রাজনীতি যেন হয় দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য -মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

Chhatrasangbadছাত্র সংবাদ : ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়Ñ আপনার বক্তব্য বলুন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এই দিনেই বাংলাদেশে মানবতা, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের একটা কালো অধ্যায় সূচিত হয়েছে এবং আমাদের কাছে মনে হয়েছে আমরা একটা বর্বর যুগে বাস করছি। একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কিভাবে সন্ত্রাসীরা যারা নিজেদের রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে, প্রকাশ্যে জনসম্মুখে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে এটা সম্ভবত ইদানীংকালে আধুনিক এই সভ্যসমাজে দেখা গেছে বলে আমার জানা নেই। এই দৃশ্য দেখে আমার মনে হয়েছে যেন আমরা সেই আফ্রিকার জঙ্গলে বাস করছি। প্রকৃত পক্ষে সেই দিনেই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে, এবং যেটা এখন পর্যন্ত আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়নি। এই দেশে সন্ত্রাস সবসময় কম বেশি ছিল। কিন্তু এরকম সন্ত্রাস ভয়াবহ আমরা ইতঃপূর্বে আর কখনো দেখিনি। এই দিনটির কথা মনে হলে এখনো গা শিউরে উঠে এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দোয়া চাই এই রকম ঘটনা আমাদেরকে আর কোন দিন দেখতে না হয়।
ছাত্র সংবাদ : বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ২৮ অক্টোবরের ভূমিকাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ২৮ অক্টোবর যে ঘটনা ঘটেছিল তা হঠাৎ করে কোন ঘটনা নয়, এটা সুদূরপ্রসারী একটা পরিকল্পিত ঘটনা। সেই চক্রান্তের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্র ও পরনির্ভরশীল একটা রাষ্ট্রে পরিণত করা। এবং সেই কারণে যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে দেশপ্রেমিক মানুষ যারা বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলে তাদেরকে নির্মূল করে দেয়ার একটা গভীর ষড়যন্ত্র ছিল সেদিন এবং একটা ইলেকটেড গভর্মেন্ট জনপ্রিয় একটি সরকার তাকে কিভাবে টেনেহিঁচড়ে সন্ত্রাসের মাধ্যমে সেদিন তার নমুনা আমরা দেখিছি। সুতরাং বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি সেদিনের ঘটনাটাই ছিল আওয়ামী ক্ষমতায় যাওয়ার সূত্রপাত।
ছাত্র সংবাদ : নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলা সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব কী হতে পারে?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : মারাত্মক! সকলের চোখের সামনে যে ঘটনা ঘটলো, সকলের সামনে যে কতগুলো নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হলো। তার মামলা সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে! সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকে। রাষ্ট্রের সকল বিষয়গুলো তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সেই খানে যদি এই ধরনের সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিয়ে যদি মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয় তাহলে রাষ্ট্র বলতে কিছু থাকে না। এবং জনগণের আস্থাও রাষ্ট্রের ওপর থাকবে না এবং এই জন্য এর প্রভাবটি সুদূরপ্রসারী এবং এটা প্রতিহিংসার সৃষ্টি করবে। রাষ্ট্রের ওপর আস্থা চলে যাবে। আদালতের ওপর আস্থা চলে যাবে, সরকারের ওপর আস্থা, আইন পালনকারী যারা তাদের ওপর আস্থা চলে যাবে। ফলে একটা ভয়াবহ ঘটনার সৃষ্টি হবে এবং সেটাই আমরা এখন দেখছি।
