সংগঠন পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা । আতিকুর রহমান

সংগঠন পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা । আতিকুর রহমানসংগঠন কী?
বাংলা সংগঠন শব্দটি আরবিতে ‘তানজিম’ এবং ইংরেজিতে Organization বলা হয়। সংগঠন শব্দের সাধারণ অর্থ সংঘবদ্ধকরণ, দলবদ্ধকরণ ও একত্রকরণ। এর বিশেষ অর্থ দলবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ জীবন। যে কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংঘবদ্ধ বা একতাবদ্ধ বা দলবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

ইসলামী সংগঠনের পরিচয়
» ইকামতে দ্বীনের কাজ আঞ্জাম দেয় যে সংগঠন তাকে বলা হয় ইসলামী সংগঠন।
» আল্লাহর জমিনে বাতিল ও খোদাদ্রোহী মতাদর্শ উৎখাত করে ইসলামী জীবন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য যে সংগঠন প্রচেষ্টা চালায় তাকে ইসলামী সংগঠন বলে।
» ইসলামী সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইকামতে দ্বীনের সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য ফরজ।
» ইসলামের সঠিক আকিদা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের মুক্তির উদ্দেশ্যে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত কিছু সংখ্যক লোকের সম্মিলিত ও সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার নাম ইসলামী আন্দোলন, আর এর সামষ্টিক রূপ ও কাঠামো প্রক্রিয়ার নাম ইসলামী সংগঠন।
» সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম হতে পারে না।

ইসলামে সংগঠনের গুরুত্ব
মহাগ্রন্থ আল কুরআনে সংঘবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেছে।
» “তোমরা কেমন করে কুফরি করতে পারো, অথচ তোমাদের সামনে পাঠ করা হয় আল্লাহর আয়াত এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর রাসূল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে অবশ্যই সঠিক পথ লাভ করবে।” (সূরা আলে ইমরান : ১০১)
» “তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রশি (আল্লাহর আইন) ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)।
» “তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক অবশ্যই থাকতে হবে, যারা নেকি ও সৎকর্মশীলতার দিকে আহবান জানাবে, ভালো কাজের নির্দেশ দিবে ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে। যারা এ দায়িত্ব পালন করবে তারাই সফলকাম।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)
» “যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁর (দ্বীনকে) দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে। আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করবেন এবং তাদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দিবেন।” (সূরা নিসা: ১৭৫)
» “তোমরা সেই সব লোকদের মত হয়ো না যারা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নির্দেশ পাওয়ার পরও মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে রয়েছে, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।” (সূরা আলে-ইমরান: ১০৫)
» অতএব নামাজ কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে (রজ্জুকে) শক্তভাবে ধারণ কর। তিনি তোমাদের মালিক। তিনি কতই না উত্তম মালিক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।” (সূরা হজ্জ : ৭৮)
» আল্লাহ তোমাদের জন্য সেই দ্বীনকে নির্ধারিত করেছেন যা তিনি নূহ (আ) এর প্রতি নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। আর আপনার প্রতি যে ওহি নাযিল করেছি এবং আমি ইবরাহিম, মূসা ও ঈসা (আ) কে একই নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো বিছিন্ন হয়ো না।” (সূরা আশ-শূরা: ১৩)

