রাষ্ট্রের ধর্ম : সমস্যা কোথায়? -সামছুল আরেফীন

রাষ্ট্রের ধর্ম থাকবেই। বিশ্বের ৬০টির অধিক রাষ্ট্রের ‘রাষ্ট্রধর্ম’ আছে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে এ দেশে রাষ্ট্রধর্ম বহাল রয়েছে। এ দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ছিল, আছে এবং থাকবে। রাষ্ট্রের ধর্ম থাকতেই হয়, আমাদের রাষ্ট্রেরও রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। শুধু ইসলাম নয়, অন্যান্য ধর্মও রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত রয়েছে। রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে কোনো ধর্ম স্বীকৃত থাকা মানে এটা নয়, অন্য ধর্মপালনে বাধা রয়েছে। আর ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত কোনো দেশে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মপালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এমন নজির নেই।
রাষ্ট্র মানুষ না হোক মানুষের জন্যই তো রাষ্ট্র। যদি রাষ্ট্রের ভাষা হতে পারে, তাহলে ধর্ম হতে পারবে না কেন? যদি রাষ্ট্রের ধর্ম না হতে পারে তাহলে রাষ্ট্রের নীতি, আদর্শ, মতবাদ বা দর্শন থাকে কী করে? রাষ্ট্র একটি ব্যক্তি বা মানুষ না হওয়া সত্ত্বেও গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার মতো ইজম যদি রাষ্ট্রের হতে পারে তাহলে তার ধর্ম হতে পারবে না কেন? ব্যক্তি না হলেও যদি রাষ্ট্র স্বাধীন, পরাধীন, মুক্ত, অবরুদ্ধ, দুর্বল, শক্তিশালী, সফল ও ব্যর্থ সবই হতে পারে, তাহলে রাষ্ট্র ধর্মসমৃদ্ধ হতে পারবে না কেন? এসব যুক্তি ধোপে টিকবে না।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অনেক দেশে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত। আলজেরিয়া, বাহরাইন, ব্রুনাই, কমোরস, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, ওমান, কাতার, সোমালিয়া, তিউনিসিয়ায় ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম। ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম ছাড়াও অন্য কয়েকটি ধর্মকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই খ্রিস্টধর্ম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত। পোল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও স্পেনে প্রধান ধর্ম রোমান ক্যাথলিক। ডেনমার্ক, জার্মানি, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে লুথেরান ধর্ম প্রাধান্য পায়। আর্জেন্টিনা, কোস্টারিকা, মাল্টা, মোনাকো ও সুইজারল্যান্ডের কিছু ক্যান্টন ও ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রধর্ম রোমান ক্যাথলিক। সাইপ্রাস ও গ্রিসে ইস্টার্ন অর্থোডক্স চার্চকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অ্যান্ডোরা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভেদর, প্যারাগুয়ে, পেরু, পর্তুগাল ও সেøাভাকিয়ার সংবিধানে ক্যাথলিক ধর্মকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আর্মেনিয়ায় অ্যাপোস্টলিক চার্চ রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত। ইহুদি ধর্মই ইসরাইলের চালিকাশক্তি। বিশ্বের ৬০টি দেশে রাষ্ট্রধর্ম আছে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ৪৬টি মুসলিম দেশেরও রাষ্ট্রধর্ম স্বীকৃত।
পিউ রিসার্চ সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংনভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের গবেষণার আন্তর্জাতিক পরিচিতি আছে। এ প্রতিষ্ঠান ২০১২ সালে বিশ্বের ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের হিসাবে বর্তমানে বিশ্বের ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধর্মে বিশ্বাসী। অন্য দিকে অবিশ্বাসীদের সংখ্যা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সংখ্যায় বললে, বিশ্বের ১০০ কোটির বেশি মানুষ এখন ধর্মে অবিশ্বাসী। ধর্মে অবিশ্বাসকে যদি ধর্ম বলা যায় তবে সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে নাস্তিক্য ধর্ম বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম।
বিশ্ব ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যায় প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছে যথাক্রমে খ্রিষ্ট, ইসলাম ও হিন্দু ধর্ম। পরিসংখ্যান বলছে, যদি বতর্মান হারে বিশ্বজনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ ধর্মহীনের সংখ্যা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ১৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসবে। ২০৭০ সালে ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা খ্রিষ্টানদের সমান হবে এবং ২১০০ সালে ইসলাম হবে বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম।
ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ধর্মের উৎকর্ষতার চেয়ে এ বৃদ্ধির পেছনে বেশি ভূমিকা রাখছে মুসলমানদের জন্মহার। এখন যেভাবে প্রতি বছর ৩ দশমিক ১ হারে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ২১০০ সালে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ (৩৪.৯ শতাংশ) মানুষ হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বী।
ধর্মের প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্র ধর্মীয় রাষ্ট্র (ভ্যাটিকান, ইসরাইল, সৌদি আরব) এবং রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম। রাষ্ট্রধর্ম সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হতে পারে আবার অফিসিয়ালও হতে পারে। যদিও রাষ্ট্রধর্মধারী দেশের সংখ্যা নিয়ে তারতম্য রয়েছে, তবুও বলা চলে বতর্মানে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ দেশে ধর্ম রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতাভোগী।
মূলত যেসব ধর্ম বিভিন্ন দেশে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে প্রভাব বিস্তার করে আছে, সেগুলো হলো- খ্রিষ্ট, ইসলাম, বৌদ্ধ ও ইহুদি। ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতাদানকারী রাষ্ট্রগুলোর অর্ধেকই ইসলাম ও বাকি অর্ধেকের ৮০ শতাংশই খ্রিষ্ট ধর্মাশ্রিত রাষ্ট্র। ইসলাম ও খ্রিষ্ট ধর্ম যদি বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ দু’টি ধর্ম হয়, তাহলে তা থেকে অনুমান করা যায়, যেকোনো রাষ্ট্রে কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ওই রাষ্ট্রের সঙ্গে সেই ধর্মের অবিচ্ছেদ্য পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সূত্রে সখ্য গড়ে ওঠে।
(সূত্র : নিউ ওয়ার্ল্ড এনসাইক্লোপিডিয়া ও সিআইএ ফ্যাক্টস বুক)
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্বে যেসব রাষ্ট্র ধর্মের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে টিকে আছে, সেসব দেশে ওই বিশেষ ধর্মের গড় লোকসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৮৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। অর্থাৎ কোনো দেশে কোনো ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৮০ শতাংশের বেশি হলে সেই রাষ্ট্রে ওই ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বিবেচনার দাবি ওঠা মোটেও অযৌক্তিক নয়।
একাধিক ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এমন দেশও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ইন্দোনেশিয়া, জার্মানি ও রাশিয়া। মুসলিম জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে প্রথম মুসলিম রাষ্ট্র হলেও ইন্দোনেশিয়ায় মুসলমানদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ। দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় ছয়টি ধর্মকে অফিসিয়াল ধর্মের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে- ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্যাথলিসিজম, প্রোটেস্ট্যানিজম ও কনফুসিয়াসিজম। জার্মানিতে লুথেরানিজম ও রোমান ক্যাথলিসিজম উভয়েরই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আছে। ১৯৯৭ সাল থেকে রাশিয়া খ্রিষ্ট, ইসলাম, বৌদ্ধ ও ইহুদি ধর্মকে অফিসিয়াল ধর্মের মর্যাদা দিয়েছে।
বিশ্বে এমন কতগুলো রাষ্ট্র আছে যেখানে কোনো একটি ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৯৫ শতাংশের বেশি থাকলেও রাষ্ট্র সেই ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। হন্ডুরাস, পানামায় ১০০ শতাংশ মানুষ খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তুরস্ক, আজারবাইজান, গাম্বিয়া ও কসোভোয় মুসলমানদের সংখ্যা ৯৫-৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু এসব কোনো দেশেই কোনো ধর্ম এখন রাষ্ট্রধর্ম নয়।
ধর্মাবলম্বীর সংখ্যাগিরষ্ঠতা থাকলেও যেসব দেশে তা রাষ্ট্রধর্ম করা হয়নি (সূত্র : সিআইএ ফ্যাক্টবুক)
ধর্ম বা বিশেষ কোনো মতাবলম্বী সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রধর্ম জারি স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম চালু হলে এখনই বিশ্বের কয়েকটি দেশের নাস্তিক্যবাদকে সে দেশের রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দিতে হবে। যেমন, ভিয়েতনাম (৮০.৮%) নেদারল্যান্ডস (৪২%), দক্ষিণ কোরিয়া (৪৩.৩%), চীন (৫২.২%), চেক প্রজাতন্ত্র (৩৪.৫%) ও এস্তোনিয়ায় (৫৪.১%) ধর্মহীন মানুষের সংখ্যা যেকোনো ধর্মাবলম্বীর চেয়ে বেশি। তাই বলে এসব দেশ নাস্তিকতাকে রাষ্ট্রধর্মে আসীন করেনি।

