রাজনীতিবিদদের সরাসরি ইন্ধনে দলীয় কর্মীরা রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছিল -শেখ শওকত হোসেন নিলু

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু মনে করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টনের লোমহর্ষক ঘটনাটি ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থানের জন্য এবং বাংলাদেশকে একটি গণতন্ত্রহীন সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ঘটানো হয়েছিল। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ঘটনা সর্বকালের নিন্দনীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ছাত্র সংবাদ : ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনের লগি-বৈঠার তাণ্ডবকে আপনি কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?
শেখ শওকত হোসেন নিলু : একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টনের লোমহর্ষক ঘটনা ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থানের জন্য এবং বাংলাদেশকে একটি গণতন্ত্রহীন সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ঘটানো হয়েছিল। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ঘটনা সর্বকালের নিন্দনীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এরূপ আচরণ সাধারণ মানুষের বিবেককে এখনো আতঙ্কিত করে তোলে।
ছাত্র সংবাদ : সে দিনের ঘটনায় আপনার অনুভূতি কী হয়েছিল?
শেখ শওকত হোসেন নিলু : গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক দল ঠাণ্ডা মাথায় এ হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। মহাজোটের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও দায়ী। এ ঘটনায় আমি ভীষণভাবে ব্যথিত হয়েছিলাম।
ছাত্র সংবাদ : দেশের ইতিহাসে এ জঘন্যতম ঘটনার বিচার হওয়া উচিত কি-না? আপনি কী মনে করেন?
শেখ শওকত হোসেন নিলু : ঘটনাটি ছিল রাজনীতি তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘৃণ্যতম অধ্যায়। যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল বর্তমানে তারা বিবেকের কাঠগড়ায় দায়ী। জনগণের কাছেও দোষী ও ঘৃণ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। রাজনীতিবিদদের সরাসরি ইন্ধনে তাদের দলীয় কর্মীরা রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছিল। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া জরুরি। এসব নৈতিকতা বিবর্জিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নায়কদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
ছাত্র সংবাদ : বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারতো দূরের কথা, মামলাটি প্রত্যাহারই করে নেয়া হয়। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?
শেখ শওকত হোসেন নিলু : সরকার ২৮ অক্টোবরের ঘটনার দোষিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করেছে। দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বিচার ব্যবস্থাকে করেছে কলঙ্কিত। সরকার তাদের অপকর্ম ঢাকার জন্য ওই নির্লজ্জ হত্যা মামলা উঠিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও দেশের জনগণের কাছে তারা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।
ছাত্র সংবাদ : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
শেখ শওকত হোসেন নিলু : বর্তমান সরকার ও সরকারের ভিতরের একটি অংশ দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। বাংলাদেশকে ভারতের তাঁবেদার রাষ্ট্র বানাতে চায়। এ অপশাসনের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক সকল রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ আন্দোলনে যারা বিভেদ সৃষ্টি করবে মনে রাখতে হবে তারা সাম্রাজ্যবাদীদের দালাল। সরকার দেশপ্রেমিক জনতার ভিতরে বিভেদ জিইয়ে রাখতে চায় এটা আমাদের সকলকে বুঝতে হবে। সম্মিলিতভাবে আন্দোলন গড়ে তুললে সাম্রাজ্যবাদীদের দালালরা পরাজিত হতে বাধ্য হবে। দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মেয়র নির্বাচিত হওয়া তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
ছাত্র সংবাদ : ২৮ অক্টোবরের ঘটনা থেকে রাজনীতিবিদদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় কী?
শেখ শওকত হোসেন নিলু : ২৮ অক্টোবরের ঘটনা থেকে রাজনীতিবিদদের শিক্ষা নেয়া উচিত যে, মায়ের কোল খালি করা কোনো রাজনৈতিক শিষ্টাচার হতে পারে না। তবে রাজনীতিবিদরা সে শিক্ষা গ্রহণ করেছে কি-না সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে। যদি শিক্ষা গ্রহণ করতো তাহলে নাটোর বড়াই গ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুকে ২০১০ সালে এসে একই কায়দায় রামদা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করতে পারতো না। ওই দিন (২৮ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা তাদের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল। সেদিন নেতার আদেশ মেনে চলা ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধার বিরল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছিল জামায়াত কর্মীরা। যা রাজনৈতিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ছাত্র সংবাদ : দেশের রাজনীতি সম্পর্কে কিছু বলুন।
শেখ শওকত হোসেন নিলু : আওয়ামী লীগ অদ্ভুত চরিত্রের একটি দল। মিথ্যা কথা বলতে ওদের কোনো লাজ-লজ্জা নেই। সরকারের জুলুম নির্যাতন অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে চূড়ান্ত পরাজয় ঘটাতে হবে। জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামী মূল্যবোধের শক্তি একত্র হওয়া এখন সময়ের দাবি। জাতীয় ঐক্যই হলো জাতীয় নেতৃবৃন্দের রক্ষাকবচ।

SHARE

Leave a Reply