লাঞ্ছিত মানবতা স্তম্ভিত বিশ্ববিবেক

মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

যারা আজ মানবরচিত মতবাদে শান্তির হরিণ খুঁজে বেড়ায় তারা পদে পদে মানবাধিকার লংঘনের ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছেন। অথচ ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা বলা হয়েছে। আর সেটিকে পৃথিবীতে নির্ভুলভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য রয়েছে নির্ভেজাল ত্রুটিমুক্ত গ্রন্থ আল কুরআন

মানুষ পৃথিবীতে মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার জন্য যে মৌলিক অধিকার তাই মানবাধিকার। যেমন- নিরাপত্তা, বাকস্বাধীনতা, সম্পত্তির মালিকানা, ধর্ম পালনের অধিকার। এ সকল অধিকার নিশ্চিত করার জন্য পৃথিবীতে প্রথম লিখিত যে সনদ হয়েছিল তার নাম ম্যাগনাকাটা। ম্যাগনাকাটা কাগজে-কলমে থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত প্রথম লিখিত সনদ ‘মদীনা সনদ’ বলে উল্লেখ করা হয়। ইসলামই এ পৃথিবীতে প্রথম মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের গোটা সৃষ্টির আয়োজন মানুষকে কেন্দ্র করে। আকাশ-বাতাস, রোদ-বৃষ্টি, লতা-পাতা, পশু-পাখি, গাছপালা সব মানুষের প্রয়োজনেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যোগ্যতা ও অসমতার কারণে মানুষের মধ্যে কেউ শোষক আর কেউ শাসিত, কেউবা ধনী আবার কেউবা গরিব হতে পারে কিন্তু মানুষ হিসেবে তার মৌলিক অধিকারগুলো পাওয়া এবং সকল ব্যাপারে সুবিধা লাভ করা তার অধিকার। সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো মানবাধিকার রক্ষার ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও সনদ প্রণয়ন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাপত্র, পিটিশন অব রাইটস, বিল অব রাইটস এবং জাতিসংঘের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান। এ সকল সংগঠন মানবাধিকারের সংজ্ঞাকে আরো বিস্তৃত করেছে। যেমন- জীবনের নিরাপত্তা, মালিকানার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সংরক্ষণ, একজনের কার্যকলাপের জন্য অপরজন দায়ী নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অধিকার, মত পোষণ ও প্রকাশের স্বাধীনতা, বিবেক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা, সমানাধিকার, ন্যায়বিচার লাভের অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভের অধিকার, সংগঠন ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার, রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অধিকার ইত্যাদি। ইসলাম এ সকল অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি দিয়েছে প্রায় ১৪শত বছর আগে।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার শ্লোগান সংবলিত এ সকল সংগঠন ও তার নীতিমালাগুলো সাম্রাজ্যবাদীদের নির্দেশনায় চলে। কালের পরিক্রমায় মানবাধিকারের সংজ্ঞাতেও বিকৃতির ছোঁয়া স্পষ্ট। ধর্ম-জাতি-গোষ্ঠী ভেদে মানবাধিকারের সংজ্ঞার পরিবর্তন লক্ষণীয়। পশ্চিমারা মানবাধিকারের প্রবক্তা কিন্তু তাদের নির্দেশেই বিনা নোটিশে জাতিসংঘ ন্যাটোকে অপব্যবহার করে নিরাপত্তা বিঘিœত করছে বিভিন্ন দেশের। বোমা আর ড্রোন হামলায় নিপীড়িত হচ্ছে আবালবৃদ্ধবনিতা। তাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক বোমা থেকে নিরস্ত্র করণের অজুহাতে ইরাককে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান সম্প্রতি তাদের লক্ষ্যবস্তু। পরবর্তী টার্গেট সিরিয়া, ইরান। ওয়েস্টার্নদের মানবতাবোধ! তাদের নির্বিচারে ড্রোন হামলা সাধারণ মানুষের হতাহতের দৃশ্যে আর নির্বাক আহাজারিতে মানবতাবোধ জাগ্রত হয় না? তাদের খাবারগুলো অনাহারিদের মাঝে বিতরণ না করে সাগরে ঢেলে দিয়ে মানবতাবোধের পরিচয় দিতে দিতে সিদ্ধহস্ত। তারা কুকুরের পেছনে হাজার হাজার মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। তাদের কাছে মানবতার মূল্য কুকুরের চেয়েও নিচে, ধিক মানবাধিকার! জাতিসংঘ আজ পশ্চিমাদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানের পর জাতিসংঘ গঠিত হওয়া থেকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। চেচনিয়া, কাশ্মির, ফিলিস্তিন, কম্বডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের অনেক দেশে গুরুপূর্ণ সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। জাতিসংঘ কতিপয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থের তাঁবেদারিতে লিপ্ত হয়ে মুসলিম বিশ্বের সমস্যা সমাধানে পক্ষপাতিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মিসর, সুদান, ইরাক, লিবিয়া, তুরস্ক ও আলজেরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিরোধে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। জাতিসংঘ পর্যায়ক্রমে লার্জ অব নেশনের পরিণতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আংশিক সাফল্য অর্জন ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বৃহৎ শক্তির স্বার্থ সংরক্ষণ ও তাদের ক্রীড়নকের দায়িত্বই পালন করছে। জাতিসংঘের তাঁবেদারিকে বিভিন্ন দেশে  আরও বলিষ্ঠ করার জন্য ছায়া সংগঠন তৈরি করছে।

দুই.
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ‘দূর করো বৈষম্য, গ্রহণ কর বৈচিত্র্য’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জমকালোভাবে উদ্যাপিত হলো বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন তার বাণীতে বলেন, পৃথিবীর বৈষম্যের স্বীকার মানুষ একা নয়, জাতিসংঘ তাদের পাশে থেকে কাজ করবে। বছরের পর বছর ধরে জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় ২৫ শতাংশ সম্পদ ভোগ করছে মাত্র ৫ শতাংশ জনসংখ্যার দেশটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে মিথ্যা, জালিয়াতি, গুপ্তহত্যা, হামলা চালানোর হুমকি, সামরিক আগ্রাসন, ধ্বংস, নির্যাতন ও গুপ্তহত্যাসহ কোন ধরনের অপরাধ থেকে পিছ-পা হচ্ছে না। ১৯৫০ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়ে ৩০টির অধিক দেশ দখল করেছে। সোমালিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকসহ বিশ্বের আরো অনেক ভূখণ্ডে যুদ্ধ করছে আমেরিকান সৈন্যরা। একইতালে তাল মিলিয়ে ইউএসএর মিত্র দেশগুলোও বিভিন্ন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের বা রাষ্ট্রের ভূখণ্ড জবর দখল করে আছে বছরের পর বছর।
জাতিসংঘের অনুমতি ব্যতিরেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফা সামরিক আগ্রাসনে তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে গণহত্যার শিকার হয়ে এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানে ৪০ লাখ ৯০ হাজার, ইরাকে ৩৫ লাখ এবং কথিত মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ হাজারের বেশি। একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র শক্তিদের দ্বারা অধিষ্ঠিত এলাকাগুলোতে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুমৃতের সংখ্যা ৯০ লাখেরও বেশি। শিশুদের রক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা আপত্তিকর। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মৃত শিশুদের ৯ লাখ এগার হাজার আফগানিস্তানে, ইরাকে ৮ লাখ ৩০ হাজার, পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় ১০ লাখ ৫১ হাজার, অধিকৃত ফিলিস্তিনে ১২ হাজার, অধিকৃত ইয়েমেনে ১ লাখ ৬ হাজার, অধিকৃত কাশ্মিরে ১ লাখ ১৮ হাজার, হাইতিতে ৪৫ হাজার ও সোমালিয়ায় ৬ লাখ ৮ হাজার। জাতিসংঘের শক্তি সামর্থ্যর কোনো ভূমিকাই রাখতে সক্ষম হয়নি।
১৯৫০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের ত্রাণকর্তা নামধারী গণতন্ত্র, মুক্তি, স্বাধীনতা ও তথাকথিত মানবাধিকারের খোলসধারী স্বঘোষিত সন্ত্রাসবাদী অপশক্তিবর্গের প্রেতাত্মার আগ্রাসনের শিকার হয়ে বিশ্বে ১০৩ কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এদের মধ্যে ১০২ কোটি পশ্চিমা জগতের বাইরে। শুধু ৬০ কোটি লোক মারা যায় মুসলিম বিশ্বে। এর অধিকাংশই মুসলিম গণহত্যা। এর সুরাহা কি জাতিসংঘ করতে পেরেছে?
বিশ্ব এখন পরিবেশগত বিপর্যের মুখোমুখি। আর এটা তথাকথিত মানবাধিকারবাদী উন্নত বিশ্বের শক্তিবর্গের তৈরি গ্রিন হাউজ গ্যাসের কারণে। এক সমীক্ষায় দেখা যায় এমন বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এ শতাব্দীতে এক শ’ কোটিরও কম মানুষ বেঁচে থাকবে। এ ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের প্রত্যক্ষ দায়ী সাম্রাজ্যবাদীদের সীমাহীন মানবাধিকার লংঘনের পরও সাম্রাজ্যবাদীদের নিয়ন্ত্রিত কথিত মিডিয়াগুলো উল্লিখিত ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের বিন্দুমাত্র উপস্থাপন করতে দেখা যায়নি। এহেন চরম সীমাহীন সীমা লংঘনের ব্যর্থতার দায়ে জাতিসংঘের কর্তাব্যক্তিদের বিচারের কোনো আয়োজন পৃথিবীর কোথাও কোন কালে সংঘটন করা যাবে কি না তা আমার জানা নেই।
সম্প্রতি চরমভাবে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে মিয়ানমারে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চলছে অমানবিক অকথ্য নির্যাতনের স্টিম রোলার। যেন নিজ দেশে তারা পরবাসী। অথচ রাখাইন প্রদেশে মুসলমানদের বসবাস শুরু ১৩শত বছর আগে। এতদিন ধরে বসবাস করে আসা একটি জনগোষ্ঠী সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে না, তা হতে পারে না। কিন্তু মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে নানা ধরনের সূত্রপাত সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের কাজ চালু রেখেছে। এদের অনেকে বাধ্য হয়ে শরণার্থী হিসেবে দিনাতিপাত করছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে। প্রকৃতপক্ষে তাদের অবস্থা ন্যাটিব
আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকার মায়্যান ও অধিকৃত আরব ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনিদের চাইতেও দুর্বিষহ। রোহিঙ্গা মুসলমানদের অত্যাচার নিপীড়ন করে তাড়িয়ে দিয়ে সময়ের ব্যবধানে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যাগত কাঠামোই পাল্টিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিষয়টা যেন এমন- রাখাইন রাজ্য যেন রাখাইনদের জন্যই। অন্য কোন জাতি বসবাস করা নিষিদ্ধ। যে জন্য সেখানে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাদের স্থাবর, অস্থাবর ও ওয়াকফ করা সম্পত্তি। মসজিদ ধ্বংস করে প্যাগোডা ও মঠ তৈরি করা হচ্ছে পূর্ণোদ্যমে। এতে বোঝা যায় মুসলমানদের যাবতীয় নিশানা মুছে দিতে খোদ মিয়ানমার সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক তদারক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধানের কাছে বলেছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জনগণ নয়, বিতাড়নই এ সমস্যার সমাধান। তিনি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘তৃতীয় কোন দেশ চাইলে সেখানে তাদের পাঠানো হবে।’ দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিতাড়নতো চলছেই, তৃতীয় দেশেও সেটা চলতে পারে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত আরাকানের সঙ্গে বাংলাদেশের আছে ২৬৭ কিলোমিটার সীমান্ত। রোহিঙ্গারা যদি আরাকানি তথা মিয়ানমারি না হবে, তাহলে ১৯৪৭ সালে বার্মার প্রথম সংবিধান সভার নির্বাচনে কিভাবে তারা ভোট দিয়েছিল? ১৯৫১ সালে তাদের আরাকানের অধিবাসী হিসেবে পরিচয়পত্র দিয়েছিল। বার্মার প্রথম প্রেসিডেন্ট উ নু রোহিঙ্গাদের আরাকানের অধিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ১৯৫৯ সালে প্রধানমন্ত্রী উ বা রোহিঙ্গাদের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মতোই একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছেন। ১৯৪৭ সালে অং সান সু চির বাবা জেনারেল অং সানের উদ্যোগে জাতিগত সমঝোতার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত পালং সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্বাধীন মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম শাও সোয়ে থাইক বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গারা যদি স্থানীয় আদিবাসী না হয়, তাহলে আমিও তা নই।’ ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন জারির আগে পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের অবাঞ্ছিত বলার বাস্তবতা ছিল না। কিন্তু জেনারেল নে উইনের সামরিক সরকারের প্রতিষ্ঠার দিন থেকে শুরু হয় রোহিঙ্গাদের জীবনে ইতিহাসের কালো অধ্যায়। তাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়, বন্ধ করে দেয়া হয় রোহিঙ্গা ভাষার রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার। শুরু হয় অপারেশন ড্রাগন কিং নামে রোহিঙ্গা বিতাড়ন কর্মসূচি। বর্তমান প্রেসিডেন্টও সম্ভবত সেই কর্মসূচি শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ১৯৮৯ সালে বার্মা ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ‘অপারেশন গোল্ডেন ঈগল’ নামে কর্মসূচিতে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া আড়াই লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়া শুরু করে। আন্তর্জাতিক চাপে মিয়ানমারকে তখন পিছু হটতে বাধ্য করেছিল। মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি নির্বাচনের ভোটার তালিকা এবং বাংলাদেশের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো প্রমাণ করে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার সফরের সময় সে দেশের সরকার ২৫ হাজার শরণার্থীকে ফেরত নিতে রাজি হয়। এ চুক্তি মিয়ানমার অদ্যাবধি বাস্তবায়ন করেনি। এভাবেই মিয়ানমার সরকার একের পর এক আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ করছে এবং বাংলাদেশের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করছে। এভাবেই গুমরে মরছে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম জনতা। ২০০৫ সালে উকিয়মিনকে (ওরফে মো: শামছুল আনোয়ারুল হক) রোহিঙ্গা জাতীয়তাবাদের স্বীকৃতির দাবি নিয়ে কথা বলায় ৪৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। যদিও তিনি বুদিন সাহারা অঞ্চলের ১ নম্বর নির্বাচনী এলাকার পার্লামেন্ট সদস্য। একই অভিযোগে তার সহধর্মিণী ও তিন সন্তানকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আশির দশকেও মিয়ানমারে মুসলমাননিধন চরম আকার ধারণ করেছিল। যদিওবা মুসলিম-বৌদ্ধ দাঙ্গার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। অথচ প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে হতাহতের মধ্যে নিহতরা সকলেই মুসলমান। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের বরাত দিয়ে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার আহবান জানায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জনসংখ্যারভারে ন্যুব্জমান বাংলাদেশকে শরণার্থীদের আশ্রয়ের ব্যাপারে যেভাবে বারবার নোটিশ জারি করছে, মিয়ানমার সরকারকে সম্ভবত ততবার নোটিশ জারি করার প্রয়োজন অনুভব করেন না। আর আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সাফ সাফ আশ্রয় না দেয়ার বিষয়টি বলার চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আলজাজিরা টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকারে বলেছেন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। অথচ আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক বাংলাদেশ দায়বদ্ধ এমন উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিতে। জান বাঁচানোর স্বার্থে কেউ যদি অন্য দেশে প্রবেশ করে তবে কোন সভ্য দেশই তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলতে পারে না। জান বাঁচানো প্রতিটি মানুষেরই মৌলিক মানবিক অধিকার। সেটি কোন দেশে বিপন্ন হলে আক্রান্ত ব্যক্তির অন্য যে কোন দেশে আশ্রয় নেয়ার অধিকার রাখে। সেটিই আন্তর্জাতিক নীতি। কিন্তু মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় সরকার চাইলে তাদের আশ্রয় দিতে পারত। এক দিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্যাতন অপর দিকে বাংলাদেশের বিজিবির কঠোর অবস্থানে দিশেহারা মিয়ানমারের নিরীহ মুসলমানেরা। এ পর্যন্ত বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স, ভোয়া, নিউইয়র্ক টাইমস, এফএফপি ও মিয়ানমার সরকারি বরাতে ১২০ অথবা ১৫০ জন হতাহতের কথা বলা হয়েছে। অথচ এ হতাহতের সংখ্যা এর চাইতে বহুগুণ বেশি। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে শরণার্থীদের আশ্রয়ের কথা বললেও বিগত সময়ে যে সকল শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল তাদের বিষয়টি এখনও সুরাহা তারা করেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মিয়ানমারের সীমানায় বৃহৎশক্তি চীন থাকার কারণে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলো মিয়ানমারের শরণার্থীদের ব্যাপারে সঠিক কোন সমাধানে আসতে পারছে না। আবার এ দেশটির সাথে খারাপ সম্পর্কের মাধ্যমে সামরিক অবরোধের মুখে পড়–ক তারা তা চান না। কারণ মিয়ানমার পণ্যদ্রব্য রফতানির ক্ষেত্রে বড় একটা ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের সরকার এত দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধান করতে না পারায় পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থাগুলো সাহায্য করতে এলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে, যা অনভিপ্রেত।
বৌদ্ধদের বাণী ‘জীব হত্যা মহাপাপ’। অথচ রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। কী বিভীষিকা? মানবতা ভূলুণ্ঠিত! কত জীবন নিঃস্ব হলো! আর কতকাল এ অমানবিক আচরণ, পৈশাচিকতার দুর্দণ্ড প্রতাপ ইতিহাসকে কলঙ্কিত করবে? মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের মাত্রাতিরিক্তই যেন মানবাধিকার রক্ষা। মুসলমানদের প্রশ্নবিদ্ধ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে হত্যা, নির্যাতনের চরম সীমায় উপনীত করাই যেন মানবাধিকারের সংরক্ষণ।

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগের
সম্প্রতি ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। হত্যা, গুম ও বিচারের নামে অপশাসনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। তার সাথে সরকারি দলের প্রতিহিংসার রাজনীতি ও পুলিশ বাহিনীকে অপব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল অবশ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করতে নারাজ। ওনারা লিমনের র‌্যাবের ক্রসফায়ারে পঙ্গু হওয়ার ব্যাপারে যত বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করতে সোচ্চার দেখা গেছে বাংলাদেশের জনসাধারণের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল ‘বিচারব্যবস্থা’ দলীয়করণের বিষয়ে তত সোচ্চার নন। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টায় মত্ত থাকে শাসকগোষ্ঠী। আগে কখনও হত্যা মামলা অথবা স্পর্শকাতর কোন মামলা ব্যতীত রিমান্ডে আসামিদেরকে নেয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য ছিল না। এখন বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদেরকে পাকড়াও করার পরই রিমান্ড চাওয়া হয়। সাথে সাথে জাজ মহোদয়েরা তা গ্র্যান্ট করতে সিদ্ধ হস্ত থাকেন। এহেন পরিস্থিতি জনগণকে ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ রিমান্ডের নামে যে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় তা অকথ্য।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি অনুল্লেখযোগ্য। এরপরও মাঝে মধ্যে মানবাধিকার কর্মীরা এবং মিডিয়া কর্মীরা মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হন, তা খুবই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো দেশে-বিদেশে মুসলমানদের অন্যায়ভাবে হত্যা ও নির্যাতনে মানবতা দলিত হচ্ছে, এ ব্যাপারে মানবাধিকার নীরব কেন? এরা কার ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে? সম্প্রতি বিরোধী দলকে দমনের নয়া কৌশল হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়েছে। যাদের সাথে আওয়ামী লীগ যৌথ আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, হঠাৎ করে তাদেরই বিরুদ্ধে অভিযোগ! এমন এজেন্ডা কার স্বার্থে বাস্তবায়ন হচ্ছে? প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে দেরি হওয়ার কথা নয়। দাদাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নই মূল উদ্দেশ্য। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা স্বাধীনভাবে ট্রাইব্যুনালে কাজ করতে পারছেন না। প্রসিকিউটর জোরপূর্বক ট্রাইব্যুনাল পরিচালনা করছেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ‘আমি সুবিচার করবো না’ এমন বক্তব্য প্রহসনের বিচারকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। বিচারকার্যে বাদি পক্ষের একক আধিপত্য আর আসামি পক্ষের প্রতি অবর্ণনীয় একপক্ষীয় আচরণ আফ্রিকার জঙ্গলেও নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশ-বিদেশের আইনজীবীরা। কারণ ইতোমধ্যে সারাবিশ্ব অবগত হয়েছে যে, যারা আসামির বিপক্ষে ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন তাদেরকে ঢাকার গোলাপবাগের সেইফ হোমে এনে আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, যারা মিথ্যা সাক্ষী দিতে গররাজি তাদেরকে তারিখ অনুযায়ী হাজির করা হচ্ছে না বরং তাদেরকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। উল্টো আসামিপক্ষের ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তারা সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হতে পারছেন না বলে ডাহা মিথ্যা জপেই যাচ্ছেন। আবার যারা মিথ্যা সাক্ষী হিসেবে কাঠগড়ায় হাজির হতে চাচ্ছেন না, তাদের উপস্থিত হওয়া ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য বলে চালিয়ে দিয়ে সাক্ষীদের আদালতে হাজির না করে আইওর মৌখিক জবানবন্দীকে সাক্ষী হিসেবে ধরা হচ্ছে। অথচ সাক্ষীরা দিবালোকে যত্রতত্র ঘোরাফেরা করছেন। বিচারকরা ট্রাইব্যুনালের আসামিদের অপরাধ প্রমাণের আগেই যুদ্ধাপরাধী বলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছেন। বিচারের নামে এমন অবিচার বর্তমান সভ্য ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। আসামিপক্ষ অতিরিক্ত অসুস্থ থাকলে, তার অনুপস্থিতিতে অথবা দেশে হরতালের মতো অস্বাভাবিক অবস্থা জারি থাকলেও আসামিপক্ষের আইনজীবী ছাড়া বিচারকার্য পরিচালনার মতো সক্রিয়তায় ‘দেশের বিচার বিভাগ’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক। এত তড়িঘড়ি কেন? অথচ দেশের প্রতিটি আদালতে হাজার হাজার মামলা পড়ে আছে। এসবের কোন সুরাহা পাচ্ছে না বিচারাকাক্সক্ষীরা। আবার বিচারকরাই বিচার লঙ্ঘনের দীক্ষা প্রদর্শন করছেন! যে সকল আইনজীবী দেশের বিচারালয়ের সর্বাপেক্ষা গ্রহণীয় স্থান ‘সুপ্রিম কোর্ট’ ভাঙচুর করেছেন তাদেরকে ‘বিচারকার্য’ সম্পাদনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির নেতা ওয়ালিউল্লাহ ও আল মোকাদ্দাস গুম হয়েছেন অনেক দিন হলো। খবরে প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত নাম না জানা আরো কতশত মানবের গুম আর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জেনেছে বাংলাদেশ।     