ছাত্র সংবাদ : আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট(!) সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? আপনি কি মনে করে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে আবারও সচল করা যাবে?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : মহাজোট সরকার গত চার বছরে বাংলাদেশের যে ক্ষতি করেছে, সেই ক্ষতিটি হয়তো ব্রিটিশ, ইন্ডিয়ারাও করতে পারেনি, অথবা পাকিস্তান আমলে যে শোষণ চলেছে সেই সময়েও তা করতে পারেনি যা তারা চার বছরে করেছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাতকে দুর্নীতির মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের এতদিনকার পদ্মা সেতু পরিকল্পনাকে বিনষ্ট করে দিয়েছে। বিভিন্নভাবে জনগণের কাছ থেকে টাকা তারা টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কলকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সবচেয়ে উদ্বেগ হলো আমাদের গার্মেন্টসগুলো বিদেশী কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে যেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এটা সচল করা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু চারদলীয় জোট যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা এই কাজটুকু করতেই সক্ষম হয়েছিল। দুই হাজার এক সালের আগে যে অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল সেটা কিন্তু চারদলীয় জোটই আবার সচল করতে পেরেছিল। এটাই সবসময় হয় যারা দেশপ্রেমিক যারা জাতীয়তাবাদী শক্তি, বৃহত্তম জনশক্তির কথা চিন্তা করে তারা সবসময় ভালো জিনিসগুলো করতে পারে। দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে পারে দেশের শিল্পকলকারখানা তৈরি করতে পারে। কৃষিকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে। আর এটাই আমরা আশাবাদী যদি ভবিষ্যতে ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারি তবে আবার অর্থনীতিকে সচল করে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
ছাত্র সংবাদ : স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও এর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিভেদ সৃষ্টিকে আপনি কোন্ দৃষ্টিতে দেখছেন? দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কি জাতীয় ঐক্য সময়ের অনিবার্য দাবি নয়?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : খুব দুর্ভাগ্য আমাদের স্বাধীনতার এই ৪১ বছর পরও স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়। কারা করে? তারাই করে যারা এটাকে নিয়ে ব্যবসা করতে চায়। এখানে সবচে বড় জিনিস লক্ষ করে দেখবেন আজকে ৪১ বছরে একটা নতুন প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। এই প্রজন্ম বুঝে আমাকে কাজ করতে হবে। আমাকে কলকারখানা তৈরি করতে। আমাকে ভালো কোম্পানিতে চাকরি করতে হবে। আমার দেশের উন্নতি করতে হবে। আমার স্কুল-কলেজ, রাস্তা ঘাট তৈরি করতে হবে। হাসপাতাল তৈরি করতে হবে আমাকে আধুনিক সভ্যতার এই যুগে সমস্ত সুবিধাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং ৪১ বছর পরে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি করে দেশকে জাতিকে বিভক্ত করা হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে কারা যারা বাংলাদেশের বিপক্ষে রয়েছে। যারা চায় না বাংলাদেশ নিজের পারে নিজে ধারাক। যারা চায় বাংলাদেশ বাজারের পণ্য শক্তিতে পরিণত হোক। তাদের সেটা সুবিধা হয় তারাই সেটা করতে চায়। সুতরাং এটা দেশকে গোটা জাতিকে কখনোই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। আমি শুধু না বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যকটি মানুষেই চায় আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং সেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য সেই শুত্রুরা আবার এটাকে বিভক্ত করেছে এবং আমরা চেষ্টা করছি এটাকে আবার জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্যে দিয়ে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শক্তি তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে শক্তি যারা স্বাধীনতার পক্ষে শক্তি যারা গণতন্ত্রের পক্ষে উন্নয়নের পক্ষে যারা রয়েছে তাদেরকে একত্রিত করে দেশকে গড়ে তোলা।
ছাত্র সংবাদ : যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে সরকার যা করছে, কিভাবে তার মূল্যায়ন করবেন?
মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর : আমরা সব সময়ই বলে এসেছি বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে যে প্রহসব চলছে এটা সত্যিকারেরই প্রহসন। এই জন্য যে একটা মানবতা অপরাধের বিচার যেই ভাবে হওয়া উচিত, আন্তর্জাতিকভাবে কতগুলো ঘড়ৎসং রয়েছে সেইগুলো এখানে পালন করা হচ্ছে না। এখানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসা হায়েছে, তাদেরকে সেই সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে না যা তাদের পাওয়া উচিত। এবং আমারা পত্র পত্রিকায় যতটা দেখছি সাক্ষিকে হাজির করা তা হাস্যকার মনে হয় আমাদের কাছে। এখনও আমরা জোর গলায় এটা বলতে পারি স্বাধীনতার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সময় যারা এই অপরাধ করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু এটা করতে হবে রাজনৈতি উদ্দেশ্য ছাড়া। সেটা অবশ্যই হতে হবে ট্রান্সফারেন্স, স্বচ্ছ ফেয়ার তা না হলে এটা আরেকটা মানবতাবিরোধী কাজ হবে।
ছাত্র সংবাদ : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য ছাত্র ও যুবসমাজের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য তুলে ধরুন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : পৃথিবীর সব সমাজেই এবং সভ্যতার সকল সময় ছাত্র ও যুবকেরাই কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের নেয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে এটার কিছুটা ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। এই বাংলাদেশে কিন্তু ছাত্র-যুবসমাজ বহু অর্জন করেছে। ভাষা আন্দোলন ’৬৯ গণ-অভ্যত্থান, ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সবকিছুতেই ছাত্র যুবসমাজেই তাদের প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমরা বর্তমান সময়ে সেই জায়গায় আমরা কিছুটা ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। এই ঘাটতির মূল কারণটা আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে যে সমাজের যে অবক্ষয়গুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। আমাদের ছাত্র যুবসমাজ সঠিক দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে না। আমরা যদি ছাত্র যুবসমাজকে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারি, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পারি তবে তারা নিশ্চয়ই দেশের জন্য জনগণের জন্য কাজ করবে এবং আমার তাদের কাছে এটাই আবেদন থাকবে রাজনীতিবিমুখ হয়ে নয়, রাজনীতিতে এসে রাজনীতিকে সুস্থ করে তুলতে হবে। রাজনীতি যেন সত্যিকারে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারে, এই জন্য আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজকে আমাদের বেশি প্রয়োজন। তাদের নেতৃত্ব আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এবং আমরা সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছি।ছাত্র সংবাদ : ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়Ñ আপনার বক্তব্য বলুন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এই দিনেই বাংলাদেশে মানবতা, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের একটা কালো অধ্যায় সূচিত হয়েছে এবং আমাদের কাছে মনে হয়েছে আমরা একটা বর্বর যুগে বাস করছি। একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কিভাবে সন্ত্রাসীরা যারা নিজেদের রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে, প্রকাশ্যে জনসম্মুখে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে এটা সম্ভবত ইদানীংকালে আধুনিক এই সভ্যসমাজে দেখা গেছে বলে আমার জানা নেই। এই দৃশ্য দেখে আমার মনে হয়েছে যেন আমরা সেই আফ্রিকার জঙ্গলে বাস করছি। প্রকৃত পক্ষে সেই দিনেই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে, এবং যেটা এখন পর্যন্ত আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়নি। এই দেশে সন্ত্রাস সবসময় কম বেশি ছিল। কিন্তু এরকম সন্ত্রাস ভয়াবহ আমরা ইতঃপূর্বে আর কখনো দেখিনি। এই দিনটির কথা মনে হলে এখনো গা শিউরে উঠে এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দোয়া চাই এই রকম ঘটনা আমাদেরকে আর কোন দিন দেখতে না হয়।
