রাসূলুল্লাহ সা.-এর লোক গঠন পদ্ধতি ও রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন । মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ

রাসূলুল্লাহ সা.-এর লোক গঠন পদ্ধতি ও রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জননবী মুহাম্মদ (সা.) ৬১০ সালে নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়ে মক্কা বাসীর নিকট আহবান জানালেন যে, হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই।
তিনি মক্কার কুরাইশ নেতৃবৃন্দকে বলেছিলেন, তোমরা আমার একটা কথা মেনে নাও তাহলে তোমরা আরবের বাদশাহ্ হবে এবং অনারবরা তোমাদের অধীনে চলে আসবে। তিনি ২৩ বছর নবুয়তি জীবনে আল্লাহ পাকের সার্বভৌমত্ব (উলুহিয়াত) প্রতিষ্ঠার জন্য দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে যে সকল লোক পেয়েছিলেন তাদেরকে তিনি দেশ জাতি ও সমাজ পরিচালনার যোগ্য করে গড়ে তুলেছিলেন এবং গোটা আরবের ইসলামবিরোধী শক্তির সঙ্গে লড়াই সংগ্রাম করে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন করেছিলেন।

রাসূল (সা.) লোক গঠনপদ্ধতি নিম্নরূপ

লোকগঠনের গুরুত্ব সম্পর্কে সূরা নূরের ৫৫ আয়াতে আল কুরআনের বক্তব্য আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎ কাজ করবে (মুমিনিন, সালিহিন) তাদেরকে তিনি পৃথিবীতে ঠিক তেমনিভাবে খেলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে দান করেছিলেন, তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে দিবেন, যাকে আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের (বর্তমান) ভয় ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দিবেন। তারা শুধু আমার বন্দেগি করুক এবং আমার সাথে কাউকে শরিক না করে।

মু’মিনিন ও সালেহিনের পরিচয়

সূরা বাকারা, আয়াত : ১৭৭ অর্থ : তোমাদের মুখ পূর্ব দিক বা পশ্চিম দিকে ফিরাবার মধ্যে কোন পুণ্য নেই। বরং সৎ কাজ হচ্ছে এই যে, মানুষ আল্লাহ, কিয়ামতের দিন, ফেরেশতা, আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব ও নবীদেরকে মনে প্রাণে মেনে দিবে এবং আল্লাহর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের প্রাণ প্রিয় ধন-সম্পদ, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্য প্রার্থী ও কৃতদাসদের মুক্ত করার জন্য ব্যয় করবে। আর নামাজ কায়েম করবে এবং যাকাত প্রদান করবে। যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করবে এবং বিপদে অনটনে ও হক-বাতিলের সংগ্রামে সবর করবে তারাই সৎ ও সত্যাশ্রয়ী এবং তারাই মুত্তাকি।
সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১১৩-১১৪ অর্থ : যারা রাতে আল্লাহর আয়াত তেলাওয়াত করে এবং সিজদারত থাকে তারা ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং তারা ভাল কাজের আদেশ করে মন্দ কাজ থেকে বারণ করে এবং মানব কল্যাণে তৎপর থাকে এরা সালেহিন লোকদের অন্তর্ভুক্ত।
সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪-১৩৫ অর্থ : যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল সব অবস্থায়ই অর্থ সম্পদ ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ দমন করে ও অন্যের দোষত্রুটি মাফ করে দেয়। এই ধরনের সৎ লোকদের আল্লাহ অত্যন্ত ভালবাসেন। আর যারা কখনো কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা কোন গুনাহের কাজ করে নিজেদের উপরে জুলুম করে বসলে আবার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ কথা স্মরণ হয়ে তাঁর কাছে নিজেদের গুনাহ খাতার জন্য মাফ চায়- কারণ আল্লাহ ছাড়া আর কে গুনাহ মাফ করতে পারেন- এবং জেনে বুঝে নিজেদের কৃতকর্মের ওপর জোর দেয় না।

রাসূল (সা.)-এর মু’মিনিন ও সালেহিন তৈরিতে দুই দফা কর্মসূচি

প্রথম দফা কর্মসূচি : ইসলামের জ্ঞান অর্জন ও চরিত্রগঠন:
সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৬৪ অর্থ : ঈমানদারদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন নবী পাঠিয়ে আল্লাহ মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সে তাঁর আয়াত তাদেরকে শোনায়, তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ ও সুবিন্যস্ত করে এবং তাদেরকে কিতাব ও জ্ঞান (হিকমা) শিক্ষা দেয়া। অথচ এর আগে এই লোকেরাই সুস্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিল।
উপরোক্ত আয়াতে চার দফা কর্মসূচি পেশ করা হয়েছে:
এক. আয়াতের তেলাওয়াত অর্থাৎ আয়াতের অধ্যয়ন, অনুধাবন ও অনুসরণ।
দুই. কিতাবের জ্ঞান অর্থাৎ কিতাবের আইন কানুন, বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান।
তিন. হিকমত শিক্ষা দেয়া অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি, ইজতিহাদ করার শক্তি, দ্বীনের গভীর তত্ত্বজ্ঞান, জীবন সমস্যার ক্ষেত্রে সঠিক মত প্রকাশের যোগ্যতা।
চার. তাজকিয়া অর্থাৎ জীবন পরিশুদ্ধ করা- কুফর ও শিরক ত্যাগ করে ঈমান আনা, অসৎ আচার-আচরণ ত্যাগ করে সদাচারণ অবলম্বন করা এবং অসৎ কাজ ত্যাগ করে সৎ কাজ করা।

দ্বিতীয় দফা কর্মসূচি : বিপদ আপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা:
সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৪০-১৪২ অর্থ : এ সময় এ অবস্থা তোমাদের এ জন্য আনা হয়েছে যে, আল্লাহ দেখতে চান তোমাদের মধ্যে সাচ্চা মু’মিন কে আর তিনি তোমাদের কিছু লোককে শহীদ হিসেবে গ্রহণ করতে চান। আর জালিমদের আল্লাহ পছন্দ করেন না এবং আল্লাহ যাতে নির্মাণ করতে পারেন মুমিনদের আর নিপাত করতে পারেন কাফেরদের। তোমরা কি মনে করে রেখেছো, এমনিতেই জান্নাতের প্রবেশ করবে? অথচ এখনও আল্লাহ দেখেনইনি, তোমাদের মধ্যে কে তাঁর পথে প্রাণপণ সংগ্রাম করতে প্রস্তুত এবং কে তার জন্য সবরকারী।
সূরা হাদিদ, আয়াত : ২২ অর্থ : পৃথিবীতে এবং তাদের নিজেদের উপর যে সব মুসিবত আসে তার একটিও এমন নয় যে, তাকে আমি সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি গ্রন্থে লিখে রাখিনি।
ব্যাখ্যা : আল্লাহ তায়ালা যে বিরাট কাজ আঞ্জাম দিতে চান উক্ত মুসিবতের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি, এ প্রশিক্ষণ ছাড়াই যদি সফলতার স্বর্ণ দুয়ারে পৌঁছে দেয়া হয় তাহলে মুমিনদের চরিত্রে এমন সব দুর্বলতা থেকে যাবে যার কারণে মু’মিনরা না পারবে মর্যাদা ও ক্ষমতার গুরুপাক খাদ্য হজম করতে না পারবে বাতিলের প্রলয়ঙ্করী তুফানের চরম আঘাত সহ্য করতে।
বিপদ মুসিবত, সমস্যা ও সংকটের পথ অতিক্রম করে মুমিনদেরকে অর্জন করতে হবে সবর, সহিষ্ণুতা, সততা, সত্যবাদিতা, ত্যাগ, তিতিক্ষা, অত্মোৎসর্গিতা, ঈমানী দৃঢ়তা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা। এসব গুণাবলি কেবলমাত্র কঠিন বিপদ সংকুল গিরিপবর্তেই লালিত হতে পারে। (তাফহীমূল কুরআন)


নবী মুহাম্মদ (সা.) ৬১০ সালে নবুয়ত লাভের মাধ্যমে লোক তৈরির যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন সে সকল তৈরি লোকদের দ্বারাই ৬৩৬ সালে কাদেসিয়ার যুদ্ধের মাধ্যমে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন ও ৬৩৭ সালে জেরুজালেম যুদ্ধের মাধ্যমে রোমান সাম্রাজ্যের পতন সংঘটিত হয়। মাত্র ২৭-২৮ বছরের তৈরি নেতৃত্বের মাধ্যমে মুসলমানগণ যে ইসলামী সভ্যতার সৃষ্টি করেছিল সে সভ্যতা দীর্ঘকাল পর্যন্ত বিশ্বের মানুষদেরকে শোষণমুক্ত ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা উপহার দিতে সক্ষম হয়েছিল।


 

বিপদে-আপদে মনোক্ষুন্ন না হওয়ার আহবান

সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৬ অর্থ : এর আগে এমন অনেক নবী চলে গেছেন, যাদের সাথে মিলে বহু আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছেন। আল্লাহর পথে তাদের ওপর যে সব বিপদ এসেছে তাতে তারা মনমরা ও হতাশ হয়নি, তারা দুর্বলতা দেখায়নি এবং তারা বাতিলের সামনে মাথা নত করে দেয়নি। এ ধরনের সবরকারীদের আল্লাহ ভালোবাসেন।
সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৪ অর্থ : তাদেরকে বলো! তোমরা যদি নিজেদের ঘরেও অবস্থান করতে তাহলেও যাদের মৃত্যু অবধারিত ছিল তারা নিজেরাই নিজের বদ্ধভূমির দিকে এগিয়ে আসতো।
সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৩ অর্থ : যা কিছু তোমাদের হাত থেকে বের হয়ে যায় অথবা যে বিপদই তোমাদের ওপর নাযিল হয় সে ব্যাপারে মনোক্ষুন্ন হবে না, আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপ সম্পর্কে জানেন।
সূরা হাদিদ, আয়াত : ২২-২৩ অর্থ : পৃথিবীতে এবং তোমাদের ওপর যে সব মুসিবত আসে তার একটিও এমন নয় যে তাদের আমি সৃষ্টি করার পূর্বে একটি গ্রন্থে লিখে রাখিনি। এমনটি করা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ কাজ। (এ সবই এ জন্য) যাতে যে ক্ষতিই তোমাদের হয়ে থাকুক তাতে তোমরা মনোক্ষুন্ন না হও।

বিরোধীদের ব্যাপারে আল্লাহ পাকের বক্তব্য

সূরা আহযাব, আয়াত : ৪৮ অর্থ : কখন দমিত হয়ো না কাফের, মুনাফিকদের কাছে, পরোয়া করোনা তাদের পীড়নকে এবং ভরসা করো আল্লাহর প্রতি।
সূরা মুহাম্মদ, আয়াত : ৩৫ অর্থ : তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং সন্ধির জন্য আহবান করো না, তোমরাই বিজয়ী থাকবে, আল্লাহ তোমাদের সাথে আছেন।
সূরা আল কলম, আয়াত : ৪৪-৪৫ অর্থ : তাই হে নবী এই বাণী অস্বীকারকারীদের ব্যাপারটি আমার ওপরে ছেড়ে দাও। আমি ধীরে ধীরে এমনভাবে তাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে তারা বুঝতেই পারবে না। আমি তাদের রশি ঢিলে করে দিচ্ছি আমার কৌশল অত্যন্ত মজবুত।
সূরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ১১ অর্থ : এ মিথ্যা আরোপকারী সম্পদশালী লোকদের সাথে বুঝা পড়ার ব্যাপারটা তুমি আমার উপর ছেড়ে দাও, আর কিছু কালের জন্য এদেরকে এই অবস্থায় থাকতে দাও।

সফলতার ব্যাপারে আল্লাহ পাকের বক্তব্য

সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৬০ অর্থ : আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে কোন শক্তিই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনিই যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন, তাহলে এর পরে কে আছে তোমাদের সাহায্য করার মতো! কাজেই সাচ্চা মু’মিনদের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।
সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ২০০ অর্থ : হে ঈমানদারগণ, তোমরা ব্যক্তিগত বিপদ-আপদে সবর করো। (ইসলামের) প্রতিপক্ষের মোকাবেলায় সবর করো। (ইসলামের) প্রতিপক্ষের মোকাবেলার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে করে তোমরা সফলকাম হতে পারো।
সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৯ অর্থ : মন মরা হয়ো না, দুঃখ করো না তোমারই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।
সূরা তুর, আয়াত : ৪৮ অর্থ : হে নবী! তোমার রবের ফায়সালা আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করো। তুমি আমার চোখে চোখে আছে। তুমি যখন উঠবে তখন তোমার রবের প্রশংসায় তাসবিহ পাঠ করো।

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :

১-৩ নবুয়তি বছর গোপনভাবে ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রমে ৪৬ জন ইসলাম গ্রহণ করেন।
৪র্থ নবুয়তি বছর প্রকাশ্য ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রমে শুরু হয়।
৫ম নবুয়তি বছরের শুরুতে কুরাইশদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আবিসিনিয়ায় হিজরত করে প্রথমে ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলাসহ মোট ৮৩ জন পুরুষ ১১ জন মহিলা ও ৭ জন অ-কুরাইশি। এ সময় নবী করীম (সা.) এর সাথে মাত্র ৪০ জন সাহাবী থেকে গিয়েছিল। (তাফহীম সূরা মারিয়ামের ভূমিকা।)
৬ষ্ঠ নবুয়তি বছরের শেষের দিকে হযরত হামজা (রা.) ও হজরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণ করেন।
৭ম থেকে ৯ম নবুয়তি বছর অর্থাৎ তিন বছর শিয়াবে আবু তালিবে অন্তরীণ হয়ে থাকতে হয়।
১০ম নবুয়তি বছরে আবু তালিব ও হজরত খাদিজার মৃত্যুর পরে কুরাইশদের অত্যাচার চরম সীমায় পৌঁছালে তিনি মক্কা ছেড়ে তায়েফে দাওয়াতি কাজে যান।
১১তম নবুয়তি বছরে হজের সময় মদিনার ৬ জন ইসলাম গ্রহণ করেন।
১২তম নবুয়তি বছরে হজের সময় মদিনা থেকে ১২ জন এসে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ঐ বছর মেরাজ অনুষ্ঠিত হয়।
১৩তম নবুয়তি বছরে হজের সময় মদিনার ৭৩ জন নর-নারী ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হিজরত অনুষ্ঠিত হয়।
** ১ম হিজরি সনে মদিনায় গিয়ে নবী মুহাম্মদ (সা.) ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করেন। উক্ত ইসলামী রাষ্ট্রকে উৎখাত করার জন্য কুরাইশদের নেতৃত্বে আরবের সকল কুফরি শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা চালাতে থাকে। কুফরি শক্তির মোকাবেলায় মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য নবী মুহাম্মদ (সা.) কে বিভিন্ন যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হয়।
১ম হিজরি সনে রমজান মাসে সারিয়া সিফ্ফুল বাহার ও জিলকদ মাসে সারিয়া খাররার অনুষ্ঠিত হয়।
২য় হিজরি সনে বদরের যুদ্ধ ও বনু কায়নুকার সাথে যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। বদর যুদ্ধে ৮৬ জন মুহাজির, ৬১ জন আউস গোত্র ও ১৭০ জন খাজরাজ গোত্রের লোক ছিল।
৩য় হিজরি সনে ওহুদ যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।
৪র্থ হিজরি সনে রবিউল আউওয়ালে বনু নাজিরের সাথে যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।
৫ম হিজরি সনে খন্দকের যুদ্ধ ও বুন কুরায়জার সাথে যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।
৬ষ্ঠ হিজরি সনের বনু মুস্তালিক যুদ্ধ ও হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুষ্ঠিত হয়।
৭ম হিজরি সনে খায়বার যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।
৮ম হিজরি সনে মূতার যুদ্ধ ও মক্কা বিজয় হয়।
৯ম হিজরি সনে তাবুকের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।
১০ম হিজরি সনে বিদায় হজ অনুষ্ঠিত হয়।
লক্ষ করার বিষয় ১০টি বছর ধরে একটু নিরাপদ স্থানে যাদের (হিজরতের পূর্বে মুসলমানদের) দাঁড়াবার যায়গা ছিল না পরবর্তী ১০ বৎসরে ১০ লক্ষ সাতাশ হাজার বর্গমাইল বিস্তৃৃত, বাংলাদেশের ১৯গুন বড় বিশাল ভূখণ্ডের তাঁরাই হলেন শাসক দল যাঁরা শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করলেন।
নবী মুহাম্মদ (সা.) ৬১০ সালে নবুয়ত লাভের মাধ্যমে লোক তৈরির যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন সে সকল তৈরি লোকদের দ্বারাই ৬৩৬ সালে কাদেসিয়ার যুদ্ধের মাধ্যমে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন ও ৬৩৭ সালে জেরুজালেম যুদ্ধের মাধ্যমে রোমান সাম্রাজ্যের পতন সংঘটিত হয়। মাত্র ২৭-২৮ বছরের তৈরি নেতৃত্বের মাধ্যমে মুসলমানগণ যে ইসলামী সভ্যতার সৃষ্টি করেছিল সে সভ্যতা দীর্ঘকাল পর্যন্ত বিশ্বের মানুষদেরকে শোষণমুক্ত ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা উপহার দিতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তীতে ইসলামী আদর্শের আলোকে পরিপূর্ণভাবে না হলেও মুসলমানগণ ১৭৫৭ সালে বাংলায় মুসলমানদের শাসন পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ শত বৎসরেরও অধিক সময় বিশ্ব সভ্যতার নেতৃত্ব প্রদান করে ছিল।

SHARE

Leave a Reply