অথচ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে তথাকথিত শান্তির মডেল উপস্থাপন করেন এবং দেশের বাইরে থেকে শান্তির মেডেল উপহার পান। বাংলাদেশের এহেন মানবাধিকার চরম পরিস্থিতিতে এ কথা বলতে আর কোন দ্বিধা নেই, এখানে ‘জোর যার মুল্লুক তার’। যে কাউকে অভিযুক্ত করেই মামলা দায়ের করলেই প্রভাব-প্রতিপত্তি ও মেনেজ রাজনীতি দিয়ে বিচারকার্য পরিচালিত হয়। এমন হতাশাজনক অবস্থা জনগণের মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে লংঘন করছে। দুর্বলের ওপর বাড়ছে সবলের অযাচিত প্রভাব। পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদীদের দৌরাত্ম্যে দেশ হবে হিংস্র দানবের অভয়ারণ্য, বসবাসের অযোগ্য।
আওয়ামী সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের অন্তঃকলহে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে শিক্ষাব্যববস্থা ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের বিদ্যানিকেতনে পাঠিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না অভিভাবকেরা। অবশ্য আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করেন এটা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা ও নেতৃত্ব গড়ে তুলে। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার, হল দখল ও চাঁদাবাজি করতে গিয়ে অন্তঃকোন্দলে নিহত হয়েছে কয়েক ডজন নেতা-কর্মী। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্মা সেতুর উত্তোলিত চাঁদার ভাগবটোয়ারাকে কেন্দ্র করে আবদুল্লাহিল সোহেল নামে এক নেতা নিহত হন। আবার ভিন্ন মতের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ক্যাম্পাসে ভিড়তে না দেয়া, জোর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া, অহরহ হামলা আর নির্যাতন করে আহত ও খুন করা  প্রগতির অংশ বলে তারা মনে করে। বারবার কর্তাব্যক্তিদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বুদ্ধিজীবী মহল। তবে এহেন পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের ওপর অবৈধ চাপ ও প্রশাসনে দলীয় নিয়োগকে দায়ী করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সস্তা বুলি আজ দিকে দিকে। কিন্তু লক্ষ কোটি বনি আদম বিশ্বজুড়ে নির্ঘুম রাত কাটায় আশঙ্কা আর আতঙ্কে। বিশ্ব নেতৃত্বের অধিকারীরা কারো কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যতিব্যস্ত। এর সুরাহা অতীব জরুরি। বিশ্বের বিবেকবানদের এ বিষয়ে ভাবা ব্যতীত অন্য কোনো গত্যন্তর নেই। নচেৎ সবলের হুঙ্কার আর দুর্বলের রোদনে শান্তির পায়রার দেখা মিলবে না নিকট ভবিষ্যতে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে ধ্বংসের নিলিমায়। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে শান্তি, সাম্য আর ন্যায়ের সৌধের সমাজ প্রতিষ্ঠাই সকল সমস্যার সমাধান। যারা আজ মানবরচিত মতবাদে শান্তির হরিণ খুঁজে বেড়ায় তারা পদে পদে মানবাধিকার লংঘনের ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছেন। অথচ ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা বলা হয়েছে। আর সেটিকে পৃথিবীতে নির্ভুলভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য রয়েছে নির্ভেজাল ত্র“টিমুক্ত গ্রন্থ আল কুরআন। যেই গ্রন্থের নির্ভুলতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সবাই ব্যর্থ হয়েছে। সেই গ্রন্থ জানা ও মানার মাধ্যমে মানবতার মুক্তি নিশ্চিত করা যেতে পারে। ধিক বিশ্ব নেতৃত্বকে! এই অমূল্য রতœ থাকার পরও তারা মানবতার মুক্তি নিশ্চিত করতে পারছেন না।
লেখক : সেক্রেটারি জেনারেল
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply