শপথের আলোকে আমাদের জীবন -মোবারক হোসাইন

ভূমিকা : বাইয়াত বা শপথ ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ইসলামী আন্দোলনের সফলতার জন্য বাইয়াতের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাইয়াতবিহীন মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু। বাইয়াত মানুষের জীবনকে সুন্দর, জ্ঞানগত পরিপূর্ণতা, মানুষের কল্যাণকামী ও উন্নত আমলের ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করে। রাসূল (সা)-এর কাছ থেকে সাহাবীগণ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বাইয়াত নিয়েছেন। ১) বাইয়াতে রিদওয়ান ২) আকাবার শপথ ৩) হুদায়বিয়ার শপথ ও ৪) মক্কা বিজয়।
বাইয়াত বা শপথের অর্থ : শপথ এটি বাংলা শব্দ যার অর্থ চুক্তি, অঙ্গীকার, সঙ্কল্প, ক্রয়-বিক্রয় করা, আদান-প্রদান, প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা, ঐকান্তিক সাধনা। আরবিতে বাইয়াত বলা হয়। ইংরেজিতে বলা হয় To sell, To make a contract, To offer for sell etc. Agreement, Arrangement, Business, Deal, Contact, Commercial Transaction, Bargain, Sale, Purchase etc.

পারিভাষিক অর্থে- চুক্তি, অঙ্গীকার, ব্যবসা, সম্পর্ক, যোগাযোগ, বাণিজ্যিক লেনদেন, আলোচনা-পর্যালোচনা করা, বিক্রয়, ক্রয় ইত্যাদি। আল্লাহর জমিনে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠনের পদ্ধতি অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নাম শপথ বা বাইয়াত।
সাথী : যারা বা যিনি নিজের সুখ এবং দুঃখে সর্বাবস্থায় আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে একসাথে থাকেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতেই তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তাকেই সাথী বলা হয়ে থাকে। আল্লাহর রাসূলের (সা) সঙ্গী-সাথীদেরকে সাহাবী বলা হয়। সংগঠনের সঙ্গী ও সহচরকে সাথী বলা হয়।
৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে- যদি কোন শিক্ষার্থী সংগঠনের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন, এ সংগঠনের কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির সাথে সচেতনভাবে একমত হন, ইসলামের প্রাথমিক দায়িত্বসমূহ পালন করেন এবং সংগঠনের সামগ্রিক তৎপরতায় পূর্ণভাবে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে তিনি এ সংগঠনের সাথী হতে পারেন।
কুরআনে বাইয়াত শব্দের ব্যবহার
বেচা-কেনা/লেনদেন অর্থে-“হে ঈমান-দারগণ! জুমার দিনে যখন তোমাদের নামাজের জন্য ডাকা হবে তখন তোমরা (নামাজের মাধ্যমে) আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাও। আর কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার।” (সূরা জুমা : ৯, সূরা আন নূর : ৩৭)
২. চুক্তি অর্থে- জান্নাতের বিনিময়ে জান-মাল উৎসর্গের চুক্তি। (সূরা আত তাওবা : ১১১)
৩. সার্বভৌম শক্তির আনুগত্যের শপথ। (সূরা আল ফাতাহ : ১০)
৪. বাইয়াত অর্থ আল্লাহর মর্জিমত চলা। (সূরা আল মোমতাহিনা : ১২)
৫. মৃত্যুর শপথ
#    হুদায়বিয়ায় হযরত ওসমান (রা)-এর মৃত্যুর সংবাদে মুসলমানদের অবস্থা ছিল এই, মরে যাবো তবু ওসমান হত্যার বদলা নেবো।
#    মুতার যুদ্ধে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেনÑ যায়েদ ইবনে হারেসা, জাফর ইবনে আবি তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা।
#    জাফর ইবনে আবি তালিব রোমান বাহিনীর অভ্যন্তর তছনছ করে দেন, ডান এবং বাম হতে দ্বিখন্ডিত, বাহু, বুক এবং মুখ দিয়ে পতাকা উত্তোলন, সারা দেহে নব্বইটি ক্ষত চিহ্ন।
৬. জিহাদের ময়দানে অটল ও অবিচল থাকাÑ “হযরত উমর (রা)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কোন বিষয়ের ওপর আপনারা সেদিন বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন? তিনি বললেন সবরের ওপর বাইয়াত গ্রহণ করেছিলাম। আমরা শপথ নিয়েছিলাম শত্রুপক্ষ যতই শক্তিশালী হউক না কেন আমরা জিহাদের ময়দান ত্যাগ করে চলে যাবো না।” (বুখারী)
শপথ গ্রহণের অর্থ
#    নিজেদের সামগ্রিক মানোন্নয়ন।
#    নিজেদের পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিবেদিত করা।
#    সকল কাজ সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে।
#    সংগঠনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জনশক্তি, সিদ্ধান্তকারাী ও পরিচালনাকারী।
বাইয়াতের শরয়ি মর্যাদা/গুরুত্ব
বাইয়াতের গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন সূরাতে বর্ণনা করেন- সূরা ফাতাহ- ১০, ১৮, সূরা মুতমায়িন্নাহ- ১২, সূরা সফ-১১, সূরা জুময়া ৯, সূরা নূর- ৩৪
#    আল্লাহর সন্তুষ্টির পয়গাম (সূরা আল ফাতাহ- ১৮)
#    ইসলামী সংগঠনের নিকট বাইয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহর নিকট বাইয়াতের দাবি পূরণ করে।
#    দ্বীনের জন্য জানবাজি রাখার শপথ ঈমানের দাবি। (সূরা আত তাওবা : ১১১)
#    আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের একমাত্র উপায়। “হে রাসূল, আপনি বলুন তারা যদি আল্লাহকে ভালোবাসে এবং তার আনুগত্য করে তাহলে আমিও তাদেরকে ভালোবাসব।” (আল কুরআন)
#    বাইয়াত ইসলামী আন্দোলনের প্রেরণা ১) গতিশীলতা সৃষ্টি করে, ২) জানবাজ কর্মী তৈরি করে
#    দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য
#    নফসের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার জন্য
বাইয়াত না করার পরিণতি
#    বাইয়াতবিহীন মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু
#    জিহাদের বাইয়াত থেকে বিরত থাকা মুনাফেকির লক্ষণ
#    আনুগত্যের শপথবিহীন মৃত্যু জাহেলি মৃত্যু। “যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে দূরে থাকল এবং জামায়াত থেকে বের হয়ে গেল সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল।”
বাইয়াতের অন্তরায়
১. নফস। (সূরা আল ইমরান : ১৪) ২. আত্মীয়-স্বজন (সূরা আত তাওবা : ২৪) ৩. দুনিয়ার মোহ (সূরা আত তাওবা : ৩৮) কয়েকজন সাহাবী তাবুক যুদ্ধে না যেয়ে এই কাজ করেছিলেন- কা’ব বিন মালিক, মুরারা বিন রাবিয়া, হেলাল বিন উমাইয়া।
বাইয়াত কার কাছে নিতে হবে
আল্লাহর কাছে, ২. রাসূলের কাছে, ৩. উলুল আমরের কাছে (সূরা ফাতাহ : ১০)
বাইয়াতের কাঠামো বা পদ্ধতি
#    আসল বাইয়াত আল্লাহর কাছে
#    আল্লাহকে দেখা যায় না তারপরও আল্লাহর কাছেই বাইয়াত নিতে হয়
#    আল্লাহ তায়ালা এই বাইয়াত নেয়ার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন
#    নবী-রাসূল হেদায়েত পৌঁছিয়েছেন- যারা হেদায়েত গ্রহণ করেছেন তারা নবী-রাসূলদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বাইয়াত নিয়েছেন
#    রাসূল (সা) চলে যাওয়ার পর চার খলিফা বাইয়াত দিয়েছেন
#    রিসালাত, খিলাফত শেষ কিন্তু বাইয়াতের ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই, দ্বিমত শুধুমাত্র পদ্ধতিগত
বাইয়াতের পদ্ধতি ২টি : ক) ব্যক্তির কাছে, খ) সংগঠনের কাছে।
ব্যক্তির হাতে বাইয়াত
#    যিনি অধিক জানেন ও মানেন- এমন ব্যক্তির কাছে বাইয়াত জায়েজ
#    বাইয়াত- সবকিছু সোপর্দ করে দেয়া
ব্যক্তির হাতে বাইয়াত ঝুঁকিপূর্ণ।
সংগঠনের কাছে বাইয়াত
#    এমন দল যারা দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে চায়
#    কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ
#    পরামর্শভিত্তিক দল
#    ভুল হলে সংশোধনের পদ্ধতি আছে
#    এটি তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ।
আমাদের বাইয়াত
#    সংগঠনের কাছে- ব্যক্তির পরিবর্তনে আনুগত্যের পরিবর্তন হবে না
#    চুড়ান্ত বাইয়াত- সদস্য শপথ
#    সাথী সদস্য হওয়ার পূর্বশর্ত
#    স্তরবিন্যাস রাসূলের আমলে ছিল না
#    এটি আধুনিক পদ্ধতি।
বাইয়াত গ্রহণকারী সংগঠনের বৈশিষ্ট্য
#    পূর্ণাঙ্গ দ্বীনের দাওয়াত।
#    পরিপূর্ণ মুসলমান হিসাবে জীবন যাপনের অনুশীলন
#    ইকামতে দ্বীনের দায়িত্ব পালন
#    সুসংগঠিত উপায়ে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর কর্মসূচি বাস্তবায়ন- “হযরত জারির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, আমি তোমাদেরকে পাঁচটি কাজের নির্দেশ দিচ্ছি যা আমার রব করতে বলেছেন : সংঘবদ্ধ থাকতে, শুনতে, আনুগত্য করতে, হিজরত করতে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করতে।”
বাইয়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির
#    Cadre System-
#    জাগতিক আন্দোলন লেনিন থেকে
#    ইসলামী আন্দোলন ইমাম ইবনে তাইমিয়া থেকে
#    সাংগঠনিক কাঠামো বিজ্ঞানভিত্তিক করা থেকে
#    উদাহরণ : মাওলানা মওদূদী ও হাসানুল বান্না
#    রাসূলের যুগে আহলে সুফ্ফা ও আশারায়ে মোবাশ্শারা
#    আমাদের সংগঠনে শপথের জনশক্তিরাই ময়দানের কার্যকরী শক্তি
#    সংবিধান স্বীকৃত জনশক্তি
#    সংগঠনের আমানতদার
#    সংগঠনের পরিচয় তাদের ওপর নির্ভর করে।
Cadre পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা
#    যোগ্যতার মূল্যায়নের জন্য
#    দায়িত্ব বিন্যাসের জন্য
#    সংগঠনের শৃঙ্খলা বিধানের জন্য
#    প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য।
বাইয়াতের উদ্দেশ্য
#    ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত মানবসমাজের কাছে পৌঁছে দেয়া
#    আমর বিল মারুফ ও নেহি আনিল মুনকারের বাস্তবায়নের জন্য
#    কুপ্রবৃত্তি দমন ও সুপ্রবৃত্তি লালনের জন্য
শপথ কেন নিয়েছি
#     আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য
#    নফসকে নফসে মুতমাইন্না করার লক্ষ্যে
#    জাহিলিয়াতের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য
শপথবদ্ধ জিন্দেগির বৈশিষ্ট্য
#    ঈমান ও আকিদার জিন্দেগি
#    ইবাদত বন্দেগির জিন্দেগি
#    তাকওয়ার জিন্দেগি
#    সাংস্কৃতিক জিন্দেগি
শপথের মানদন্ড
#    আল্লাহ তায়ালা যে মান পছন্দ করেন
#    আল কুরআন যে মান তৈরি করতে চায়
#    নবী করীম (সা) সাহাবীদেরকে যে মানে তৈরি করেছিলেন।
শপথের দাবি