সংগঠন সম্পর্কে হাদীস
“হারিসুল আশয়ারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, আমি তোমাদের পাঁচটি কাজের নির্দেশ দিচ্ছি। আল্লাহ আমাকে যে পাঁচটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। তা হচ্ছে- ১. জামায়াতবদ্ধ হবে ২. নেতার আদেশ মন দিয়ে শুনবে ৩. তার আদেশ মেনে চলবে ৪. আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ বর্জন করবে এবং ৫. আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। যে ব্যক্তি ইসলামী সংগঠন ত্যাগ করে এব বিঘাত পরিমাণ দূরে সরে গেলো, সে নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেললো, যতক্ষণ না সে সংগঠনে ফিরে আসবে। আর যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের নিয়ম-নীতির দিকে (লোকদেরকে) আহবান জানাবে, সে জাহান্নামের জ্বালানি হবে। যদি সে রোযা রাখে, নামাজ পড়ে এবং নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করে।” (আহমদ, তিরমিযী)
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নেতার (আমিরের) আনুগত্য পরিহার করে জামায়াত হতে পৃথক হয়ে যায় এবং সেই অবস্থায় মারা যায়, তবে সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করবে।” (মুসলিম)
যে ব্যক্তি জামায়াত থেকে বিছিন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের মৃত্যু। (সহীহ মুসলিম)
রাসূল (সা) বলেছেন, “তিনজন লোক কোন নির্জন প্রান্তরে থাকলেও একজনকে নেতা না বানিয়ে থাকা জায়েয নয়।
রাসূল (সা) আরো বলেন, “যে ব্যক্তি জান্নাতের আনন্দ উপভোগ করতে চায় সে যেন সংগঠনকে আঁকড়ে ধরে। (সহীহ মুসলিম)
রাসূল (সা) আরো বলেন- জামায়াতের প্রতি আল্লাহ রহমতের হাত প্রসারিত থাকে। যে জামায়াত ছাড়া একা চলে, সেতো একাকী দোযখের পথেই ধাবিত হয়। (তিরমিযী)
আবু যর গিফারী (রা) হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি সংগঠন ত্যাগ করে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গেলো, সে যেনো ইসলামের রশি তার গর্দান থেকে খুলে ফেললো। (আহমদ, তিরমিযী)

ইসলামী সংগঠনের লক্ষ্য
ইসলামী সংগঠনের লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান রাসূলের (সা) পন্থায় মানবসমাজে কায়েম করে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন। এক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালানোর দায়িত্ব আমাদের, সফলতার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাড়াহুড়া করা যাবে না, অস্থির হওয়া যাবে না কিংবা যেন তেন কোন পন্থা অবলম্বন করা যাবে না। ইসলাম যদি প্রতিষ্ঠিত বা কায়েম না হয় তাহলে হাহুতাশ করা বা মনভাঙা হওয়া তারই শোভা পায় যার চিন্তাধারায় আখেরাত প্রাধান্য পায়নি।

দায়িত্বশীলের পরিচয়
» দায়িত্বশীল আল্লাহর প্রতিনিধি-(সূরা বাকারা: ৩০)
» দায়িত্বশীল নবী-রাসূলদের উত্তরসূরি-(সূরা আলে ইমরান: ১১০)
» দায়িত্বশীল শরয়ী মর্যাদার অধিকারী-(সূরা নিসা: ৫৯)
» দায়িত্বশীল হেদায়াতের কাণ্ডারি-(সূরা আম্বিয়া: ৭৩)
» দায়িত্বশীল মানবতার মুক্তির দিশারি-(সূরা নিসা: ৭৩)
» দায়িত্বশীল হচ্ছেন খলিফা, ইমাম ও আমিরের সমর্থক
» দায়িত্বশীল হচ্ছেন অগ্রণী ভূমিকার স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকৃতি পালনকারী। তাদেরকে বেশি পরিমাণ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়।

দায়িত্বশীলের গুরুত্ব
» আন্দোলনের সফলতা-ব্যর্থতা দায়িত্বশীলদের ভূমিকার উপর নির্ভর করে।
» সংগঠনকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের ভূমিকাই মুখ্য। উদাহরণ-গাড়ির ড্রাইভার, রেলের ইঞ্জিন।
» দায়িত্বশীল হচ্ছেন একটি আন্দোলনের জন্য বটবৃক্ষ।

আন্দোলনে দায়িত্বশীলদের অবস্থান
» দায়িত্বশীল হচ্ছেন-আন্দোলনের আয়না, নিউক্লিয়াস, মূল চালিকাশক্তি, পাহারাদার, আদর্শের বাস্তব প্রতিচ্ছবি, সংগঠনের গতিশীলতার অগ্রপথিক, জনশক্তির অনুপ্রেরণার উৎস। সে কারণে দায়িত্বশীলের চিন্তা ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি, সাংগঠনিক মেজাজ আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
» দায়িত্বশীলদের মান অবনতি সংগঠনের জন্য বিপজ্জনক।

দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি
» রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি ১০ জন লোকের উপর নেতৃত্ব দিয়েছে সে আসামি হিসাবে গণ্য হবে, অভিযোগ না থাকলে ছাড়া পাবে।
» দায়িত্বশীলকে হাত বাঁধা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হবে। উত্তর দিতে পারলে জান্নাত না হয় বাঁধা অবস্থায় জাহান্নাম।

সংগঠন পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা

পরিকল্পনা গ্রহণ: পরিকল্পনার ব্যাপারে বলা হয় Well plan is half done.. এক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণ SMART পদ্ধতিতে হওয়া প্রয়োজন। কেননা যে কোন পরিকল্পনা গ্রহণে SMART টেকনিক ব্যবহার অতীব কার্যকর। S=Specific বা সুনির্দিষ্ট, M=Measurableবা পরিমাপ যোগ্য, A=Achievable বা অর্জন যোগ্য, R=Realistic বা বাস্তবধর্মী, T=Timeframe বা সময় কাঠামো।
পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত দিকগুলোকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখতে হবে।
» জনশক্তির শ্রেণী বিন্যাস করা
» পরিকল্পনার Objective নির্ধারণ করা
» পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন
» কাজের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কী কী এবং তা উত্তরণের কী কী ব্যবস্থা আছে?
» সম্ভাবনা কী কী আছে এবং এগুলো কিভাবে কাজে লাগানো যায়?
» নেতৃত্ব ও কর্মীবাহিনীর মান ও যোগ্যতা
» বিরোধী শক্তির তৎপরতা
» অর্থনৈতিক অবস্থা
» সম্ভাব্য নেতৃত্ব/দায়িত্বশীল নির্ধারণ
» এলাকা নির্ধারণ

সার্বিক অবস্থার উপরে একটি জরিপ করা। যাতে নিম্নলিখিত দিকগুলো প্রাধান্য পাবে।
» উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্তমান কাজের অবস্থা নির্ণয় করা
» এলাকার আয়তন বা সীমানা জানা (প্রশাসনিক ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড)
» মোট ছাত্র সংখ্যা কত?
» বেকার যুবকদের সংখ্যা কত?
» এলাকার মানুষের রাজনৈতিক মনোভাব জানা
» এলাকায় কতটি মসজিদ আছে?
» এলাকায় কতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে? (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা)
» কয়টি গ্রাম, মহল্লা আছে?
» পরিকল্পনার সময়সীমা নির্ধারণ করা
» একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা করা
» কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত Plan না নেয়া। আবার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কম Plan নেয়া ঠিক নয়।

পরিকল্পনা বাস্তবায়ন: পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিম্নোক্ত ৫টি দিক গুরুত্বপূর্ণ- ১. Executive plan (কার্যকরী পরিকল্পনা) ২. Work distribution (কাজ ভাগ করা) ৩. Supervision (তত্ত্বাবধান)। ৪. Reporting (রিপোর্টিং) ও ৫. Work review (পর্যালোচনা)।

কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণের দিক:
» বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ
» জনশক্তি বৃদ্ধি ও মানোন্নয়নে মাসভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া।
» প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন বৃদ্ধির তালিকা তৈরি ও মাসভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া।
» আবাসিক এলাকায় সংগঠন বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেয়া।

পরিকল্পনা বণ্টনের দিক:
» কর্মী ও দায়িত্বশীলদের মাঝে কর্মবন্টন করে দেওয়া।
» প্রত্যেক জনশক্তির মান, যোগ্যতা ও ঝোঁক প্রবণতা অনুযায়ী কাজ বন্টন করা।
» পরিকল্পনা বন্টন করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক জনশক্তিকে নির্দিষ্ট টার্গেট ঠিক করে দেয়া।
» পরিকল্পনার চেয়ে বন্টন তুলমামূলক বেশি করা।
» দায়িত্বশীলসহ সর্বস্তরের জনশক্তির Involvement থাকা।

তত্ত্বাবধানের দিক:
» সঠিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে কাজ সহজে বাস্তবায়ন করা যায়।
» পরিকল্পনা গ্রহণের পর তদারকি বাড়ানো। অগ্রাধিকার তালিকা করে কাজের তদারকি করা। এক্ষেত্রে কাজকে নিম্নোক্ত গ্রেড আকারে সাজানো। Most important work, Very important work, Simple important work and Less important work.
» যে ত্রুটি পরিলক্ষিত হবে তা দূর করতে হবে।
» বৈঠকের তত্ত্বাবধানের চেয়ে ময়দানমুখী তত্ত্বাবধান বেশি করা। নির্দিষ্ট সময় পরপর বন্টনকৃত কাজের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক পর্যালোচনা করা
» সামষ্টিক তত্ত্বাবধানের চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক তত্ত্বাবধানের উপর গুরুত্ব বেশি দেয়া।
» তত্ত্বাবধান নিয়মিত ও ধারাবাহিক হওয়া।
» ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলবৃন্দ অধস্তন জনশক্তির তত্ত্বাবধানের সুবিধার্থে ভাগ করে নিয়ে তত্ত্বাবধান করা।
» বিশেষ কোন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে Monitoring cell এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা।

রিপোর্টিং:
» এটা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
» রিপোর্ট বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক হওয়া দরকার।
» আন্দাজ, অনুমান করে কোন রিপোর্ট দেয়া বা নেয়া ঠিক নয়।
» রিপোর্টে ময়দানের Orginal চিত্র আসা দরকার।
» রিপোর্ট পূরণের জন্য কর্মী, সাথী, সদস্য বানিয়ে বিপ্লব হবে না।
» সমর্থক সংখ্যা সঠিকভাবে নিরূপণ হওয়া দরকার

Reviewবা পুনর্বিবেচনা:
» পরিস্থিতির আলোকে প্রয়োজনে Plan review করতে হবে।

৩. সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনে ভূমিকা
» উপশাখা বৃদ্ধি ও মজবুতি
» আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুত করা।

৪. জনশক্তির মানোন্নয়ন ও মানসংরক্ষণে ভূমিকা:
» অগ্রসর জনশক্তিদের বাছাই করে মানোন্নয়ন।
» মেধাবী, সাহসী, মৌলিক মানবীয় গুণাবলী সম্পন্ন জনশক্তিকে বাছাই করা।
» বাছাইকৃত জনশক্তিদের জন্য ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
» শুধুর প্রসারী চিন্তা নিয়ে প্রতিভাবান কর্মীকে পরিচালনা করা।
» জনশক্তির প্রতিভা বিকাশে সংগঠককে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা। জনশক্তির আগ্রহকে প্রাধান্য দেয়া।
» সার্বক্ষণিক লেগে থেকে মানোন্নয়ন করা।
» জনশক্তির জ্ঞানের ঘাটতি পূরণ করে তাকে সংগঠনের নিয়ম শৃঙ্খলা পালনে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা।
» জনশক্তির পরিচ্ছন্ন রিপোর্ট সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা।
» আদর্শিক মানের সাথে আপোষ না করা।

৫. ব্যাপক দাওয়াত সম্প্রসারণ ও গণভিত্তি রচনা:
» প্রতি সোমবার দাওয়াতি কাজকে গুরুত্ব সহকারে বাস্তবায়ন করা।
» দাওয়াতি মূলক কর্মসূচি বৃদ্ধি করা।
» দাওয়াতি কাজে সহযোগী সংগঠনগুলো কাজে লাগানো।
» ছাত্র কল্যাণমূলক কাজ বাড়ানো।
» সকল স্তরে আন্দোলনের সমর্থক ও প্রতিটি স্তরে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা। দূর্বা ঘাসের উদাহরণ- দেখতে নরম, কিন্তু একসাথে উঠানো যায় না, ঘোড়া শক্ত এবং একবার উঠানোর পর কিছুদিন পর আবার ওঠা।
» সংগঠনের কাজকে জালের মত ছড়িয়ে দিতে হবে।
» প্রতিটি পাড়া, মহল্লায় সংগঠনের ইউনিট গঠন করার চেষ্টা করা।
» জনশক্তিকে ব্যক্তিগত দাওয়াতি কাজে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা।
» প্রভাবশালী ও নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন ছাত্রদের মাঝে টার্গেটভিত্তিক দাওয়াতি কাজ করা।

৬. সাংগঠনিক শৃংখলা সংরক্ষণ:
» সাংগঠনিক শৃংখলা ও পরিবেশ রক্ষা করা।
» আনুগত্যের ব্যাপারে অনমনীয় থাকা। শৃংখলা ভঙ্গকারীর ব্যাপারে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
» সর্বস্তরে জান্নাতি পরিবেশ নিশ্চিত করা। গিবত, কুধারণা, আন্দাজ, অনুমান, পরনিন্দা, পরিচর্চা, পরিহার করা।
» এহতেছাবের মাধ্যমে গিবতের রাস্তা বন্ধ করা। (সূরা হুজুরাত: ১৩)
» গীবতের মাধ্যমে শুধু শৃঙ্খলাই নষ্ট হয় না বরং পারস্পরিক সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয়। এহতেসাবের অনুশীলন যতবেশি হবে সংগঠন তত পরিচ্ছন্ন হবে।
» পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
» আঞ্চলিকতা পরিহার করা।
» বক্র চিন্তা পরিহার করা।
» প্রশ্নমুক্ত দায়িত্ব পালন করা।

৭. সর্বপর্যায়ে গতিশীলতা সৃষ্টি:
» Team Spirit সৃষ্টি।
» পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি।
» শাহাদাতের জযবা।
» অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়া।
» যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়া।
» ত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি।
» সর্বপর্যায়ে আন্তরিকতা পূর্ণ পরিবেশ।
» জনশক্তির মাঝে ইনসাফ কায়েম। সকলকে সমান চোখে দেখা।
» সকল জনশক্তিকে সক্রিয় রাখা, কাজে লাগানো।
» তৃণমূল পর্যায়ে সফর বাড়ানো।

৮. আমানতের সংরক্ষণ:
» আর্থিক লেনদেনে পরিচ্ছন্ন ভূমিকা পালন করা। কোন অবস্থায়ই সংগঠনের কোন টাকা, কোন জিনিস, ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
» আয়-ব্যয়ে ভারসাম্য থাকা। কম খরচে বেশি কাজ করা।
» নেতৃত্বের নিকট সংগঠনের সম্পদ ও জনশক্তি বড় আমানত।

৯. ইসলামী সংগঠনের মূল নীতিমালা সংরক্ষণ:
» আল্লাহর উপর ভরসা।
» সকল কাজে রাসূল (সা) কে Standard ধরা।
» সাহাবীদের দৃষ্টান্ত সামনে আনা।
» ভোগের নয় ত্যাগের পরিবেশ বজায় রাখা।
» দারিদ্র্যকে স্বাভাবিকভাবে বরণ করা।
» সমস্যার চাইতে সম্ভাবনাকে সামনে আনা।
» ইহতিসাবের পরিবেশ সৃষ্টি করা।

১০. সংগঠন পরিচালনায় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:
» Dicted তথা নির্দেশ দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করা।
» সর্বপর্যায়ে চিন্তার ঐক্য গড়ে তোলা।
» জনশক্তির উপর দোষ চাপানো যাবে না।
» মেজাজের ভারসাম্য রক্ষা করা বা বদ মেজাজ পরিহার করা।
» অপরের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া। বড় ধরনের ক্ষতি না হলে অন্যের মত গ্রহণ করে উৎসাহ দেয়া উচিত।
» অতিরিক্ত গাম্ভীর্যতা পরিহার করতে হবে। Lovely nature এর অধিকারী হতে হবে।
» Serious Control এর মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
» দায়িত্বশীলরা নিজের যোগ্যতার সকল কিছু উজাড় করে দিবেন।
» স্বৈরাচারী মানসিকতা পরিহার করা।
» অন্যকে তার যথার্থ মর্যাদা দেয়া।
» স্বজনপ্রীতি পরিহার করা।

১১. সংগঠন পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের বাহ্যিক ভূমিকা:
» নবীনদের সমাবেশ ঘটানো।
» বৈচিত্র্যপূর্ণ আকর্ষণীয় কর্মসূচি প্রদান করা।
» প্রশাসনিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।
» VIP লোকদের সাথে যোগাযোগ
» সংগঠনের প্রোগ্রামগুলোতে আদর্শ ঠিক রাখা।
» দাওয়াতি টার্গেটে অন্যান্য সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা।
» সাংবাদিক, পেশাজীবী ও শ্রমজীবীদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।
» বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।

১২. সর্বোপরি সংগঠন পরিচালনায় একজন দায়িত্বশীলের মৌলিক ভূমিকা হবে Chain of leadership বা ধারাবাহিক নেতৃত্ব তৈরি।

নেতৃত্ব তৈরিতে দায়িত্বশীল/সংগঠকের ভূমিকা:
» মেধাবী, সাহসী, মৌলিক মানবীয় গুণাবলী সম্পন্ন জনশক্তিকে বাছাই করা এবং Motivation চালানো।
» যথার্থ টার্গেট নির্ধারণ করা। টার্গেট নির্ধারণে লোক তৈরির কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়।
» একজনকে নয় একটা গ্রুপকে বাচাই করা।
» টার্গেটকৃত জনশক্তিকে নিয়মিত সাহচর্য প্রদান করতে হবে। ব্যক্তিগত সাহচর্য লোক তৈরির অন্যতম মাধ্যম। এক্ষেত্রে-
– একেবারে হালকা হওয়া যাবে না।
– আপনার উপর তাকে দুর্বল করে রাখতে হবে।
– দায়িত্বশীল সুলভ আচরণ বজায় রাখা।
» সংশ্লিষ্ট জনশক্তির সাথে মধুর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
» মানোন্নয়নের জন্য তার ভিতর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে। তাকে হতাশায় ফেলা যাবে না। আশাবাদী করে গড়ে তুলবেন। কোন কাজ করতে না পারলে নিরুৎসাহিত করবেন না।
» সকলকে সমান নজরে দেখা। তবে শ্রেণী ও বয়স অনুপাতে যার যা মর্যাদা তাকে সেরূপ মর্যাদা দেয়া।
» ছোটখাটো দায়িত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেয়া। সম্ভব হলে তাকে সাথে নিয়ে কাজ করা।
» তার আগ্রহ ও উদ্দীপনার দিকে লক্ষ্য রাখা এবং প্রতিভা বিকাশে সংগঠককে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
» জনশক্তির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা। তার মেজাজ, লেনদেন, আচরণের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তার সকল ধরনের সমালোচনা, তিরস্কার বর্জন করতে হবে।
» সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে Observation এর উপর রাখা। তার নৈতিক খোঁজ-খবর নেয়া। বিশেষ করে পর্দা Maintain এর উপর অধিক জোর দেওয়া। টিউশনির খোঁজ-খবর নেয়া।
» তার Acadamic ও পেশাগত টার্গেট নির্ধারণে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া।
» ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠনে উৎসাহিত করা। তার নিকট সংগঠনের দায়িত্বকে সহজভাবে উপস্থাপন করা।
» আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া এবং নাম ধরে আল্লাহর কাছে দোআ করা।

নেতৃত্ব তৈরিতে দায়িত্বশীল/সংগঠকের দুর্বলতা
» সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাব।
» উৎসাহ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হওয়া।
» তার ত্রুটি দূর করণে আন্তরিক না হওয়া।
» বেশি কাজ দিয়ে কাজের প্রতি ভীতি সৃষ্টি করা।
» টার্গেটকৃত ব্যক্তির সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ।
» দায়িত্বশীলের ব্যস্ততাকে পরবর্তী জনশক্তির নিকট নেতিবাচকভাবে প্রকাশ করা।
» দায়িত্বশীল তৈরিতে তাড়াহুড়া বা হতাশ হওয়া।
» দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রশ্নবোধক আমানতদারিতা ও মোয়ামেলাত।
» বয়স ও শ্রেণী বিবেচনা করে সকল জনশক্তির নিকট সমান পরিমাণ কাজ আশা করা।
সর্বোপরি, একজন দায়িত্বশীলকে সংগঠন পরিচালনায় আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা উচিত।

লেখক : বিশিষ্ট কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply