রাসূলের (সা) আদর্শেই সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তি

রাসূল মুহাম্মদ (সা)! বিশ্বজাহানের জন্য এক অনুপম আদর্শ। শঙ্কা ও শর্তহীন আমাদের কেবল তাঁরই প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করতে হবে। সার্বিক কল্যাণের জন্য এর বিকল্প কিছু নেই, থাকতে পারে না। মহান রবের এ এক বিপুল-বিশাল রহমত এবং মেহেরবানী আমাদের জন্য যে, তিনি জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসূল মুহাম্মদকেই (সা) আমাদের সত্য পথের দিশারী হিসাবে মনোনীত করেছেন। উম্মাতে মুহাম্মদীর জন্য এটি একটি পরম সম্মানজনক প্রাপ্তি। সেই দিক থেকে আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। আমাদের জন্য আল্লাহপাকের দিকনির্দেশনাবাহী চূড়ান্ত বক্তব্যই হলো, “নিঃসন্দেহে রাসূলের (সা) মধ্যে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে।” সূরা আহযাব, আয়াত ২১) আর রাসূলকে (সা) মহান বারী তায়ালা বলছেন, “হে রাসূল, তোমার নিকট তোমার রবের পক্ষ থেকে যা কিছু নাজিল হয়েছে, তা যথাযথভাবে পৌঁছে দাও।” সূরা মায়িদা, আয়াত ৬৭) এই দু’টি আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর দায়িত্ব সম্পাদনের কথা যেমন উল্লেখ করেছেন, ঠিক তেমনি তাঁর মনোনীত শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর (সা) ওপর অর্পিত দায়িত্বের কথাও সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আল্লাহপাকের করুণাসিক্ত নবী মুহাম্মদ (সা) নবুওয়াত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর ওপর অর্পিত সেই পবিত্র দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করেছেন। শুধু নবুওয়াত জীবনেই নয়, বরং আমাদের বিস্ময়কেও হার মানিয়ে তিনি শৈশব থেকে ওফাত পর্যন্ত এমন এক বিরল দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন আমাদের জন্যÑ যা প্রকৃত অর্থেই তুলনারহিত। রাসূল (সা) তাঁর গোটা জীবনকেই আমাদের জন্য এমন এক অত্যুজ্জ্বল মডেল হিসেবে পেশ করেছেন, যার অনুকরণ ও অনুসরণ ছাড়া মুক্তির আর কোনো দরোজাই আমাদের সামনে খোলা রাখা হয়নি। এখানেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, যারাই রাসূলের (সা) জীবনাদর্শে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে রাঙিয়ে তুলবেনÑ তারাই সফলতার চূড়া স্পর্শ করবেন। আর বদনসীব তো তাদের জন্য, যারা চেতনে-অবচেতনে কিংবা উন্নাসিকতার কারণে রাসূলের (সা) জীবনাদর্শ কিংবা নির্দেশনাকে অবজ্ঞা, অবহেলা বা পাশ কাটিয়ে যায়। বলা বাহুল্য, এ ধরনের হঠকারী ভাগ্যবিড়ম্বিতদের জন্যই রয়েছে মহান রবের পক্ষ থেকে যত লাঞ্ছনা, গ্লানি, অপমান এবং যাবতীয় ব্যর্থতার কালিমা। বর্তমান অশান্ত দুনিয়ার বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এই মহামানবের আদর্শের অনুসরণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। মূলত পার্থিব এ জগতের যাবতীয় অশান্তির মূলেই রয়েছে রাসূলের (সা) অনুপম আদর্শ থেকে বিচ্যুতি। সমাজের সর্বত্র আজ যে অন্যায়, অত্যাচার আর অনিয়মের কালো থাবা বিস্তার লাভ করে আছে, তা শুধুমাত্র রাসূলের (সা) দেখিয়ে দেয়া জীবনাদর্শকে দূরে ঠেলে রেখে কায়েমী স্বার্থ চরিতার্থ করার নিষ্ফল আকাক্সক্ষারই ফল। তাই আল্লাহপাকের দাসত্ব এবং রাসূলের (সা) আদর্শকে সর্বান্তকরণে মেনে নিয়ে তারই আলোকে আমাদের গোটা জীবন ব্যবস্থাকে পরিচালনার মাধ্যমেই রয়েছে সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তি। দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে সাফল্যজনক কল্যাণ ও মুক্তিই হোক আমাদের কাক্সিক্ষত স্বপ্ন এবং সকল কর্মের উৎসধারা।

SHARE

Leave a Reply