ছাত্র সংবাদ : বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ২৮ অক্টোবরের ভূমিকাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ২৮ অক্টোবর যে ঘটনা ঘটেছিল তা হঠাৎ করে কোন ঘটনা নয়, এটা সুদূরপ্রসারী একটা পরিকল্পিত ঘটনা। সেই চক্রান্তের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্র ও পরনির্ভরশীল একটা রাষ্ট্রে পরিণত করা। এবং সেই কারণে যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে দেশপ্রেমিক মানুষ যারা বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলে তাদেরকে নির্মূল করে দেয়ার একটা গভীর ষড়যন্ত্র ছিল সেদিন এবং একটা ইলেকটেড গভর্মেন্ট জনপ্রিয় একটি সরকার তাকে কিভাবে টেনেহিঁচড়ে সন্ত্রাসের মাধ্যমে সেদিন তার নমুনা আমরা দেখিছি। সুতরাং বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি সেদিনের ঘটনাটাই ছিল আওয়ামী ক্ষমতায় যাওয়ার সূত্রপাত।
ছাত্র সংবাদ : নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলা সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব কী হতে পারে?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : মারাত্মক! সকলের চোখের সামনে যে ঘটনা ঘটলো, সকলের সামনে যে কতগুলো নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হলো। তার মামলা সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে! সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকে। রাষ্ট্রের সকল বিষয়গুলো তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সেই খানে যদি এই ধরনের সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিয়ে যদি মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয় তাহলে রাষ্ট্র বলতে কিছু থাকে না। এবং জনগণের আস্থাও রাষ্ট্রের ওপর থাকবে না এবং এই জন্য এর প্রভাবটি সুদূরপ্রসারী এবং এটা প্রতিহিংসার সৃষ্টি করবে। রাষ্ট্রের ওপর আস্থা চলে যাবে। আদালতের ওপর আস্থা চলে যাবে, সরকারের ওপর আস্থা, আইন পালনকারী যারা তাদের ওপর আস্থা চলে যাবে। ফলে একটা ভয়াবহ ঘটনার সৃষ্টি হবে এবং সেটাই আমরা এখন দেখছি।
ছাত্র সংবাদ : আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট(!) সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? আপনি কি মনে করে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে আবারও সচল করা যাবে?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : মহাজোট সরকার গত চার বছরে বাংলাদেশের যে ক্ষতি করেছে, সেই ক্ষতিটি হয়তো ব্রিটিশ, ইন্ডিয়ারাও করতে পারেনি, অথবা পাকিস্তান আমলে যে শোষণ চলেছে সেই সময়েও তা করতে পারেনি যা তারা চার বছরে করেছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাতকে দুর্নীতির মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের এতদিনকার পদ্মা সেতু পরিকল্পনাকে বিনষ্ট করে দিয়েছে। বিভিন্নভাবে জনগণের কাছ থেকে টাকা তারা টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কলকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সবচেয়ে উদ্বেগ হলো আমাদের গার্মেন্টসগুলো বিদেশী কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে যেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এটা সচল করা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু চারদলীয় জোট যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা এই কাজটুকু করতেই সক্ষম হয়েছিল। দুই হাজার এক সালের আগে যে অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল সেটা কিন্তু চারদলীয় জোটই আবার সচল করতে পেরেছিল। এটাই সবসময় হয় যারা দেশপ্রেমিক যারা জাতীয়তাবাদী শক্তি, বৃহত্তম জনশক্তির কথা চিন্তা করে তারা সবসময় ভালো জিনিসগুলো করতে পারে। দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে পারে দেশের শিল্পকলকারখানা তৈরি করতে পারে। কৃষিকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে। আর এটাই আমরা আশাবাদী যদি ভবিষ্যতে ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারি তবে আবার অর্থনীতিকে সচল করে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
ছাত্র সংবাদ : স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও এর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিভেদ সৃষ্টিকে আপনি কোন্ দৃষ্টিতে দেখছেন? দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কি জাতীয় ঐক্য সময়ের অনিবার্য দাবি নয়?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : খুব দুর্ভাগ্য আমাদের স্বাধীনতার এই ৪১ বছর পরও স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়। কারা করে? তারাই করে যারা এটাকে নিয়ে ব্যবসা করতে চায়। এখানে সবচে বড় জিনিস লক্ষ করে দেখবেন আজকে ৪১ বছরে একটা নতুন প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। এই প্রজন্ম বুঝে আমাকে কাজ করতে হবে। আমাকে কলকারখানা তৈরি করতে। আমাকে ভালো কোম্পানিতে চাকরি করতে হবে। আমার দেশের উন্নতি করতে হবে। আমার স্কুল-কলেজ, রাস্তা ঘাট তৈরি করতে হবে। হাসপাতাল তৈরি করতে হবে আমাকে আধুনিক সভ্যতার এই যুগে সমস্ত সুবিধাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং ৪১ বছর পরে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি করে দেশকে জাতিকে বিভক্ত করা হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে কারা যারা বাংলাদেশের বিপক্ষে রয়েছে। যারা চায় না বাংলাদেশ নিজের পারে নিজে ধারাক। যারা চায় বাংলাদেশ বাজারের পণ্য শক্তিতে পরিণত হোক। তাদের সেটা সুবিধা হয় তারাই সেটা করতে চায়। সুতরাং এটা দেশকে গোটা জাতিকে কখনোই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। আমি শুধু না বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যকটি মানুষেই চায় আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং সেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য সেই শুত্রুরা আবার এটাকে বিভক্ত করেছে এবং আমরা চেষ্টা করছি এটাকে আবার জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্যে দিয়ে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শক্তি তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে শক্তি যারা স্বাধীনতার পক্ষে শক্তি যারা গণতন্ত্রের পক্ষে উন্নয়নের পক্ষে যারা রয়েছে তাদেরকে একত্রিত করে দেশকে গড়ে তোলা।
ছাত্র সংবাদ : যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে সরকার যা করছে, কিভাবে তার মূল্যায়ন করবেন?
মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর : আমরা সব সময়ই বলে এসেছি বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে যে প্রহসব চলছে এটা সত্যিকারেরই প্রহসন। এই জন্য যে একটা মানবতা অপরাধের বিচার যেই ভাবে হওয়া উচিত, আন্তর্জাতিকভাবে কতগুলো ঘড়ৎসং রয়েছে সেইগুলো এখানে পালন করা হচ্ছে না। এখানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসা হায়েছে, তাদেরকে সেই সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে না যা তাদের পাওয়া উচিত। এবং আমারা পত্র পত্রিকায় যতটা দেখছি সাক্ষিকে হাজির করা তা হাস্যকার মনে হয় আমাদের কাছে। এখনও আমরা জোর গলায় এটা বলতে পারি স্বাধীনতার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সময় যারা এই অপরাধ করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু এটা করতে হবে রাজনৈতি উদ্দেশ্য ছাড়া। সেটা অবশ্যই হতে হবে ট্রান্সফারেন্স, স্বচ্ছ ফেয়ার তা না হলে এটা আরেকটা মানবতাবিরোধী কাজ হবে।
ছাত্র সংবাদ : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য ছাত্র ও যুবসমাজের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য তুলে ধরুন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : পৃথিবীর সব সমাজেই এবং সভ্যতার সকল সময় ছাত্র ও যুবকেরাই কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের নেয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে এটার কিছুটা ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। এই বাংলাদেশে কিন্তু ছাত্র-যুবসমাজ বহু অর্জন করেছে। ভাষা আন্দোলন ’৬৯ গণ-অভ্যত্থান, ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সবকিছুতেই ছাত্র যুবসমাজেই তাদের প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমরা বর্তমান সময়ে সেই জায়গায় আমরা কিছুটা ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। এই ঘাটতির মূল কারণটা আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে যে সমাজের যে অবক্ষয়গুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। আমাদের ছাত্র যুবসমাজ সঠিক দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে না। আমরা যদি ছাত্র যুবসমাজকে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারি, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পারি তবে তারা নিশ্চয়ই দেশের জন্য জনগণের জন্য কাজ করবে এবং আমার তাদের কাছে এটাই আবেদন থাকবে রাজনীতিবিমুখ হয়ে নয়, রাজনীতিতে এসে রাজনীতিকে সুস্থ করে তুলতে হবে। রাজনীতি যেন সত্যিকারে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারে, এই জন্য আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজকে আমাদের বেশি প্রয়োজন। তাদের নেতৃত্ব আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এবং আমরা সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছি।

SHARE

Leave a Reply