারব মুসলিমগণ নিজেদের মাতৃভাষা পরিহার করে আরবি ভাষাকে গ্রহণ করেছিলেন। অর্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই পবিত্র কুরআনের বারবার খতম তেলাওয়াত সত্ত্বেও বাঙালি মুসলিমদের জ্ঞানের ভুবনে কোন বৃদ্ধি ঘটছে না। লক্ষ লক্ষ ঘণ্টা এভাবে ব্যয় হলেও তাতে প্রকৃত জ্ঞানী তথা সত্যিকারের আলেম সৃষ্টি হচ্ছে না। আলেম সৃষ্টি হলে তো ইসলামের বিজয়ে মুজাহিদও সৃষ্টি হতো। তখন আল্লাহর নির্দেশিত শরিয়তি আইনের প্রতিষ্ঠাও ঘটতো। পবিত্র কুরআন না বুঝার কারণেই মুসলিম দেশগুলোতে আল্লাহ-ভীরু প্রকৃত মুসলিম সৃষ্টি হচ্ছে না। শিক্ষার ময়দানে বাঙালি মুসলিমদের জীবনে এটিই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। সে ব্যর্থতার কারণে দ্রুত বাড়ছে জাহেলদের সংখ্যা। ফলে বাড়ছে ১৬ কোটি মুসলিমের দেশে ইসলামের পরাজয় এবং বলবান হচ্ছে ইসলামের শত্রুপক্ষের প্রবল অধিকৃতি।
শিক্ষার মাধ্যমেই ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে প্রতিদিন ‘ভ্যালু অ্যাড’ বা মূল্য সংযোজন হয়। মানবজীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো এরূপ লাগাতর মূল্য সংযোজন। রাষ্ট্রের এবং মানবজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো এটি। ভূমি, কৃষিপণ্য, খনিজ সম্পদের গায়ে মূল্য সংযোজনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মহান আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির গায়ে মূল্য সংযোজন। তবে মানবজীবনে সবচেয়ে বড় মূল্য-সংযোজনটি হলো হিদায়েত বা সিরাতুল মুস্তাকিম-প্রাপ্তি। মানব-জীবনের সাথে সেটি যুক্ত না হলে ব্যক্তি ও সমষ্টির সকল খাত ব্যর্থ হতে বাধ্য। তখন ব্যর্থ হয় প্রশাসন, রাজনীতি, প্রতিরক্ষা, আইন-আদালত, শিল্প, কৃষি, বিজ্ঞানসহ রাষ্ট্রের অন্যান্য খাত। মূল্য সংযোজনের অর্থ, ব্যক্তির জীবনে লাগাতর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, চারিত্রিক পরিশুদ্ধি ও কর্ম-কুশলতা বৃদ্ধি।
মুমিনের জীবনে শিক্ষাকালটি স্কুল-কলেজের শিক্ষা শেষ হওয়ায় শেষ হয় না। বরং আজীবন সে ছাত্র; এবং তার জ্ঞানার্জন চলে কবরে যাওয়ার পূর্ব-মুহূর্ত পর্যন্ত। তাই নবীজী সা. বলেছেন, তার জন্য ধ্বংস যার জীবনে পর পর দু’টি দিন এলো অথচ তার জ্ঞানে বৃদ্ধি ঘটলো না। ঈমানদার ব্যক্তিকে তাই রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে ভাবতে হয়, তার জ্ঞানের ভুবনে সে দিনে কতটুকু অর্জন হলো তা নিয়ে। পাটের আঁশে মূল্য সংযোজন না হলে সেটি স্রেফ আঁশই থেকে যায়। বাজারে তার মূল্য সামান্যই। মূল্য সংযোজন হলে সে পাটের আঁশই মূল্যবান কার্পেটে পরিণত হয়। মূল্য সংযোজনের ফলে খনির স্বর্ণ পরিণত হয় অতি মূল্যবান গহনাতে। মানবজীবনে মূল্য সংযোজনের সে ইন্ডাস্ট্রিগুলো হলো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও মসজিদ-মাদ্রাসা। কিন্তু বাংলাদেশে সবচেয়ে ব্যর্থ খাত হলো এগুলো। এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে হচ্ছে এর উল্টোটি।
লেখক : কলামিস্ট ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply