রামাদান মাসের ভাবনা শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজার বিধিবিধান

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান

3সিয়াম বা রোজার ফরজসমূহ : ১। নিয়ত করা ২। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা। ৩। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যৌন বাসনা পূরণ থেকে বিরত থাকা।
সিয়াম বা রোজা ফরজ হওয়ার শর্ত : ১। মুসলিম হওয়া ২। বালেগ হওয়া ৩। সিয়াম পালনে অক্ষম না হওয়া।
সিয়াম বা রোজা ভঙ্গের কারণ এবং যে জন্য শুধু কাযা রোজা রাখতে হয় : ১। কুলি করার সময় হঠাৎ গলার ভেতর পানি চলে গেলে। ২। বলপূর্বক গলার ভেতর কিছু ঢেলে দিলে। ৩। নাকে অথবা কানে ওষুধ ঢেলে দিলে। ৪। ইচ্ছা করে মুখভর্তি বমি করলে। ৫। কাঁকড়, মাটি, কাঠের টুকরা ইত্যাদি অখাদ্য খেলে। ৬। পায়খানার রাস্তায় পিচকারী দিলে। ৭। পেটে বা মস্তিষ্কে ওষুধ লাগানোর ফলে তার তেজ যদি উদর বা মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। ৮। নিদ্রাবস্থায় পেটের ভেতর কিছু ঢুকলে। ৯। রাত আছে মনে করে অথবা সূর্য ডুবে গেছে মনে কিছু খেলে। ১০। মুখে বমি আসার পর পুনরায় তা গিলে ফেললে। ১১। দাঁত থেকে ছোলা পরিমাণ কিছু বের করে তা গিলে ফেললে। ১২। জবরদস্তিমূলক সঙ্গম করলে।
যেসব কারণে সিয়াম বা রোজা ভঙ্গ হয় না : ১। চোখে সুরমা লাগালে। ২। শরীরে তেল মালিশ করলে। ৩। অনিচ্ছাকৃত বমি করলে ৪। থুথু গিলে ফেললে। ৫। দাঁতে আটকে থাকা খাবার ছোলা পরিমাণ হতে কম হলে এবং তা গিলে ফেললে। ৬। মেসওয়াক করলে। ৭। কানের  ভেতর পানি ঢুকলে। ৮। অনিচ্ছাকৃত ধুলাবালি, মশা মাছি বা ধুয়া গলার মধ্যে গেলে। ৯। স্বপ্নদোষ হলে। ১০। ভুলবশত পানাহার বা স্ত্রী সঙ্গম করলে।
যেসব কারণে সিয়াম বা রোজার কাযা ও কাফ্ফারা উভয়ই ওয়াজিব হয় : ১। রোজা রেখে ইচ্ছা করে পানাহার করলে। ২। রোজা রেখে যৌনবাসনা পূরণ করলে ৩। স্বেচ্ছায় দিনের বেলায় সঙ্গম ছাড়া বিকল্প পন্থায় বীর্যপাত করলে।
সিয়াম বা রোজার কাফ্ফারা : ১। উপরোক্ত কারণে রোজা ভঙ্গ করলে একটি রোজার জন্য একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে এবং যে রোজার কাফ্ফারা দেয়া হবে সে রোজার কাযাও আদায় করতে হবে। সুতরাং একাধারে ৬১টি রোজা রাখতে হবে। ২। একাধারে রোজা রাখতে অক্ষম হলে ৬০ জন মিসকিনকে দু’বেলা পেট ভরে খাওয়াতে হবে। ৩। মিসকিনকে খাওয়াতে অক্ষম হলে একজন গোলাম আজাদ বা মুক্ত করে দিতে হবে।
যে সব কারণে সিয়াম বা রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ : ১। যদি কেউ এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে, রোজা রাখলে তার জীবননাশের আশঙ্কা হয় বা তার দুরারোগ্য অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। ২। সন্তান সম্ভবা এবং প্রসূতি মাতা ও দুগ্ধপোষ্য সন্তানের বিশেষ ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে। ৩। স্ত্রী লোকের ঋতুস্রাব দেখা দিলে, সন্তান প্রসব হলে নিফাসের সময়। ৪। কোন বৃদ্ধ শক্তিহীন হলে। ৫। সফরকালে ইত্যাদি কারণে রামাদান মাসে সিয়াম বা রোজা না রেখে অন্য সময় তা কাযা আদায় করতে হবে।
সাহ্রিতে রয়েছে বরকত : সাহরির পরিচয়- আরবি সাহারুন শব্দের অর্থ রাতের শেষভাগ। উল্লেখ্য যে, শব্দটি প্রচলিত সেহরি নয়। সেহরুন বা সেহরি শব্দের অর্থ জাদু, ধোঁকা ইত্যাদি। শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে সাহরি। মূলত  সিয়াম পালন তথা রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাত্রের শেষভাগে অর্থাৎ ভোর রাত্রে যে পানাহার করা হয় তাকে সাহ্রি বলা হয়। সাহরি করা সিয়াম পালনের সুন্নাত।
সাহরী এর নিয়ম :  ১। রাতের শেষ অংশে অর্থাৎ ভোরবেলায় সামর্থ্য অনুযায়ী পানাহার করা এবং সুবহে সাদিকের আগে শেষ করা। ২। সাহ্রির উদ্দেশ্যে মধ্যরাত্রে না খাওয়া। ৩। সাহ্রী খাওয়া থেকে বিরত না থাকা।
সাহরির গুরুত্ব : ১। সাহরি বরকতময় : হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) বলেছেন, “তোমরা সাহ্রি খাবে, নিশ্চয়ই সাহরির মধ্যে বরকত রয়েছে।’’ (সহীহ মুসলিম চতুর্থ খণ্ড-২৪১৫)
২। ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের সাথে পার্থক্য স্বরূপ : হযরত আমর ইবনুল আ’স (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) বলেছেন, “আমাদের এবং আহলে কিতাব অর্থাৎ ইহুদি খ্রিষ্টানদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া।’’ (সহীহ মুসলিম চতুর্থ খণ্ড-২৪১৬)।
তাক্ওয়া অর্জনের উদ্দেশ্যেই সিয়াম : তাক্ওয়া কী? হযরত উমর (রা) তাক্ওয়ার ব্যাখ্যা জানাতে চাইলে হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা) বলেন, আপনি কি কণ্টাকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করেছেন? হযরত উমর (রা) বলেন, হ্যাঁ। উবাই ইবনে কা’ব পুনরায় প্রশ্ন করেন, তখন আপনি কী করেছেন? জবাবে উমর (রা) বলেন, আমি সাবধানতা অবলম্বন করে দ্রুতগতিতে ঐপথ অতিক্রম করলাম। উবাই ইবনে কাব বলেন, এটাই তাকওয়া। আর যিনি তাক্ওয়া অবলম্বন করেন তাকে বলা হয় মুত্তাকি।
ইসলামী নৈতিকতায় তৃতীয় স্তর হচ্ছে তাক্ওয়া। তাক্ওয়া বলতে সাধারণত আল্লাহভীতি বুঝায়। অথচ তাক্ওয়া অর্থ কেবল ভয়ভীতি বুঝায় না। ভয়-ভীতির আরবি প্রতিশব্দ ‘খাওফুন’ ও ‘খাশিয়াতুন’। প্রকৃতপক্ষে তাক্ওয়া আরবি শব্দ… থেকে এর অর্থ বাঁচা, আত্মরক্ষা করা বা নিষ্কৃতি পাওয়া ইত্যাদি। পরিভাষায় আল্লাহর ভয় ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যাবতীয় অপরাধ, অন্যায় ও অপছন্দনীয় চিন্তা, কথা ও কাজ থেকে আত্মরক্ষার মনোভাবকে তাক্ওয়া বলা হয়।
তাক্ওয়ার ক্ষেত্র বা পরিধি : তাক্ওয়ার ক্ষেত্র সীমাহীন বিস্তৃত। আল্লাহ ঈমানদারদের আহ্বান করে বলেন : “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর যেমন ভয় করা উচিত এবং আত্মসমর্পণকারী হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করো না।”
মানবজাতির স্বভাব নগদে বিশ্বাস। দুনিয়ার হায়াত গড়ে প্রায় ৬০-৭০ বছর। শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার সাথে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ তার মেধা, যোগ্যতা ও শ্রম পুরোপুরি বিনিয়োগ করে। কিন্তু পরকালের সীমাহীন জীবনের জন্য তার সময় ও শ্রম কতটুকু ব্যয় হয়? আল্লাহ কি মানুষের মনের গোপন অবস্থা জানেন না? সব খবর রাখেন না? যাবতীয় কার্যকলাপ দেখেন না? আল-কুরআন এসব প্রশ্নের সুন্দরতম উত্তর দিয়েছে।
১. আল্লাহ আমাদের সব কাজের খবর রাখেন : “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির দেখা উচিত আগামীকালের জন্য সে কী প্রেরণ করেছে। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ খবর রাখেন, তোমরা যা কর।’’ (সূরা হাশর-১৮) ২. আল্লাহ আমাদের মনের গোপন খবরও রাখেন : “আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মনের সব বিষয় সম্পর্কে খবর রাখেন।’’ (সূরা মায়েদা-৭) ৩. আল্লাহ আমাদের সব বিষয়েই জানেন : “আল্লাহকে ভয় কর, এবং জেনে রাখ নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়েই জানেন।’’ ৪. আল্লাহ আমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ দেখেন : “তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আর মনে রেখ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ দেখেন।
মাহে রামাদানের শ্রেষ্ঠ উপহার আল-কুরআন : সময় ও কালের বিচেনায় সব দিন-ক্ষণ সমান। কিন্তু গুরুত্ব ও বিশেষত্ব বিবেচনায় কোন কোন দিনক্ষণ স্মরণীয় ও বর্ণাঢ্য হয়ে থাকে। যেমন ভাষাদিবস, স্বাধীনতা দিবস, কুরআন দিবস ও শহীদ দিবস ইত্যাদি। কোন বিশেষ সময়ে ও দিবসগুলোর কর্মকাণ্ড দেশ জাতির হৃদয়ে গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছে। ফলে বছর ঘুরে দিবসগুলো নতুন করে আনন্দ-বেদনা কর্মপ্রেরণা ও সাহস জোগায়। ধনী-গরিব, বড় ছোট, অট্টালিকা-বস্তি ও শহর গ্রাম সকলের মাঝে নতুন করে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা নিয়ে আসে মাহে রামাদান। প্রকৃতপক্ষে এ রামাদানের মর্যাদা বা শক্তির উৎস কী? সূরা বাকার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “রামাদান মাস। এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবজাতির জন্য পথনির্দেশিকা। সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।’’
উক্ত আয়াতে ২টি বিষয় নির্দেশিত হয়েছে। ১. আল-কুরআন নাজিল হয়েছে রামাদান মাসে। ২. মানবজাতির জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশিকা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।
কিভাবে কুরআন মানবজাতির ‘পথ নির্দেশিকা’ : যুগে যুগে মানুষ পথচলার জন্য বিভিন্ন দর্শন ও মতবাদ আবিষ্কার করে। মানবজাতিকে পথ দেখানোর জন্য দার্শনিক সক্রেটিস, এরিস্টটল ও প্লেটো আদর্শ রাজা ও দার্শনিক রাজার জয়গান গেয়েছেন। দার্শনিক রাজার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা জন্য তাদের কাল্পনিক রাজার সাক্ষাৎ তারা পাননি।
এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দার্শনিক মানবজাতিকে পথ দেখানোর জন্য বিভিন্ন মতবাদ আবিষ্কার করেন। সতেরো শতকের দিকে ইতালিবাসীকে পথ দেখানোর উদ্দেশ্যে দার্শনিক মুসোলিনি খণ্ড-বিখণ্ড ইতালিবাসীকে জাতীয়তাবাদের দিকে আহ্বান করেন যা কেবল জাতিপূজার সঙ্কীর্ণ মতবাদে পরিণত হয়। জাতীয়তাবাদের মূল বক্তব্যই হচ্ছে- জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। কিন্তু এতে জাতি পরিচালনার কোনো দিকনির্দেশনার অস্তিত্ব নেই। যদি জাতীয়তাবাদকে প্রশ্ন করা হয়-কিভাবে আমি আমার জীবন পরিচালনা করব? প্রতিবেশীর সাথে কী ব্যবহার করব? কিংবা কিভাবে পারস্পরিক লেনদেন করব? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর জাতীয়তাবাদের কাছে নেই।
