রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী

jamat e islamiএ.কে.এম. নাজির আহমদ

 

(গত সংখ্যার পর)

দালাল আইনে অভিযুক্তদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন
১৯৭২ সনের ২৪শে জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান “দালাল (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ” জারি করেন। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে যেইসব সিভিলিয়ান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতা করেছিলো তাদের বিচারের জন্য তৈরি হয় এই আইন।
১৯৭২ সনের মার্চ মাসেই দালাল আইনের অপব্যবহার দেখে আতাউর রহমান খান বলেন, ‘জাতি পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সমাধা না করে সরকার সারা দেশে দালাল এবং কল্পিত শত্র“দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় রত হয়েছেন। মনে হচ্ছে এটাই যেন সরকারের সব চাইতে প্রধান কর্তব্য’।
তিনি বলেন, ‘যারা ভিন্ন রাজনৈতিক মত পোষণ করতেন, অথচ খুন, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণ কিংবা লুটপাটের মতো জঘন্য কার্যে প্রবৃত্ত হননি, তাদের ওপর গুরুতর শাস্তি আরোপের মাধ্যমে দেশের কোনো উপকার হবে না।’
[উল্লেখ্য যে ১৯৭২ সনের ২৯শে আগস্ট সরকার দালাল আইন সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে। এই সংশোধিত আইনে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন সাজা তিন বছর কারাদণ্ড করা হয়।]
১৯৭২ সনের ২০শে নভেম্বর “দালাল (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আইনে” পূর্ব পাকিস্তানের সর্বশেষ গভর্নর ডা. আবদুল মুত্তালিব মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, অধ্যাপক আবুল ফজল, ড. আলিম আল-রাজী প্রমুখ ব্যক্তি “দালাল (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আইনে”র বিরোধিতা করতে থাকেন। বন্দি ছিলো বিপুল সংখ্যক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো কোন তথ্য-উপাত্ত সরকারের হাতে ছিলো না।
১৯৭৩ সনের ৩০শে নভেম্বর সব কিছু বিবেচনা করে শেখ মুজিবুর রহমান দালাল আইনে আটক ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পর মুসলিম লীগ, ডিমোক্রেটিক পার্টি, নেযামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর ৩৪,৬০০ জন নেতা ও কর্মী জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন।
উল্লেখ্য, বহুসংখ্যক বৌদ্ধ এবং হিন্দু ও খ্রিস্টানদের একটি অংশ অখণ্ড পাকিস্তানে বিশ্বাসী ছিলেন।
বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ছিলেন বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো এবং মহাসচিব ছিলেন অধ্যাপক ননী গোপাল বড়–য়া। তাঁরা এবং তাঁদের অনুসারীরা অখণ্ড পাকিস্তানে বিশ্বাসী ছিলেন।
চাকমা জনগোষ্ঠী তাঁদের রাজা ত্রিদিব রায়ের অনুসরণে অখণ্ড পাকিস্তানে বিশ্বাসী ছিলেন। রাজা ত্রিদিব রায় বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরও পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ভাই জনি রায় এবং রাঙ্গামাটির অজিত কুমার চাকমা, নোয়াচন্দ্র চাকমা, নীরোলেন্দু চাকমা প্রমুখ দালাল আইনে গ্রেফতার হয়েছিলেন।
খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে রাঙ্গামাটি ব্যাপ্টিস্ট মিশনের রেভারেন্ড শৌল্যা প্র“, মিসেস ম্রাসং চিং, মিসেস হ্রই, মিস টেলার, মাস্টার চং সুই প্র“ এবং রাঙ্গামাটি ক্যাথলিক মিশনের উইলিয়াম লুসাই প্রমুখ দালাল আইনে গ্রেফতার হয়েছিলেন।
হিন্দুদের মধ্য থেকে ফরিদপুরের দীপ্তি কুমার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জের শান্তি রঞ্জন শীল, বরিশালের নরেশ পাল, ভোলার অঞ্জলী পোন্দার বি.এ. (মহিলা), সিরাজগঞ্জের মনোরঞ্জন দত্ত, সুশীল কুমার দত্ত, জয়পুরহাটের মঙ্গলা রাম, মোমেনশাহীর শচীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বশর্মা প্রমুখ দালাল আইনে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

১৯৭৩ সনের ৭ই মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর অনুপস্থিতি
১৯৭৩ সনের ৭ই মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এই নির্বাচনে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী গঠিত “অল পার্টিজ এ্যাকশন কমিটি” ২০১ জন প্রার্থী দাঁড় করায়। মস্কোপন্থী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ২২৫ আসনে এবং মেজর (অব.) এম.এ. জলিল এবং আ.স.ম. আবদুর রব গঠিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ২৩৭ আসনে প্রার্থী দেয়।
“… সরকারি দল নির্বাচনকে কঠোরভাবে গ্রহণ করে তাদের প্রতিটি প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়ায় নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচনি সন্ত্রাসে ৫০ জন নিহত হন। সরকারদলীয় কর্মীদের আক্রমণে জাসদ প্রধানও আহত হন।”
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসনে, জাসদ ১টি আসনে, জাতীয় লীগ ১টি আসনে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৫টি আসনে বিজয়ী হন।
এই নির্বাচনে সরকার পুলিশবাহিনী এবং রক্ষীবাহিনীকে দিয়ে বিরোধী দলের নমিনিদের পরাজয় নিশ্চিত করেছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ভোট গণনাকালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রধান মেজর (অব.) এম.এ. জলিল সরকারি দলের প্রার্থীর চেয়ে অনেক ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও টেলিভিশনে হঠাৎ ফল প্রচার বন্ধ করে, পরে তাঁকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়।
ঐ সময় মুসলিম লীগ, নেযামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামী সাংবিধানিকভাবেই নিষিদ্ধ ছিলো। তাছাড়া এইসব দলের নেতা ও কর্মীদের অনেকেই ছিলেন বন্দি। ফলে এই নির্বাচনে ইসলামী শক্তি কোন ভূমিকা পালন করার সুযোগ পায়নি।

৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দির প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন
১৯৭৩ সনের ১৭ই এপ্রিল বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক যুক্ত ঘোষণায় যুদ্ধবন্দিদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার পক্ষে ঐকমত্য প্রকাশ করেন।
পাকিস্তানি সামরিক ও বেসামরিক ৯৩ হাজার বন্দির মধ্য থেকে ১৯৫ জন কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে অবশিষ্টদেরকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর ইংগিতও দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন প্রণয়ন
১৯৭৩ সনের ১৪ জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন’ পাস করে।
যুদ্ধ চলাকালে কাউকে হত্যা করা, কারো বাড়ি লুট করা, কারো বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং কোন মহিলাকে ধর্ষণ করার বিচারের জন্য এই আইন তৈরি করা হয়।

ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান
১৯৭৪ সনের ২২শে ফেব্র“য়ারি পাকিস্তান, ইরান ও তুর্কি বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৭৪ সনের ২২শে ফেব্র“য়ারি এক সংবাদ বুলেটিনে বলা হয় শেখ মুজিবুর রহমান ২৩-২৪ ফেব্র“য়ারি পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী শহর লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এটি ছিলো শেখ মুজিবুর রহমানের একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত।
অবশ্যই ভারত এই পদক্ষেপ ভালো চোখে দেখেনি।
শেখ ফজলুল হক মনি এই সিদ্ধান্তে দারুণ নাখোশ হন। তিনি বেগম মুজিবের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানের এই সিদ্ধান্ত পাল্টাবার চেষ্টা করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, “আমার লাহোর যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার আর কোন অবকাশ নেই। কারণ, সাউদি আরবের বাদশাহ ফায়সাল লাহোর সম্মেলনে যোগদান করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানিয়ে আমার নিকট তারবার্তা পাঠিয়েছেন। উপরšু— আমার শুভাকাক্সক্ষী ও সুহৃদ বন্ধু আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিন তাঁর প্রেসিডেনশ্যাল প্লেন পাঠিয়েছেন আমাকে লাহোর নেওয়ার জন্য এবং ঐ প্লেনটি ইতোমধ্যেই ঢাকা পৌঁছেছে। সুতরাং আমার লাহোর যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা সমীচীন হবে না।”
বিকেলে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এই বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয়।
কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
২৩শে ফেব্র“য়ারি তিনি লাহোর পৌঁছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভূট্টো তাঁকে বিমানবন্দরে রিসিভ করেন। সম্মেলনে তিনি মুসলিম জাহানের নেতৃবৃন্দ দ্বারা বিপুলভাবে সমাদৃত হন। সম্মেলন শেষে তাঁকে লাহোরের ইতিহাসখ্যাত শালিমার গার্ডেনে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন
১৯৭৪ সনের ৫ই এপ্রিল দিল্লিতে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মিটিং শুরু হয়। ৯ই এপ্রিল এই মিটিং শেষ হয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী মি. আযিয আহমদ ১৯৫ জন অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির বিষয়ে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
১৯৭৪ সনের ৯ই এপ্রিল বিকেলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের অভিযুক্ত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর প্রতি ক্ষমা প্রদর্শনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