#    দ্বীনের দাওয়াত সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া
#    জিহাদের ময়দানে অটল ও অবিচল থাকাÑ “হযরত উমর (রা)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কোন বিষয়ের ওপর আপনারা সেদিন বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন? তিনি বললেন সবরের ওপর বাইয়াত গ্রহণ করেছিলাম। আমরা শপথ নিয়েছিলাম শত্রুপক্ষ যতই শক্তিশালী হউক না কেন আমরা জিহাদের ময়দান ত্যাগ করে চলে যাবো না।” (বুখারী)
#    আন্দোলন সংগ্রামে আপত্তি পেশ না করা
#    নিজেকে ইসলামের জীবন্ত পথিক হিসেবে উপস্থাপন করা
#    চূড়ান্ত শপথের অঙ্গীকার
#    অধস্তন জনশক্তির তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা
শপথের বাস্তব প্রতিফলন
#    আনুগত্য প্রদর্শন করা
#    ত্যাগ ও কোরবানির মানসিকতা
#    সাহসিকতা
#    ধৈর্য, আন্তরিকতা বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা দিয়ে ময়দান মোকাবেলা করা।
#    সর্বোৎকৃষ্ট জান্নাতি পরিবেশ বজায় রাখা
#    উপশাখার প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা।
#    আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা।
#    আখেরাতের সফলতার জন্য
#    জান এবং মালের কোরবানির জন্য
#    উন্নত নৈতিকতার কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছানোর জন্য।
শপথের আলোকে জীবন পরিচালনার জন্য
#    আন্তরিক সিদ্ধান্ত (সূরা আলে ইমরান : ১৩৩)
#    পরিকল্পনা গ্রহণ (বার্ষিক, ষান্মাসিক, ত্রৈমাসিক, মাসিক, সাপ্তাহিক, দৈনিক)
#    ইলমি প্রস্তুতি
#    পরিচ্ছন্ন আমল
#    খুশু ও খুজুর সাথে নামাজ আদায়
#    নামাজ কাজা না করা
#    জামায়াতের সাথে নামাজ আদায়
#    সাহাবাদের নামাজ
#    মোয়ামেলাত
#    লেনদেনে পরিচ্ছন্নতা
#    ওয়াদা পালন
#    আমানতদারিতা
#    পর্দা
দ্বিধাহীন আনুগত্য
#    যে কোন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার মানসিকতা
#    টিউশনি-লজিং ছাড়া, পরীক্ষা না দেয়া, বাড়ি না যাওয়া ইত্যাদির পরীক্ষা
#    সংগঠন বুঝা
#    রিপোর্টিং পদ্ধতি
#    ইতিহাস-ঐতিহ্য
#    সংবিধান-কর্মপদ্ধতি
#    শাখার কাজ
#    সকল খারাপ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে ভালো কাজে ব্যস্ত রাখা
#    তাওবা, এস্তেগফার এবং আত্মসমালোচনা করা
#    আত্মগঠন ও মানোন্নয়নের অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানো
#    রিপোর্ট বাদ না দেয়া
#    সিলেবাসের গুরুত্বপূর্ণ বই নোট
#    দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ
#    ভারসাম্যপূর্ণ জীবনগঠনের চেষ্টা চালানো
#    লেখাপড়া ও সাংগঠনিক কাজ
#    মনীষীদের জীবনী পড়ে এ কাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা
#    নফল ইবাদত সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হওয়া
#    জিহাদের ময়দানে নিজেকে উৎসর্গ করা
#    সার্বক্ষণিক জিকির, দোয়া এবং আল্লাহর সাহায্য চাওয়া।
#    শিবিরের কর্মসূচি কর্মপদ্ধতি, আদর্শ ও লক্ষ্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত
#    জ্ঞান অর্জন
#    দাওয়াত দান সম্পর্কে
#    শিবিরের প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতা
#    সময়কে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার
#    সময়ের কাজ সময়ে করা
#    নিখুঁতভাবে মনোযোগ সহকারে কাজ করা
#    আলসেমি ও ঘুম ঘুম ভাব পরিহার করা
#    সংগঠনের ও জনশক্তির দুর্বলতা দূর করতে চিকিৎসকের ভূমিকা পালন
#    সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সংরক্ষণ
#    হীনমন্যতা পরিহার- শহীদ আলাউদ্দিন
#    আনুগত্য
#    কঠিন কাজ নিজে নেয়া
#    মৌলিক বিধিবিধানসমূহ যথাযথভাবে পালন
#    নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত
#    পর্দা
#    গোঁজামিলের আশ্রয় না নেয়া/ মিথ্যা
#    নকল
#    গান-বাজনা, অশ্লীলতা, বান্ধবী, নোট আদান প্রদান
#    লজিং, টিভি, নাটক
#    অর্পিত আমানত যথাযথভাবে রক্ষা
#    আয়-ব্যয়ের হিসাব
#    সংগঠনের সম্পদ
#    সংগঠনের জনশক্তি, শুভাকাক্সক্ষী
#    সঠিক পরিসংখ্যান
#    সংগঠনের কোন খবর বাইরে বলা
#    সাথী বৈঠকের খবর বাইরে বলা
#     নফল এবাদত করা
#    রাত্রি জাগরণ, নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত
#    শহীদ মঞ্জুরুল স্বপ্নে দেখার পর থেকে প্রতিদিন তাহাজ্জুদের নামাজ
#    মুজাহিদের পরিচয় ‘রাতে জায়নামাজে, দিনের বেলায় ঘোড়ায় সওয়ার’
#    রাসূল দাঁড়িয়ে থেকে থেকে পা ফুলিয়ে ফেলতেন। সাহাবীদের প্রশ্নের উত্তরে বলতেন, আমি কি আল্লাহর শুকরগুজার বান্দা হবো না।
#    প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়া
#    ভ্রাতৃত্ববোধ সংরক্ষণ
#    শাহাদাতের তামান্না
#    সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা
#    আল্লাহর সাহায্য

আমাদের জীবন : ব্যবহারিক জীবন হলো এমন মূল্যবোধ যে অনুযায়ী মানুষের আচরণ হওয়া প্রয়োজন। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবদুল ওয়াদুদ মাকরূম বলেছেন, “ব্যবহারিক জীবন হচ্ছে আচরণের রীতিনীতির সমষ্টি, যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রিত ও সংহত করে এবং যাকে চিন্তা ও আচরণের ক্ষেত্রে মানুষের অনুসরণ করা উচিত।” রাসূল (সা) এরশাদ করেছেন, “তোমরা সততা অবলম্বন কর, কেননা সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায় আর পুণ্য জান্নাতের পথ দেখায়। একজন লোক সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্যবাদিতার প্রতি অনুরাগী হয়, ফলে আল্লাহর নিকট সে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।” (মুসলিম)
আমাদের জীবনের বিভিন্ন দিক
#    ব্যক্তিগত জীবন
#    সাংগঠনিক জীবন
#    পারিবারিক জীবন
#    সামাজিক জীবন
ব্যক্তিগত জীবন
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা-হাদিস “আত্তুহরো সাতরুল ঈমান”
শৃঙ্খলাবদ্ধতা : সকল কিছু পরিপাটি সাজানো গুছানো থাকবে। খাওয়া, ঘুম, লেখাপড়া, বই-পুস্তক, কাপড় চোপড় রাখা টেবিল চেয়ার ইত্যাদির মধ্যে যেন কোন বিশৃঙ্খলা না থাকে।
ক্রোধ দমন করা : হযরত আলী (রা) এর ঘটনা।
ত্যাগী মনোভাব : হযরত আবু তালহা (রা) এর ঘটনা। মুতার যুদ্ধ প্রথম থেকে ষষ্ঠ ব্যক্তি পর্যন্ত নিজে পানি পান না করে অপরের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সকলেই জীবন দিলেন। (সূরা আলে ইমরান ৯২ ও ২০০)
সবর ও তাওয়াক্কুল : সবরের কয়েকটি অর্থ : ইমরান ২০০। সূরা আসর তাওয়াক্কুল- হিজরতের সময় গুহার ভেতর রাসূল (সা)-এর অবস্থান।- ইবরাহিম (আ)কে আগুনে ফেলার পর যখন ফেরেস্তা এসে সাহায্য করতে চেয়েছিল তখন ফেরেস্তার ওপর ভরসা না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছিলেন।- ফেরাউন যখন মূসা (আ)কে দৌড়িয়ে নিয়ে সমুদ্রের ধার পর্যন্ত যাওয়ার পর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করায় তার হাতের লাঠির ইশারায় সমুদ্রে ১২টি গোত্রের জন্য ১২টি রাস্তা হয়ে যায়।
#    জ্ঞান পিপাসা
#    দৃষ্টিশক্তির হেফাজত
#    বাকশক্তি বা জবানের হেফাজত
#    রিয়া বা অহঙ্কারমুক্ত মন : (সূরা বনি ইসরাইল – ৩৭, লোকমান- ৩)
#    আড়ম্বরহীন জীবন : (সূরা লোকমান – ১৯)
#    প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সকল গুনাহ থেকে রক্ষা  (সূরা নাজম-৩২, আন আম-১৫১)
#    আত্মসমালোচনা
#    পরিকল্পিত জীবন
#    কথা ও কাজের মিল
সাংগঠনিক জীবন
সহযোগীদের সাথে ব্যবহার : তিনটি নেক কাজে পাপ কাজ মার্জনা হয় : ক) সরল ব্যবহার, খ) প্রফুল্ল মন, গ) মিষ্টি ভাষণ
সহনশীলতা ও উদারতা : (সূরা ইমরান ১৫৯, আরাফ ১৯৯)। একটি ঘটনা-একজন লোক মসজিদে নববীতে প্রস্রাব করে চলে যাচ্ছিল।
যাচাই না করে শুনা কথার ওপর ধারণা না করা : বনি ইসরাইল- ৩৬ জাকাত আদায়ের ঘটনা-
পারিবারিক জীবন
#    মাতা-পিতার প্রতি ব্যবহার
#    ভাইবোনদের প্রতি ব্যবহার
#    আত্মীয়স্বজনদের প্রতি ব্যবহার
সামাজিক জীবন
#    মন্দের মোকাবেলায় উত্তম আচরণ : ঞরঃ ভড়ৎ ঃধঃ ঈমানদারদের জন্য প্রযোজ্য নয়। হামিম আস সাজদা : ৩৪-৩৫
# প্রতিবেশীর সাথে ব্যবহার।
# চাকর-বাকরের প্রতি ব্যবহার
#বিরোধীদের সাথে ব্যবহার
অন্যান্য
ক) শিক্ষক-কর্মচারী, খ) রোগীদের প্রতি, গ) রিকশাওয়ালা, ঘ) ফকির বা সাহায্যপ্রার্থী, ঙ) পশুপক্ষি, চ) গাছপালা
লিও টলস্টয় ও মার্কিন তরুণীর দৃষ্টিতে : সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয় যখন নিঃসঙ্গ অবস্থায় রাস্তার ধারে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন, সে সময় তার কোটের পকেট থেকে তার নিত্য সময়ের সঙ্গী যে বইটি পাওয়া যায়, সেটি ছিল আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী লিখিত ‘দ্য সেয়িংস অব প্রফেট মুহাম্মদ (সা)। বাংলায় যার শিরোনাম ‘মহানবী (সা) বাণী’ বইটির একটি হাদিছে উল্লেখ রয়েছে, রাসূল (সা) বলেছেন, ‘তুমি নিজের জন্য যেটা ভালো মনে করবে, অন্যের জন্যও তা ভাববে। আর যেটা নিজের জন্য মন্দ মনে করবে, অন্যের জন্যও তাই মনে করবে। (বুখারী ও মুসলিম)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর আবদুন নূর ‘আয যিকর ওয়াল ফালাহ গ্রন্থে একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন : ‘এক মার্কিন তরুণী দীর্ঘ দু’বছর মেলামেশার পর, তার বাংলাদেশী পুরুষ বন্ধুকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। বন্ধুটি বলে যে, সে রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান। তাই তাকে বিয়ে করতে মেয়েটিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হতে হবে। মার্কিন তরুণীটি ইসলাম ধর্ম কী, তা বুঝতে চাইলো। ছেলেটি তাকে আল্লামা আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী কর্তৃক ইংরেজি অনূদিত পবিত্র কুরআন শরিফের একটি কপি দিয়ে বললো যে, এটি পড়লে ইসলাম সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারবে। দুই মাস কুরআন অধ্যয়নের পর মার্কিন তরুণীটি এসে জানালো, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমি ইসলাম গ্রহণ করবো। ইসলামের সৌন্দর্য ও সমন্বিত নীতিমালা আমাকে আকর্ষণ করছে। এ ব্যাপারে আমার মা-বাবার আপত্তি নেই। কিন্তু তোমাকে আর বিয়ে করতে পারব না। কারণ তোমার আচার আচরণ লক্ষ্য করেছি সম্পূর্ণ কুরআনপরিপন্থী।

সুতরাং আগামী দিনে ইসলামী বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করতে হলে বাইয়াতবদ্ধ জীবনের গুরুত্ব অপরিসীম। পৃথিবীর সকল প্রাণীর ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাজেই আখলাকে হাসানার উপাদানগুলো অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বকে ধরে রাখতে পারে।

লেখক : এমফিল গবেষক

SHARE

Leave a Reply