আল কুরআন রহমত, প্রভাব বিস্তারকারী ও সতর্কবাণী : “আমরা কুরআনে এমন সব বিষয় অবতীর্ণ করেছি, যাতে মুমিনদের জন্য রয়েছে নিরাময় ও রহমত। আর এ কুরআন জালিমদের জন্য ধ্বংস ও ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।’’ (সূরা বনি-ইসরাইল : ৮২)
আল-কুরআন আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াত : “যারা তাদের রবকে ভয় করে (এই কিতাব পাঠ ও শ্রবণ করলে) তাদের লোম শিউরে ওঠে। তারপর তাদের দেহমন বিগলিত হয়ে আল্লাহর স্মরণে নিবিষ্ট হয়। এটি হচ্ছে আল্লাহপ্রদত্ত হিদায়াত, যাকে ইচ্ছা ও হেদায়েত দিয়ে থাকেন।’’ (সূরা জুমার ২৩)
আল কুরআন ঈমান বাড়িয়ে দেয় : “যখন তাদের সামনে আল্লাহর আয়াত (কুরআন) তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা কেবলমাত্র তাদের প্রভুর ওপরই ভরসা করে।” (সূরা আনফাল-২)
আল কুরআন বিনয়ী করে দেয় : “যদি আমি এই কুরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম তবে দেখতে পেতে পাহাড় আল্লাহর ভয়ে নুয়ে পড়েছে এবং ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আমরা মানুষের সামনে উপমা এ জন্য পেশ করছি যাতে করে তারা চিন্তাভাবনা করে দেখে।’’ (সূরা হাশর-২১)
মহানবী (সা) বলেছেন, যেই ব্যক্তি কুরআন  তেলাওয়াত করে এবং মুখস্থ করে আর এতে বর্ণিত হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে মেনে চলে, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্য থেকে এমন ১০ জনের জন্য তার সুপারিশ কবুল করবেন, যাদের প্রত্যেকের জন্যই দোযখ নির্ধারিত ছিল।
লাইলাতুল ক্বদর-এর পরিচয় : লাইলাতুল শব্দটি আরবি। এর অর্থ হচ্ছে রাত। আর ক্বদর শব্দটি ৩টি অর্থে ব্যবহৃত হয়। সম্মান, নির্ধারিত ভাগ্য ও ভাগ্যোন্নয়ন। অর্থাৎ ইহা মহিমান্বিত রাত, ভাগ্যোন্নয়নের রাত।
আমি ইহা নাজিল করেছি এক সম্মানিত রাতে। (সূরা-ক্বদর-১), “নিশ্চয়ই আমি ইহা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। (সূরা- দুখান-৩) ‘‘ক্বদরের রাতটি হাজার মাস থেকে উত্তম। এ রাতে ফেরেশতাগণ এবং জিবরাইল তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে প্রত্যেকটি হুকুম নিয়ে অবতীর্ণ হন। (সন্ধ্যা হতে) সুবহে সাদেক পর্যন্ত শান্তি বর্ষিত হতে থাকে।’’ (সূরা ক্বদর ৩-৫) “হযরত আনাস (রা) বলেন, রামাদান মাস এলে রাসূলুল্লাহ (সা) এরশাদ করতেন তোমাদের নিকট রামাদান মাস উপস্থিত হয়েছে। এর মধ্যে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাস  থেকে উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রইল সে সমস্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রইল। সে রাতের থেকে ভাগ্যহীন লোকেরাই বঞ্চিত থাকে।’’ (ইবনে মাজা)
ফিতরা রোজার পুর্ণতা অর্জনের মাধ্যম : ফিতরা এর পরিচয় : ধনীদের পাশাপাশি গরিবেরা যেন আনন্দ করতে পারে সে জন্য ইসলামী শরিয়ত ঈদুল ফিতরে ধনীদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছে। ইবনে ওমর (রা) বর্ণনা করেন, “আল্লাহর রাসূল (সা) মুসলিমদের স্বাধীন ব্যক্তি, দাস, পুরুষ, নারী, ছোট, বড়দের ওপর এক সা খেজুর বা এক সা গম জাকাতুল ফিতর হিসেবে বাধ্যতামূলক করেছেন।” (বুখারী, মুসলিম) রাসূল (সা) সাদকায়ে ফিতরের এ দান ঈদুল ফিতরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগেই বন্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেন গরিব-মিসকিনরা এ সাদকা দ্বারা ঈদবস্ত্র ও মিষ্টি খাদ্য ক্রয় করে ঈদের খুশিতে অংশীদার হতে পারে।’’। হযরত নাফে’ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “ইবনে উমার (রা) যারা তা নিত তাদেরকে তা দিতেন এবং তাঁরা ঈদুল ফিতরের এক অথবা দু’দিন আগে তা আদায় করতেন।’’
রাসূল (সা)-এর জীবনে ঈদুল ফিতর : ১. গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা ও সুন্দর পোশাক পরা : ইবনুল কাইয়িম (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) উভয় ঈদে তাঁর সুন্দর পোশাক পরতেন। দুই ঈদ ও জুমায় পরার জন্য তাঁর ভালো পোশাক ছিলো। ‘‘ইবনে ওমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর (হুল্লাহ) উত্তম পোশাক ছিল যা তিনি ঈদের দিন এবং জুমার দিন পরতেন।
২. ঈদুল ফিতরে বের হবার আগে কিছু খাওয়া, ঈদুল আজহার দিন পরে খাওয়া; রাসূলুল্লাহ (সা) ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য বের হওয়ার আগে বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। আর ঈদুল আজহার ঈদের মাঠ থেকে ফেরার পর কোরবানির গোশত দিয়ে দিনের খাবার আরম্ভ করতেন। আনাস (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ঈদুল ফিতরের দিন যখন সকালে বের হতেন, তখন বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেয়েই বের হতেন।’’ (আহমাদ ও বুখারী) বুরাইদা (রা) বলেছেন, ঈদুল ফিতরের দিন রাসূলুল্লাহ (সা) না খেয়ে বের হতেন না। আর ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহ থেকে না ফিরে কিছু খেতেন না। (তিরমিযি, ইবনে নাযাহ, আহমদ)
৩. ঈদগাহে গমন : রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সুন্নাতের আলোকে ঈদের নামাজ ঈদগাহে জামাাতে আদায় করাইক উত্তম। তবে ঝড় বৃষ্টিসহ অন্য কোন কারণে যদি কেউ তা মসজিদে আদায় করে তা জায়েয রয়েছে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা) উভয় ঈদের নামাজ ঈদগাহে আদায় করতেন। আর এতে সামাজিক সম্পর্কও শক্তিশালী হয়। আবু সায়ীদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহে যেতেন এবং প্রথমে নামাজ আদায় করতেন।’’ (বুখারী)
৪. ঈদের মাঠে নারী ও শিশুদের গমন : নারী ও শিশু সকলেরই ঈদগাহে গমন করার জন্য গুরুত্বসহকারে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর স্ত্রী ও মেয়েদের উভয় ঈদে ঈদগাহের দিকে পাঠাতেন।
ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার দিন বের হলাম। তারপর তিনি নামাজ পড়ালেন ও খুতবা দিলেন। তারপর মহিলাদের কাছে এলেন, তাদেরকে সদুপদেশ দিলেন, আখেরাত স্মরণ করালেন এবং সদকা দেয়ার আদেশ দিলেন। (বুখারী)
উম্মে আতিয়াহ (রা) থেকে সহীহ হাদিসে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের নারীদের ঈদগাহে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিয়েছেন এমনকি ঋতুবতী নারী ও প্রসূতীদেরকেও ঈদগাহে গিয়ে মুসলমানদের দোয়ায় শামিল হতে বলেছেন।
৫. ঈদের নামাজের জন্য এক পথ দিয়ে যাওয়া ও ভিন্ন পথে আসা : অধিকাংশ আলেমের মতে, ঈদের নামাজের জন্য এক পথ দিয়ে যাওয়া ও অন্য পথ দিয়ে প্রত্যাবর্তন করা সুন্নাত- চাই সে ইমাম হোক বা মুক্তাদি হোক। জাবির (রা) বলেছেন, ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ (সা) এক পথ দিয়ে ঈদগাহে যেতেন, অন্য পথ দিয়ে ফিরে আসতেন। (বুখারী) তবে যে পথ দিয়ে যাওয়া হয়, সে পথ দিয়ে ফিরে আসা জায়েয।
৬. ঈদের নামাযের পূর্বে ও পরে নামায : ঈদের নামাযের পূর্বে বা পরে কোন সুন্নত নামাজ আছে বলে প্রমাণ নেই। রাসূলুল্লাহ (সা) ও তাঁর সাহাবীগণ ঈদগাহে যাওয়ার পর নামাজের আগে বা পরে কোন নামাজ আদায় করতেন না। ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ঈদের দিন বের হতেন। তারপর দু’রাকাত ঈদের নামাজ পড়তেন। তার আগে বা পরে কোন নামাজ পড়তেন না।” (বুখারী ও মুসলিম)
৭. যাদের জন্য ঈদের নামায পড়া বৈধ  : পুরুষ, মহিলা, শিশু, মুকিম, মুসাফির সকলেরই ঈদের নামাজ পড়া বৈধ। মসজিদে বা ঈদগাহে যেখানেই পড়–ক। জামাতের সাথে ঈদের নামাজ ছুটে গেছে এমন ব্যক্তি দু’রাকাত নামাজ পড়ে নেবে। ইমাম বুখারী বলেছেন, ঈদের নামাজ ছুটে গেলে দু’রাকাত পড়ে নেবে। অনুরূপভাবে তা নারীদের জন্যও প্রযোজ্য।
৮. ঈদে খেলাধুলা চিত্তবিনোদন ও খাওয়া দাওয়া : ঈদের দিন বৈধ খেলাধুলা ও নির্দোষ চিত্তবিনোদনকে উৎসাহিত করা হয়েছে। আয়েশা (রা) বলেছেন, ঈদের দিন হাবশীরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট খেলাধুলা করতো। আমি তাঁর ঘাড়ের ওপর দিয়ে উঁকি দিয়ে তা দেখার চেষ্টা করছিলাম। তিনি ঘাড় নিচু করলেন। ফলে আমি তাঁর ঘাড়ের ওপর দিয়ে দেখলাম এবং তৃপ্ত হয়ে ফিরে গেলাম। (আহমাদ, বুখারী, মুসলিম)।
৯. ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বিনিময় করা : ঈদের দিন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বিনিময়ের মাধ্যমে সকলের মাঝে সুসম্পর্ক ও ভালোবাসা গড়ে ওঠে। তাই ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করা মুস্তাহাব। তবে তা অবশ্যই আল্লাহর জন্য হতে হবে। জুবাইর বিন নুফাইর (রা) বলেছেন, ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাহাবীগণ যখন পরস্পর মিলিত হতেন, তখন একজন অপরজনকে বলতেন আল্লাহ আপনার পক্ষ হতে এবং আমাদের পক্ষ হতে কবুল করুন।
ঈদের দিনে আরো কিছু করণীয় : ১. নিজ পরিবার পরিজনের সাথে সময় অতিবাহিত করা এবং উত্তম উপদেশ দেয়া, যা পারিবারিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। ২. আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা ও তাদের খোঁজখবর নেয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতা করা। ৩. পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে দেখা সাক্ষাৎ করা ও কুশল বিনিময় করা। ৪. সম্ভব হলে পরস্পরকে দাওয়াত দেয়া এবং আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা। ৫. জীবন মানে সময়ের যোগফল। বেহুদা কাজে সময় ব্যয় করা ও টিভির অনুষ্ঠান দেখার নামে জীবন শেষ করা থেকে বিরত থাকুন ও বিরত রাখুন, বিশেষ করে নিজেকে ও নিজের পরিবার পরিজনকে। ৬. নিজ পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজনকে রুচিশীল ও শালীন পোশাক পরিধান করতে উৎসাহিত করুন এবং মার্জিতভাবে পথ চলতে উদ্বুদ্ধ করুন।
শাওয়াল মাসের ৬ রোজা : এক বছরের রোজার পূর্ণতা : শাওয়াল মাসের রোজা Ñ রামাদান মাসের পরবর্তী মাস হলো শাওয়াল মাস। রামাদান মাসের পরবর্তী মাস হওয়ার কারণে এ মাসেও অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এ জন্য শাওয়াল মাসে ৬টি রোজা রাখার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, যে ব্যক্তি রামাদান মাসের রোজা রাখল এবং পরপরে শাওয়াল মাসে ৬টি রোজা রাখল সে যেন সারা বছর রোজা রাখল। ইমাম নববী বলেন, যেহেতু প্রত্যেক ভালো কাজ তার দশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তাই রামাদান মাসের ৩০টি রোজ রাখা ১০ মাস রোজা রাখার সমান। এরপর শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা রাখলে তা বাকি দুই মাস রোজা রাখার সমান। এভাবেই আল্লাহর একজন বান্দাহ সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব লাভ করতে পারে।
যাকাত : সম্পদের পবিত্রতা (তাক্ওয়া) অর্জনের হাতিয়ার : যাকাতের পরিচয়Ñ যাকাত শব্দটির শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বর্ধিত হওয়া, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করা। আর ব্যাপক অর্থে যাকাত বলতে বুঝায় শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নেসাব পরিমাণ সম্পত্তির স্বত্বাধিকারী কুরআনে বর্ণিত খাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ প্রদান করা।
১. যাকাত আদায় করা ফরজ : “আর নামাজ কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং নামাজে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়।’’ (সূরা বাকারা-৪৩)
২. যাকাত সম্পদকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে : “মানুষের ধনসম্পদে তোমাদের ধন সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, এই আশায় তোমরা সুদে যা কিছু দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে পবিত্র অন্তরে তোমাদের যারা দিয়ে থাকে তারাই দ্বিগুণ লাভ করে।” (সূরা আর রোম : ৩৯)
৩. যাকাতের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র হয় : “তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর, যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পারে এর মাধ্যমে।’’ (সূরা আত তাওবা-১০৩)
যাকাত কারা পাবে বা যাকাতের খাতসমূহ : ১. ফকির (দরিদ্র সাধারণ জনগণ), ২. মিসকিন (অভাবী মানুষ), ৩. যাকাত আদায়ে নিযুক্ত ব্যক্তি, ৪. মন জয় করার জন্য, ৫. ক্রীতদাস বা গোলাম মুক্তি ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, ৭. আল্লাহর পথে ও ৮. মুসাফির (সূরা-আত-তাওবা-৬০)।
যাকাত উসুল করার খাত : ৬টি ১. নগদ হাতে বা ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থ, ২. সোনা-রূপা ও সোনা-রূপা দ্বারা  তৈরি অলঙ্কার। ৩. ব্যবসায়ের পণ্যসামগ্রী ৪. কৃষি উৎপন্ন পণ্যসামগ্রী ৫. খনিজ উৎপাদিত সম্পদ এবং ৬. সব ধরনের গবাদি পশু।
যাকাতের নিসাবের বিবরণ : ৫টি : ১. সাড়ে সাত তোলা পরিমাণ সোনা (৮৫ গ্রাম) বা এর তৈরি অলঙ্কার অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৫৯৪ গ্রাম) পরিমাণ রোপা বা তার তৈরি অলঙ্কার অথবা সোনা-রোপা উভয় থাকলে এবং উভয়ের মোট মূল্য ৫২.৫ তোলা রোপার সমান হলে তার বাজার মূল্যের উপর ১/৪০ অংশ বা ২.৫% হারে যাকাত দিতে হবে। ২. হাতে নগদ বা ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ ৭.৫ তোলা সোনার মূল্যের সমান হলে তার ওপর ২.৫% হারে যাকাত দিতে হবে। ৩. ব্যবসায়ের মজুদ পণ্যের মূল্য ৭.৫ তোলা সোনা মূল্যের বেশি হলে তার ওপর ২.৫% হারে যাকাত প্রদেয়। ৪. গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে প্রথম ৩০টির জন্য ১ বছর বয়সী ১টা বাছুর দিতে হবে। (এর ঊর্ধ্বের হার ভিন্ন) ৫. ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রে প্রথম ৪০টির জন্য ১টা এবং পরবর্তী ১২০টির জন্য ২টি ছাগল বা ভেড়া যাকাত দিতে হবে। ৬. বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে উট ও ঘোড়া পালন করলে তারাও যাকাত আদায় করতে হবে।
যেসব সম্পদের যাকাত দিতে হবে না (১০টি) ১) নিসাব অপেক্ষা কম পরিমাণ অর্থ-সম্পদ ২) নিসাব বছরের মধ্যে অর্জিত ও ব্যয়িত সম্পদ ৩) ঘর-বাড়ি, দালান- কোঠা বা বসবাস, দোকানপাট ও কলকারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, ৪) ব্যবহার্য সামগ্রী (কাপড়-চোপড়, আসবাবপত্র, গৃহস্থালির তৈজসপত্র, বই-পত্র, ৫) যন্ত্রপাতি ও সাজ-সরঞ্জাম, ৬) শিক্ষার সমুদয় উপকরণ, ৭) ব্যবহার্য যানবাহন, ৮ পোষা পাখি হাঁস-মুরগি, ৯) ব্যবহারের পশু ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, উট এবং ১০) ওয়াকফ্কৃত সম্পত্তি।
যাকাত হিসাব করার পদ্ধতি : নিসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক প্রত্যেক মুসলমানকে বছরান্তে যাকাত প্রদান করতে হবে। সম্পদের প্রকৃতি ও ধরন অনুযায়ী যাকাতের হার ভিন্ন ভিন্ন হবে। ১. স্বর্ণ, রৌপ্য, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক মালামাল, আয়, লভ্যাংশ, কাজের মাধ্যমে উপার্জন, খনিজসম্পদ ইত্যাদির ওপর যাকাত ২.৫% হারে হিসাব করতে হবে। ২. ফল ও ফসল উৎপাদনে যান্ত্রিক সেচসুবিধা গ্রহণ করলে ৫% হারে হিসাব করতে হবে। ৩. ফল ও ফসল উৎপাদনের জমি প্রাকৃতিকভাবে সিক্ত হলে ১০% হারে যাকাত হিসাব করতে হবে।
স্বর্ণ বা রোপার হিসাবে ভিত্তিতে প্রতি চন্দ্র বছরে (৩৫৪ দিন) নিজের পূর্ণ মালের যাকাত হিসাব করে প্রথমে সম্পদ থেকে যাকাতের অংশ (অর্থাৎ পূর্ণ মালের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ বা শতকরা আড়াই ভাগ অর্থাৎ ২.৫% পৃথক করে নিতে হবে। আর যদি হিসাবপত্র সৌর বছরের (৩৬৫ দিন) ভিত্তিতে হয় তাহলে যাকাত ধার্য হবে ২.৫৭৭% হারে। স্বর্ণের বাজারদর প্রতি গ্রাম ১৬০০ টাকা হলে ৮৫ গ্রামের মূল্য ১,৩৬,০০০ টাকা যার ওপর যাকাত হবে ২৫% হারে = ৩৪০০ টাকা। আর রোপার বাজারদর প্রতি গ্রাম ৪৭ টাকা হলে ৫৯৫ গ্রামের মূল্য ২৭৯৬৫ টাকা যার ওপর যাকাত হবে ২.৫% হারে=৬৯৯.১৩ টাকা। যাকাত হিসাব করার সময় বিক্রয় করতে চাইলে যে মূল্য পাওয়া যাবে) তার ভিত্তিতে যাকাত হিসাব করতে হবে।
যৌথ মালিকানার মালের যাকাত ব্যক্তিগতভাবে নিজের অন্যান্য মালের সাথে দেয়া যায়। আবার সম্মিলিতভাবেও শুধু যৌথ মালিকানার মাল থেকে যাকাত পরিশোধ করা যায়। যাকাত নগদ অর্থে প্রদান করা উচিত। গরিবের কাছে নগদ অর্থই অধিকতর কল্যাণকর। কারণ নগদ অর্থের দ্বারা যেকোনো প্রয়োজন মেটানো যায়। যাকাত কোন ধরনের দয়া বা অনুগ্রহ নয়। সর্ব ধরনের লৌকিকতা, যশ-খ্যাতি ও পার্থিব স্বার্থের উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত হয়ে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য যাকাত প্রদান করতে হবে।
লেখক : শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

SHARE

Leave a Reply