২৮ বছর আগের রিট পুনরজ্জীবিত
আবার খারিজ
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম অন্তর্ভুক্তির বিধানের বৈধতা নিয়ে ২৮ বছর আগে দায়ের হওয়া রিট আবেদন ২৮ এপ্রিল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ শুনানি করে এই আদেশ দেন। তিন সদস্যের এই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেনÑ বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো: আশরাফুল কামাল। আদেশে আদালত বলেন, আবেদনকারীদের আবেদনের লোকাস স্ট্যান্ডি (যোগ্যতা) নেই। তাই রিট আবেদনটি খারিজ করা হলো। রুলও খারিজ করা হয়।
অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর পর ২(ক) যুক্ত হয়। ২(ক)-তে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।’ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ৯ জুন এতে অনুমোদন দেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের আগস্ট মাসে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি’র পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নানা ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্যান্য ধর্মকে বাদ দেয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক। রিটকারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে অনেকেই মারা গেছেন।
সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসন চলাকালে ১৯৮৮ সালের ৯ জুন অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়, তার অন্যতম ছিল রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্থান দেয়া। রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৮৮ সালেই হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। এর পর থেকেই আবেদনটি হাইকোর্টে বিচারাধীন ছিল।

সম্পূরক আবেদন
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে ২০১১ সালের জুন মাসে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করেন।
ওই আবেদনের পর বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ ওই বছরের ১১ জুন রুল জারি করেন। রুলে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম অন্তর্ভুক্তির বিধান কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সাথে সিনিয়র ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাসকিউরি নিয়োগ দেয়া হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংশোধনে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম বহাল রাখার সুপারিশ করে। তবে এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।’ এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম বহাল রাখার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করেই মূলত হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদনটি দাখিল করেন সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ।
ওই আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম (আংশিক) ও ত্রয়োদশ সংশোধনী সংসদে অনুমোদিত (পাস) হলেও সুপ্রিম কোর্ট এসব সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতির বিধান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ের আলোকে ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র সংবিধানে ফিরে এসেছে। আদি সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল হয়েছে। এর সাথে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম অব্যাহত রাখা হলে তা হবে সাংঘর্ষিক ও পঞ্চম সংশোধনীর মামলার রায়ের পরিপন্থী।
রিট আবেদনের ওপর জারিকৃত রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত বছর রিটকারীর পক্ষ থেকে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের জন্য আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে রিটের রুলের চূড়ান্ত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন।
বৃহত্তর বেঞ্চ গত ২৯ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে বিষয়টি শুনানির জন্য ২৭ মার্চ দিন ধার্য করেন। কিন্তু ওই দিনের কার্যতালিকায় বিষয়টি ছিল না। পরে ২৮ মার্চের কার্যতালিকায় বিষয়টি রাখা হয়।

উত্তাল দেশ
রাষ্ট্রধর্মসংক্রান্ত রিট শুনানিকে ঘিরে রাজনীতিতে এক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। আন্দোলন সংগ্রামে মুখর হয়ে ওঠে দেশ। জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন মাঠে নামে। রিট শুনানির দিন জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়। ওই দিন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি জমা দেয় হেফাজতে ইসলাম। দুপুরে রিট খারিজের খবর আসার পর জামায়াত হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়। রিট খারিজের খবর পেয়ে আদালত এলাকায় উল্লাস প্রকাশ করেন সমবেত আলেম-ওলামা।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

SHARE

Leave a Reply