একদলীয় শাসন প্রবর্তন
শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার দেশে সুশাসন কায়েম করতে পারেনি। গণমানুষের সমস্যা সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা ছিলো বিশাল। খাদ্য, বস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী দু®প্রাপ্য হয়ে পড়ে। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। মানুষের মাঝে অস্বস্তি, অসন্তোষ ও অস্থিরতা দেখা দেয়।
এই সময় আওয়ামী লীগ ও পুঁজিবাদবিরোধী বামদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। সিরাজ শিকদারের পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি “স্বাধীনতার নামে বাংলাদেশ ভারতের পদানত” বলে প্রচারণা চালাতে থাকে। সিরাজ শিকদার “স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা” কায়েমের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের আহŸান জানান। এই সময় হক, তোয়াহা, মতিন, আলাউদ্দিন, দেবেন শিকদার, শান্তি সেন, অমল সেন প্রমুখের নেতৃত্বাধীন গুপ্ত সংগঠনগুলো ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বিরোধী শ্লোগান দেওয়া শুরু করে এবং শুরু করে “জাতীয় দুশমন” খতমের অভিযান।
১৯৭৩ সনে এসে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে থাকে। মে মাসে এসে গুপ্ত হত্যার শিকার ব্যক্তিদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯২৫।
১৯৭৪ সনে দেশের সর্বত্র বিভিন্ন থানার ওপর সশস্ত্র হামলা বৃদ্ধি পায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান এক অদ্ভূত সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি গোটা দেশ কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বহু দলীয় ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে এক দলীয় শাসন কায়েমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এই লক্ষ্যেই ১৯৭৫ সনের ২৫শে জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী উত্থাপিত ও গৃহীত হয়।
ঐদিনই শেখ মুজিবুর রহমান নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
২৬শে জানুয়ারি তিনি ক্যাপ্টেন (অব:) মনসুর আলীকে প্রধানমন্ত্রী করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তবে তাজউদ্দিন আহমদকে মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত করেননি।
২৪শে ফেব্র“য়ারি আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর) একীভূত হয়ে “বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ” (বাকশাল) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে।
এই দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটিতে ছিলেন- ১. শেখ মুজিবুর রহমান (চেয়ারম্যান), ২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ৩. ক্যাপ্টেন (অব:) এম. মনসুর আলী (সেক্রেটারি জেনারেল), ৪. খন্দকার মুশতাক আহমদ, ৫. এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান, ৬. আবদুল মালেক উকিল, ৭. শ্রী মনোরঞ্জন ধর, ৯. ড. মুজাফফর আহমদ, ১০. শেখ আবদুল আযিয, ১১. মহিউদ্দিন আহমদ, ১২. গাজি গোলাম মুস্তফা।
লক্ষ্য করার বিষয়, এই কমিটিতেও প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
মুসলিম লীগ, ডিমোক্রেটিক পার্টি, নেযামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামী পূর্ব থেকেই বেআইনি ছিলো। এবার বেআইনি দলের তালিকায় যুক্ত হলো : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় গণতন্ত্রী দল, জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন এবং ইউনাইটেড পিপলস পার্টি।
একদলীয় শাসন প্রবর্তন ছিলো একটি অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ। যাঁর নামে বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তির স্বাদ আস্বাদন করানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো, সেই শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের মানুষকে এক দলীয় শাসনের পিঞ্জরে বন্দি করলেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনাবসান
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই আওয়ামী লীগ সরকার মুসলিম লীগ, ডিমোক্রেটিক লীগ, নেযামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীকে বেআইনি ঘোষণা করে এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের দরুণ এই দলগুলোর হাজার হাজার নেতা ও কর্মীকে জেলে পুরে জাতীয় বিভাজনের নীতি অনুসরণ করে।
প্রশাসনের দলীয়করণ অন্যান্য দলের সাথে আওয়ামী লীগের দূরত্ব সৃষ্টি করে।
দলীয় বিচেনায় প্রশাসনে নিযুক্ত ব্যক্তিদের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। রক্ষীবাহিনীর দাপটে মানুষ ছিলো শংকিত।
যুব সমাজের জন্য নৈতিক দিকনির্দেশনা না থাকায় নৈতিক অবক্ষয় ব্যাপক আকার ধারণ করে। সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, জবর দখল ও হত্যাকাণ্ড বাড়তে থাকে। দ্রব্যমূল্য ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। দশ আনা/বারো আনা সেরের চাউল দশ টাকা, আট আনা সেরের আটা ছয়/সাত টাকা, দুই আনা সেরের কাঁচা মরিচ চল্লিশ/পঞ্চাশ টাকা, আট আনা সেরের লবন চল্লিশ/পঞ্চাশ টাকা, পাঁচ টাকা সেরের সরিষার তেল ত্রিশ/চল্লিশ টাকা, এক টাকা সেরের মসুর ডাল আট/নয় টাকা, পাঁচ টাকার শাড়ি পঁয়ত্রিশ টাকা, তিন টাকার লুংগি পনর/বিশ টাকা এবং একশত চল্লিশ/দেড়শত টাকার এক ভরি স্বর্ণ নয়শত/এক হাজার টাকায় এসে দাঁড়ায়।
কল-কারখানায় উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হয়। পাটের গুদামে বহুসংখ্যক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভোগ্যপণ্যের তীব্র অভাব দেখা দেয়। অর্ধাহারে থাকতে হয় অগণিত মানুষকে। পথে পথে কঙ্কালসার মানুষ দৃষ্ট হয়।
১৯৭৪ এর শেষভাগে দুর্ভিক্ষে মৃত্যুবরণ করে বহুসংখ্যক মানুষ। এমতাবস্থায় সমালোচনার মুখ বন্ধ করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সনের ১৬ই জুন ঞযব ঘবংিঢ়ধঢ়বৎ (অহহঁষসবহঃ ড়ভ উবপষধৎধঃরড়হ) অপঃ ১৯৭৫ জারি করেন। সরকার বাংলাদেশ অবজারভার, বাংলাদেশ টাইমস, দৈনিক বাংলা এবং দৈনিক ইত্তেফাক অধিগ্রহণ করে। বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১৯৭৫ সনের ২৩শে জুন সারাদেশকে একষট্টি জিলায় বিভক্ত করে একষট্টি জন গভর্নর নিযুক্ত করে শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসনের ভিত মজবুত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। অসন্তোষ তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। গোটা দেশে একটি শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা সৃষ্টি হয়।
শেখ মুুজিবুর রহমান এক সময় ছিলেন গোটা জাতির নয়নমণি। তাঁর জনপ্রিয়তা ছিলো অতুলনীয়। কিন্তু তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সুবিধাভোগী কিছু লোক ছাড়া সারা দেশের কোটি কোটি মানুষ একটি পরিবর্তন প্রত্যাশী হয়ে ওঠে।
ঠিক এই সময়েই ঘটে একটি বড়ো রকমের ঘটনা। ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্ট মর্মান্তিকভাবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। বহু আপনজনসহ নিহত হন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
শেখ মুজিবুর রহমানের পতনের কারণ বিশ্লেষণ করে একজন বিদেশী সাংবাদিক বলেন, “তাঁর (মুজিবের) বিপর্যয়ের রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রধানত তিনটি উপকরণ মিশে আছে। প্রথমত সামরিক বাহিনীর প্রধান হওয়া সত্তে¡ও মুজিব সেনাবাহিনীকে অবিশ্বাস ও অবজ্ঞা করতেন।……সামরিক অফিসারদের মর্যাদা ক্ষুণœ করার কোন সুযোগ তিনি ছাড়তেন না। স্পষ্টতই তাদের ওপর তিনি গোয়েন্দাগিরি চালাতেন।…. মুজিবের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে অনুগত উচ্চ ট্রেনিংপ্রাপ্ত, সুসজ্জিত, ইউনিফরমধারী রক্ষীবাহিনীকে অস্ত্রেশস্ত্রে, বেতনে-ভাতায়, ব্যয়ে-বরাদ্দে সামরিক বাহিনীর চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হতো। উভয়ের স্বার্থের অনেক সংঘাতেই মুজিব অন্ধভাবে রক্ষীবাহিনীকে সমর্থন করতেন।….. মুজিবের পতনের দ্বিতীয় প্রধান কারণ হচ্ছে ১৯৭২ সালে রচিত বাংলাদেশ শাসনতন্ত্রে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা থেকে সরিয়ে দেয়া। ইসলামের মর্যাদার এই অবনয়ন অনিশ্চয়তা সূচক প্রমাণিত হয়েছে। ‘এক হাজার মসজিদের শহর’ বলে ঢাকা বরাবরই গর্ব করেছে এবং বাঙালীরা ঐতিহ্যগতভাবেই পশ্চিম পাকিস্তানীদের চেয়ে বেশি ধর্মানুরাগী। অপরদিকে বাঙ্গালী মুসলমানরা উপমহাদেশে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্রের পরিকল্পনা অবিচলিতভাবে সমর্থন করেছিলেন বলেই ১৯৪৭ সালে
পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিল। এই পশ্চাদভূমিতে মুজিবের অনুসৃত ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাংলাদেশের জনগণের বৃহত্তম অংশকে আহত করেছিল। তাই নতুন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মুশতাক আহমদ বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক ঘোষণা করে রাতারাতি জনসমর্থন লাভ করেছেন। গত শুক্রবার জুমা’র নামাযের জন্য কারফিউ উঠিয়ে দিলে মসজিদে এই জনসমর্থন অভিব্যক্ত হয়েছে।”

১৯৭৫ সনের নভেম্বর বিপ্লব
১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্ট সেনাঅভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দের অনুরোধে শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী খন্দকার মুশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি মুশতাক আহমদ আওয়ামী লীগ নেতা জনাব মোহাম্মদউল্লাহকে উপরাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দেন এবং দশ সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এই মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন Ñ বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, প্রফেসর ইউসুফ আলী, বাবু ফনীভূষণ মজুমদার, জনাব সোহরাব হোসেন, জনাব আবদুল মান্নান, বাবু মনোরঞ্জন ধর, জনাব আবদুল মমিন এবং জনাব আসাদুজ্জামান খান। এঁরা সকলেই ছিলেন আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতা। অবশিষ্ট দুইজন ছিলেন ড. আজিজুর রহমান মল্লিক এবং ড. মোজাফফর আহমদ।
তাছাড়া রাষ্ট্রপতি ১১ জনকে প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। তাঁরা হলেনÑ জনাব দেওয়ান ফরিদ গাজী, জনাব মোমেনউদ্দিন আহমদ, প্রফেসর নূরুল ইসলাম চৌধুরী, জনাব শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, জনাব তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, জনাব মোসলেমউদ্দিন খান, জনাব নূরুল ইসলাম মঞ্জুর, জনাব কে এম ওবায়দুর রহমান, ডাঃ ক্ষিতিশ চন্দ্র মন্ডল, জনাব রিয়াজউদ্দিন আহমদ এবং জনাব সৈয়দ আলতাফ হোসেন। এঁরাও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।
২৪শে আগস্ট তিনি চিফ অব স্টাফ পদ থেকে মেজর জেনারেল সফিউল্লাহকে সরিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে উক্ত পদে নিয়োগ দেন।
২৮শে আগস্ট তিনি একষট্টি জেলায় একষট্টিজন গভর্নর নিয়োগের আদেশ বাতিল করেন।
১লা সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করেন।
২৬শে সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি একটি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। এই অর্ডিন্যান্সে বলা হয় যে ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্টের পরিবর্তনের সাথে জড়িত কারো বিরুদ্ধে দেশের কোন আদালতে অভিযোগ করা যাবে না।
৫ই অক্টোবর রাষ্ট্রপতি জাতীয় রক্ষীবাহিনীকে সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
১৬ই অকটোবর রাষ্ট্রপতি এয়ার মার্শাল এ.কে. খন্দকারকে বিমানবাহিনী প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে এম.এ.জি.তাওয়াবকে উক্ত পদে নিযুক্তি দেন।
৩রা নভেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন (অব.) মনসুর আলী।
৩রা নভেম্বর ভোর রাতে ঢাকাস্থ পদাতিক ডিভিশন এবং বিমানবাহিনীর একটি অংশের সাহায্যে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান।
অভ্যুত্থানকারীরা ক্যান্টনমেন্টে চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তাঁর বাসভবনে অবরুদ্ধ করে ফেলে। তারা বঙ্গভবনে অবরদ্ধ করতে সক্ষম হয় রাষ্টপতি খন্দকার মুশতাক আহমদকে।
ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান এবং তাঁর সাথীদেরকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। কর্নেল ফারুক রহমান এবং তাঁর সংগীরা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানান। বংগভবনে একটি রক্তাক্ত সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই সময় জেনারেল (অব.) মুহাম্মাদ আতাউল গনী ওসমানী একটি জিপে সাদা পতাকা উড়িয়ে বঙ্গভবনে উপস্থিত হন। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল শাফায়াত জামিল তখন রাষ্ট্রপতির সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছিলেন। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর একটি সমঝোতা হয়। লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর শরিফুল হক ডালিম, মেজর আযিয পাশা, মেজর মহিউদ্দিন, মেজর শাহরিয়ার, মেজর বজলুল হুদা, মেজর রাশেদ চৌধুরী, মেজর নূর, মেজর শরফুল হোসেন, লে. কিসমত হোসেন, লে. খায়রুজ্জামান, লে. আবদুল মাজেদ, হাবিলদার মুসলেহউদ্দিন, নায়েক মারফত আলী এবং নায়েক মুহাম্মাদ হাশেমকে একটি বিমানে করে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়।
৪ঠা নভেম্বর রেডিওতে ঘোষণা হয় যে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ সেনাবাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হয়েছেন।
৫ই নভেম্বর রেডিওতে ঘোষণা হয় যে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাক আহমদ সামরিক বিধি সংশোধন করে তাঁর উত্তরাধিকারী নিয়োগের বিধান সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এ.এস.এম. সায়েমের অনুকূলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
৬ই নভেম্বর নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিচারপতি এ.এস.এম. সায়েম।
এই দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ কর্তৃক সংঘটিত অভ্যুত্থান একটি প্রো-ইন্ডিয়া অভ্যুত্থান। সারা দেশের ক্যান্টনমেন্টগুলো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর আসতে থাকে যে যশোর, রংপুর, বগুড়া এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের সিপাহিরা খালেদ মোশাররফকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ঢাকার দিকে এগিয়ে আসছে। ৬ই নভেম্বর মধ্যরাতের পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সিপাহিরাও অফিসারদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে পড়ে।
(চলবে)
লেখক : সাবেক নায়েবে আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
তথ্যসূত্র :
১. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা-১৩০।
২. উদ্ধৃত, আবুল আসাদ, কালো পঁচিশের আগে ও পরে, পৃষ্ঠা : ২৭৬-২৭৭।
৩. শর্মিলা বসু, ডেড রেকনিং, পৃষ্ঠা-১৮১।
৪. খন্দকার আবুল খায়ের, ৭১-এ কি ঘটেছিল রাজাকার করা ছিল, পৃষ্ঠা-৬,৭,৮,৯।
৫. মওদুদ আহমদ, বাংলাদেশ : শেখ মুজিবর রহমানের শাসনকাল, পৃষ্ঠা-৭৫।
৬. আতিক হেলাল সম্পাদিত, মেজর জলিল রচনাবলী, পৃষ্ঠা-৩৫।

SHARE

Leave a Reply