শহীদ আবদুল মালেকের স্বপ্ন

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। গত সংখ্যার বিষয় ছিল “শহীদ আবদুল মালেকের স্বপ্ন”। এ সংখ্যার বিষয়
“বাংলাদেশে নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা”। লিখবেন ২৫০ থেকে ৩০০ শব্দের মধ্যে। A4 সাইজের ফুলস্কেপ সাদা কাগজের একপিঠে যথেষ্ট পরিমাণ ফাঁক রেখে লিখতে হবে। লেখার নিচে আপনার পূর্ণ নাম ও ঠিকানা থাকতে হবে। খামের উপরে অবশ্যই “পাঠক চিন্তা” কথাটি লিখে দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ফটোকপি বা নিউজপ্রিন্ট কাগজে লেখা গ্রহণযোগ্য হবে না।
ই-মেইলেও লেখা পাঠানো যাবে : chhatra_sangbad@yahoo.com। -বিভাগীয় সম্পাদক


মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেটা দেখে সেটা স্বপ্ন নয়, মানুষকে যা ঘুমাতে দেয় না সেটাই স্বপ্ন। “Shangha Will rise surely rise” দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর প্রতিটি জনপদে কুরআনের পাঠশালা, লাখ-লাখ পথহারা তরুণকে হেরার রাজ তোরণ দেখানো, একটি শোষণ-বৈষম্যহীন স্বাধীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, স্বপ্ন দেখেছিলেন আল্লাহর এ জমিনে তাঁর দীন প্রতিষ্ঠার। আমি কুরআনের পথে শহীদ মুসলিম জাহানের অমূল্য রতন ভাগ্যবান তরুণ মর্দে মুমিন শহীদ আবদুল মালেকের কথা বলছি।
শহীদ আবদুল মালেক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে কৃতিত্বের সাথে পাস করে ক্ষুধা ও সন্ত্রাস মুক্ত এক আদর্শিক সমাজ গড়ার বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা যখন সুনাগরিক তৈরিতে ব্যর্থ, মানুষকে ধর্মহীন করার হীন চক্রান্ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরাজ করছিল অস্থিরতা, দেশের মুক্তিকামী মানুষের দিগি¦দিক ছোটাছুটি এমনই এক প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল নক্ষত্র আবদুল মালেক ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসমুক্ত আদর্শিক সমাজ গঠনের প্রবল স্বপ্ন নিয়ে কুরআনের আলোকে এক অতুলনীয় শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন। কুরআন তথা আদর্শিক বিধান বাস্তবায়নের জন্য জোর প্রচারণা চালানো মানবতা তথা ইসলামের দুশমনেরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। তাইতো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তারা বেছে নেয় হত্যা, নির্যাতন, শোষণ আর পৈশাচিকতার ঘৃণ্য যত পন্থা।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ডেমরার অগণিত জানমালের ক্ষতি হয়েছে। কর্মীদের নিয়ে দুঃস্থ মানুষের পাশে স্বপ্নময় মালেক স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য হাজির। কিন্তু ক্ষুধার জ্বালায় যেখানে মানুষগুলো হাহাকার করছে সেখানে খালি হাতে যেতে আবদুল মালেক রাজি হচ্ছেন না। মনটা তাঁর বেশ ভারাক্রান্ত। শহীদি আত্মার স্মৃতিবিজড়িত সদস্যদের শেষ বৈঠকে তিনি হেদায়াত দিচ্ছিলেন “আন্দোলনের দাবি ও বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সদস্যদের Career Sacrifice-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং Side Organization-এর প্রতি ঝোঁকপ্রবণতাকে রোধ করতে হবে।
হ্যাঁ, আবদুল মালেক Career Sacrifice-এর হেদায়াত দিয়ে নিজেই তাঁর চূড়ান্ত স্বাক্ষর রেখে গেলেন। আল্লাহর রঙে নিজেকে রাঙাতে গিয়ে আবদুল মালেক দ্বিধাহীন চিত্তে শাহাদাতের পিয়ালা পান করলেন। জীবনের বিনিময়ে বাতিলের মোকাবেলায় সত্য প্রতিষ্ঠায় রক্ত স্বাক্ষর রেখে গেলেন। কবি BINYON-এর ভাষায়- “As the stars that are starry in the time of our darkness
To the end, to the end they remain.
শহীদ আবদুল মালেকের স্বপ্নকে কেবল উপলদ্ধি করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মালেকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে লক্ষ কোটি স্বপ্নিল মালেক শপথ নিয়েছে। সেদিন যারা পিছিয়ে দিতে এসেছিল মালেকের স্বপ্নকে, তারা এগিয়ে দিল অনেক দূরে।
আবু সাঈদ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply