শহীদ রফিকুল ইসলাম স্বরণে

আমার এত সুন্দর ছেলেকে আর কোনো দিন ফিরে পাবো না

মো: আমির হোসেন
আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়দীপ্ত উদ্দীপনা নিয়ে এ দেশের শহীদি কাফেলায় শামিল হয়েছিলো বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একটি জেলা কুড়িগ্রামের নিভৃত পল্লীতে জন্মগ্রহণকারী আমার প্রিয় সন্তান রফিকুল ইসলাম। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ ঘাতকদের নির্মম আঘাতে শহীদ হয় সে। কী অপরাধ ছিল শান্ত-শিষ্ট আমার ছেলেটির? তার আশা ছিল পড়াশোনা করে বড় হয়ে বাবা-মা’র মুখে হাসি ফোটাবে। কিন্তু ঘাতকরা তার স্বপ্নকে চিরতরে বিলীন করে দিল। তার রক্তে রঞ্জিত করে দিল শান্ত-শিষ্ট কুড়িগ্রাম শহরকে। আসলে আল্লাহতায়ালা তাকে দ্বীনের জন্য কবুল করেছেন আর সে জন্যই শত বাধা বিপত্তিকে ডিঙিয়ে সেদিনের মিছিলে যোগ দিয়েছিল রফিক। মিছিলে আসার পূর্বে আমি এবং তার মা, খালা বারবার নিষেধ করেছিলাম মিছিলে না যাওয়ার জন্য। সকলের বাধা-নিষেধকে উপেক্ষা করে দ্বীনি আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে সে মিছিলে গিয়েছিল এবং আমাদেরকে বলেছিল মিছিল শেষে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে। কিন্তু রফিক ফিরেছে ঠিকই তবে তার সাথীদের কাঁধে করেই।
তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রফিক ছিল সবার বড়।  ছোটবেলায় তাকে নিয়ে যান তার নিঃসন্তান খালা এবং সেখানেই সে লালন পালন হচ্ছিল। আসলে আজ আমি খুবই মর্মাহত। আমার ছেলে সম্পর্কে কী বলব, আমি আমার এলাকায় এমন একজন ছেলে আর খুঁজে পাইনি। ছোটবেলা থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়ত। ফজরের আজানের সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠে আমাদেরকে ডাকতো এবং পাড়ার ছেলেদেরকে ডেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মসজিদে নামাজ আদায় করত। পাড়ার কোন মানুষের সাথে এমনকি  এলাকার ছোট-বড় কোন ছেলের সাথে উচ্চস্বরে কথা পর্যন্ত বলেনি।
পাড়ায় যে সকল ছেলে কুরআন পড়তে জানতো না তাদেরকে ডেকে নিয়ে এসে মসজিদে আসরের নামাজের পর নিয়মিত কুরআন শেখাত।
তার নানা এবং নানীর কবরের মাঝখানে একটা কবরের জায়গা পরিমাণ ফাঁকা ছিল এবং সেখানে একটি গাছ ছিল। কেউ সে গাছ কাটতে দেবে না কিন্তু শাহাদাতের কয়েকদিন আগে সে জোর করে গাছটি কাটার ব্যবস্থা করে এবং নিজেই মিস্ত্রি ডেকে গাছটি কেটে ফেলে। আসলে নিজের থাকার ব্যবস্থাটা সে নিজেই করে রেখেছিল।
আমার এত সুন্দর ছেলেকে আর কোন দিন ফিরে পাবো না। আমার ছেলের কোন অপরাধ ছিল না। একটি অপরাধ  সে কুরআন শিখাতো, কুরআনের দিকে ডাকত। যারা আমার এ নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই।
আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ  আমার ছেলে যেন শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করে। এবং আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী আমরা যেন জান্নাতে তার সাথী হতে পারি। আর তোমাদের জন্য আমার বক্তব্য  শহীদের রক্তে ভেজা এ ময়দানকে তোমরা আরও উর্বর করো। তার রেখে যাওয়া কাজ সমাপ্ত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করো।

লেখক : শহীদ রফিকের পিতা
গ্রন্থনা : মো: এমদাদুল হক

SHARE

Leave a Reply