শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা দায় ও দায়িত্ব

মো. জিল্লুর রহমান

CTGএকটি স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য যেটি প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে তা হলো তার শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই একটি জাতি তার আত্মপরিচয় সমুন্নত রেখে জ্ঞানসমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করতে পারে। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দীকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমরা আমাদের দেশকে সেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যের ধারে কাছেও নিয়ে যেতে পারিনি। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজ করছে এক অস্বস্তিকর অবস্থা বিশেষ করে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয়। যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরমভাবে হুমকির মধ্যে পড়েছে শুধুমাত্র গুটিকতক শিক্ষক নামধারী দলবাজ শিক্ষকের উগ্র দলীয় নীচু মানসিকতা এবং ছাত্র নামধারী গুটিকতক রাজনৈতিক আশ্রয়ে লালিত টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও লম্পটদের মাধ্যমে। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর অন্যতম হলো শিক্ষা এবং যাকে কেন্দ্র করে বাকিগুলো আবর্তিত হয়। আমাদের স্বাধীনতার মূল স্লোগানই ছিল অধিকার আদায়ের স্লোগান। আমরা এক হতভাগ্য জাতি যারা তাদের স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পর এসেও নিশ্চিত করতে পারিনি দেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। অধিকারের প্রশ্ন এখন পুরোটাই সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় এবং রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের মাঝে অসহায় অবস্থায় হাবুডুবু খাচ্ছে। যে সমাজ অধিকার আর দায়িত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমঝোতা ভুলে অর্থ, প্রতিপত্তি আর নোংরা রাজনৈতিক চর্চার বৃত্তে আবর্তিত সেখানে ভাল কিছ আশা করা অবান্তরই নয় বরং অধিকারের প্রশ্ন তোলা রীতিমত বেআইনি অথবা অনধিকার চর্চা। কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন অথবা অধিকার আদায়ের দাবি রীতিমত ব্যক্তিগত বা দলীয় ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপারে পরিণত হয়েছে এবং ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত চলছে এই নেতিবাচক চর্চার মহোৎসব। প্রসঙ্গটি টানার কারণ বিগত বছরগুলোতে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তৈরির কারখানা আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরাজমান চরম অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বেশ কয়েকটি অতি ন্যক্কারজনক ঘটনা বিষয়টিকে আরো স্পষ্টতর করেছে।
অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় হাতেগোনা দু-একটি ছাড়া বিগত বছরগুলোতে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে বা আশ্রয় প্রশ্রয়ে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে সকল অপকর্মের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এবং যার খেসারত দিতে হচ্ছে এ দেশের লক্ষ লক্ষ নিরীহ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবককে। ৪ বছরের অনার্স শেষ হতে কখনো প্রায় ৬-৭ বছর লেগে যাচ্ছে। কখনো কখনো নৃশংসতার শিকার হচ্ছে নিজ দলীয় অথবা প্রতিপক্ষের অথবা নিরীহ ছাত্র যারা দেশের মেধাবী ভবিষ্যৎ। মোদ্দাকথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাকাডেমিক এবং নন-অ্যাকাডেমিক চিত্র এতটাই নাজুক পর্যায়ে গেছে তা বর্ণনা করা সত্যি কঠিন। বেসরকারি অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সনদ বিক্রির অভিযোগ ইউজিসি শত চেষ্টা করেও তা থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্য দিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে নীরব দুর্বৃত্তায়ন। অনেকেই মহান পেশা হিসেবে শিক্ষকতায় এসেও পেশাদারিত্বের ন্যূনতম মানসম্মান নিয়ে চলতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। সর্বক্ষেত্রে হীন দলীয় বিবেচনা বা নোংরা রাজনৈতিক বৃত্তাবলয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবনের মূল্যবান সময় কখনো কখনো জীবন এবং শিক্ষকদের মানমর্যাদা রক্ষা করা দূরের কথা নিজেদের ন্যূনতম সুস্থ মানসিকতা নিয়ে অবস্থান করাও দুষ্কর। যেখানে শিক্ষকদের জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের চর্চায় সদা নিয়োজিত থাকার কথা, সেখানে অনিয়ন্ত্রিত ছাত্ররাজনীতির বেপরোয়া রূপ এবং মেধার পরিবর্তে অতি রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষকের অতি দলীয় মানসিকতা উচ্চশিক্ষার অঙ্গনকে ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে উগ্র দলীয় বিবেচনায় এর মূল কারণ বলে মনে করা হয়। একটি জাতির ভবিষ্যৎ দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক তৈরির স্থান যদি এভাবে ধ্বংস হয়ে যায় তবে এ জাতির ভবিষ্যৎ কোথায়। অন্তত মৌলিক কিছু জায়গা রাজনৈতিক চর্চার বাইরে রাখা দরকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় আর যা-ই হোক না কেন শিক্ষা, চিকিৎসাসহ কিছু মৌলিক বিষয় না আনার মধ্যে আমাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণ নিহিত। এইসব বিবেচনায় সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ কোথাও আছে বলে মনে হয় না। এ ছাড়াও অতি রাজনৈতিক চর্চার কারণে এখন মেধাবী অনেকেই এই মহান পেশায় আসতে বিমুখ। আবার মেধাবী হওয়ার পরও শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় মেধাকে প্রকাশ্যে পাশ কাটিয়ে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীকে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া এবং কখনো কখনো শুধু দলীয় বিবেচনাকে সামনে রেখে নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফলাফল জালিয়াতি বা ম্যানুপুলেশনের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে যা গত কয়েক বছর ধরে প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিষয়টির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ক্লাসে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়ার পরও শুধু তার কোন এক আত্মীয় বিপরীত ধারার রাজনীতি করার অভিযোগে তার যত ভাল রেজাল্টই থাকুক না কেন নির্বাচন বোর্ডে প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমেই তাকে বঞ্চিত করা হয় অথবা একজন ছাত্রের যত মেধাই থাকুক না কেন দলীয় বিবেচনায় তাকে নানাভাবে তার ফলাফল থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পছন্দের দলীয় প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য স্বায়ত্তশাসনের নামে যেভাবে ইচ্ছা আইন পরিবর্তন করা হয়। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতার পরিবর্তে মূল্যায়ন করা হয় দলীয় পরিচয় অথবা বাবা-মা আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয় অথবা লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে উপাচার্য হতে শুরু করে দলীয় শিক্ষক কর্মকর্তা সবাই মরিয়া হয়ে কখনো ইচ্ছায় আবার কখনো অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এর মূল কারণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে সকল নিয়োগ প্রচ্ছন্নভাবে আবার কখনো কখনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অথবা ছাত্র নেতারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিপর্যয়কর নোংরামি পৃথিবীর আর কোন দেশে আছে বলে মনে হয় না। পাশাপাশি বিশ্বদ্যিালয়সমূহের ছাত্রনামধারী অছাত্রদের বেপরোয়া দখলদারিত্ব সর্বক্ষেত্রে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে বিগত সাড়ে পাঁচ বছরে সংঘটিত কিছু ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা জরুরি।
বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদের শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে অকালে ঝরে যায় আবু বকর নামে এক নিরীহ মেধাবী ছাত্র। সেই লোমহর্ষক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিছক তদন্ত কমিটি গঠন এবং গুটিকতক ছাত্রলীগ কর্মীর বিশ্ববিদ্যালয় হতে লোক দেখানো সাময়িক বহিষ্কারের মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায়। সে ঘটনায় আজ অবধি দোষীদের না প্রাতিষ্ঠানিক, না সামাজিক, না রাজনৈতিকভাবে অথবা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো গেছে। সাময়িকভাবে কিছুদিন পত্রপত্রিকা বা টিভি মিডিয়ায় সে ঘটনা আলোচনা-সমালোচনায় এলেও সময়ের ব্যবধানে তা পরিবারের সদস্যদের কাছে কালো স্মৃতি হয়ে থাকলেও আর সবার কাছে নতুন আরেকটি ঘটনার আড়ালে স্মৃতির অন্তরালেই হারিয়ে গেছে। এরপর থেকে আর থেমে থাকেনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্রলীগের নানা ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মেধাবী ছাত্র যোবায়েরকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা অপর ছাত্রকে হলের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা একই ধারাবাহিকতায় রুয়েটসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ ও শিক্ষক লাঞ্ছিত করার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সংগঠনটি যার ফলশ্রতিতে একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ছাত্রলীগের নেত্রী পদ থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। ঘোষণার পর সংগঠনটি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে দলের মহাসচিব ছাত্রলীগের কোন অপকর্মের দায় নেবেন না মর্মে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন। একদিকে ছাত্রলীগের দায় নিতে অপারগতা প্রদর্শন করলেও তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের সকল অপকর্ম করার পথকে আরো মসৃণ করেছেন যার চরম পরিণতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিবালোকে সবার সামনে শিবির সন্দেহে বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করার মতো ঘটনার জন্ম দিয়েছে এই সংগঠনটি। অথচ প্রতিটি ঘটনার পরপরই আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বাহাদুরগণ বিবৃতি দিয়েছেন এ সমস্ত ঘটনা নাকি ছাত্রলীগের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শিবির বা ছাত্রদলের অনুচর দ্বারা ঘটছে। অর্থাৎ সকল ক্ষেত্রেই গড়িমসি করে দায় এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তাদের প্রতিটি কাজের একপ্রকার অনুমোদনই দিয়ে গেছে। অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারুক হত্যার কোন তদন্ত ছাড়াই কালবিলম্ব না করে সারা দেশে শিবিরের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানো হয় এমনকি ক্রসফায়ারের নামে হত্যাও করা হয়। আমরা এ ধরনের যে কোন ঘটনা চরমভাবে ঘৃণা করি সে যেই ঘটাক না কেন? আবার প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার যথোপযুক্ত বিচার ও নিশ্চিত করা সে যে-ই হোক না কেন এবং শুধুমাত্র এর মাধ্যমেই কেবল অনাহূত এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব। অথচ একই সময়ে আমরা যখন দেখি শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কারোর ওপর জুলুম করা আবার কাউকে প্রকাশ্যে সংঘটিত ঘটনার পরও আড়াল করার প্রবণতা যা কি না দেশের শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিতই করেনি বরং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। যার ফলশ্রুতিতে একের পর এক ঘটনা ঘটছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। ২০১৩ সালের ১০ এবং ১১ জানুয়ারি দেশের প্রায় সব ক’টি দৈনিকের শিরোনাম ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগ কর্র্তৃক এসিড নিক্ষেপ এবং ঠিক এর পরদিন ছাত্রলীগ কর্তৃক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক মারপিট ও গালিগালাজের ঘটনা। এ ছাড়াও ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনা দৈনিক পত্রিকায় যেমনভাবে প্রকাশিত হয়- ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে দিনভর দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে দুই শিবিরকর্মী নিহত এবং প্রক্টর নাসিম হাসানসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষে নিহত দু’জন হলো প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র মুজাহিদুল ইসলাম এবং ইংরেজি ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মাসুদ বিন হাবিব। নিহত হাবিব শিবিরের চবি সোহরাওয়ার্দী হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং মুজাহিদ শিবিরের সাথী ছিলেন। মুজাহিদের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই এবং মাসুদ বিন হাবিবের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার আজমেরিগঞ্জে। একই ঘটনায় দৈনিক প্রথম আলো শিক্ষাঙ্গনে হত্যা-সন্ত্রাস কি সরকারকে বিচলিত করে না? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই খুন- শিরোনামে লিখেন, সাম্প্রতিক ছাত্র হত্যার সারিতে এবার যোগ দিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত দু’জন ছাত্রই ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী। নিহত ছাত্রের পরিচয় যা-ই হোক, এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কলঙ্কিত হলো। একই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ও ২০ নভেম্বর দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল যথাক্রমে- স্থবির শিক্ষাঙ্গন, ইবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ও শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ৩০। এ ছাড়াও সিলেটের এমসি কলেজে আগুন, বরিশাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষকে বেধড়ক পিটানো, বাকৃবিতে নিজ দলীয় ছাত্রকে হত্যা, রাজশাহী ও বগুড়া আযিযুল হক কলেজের ভর্তি বাণিজ্যের মত শত শত নজিরবিহীন ঘটনার আহত সাক্ষী আমাদের প্রতিটি শিক্ষালয় যেখানে চালকের আসনে বসে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনটি বীরদর্পে ঘটিয়ে যাচ্ছে এসব ঘটনা।
অতি সম্প্রতি সংগঠনটির অতি বাড়াবাড়িকে কেন্দ্র করে দৈনিক যুগান্তরের মুস্তাক আহমেদের ৩১ আগস্টের নিউজটির কিছু অংশ তুলে ধরা হলোÑ
বেপরোয়া ছাত্রলীগ
ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির এক শ্রেণীর নেতাকর্মীর রোষানলের শিকার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন ধরনের ভাগবাটোয়ারা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে তারা। নিজেদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের সামনে প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের ওপর হামলা, রেল স্টেশন ভাঙচুরসহ একের পর এক নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী। এমনকি তাদের হাত থেকে বিশ¡বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছেন না। এসব ঘটনায় নামমাত্র কয়েকজনকে বহিষ্কার করা ছাড়া জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি দেয়ার ঘটনা খুবই সামান্য। এক সপ্তাহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের অন্তত অর্ধশত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ইসলামী বিশ¡বিদ্যালয়। চট্টগ্রাম বিশ¡বিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। জগন্নাথ বিশ¡বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে। একই সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ¡বিদ্যালয়ে (রুয়েট)। সেখানে ছাত্রলীগ-শিবির মুখোমুখি অবস্থান করছে। গত বছর আগস্ট মাসেও একই সঙ্গে চারটি বিশ¡বিদ্যালয়ে এভাবে অস্থিরতা চলছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ছাত্রলীগের এ বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চলছে। তাদের কর্মকাণ্ডে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল ছাত্রলীগের ‘সাংগঠনিক নেত্রী’র পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ পর্যন্ত করেন। ওই সময়ে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীসহ দেশের বরেণ্য ৫ শিক্ষাবিদ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের জন্য আওয়ামী লীগকে তাগিদ পর্যন্ত দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু তারপরও তাদের লাগাম টানা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শুরুতেই সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এ সংগঠনটি। ছাত্রলীগ এবং একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে একশ্রেণীর নেতাকর্মী ঠিকাদারি, মাস্তানি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ আর্থিক সংস্রব রয়েছে- এমন কর্মকাণ্ডে এতটাই ভিড়ে গেছেন যে, তাদের কাছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নয়, অর্থ উপার্জনই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে তারা অনেকটাই লাগামহীন। প্রসঙ্গত, বিগত এক সপ্তাহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্তত অর্ধশত নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ ২৮ আগস্ট রাজশাহী বিশ¡বিদ্যালয়ে (বিশ¡বিদ্যালয়ের) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর ওপর হামলা করে মাথা ফাটিয়ে দেন বিশ¡বিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুহিন ও তার দলবল। একই দিন কমিটি গঠন না করাসহ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দে¡র জের ধরে বরিশালে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পে সংঘর্ষ হয়। ওই দিনই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ¡বিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম করে ওয়েস আহমেদ নামে এক ছাত্র। আর এ ঘটনাকে পুঁজি করে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ছাত্রলীগের অঞ্জন-উত্তম গ্রুপের নেতাকর্মীরা। তারা ছাত্রদল-শিবিরের নেতাকর্মী সন্দেহে ৬ ছাত্র ও এক শিক্ষককে পুলিশের উপস্থিতিতেই মারধর করে। এ ছাড়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ড. আতিকউল্লাহর প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে। একইদিন আরেক ঘটনায় রাজশাহীতে চারঘাট থানার সামনে ছাত্রদল কর্মী সেন্টু রহমানকে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আরেক ঘটনায় বুধবার রাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ¡বিদ্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আশরাফ মিলনকে পিটিয়েছে বিশ¡বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকায় সমাবেশে যোগদানের জন্য টিকিট চেয়ে না পাওয়ায় চট্টগ্রামে রেলস্টেশনে ভাঙচুর করে ছাত্রলীগ। ওই ঘটনায় উল্টা স্টেশন মাস্টার ও বুকিং কর্মকর্তাসহ ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জিআরপি থানার ওসিকে ১২ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ¡বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের দিনব্যাপী দফায় দফায় গুলি বিনিময় ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দিনের এ ঘটনা রাতভরও ছিল। পুলিশি অভিযানে সোহরাওয়ার্দী হল থেকে পেট্রল বোমা ও ককটেল উদ্ধারের পর ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিগত এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ¡বিদ্যালয়ে। সেখানে পুলিশ-ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ আগস্ট থেকে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় এই বিশ¡বিদ্যালয়। এর আগে ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৪টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ¡বিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলে ছাত্রলীগের একপক্ষের ওপর আরেক পক্ষ হামলা চালায়। এ সময়ে তারা অন্তত ২৫টি কক্ষ ভাঙচুর করে। এতে ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হন। সবশেষে তারা তাদের কেন্দ্রীয় শোক দিবসের প্রোগ্রাম শেষে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে ট্রেন থেকে ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করে তাদেরই এক কর্মীকে।
এতকিছুর পর সব দায় কি শুধুমাত্র ছাত্রলীগের একার? ওদের এই বেপরোয়া হওয়ার নেপথ্যের কারণই বা কী? কেনই বা তারা বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো হাজারও অপকর্ম করে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরই কেবল বলে দিতে পারে শিক্ষাঙ্গনের চলমান অস্থিরতার মূল কারণের। এক্ষেত্রে প্রথমত দায় সেই সমস্ত শাসক গোষ্ঠীর যারা তাদের রাজনীতির পথকে মসৃণ করতে ব্যবহার করে এই সব যুবকদের আর এই কাজটি সাবলীলভাবে চালানোর জন্য ছাত্রদের বই খাতা কলমের পরিবর্তে তাদের দেখিয়ে দেয় অবৈধ, অনৈতিক আর অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জনের নোংরা গলিপথ। দ্বিতীয়ত এই নোংরা পথকে প্রশস্ত ও কণ্টকমুক্ত করার সকল আয়োজন করেন আমাদের উপাচার্য মহোদয় থেকে শুরু করে এক শ্রেণীর দলবাজ শিক্ষক। কয়েকদিন আগে আমাদের শিক্ষামন্ত্রীও সব দায় দিলেন কিছু শিক্ষকের ওপর, তাদের কারণেই নাকি ছাত্রলীগ এই সমস্ত অপকর্ম করছে। বলি মন্ত্রী মহোদয় আমগাছ লাগিয়ে আপনি কাঁঠাল আশা করেন কেন? যেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে প্রথমত মেধাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দলীয় মেধাহীন ভোটার বৃদ্ধির জন্য, দ্বিতীয়ত লক্ষ লক্ষ টাকার দেন দরবারের মাধ্যমে সেখানে আপনি ভাল কিছু আশা করবেন, এটা কি সম্ভব? তারপরও মন্ত্রী মহোদয়কে ধন্যবাদ এ জন্য যে উনি সত্যটা বুঝতে পেরেছেন এবং এই মুহূর্তে আপনাদেরই দায়িত্ব হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ওপর চেপে বসা এই জগদ্দল পাথর অপসারণের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, আর ব্যর্থ হলে ইতিহাসের কঠিন কাঠগড়ায় এই প্রজন্মই আপনাদের দাঁড় করাবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। লেখাটি শেষ করতে চাই গত কয়েকদিন আগে সংঘটিত ঘটনায় ইবি ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এক ছাত্রের ঋধপনড়ড়শ ংঃধঃঁং ও একজন শিক্ষকের ঈড়সসবহঃ দিয়ে।
ওসধসঁষ ঐধংধহ অফহধহ: বিশ¡বিদ্যালয় প্রশাসনের হর্তাকর্তাদের পাপের মাশুল দিচ্ছে ইসলামী বিশ¡বিদ্যালয়ের ১৪ হাজার ছাত্রছাত্রী। শিক্ষক নামধারী হৃদয়হীন কিছু আদম সন্তানের শকুনি দৃষ্টি গ্রাস করেছে প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসটিকে। বিগত ৬টি বছর নজিরবিহীন সন্ত্রাসের বলি হয়েছি আমরা। ছাত্রনামধারী কিছু সন্ত্রাসী আর শিক্ষক নামধারী কিছু দালালের জন্য নিভতে বসেছে আমাদের জীবনপ্রদীপ। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ¡বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আজ ২০১৪ সালে এসেও ছাত্রত্ব শেষ হয়নি আমাদের মতো অনেক হতভাগার। যে স্বপ্ন নিয়ে সুদূর কক্সবাজার কিংবা পঞ্চগড় থেকে একজন ছাত্র কিংবা ছাত্রী ছুটে এসেছে এ বিশ¡বিদ্যালয়ে সেই স্বপ্ন আজ পানসে হয়ে গেছে। কিন্তু কেন পানসে হয়ে যাবে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন? কেন পাঁচ বছরের শিক্ষাজীবন ৮ বছর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হবে? কেন কথায় কথায় হল বন্ধ হবে? কেন কথায় কথায় ভাঙচুর হবে বিশ¡বিদ্যালয়ের বাস? কেন প্রতি মাসে ভাঙচুর হবে ভিসি, প্রো-ভিসিসহ প্রক্টর ছাত্র-উপদেষ্টার অফিস?
কেন লুটপাটের শিকার হবে বিশ¡বিদ্যালয়ের আবাসিক হল?
কেন বিগত পাঁচ বছরে একটি নবীনবরণও হয়নি এ বিশ¡বিদ্যালয়ে!!
কেন পাঁচ বছরে আয়োজন করা যায়নি আন্তঃহল অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা?
এ রকম হাজারো কেন এর উত্তর কে  দেবে। যাদেরকে এ সকল কেন এর উত্তর দেয়ার জন্য নিয়োগ দেয়া হলো কী করছেন তারা।
রোববার ক্যাম্পাসে এমন কী ঘটলো যে কারণে বন্ধ করে দিতে হলো বিশ¡বিদ্যালয়ের আবাসিক হল। শিবিরের মিছিলে হামলা করার মত সাহস না দেখাতে পারলেও ছাত্রলীগ ভাঙচুর করলো বিশ¡বিদ্যালয়ের বাস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার লিখা বাসে যখন রড কিংবা লাঠি দিয়ে তারা আঘাত করলো কই তখন তো তাদের হাত কাঁপেনি…? এই আঘাতটি যদি ভিন্নমতের কোনো ছাত্র করতো তা হলে তো এতক্ষণে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়ে চাজশিট হয়ে যেতো।
এর পর তারা হামলা করলো ভিসি ও প্রোভিসির গাড়িতে। প্রাণপণে গাড়ি চালিয়ে যদি ড্রাইভাররা তাদেরকে না বাঁচাতেন তা হলে তো তাদের ঠিকানাও হতো হাসপাতালের বেড। তারপর পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি। পুলিশকে নির্বিচারে পিটিয়ে আহত করা। সবশেষ আক্রমণকারীদের ওপর পুলিশের গুলি।
মাত্র আধা ঘণ্টার এই সংঘাত। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে আন্তঃবিভাগ ফুটবলের খেলাও অনুষ্ঠিত হলো। যে মারামারিতে একটি ফুটবল মেসও পণ্ড হয়নি সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন বন্ধ হয়ে যাবে আবাসিক হল? কেন বন্ধ হয়ে যাবে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম? কেন এ ঘটনাকে পুঁজি করে সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ভিসির বাংলোয় দেনদরবার চলবে? তার মানে হামলাকারী এবং এ নিয়ে দেনদরবারকারীদের উদ্দেশ্য ছিলো একই। কেউ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে বড় নেতার পদ বাগিয়ে নেবে আর তাদের গুরুদের কেউ দেনদরবার করে ভিসি, প্রোভিসি কিংবা প্রক্টরের পদ বাগিয়ে নেবে… এটিই কি উদ্দেশ্য নয়?
যে শিক্ষকরা ছাত্রজীবনে গার্লফ্রেন্ডকে শিক্ষকদের কাছে পাঠিয়ে প্রশ্ন এনে পরীক্ষা দিয়ে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে এবং চাটামি করে শিক্ষক হয়েছে তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বড় কিছু কি প্রত্যাশা করা উচিত?
আমার ক্ষোভ কোন ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়। বরং আমার ঘৃণা এবং বিদ্বেষ হলো সে সকল শিক্ষক নামের কলঙ্কের বিরুদ্ধে যারা নিজের গদিকে রক্ষা কিংবা শক্তিশালী করতে ১৪ হাজার ছাত্রছাত্রীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন…

ঈড়সসবহঃ : (ইবি শিক্ষক, নাম অপ্রকাশিত) : নিরেট সত্য কথাগুলো পড়লাম। মুখ লুকানোর জায়গা নেই, আমিও এই বিশ¡বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, ভুক্তভোগীদেরও একজন। ছাত্রছাত্রীদের ছাত্রজীবন দীর্ঘায়িত হওয়ার দায়মোচনের পথ খুঁজে পাচ্ছি না। আফিমের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে চারি পাশ, মৌলভীরা মধু অন্বেষায় ব্যস্ত …

লেখক : সহকারী অধ্যাপক,
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply