সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নয়া বাকশালের পদধ্বনি

এ্যাডভোকেট মোঃ আসাদ উদ্দিন

Chhatrasangbadবর্তমান সরকারের অন্যায় ও অপরিণামদর্শী কার্যকলাপের ষোলকলা পূর্ণ হলো সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অভিশংসন বিল পাসের মধ্য দিয়ে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে বিচারপতিদের ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীনতার বুকে সর্বশেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়া হলো। সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা নেয়া হলো সংসদের হাতে। সংবিধানের ৯৬ (৩) দফায় বর্ণিত ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’-এর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ প্রক্রিয়া ছেঁটে ফেলে দিয়ে চালু করা হলো সংসদের মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণ প্রক্রিয়া। এখন দেশের সবচেয়ে সম্মানিত, জ্ঞানী, শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত মানুষদেরকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার অধিকার পেল জাতীয় সংসদের সেই সব সদস্য যাদের মধ্যে অধিকাংশই অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত, খুনের আসামি, কালোবাজারি বা দুর্নীতিবাজ। অর্বাচীন পুরাণের ভবিষ্যদ্বাণী হলো ‘কলিকালে শূদ্র রাজা হবে’ আর কলিকাল শুরু হয়েছে অনেক আগেই। এ দেশে শূদ্র রাজাও হয়েছে এবং তারা আজ ব্রাহ্মণের বিচারও করছে!
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ে তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক উল্লেখ করেছেন, ‘ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে কোন রাষ্ট্রে যখনই সুপ্রিম কোর্ট তথা বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভাকে সংবিধান ও আইনের আওতায় রাখিতে ব্যর্থ হয় এবং নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ হইয়া দাঁড়ায় তখনই রাষ্ট্রে ও নাগরিকদের জীবনে চরম বিপত্তি দেখা দেয়’ (যদিও তিনি নিজেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছেন)। বাংলাদেশে রাষ্ট্র ও নাগরিকদের বিপত্তির সর্বোচ্চ চূড়া অতিক্রান্ত হলো উক্ত সংশোধনীর মাধ্যমে। এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প রইল না। বিচারপতিদের নিয়োগের ক্ষমতা তো ছিলই, শেষমেশ তাদের অপসারণের ক্ষমতাও বাগিয়ে নিলেন সরকার বাহাদুর। অতএব সরকার যা বলবে, যেভাবে বলবে তা-ই করতে বাধ্য হবেন মাননীয় বিচারকগণ। এর অন্যথা হলে চাকরির গলায় ফাঁসির রশি পড়তে সময় লাগবে না। এককথায় জনগণের আশ্রয়ের শেষ ঠিকানাটিও নিরাপদ থাকতে পারল না।
অতি প্রাচীন ইংল্যান্ডের বিচারব্যবস্থায় রাজার ইচ্ছা ও শর্তানুসারে বিচারক নিয়োগ হতো এবং বিচারকগণ রাজার নামে ও তার পক্ষে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। রাজার অসন্তুষ্টির কারণ হলে বিচারকগণ তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হতেন। এ কারণে বিচারকগণ অন্যান্য রাজ কর্মচারীদের মতো রাজার একান্ত বশংবদ সেবক থাকতেই নিজেদেরকে সন্তুষ্ট ও গর্বিত মনে করতেন। বাংলাদেশের বিচারপতিদেরকেও সেই প্রাচীনকালে ফিরিয়ে নেয়ার পথ তৈরি করা হলো সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন ইংল্যান্ডের মতো বাংলাদেশেও মূলত শাসন চলে একজনেরই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা ইচ্ছা করেন তা-ই হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান কোন রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে উক্ত দলের সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়া বা মতামত দেয়ার পথ রহিত করে দিয়েছে। দলীয় প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেয়াই অবশ্য কর্তব্য দলীয় সংসদ সদস্যদের। যেহেতু অনির্বাচিত হলেও সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংসদ সদস্যই এখন সরকারি দলের, সেহেতু প্রধানমন্ত্রী নিজে অথবা কারো ইচ্ছায় বা প্ররোচনায় কোন বিচারপতির প্রতি কোনভাবে অসন্তুষ্ট হলে তাঁর আর রক্ষে নেই। অর্থাৎ এককথায় বলা যায়, এক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে এখন বিচারপতিদের স্বপদে বহাল থাকা আর না থাকা। সুতরাং মাননীয় বিচারপতিদের কী প্রয়োজন আছে সরকারের অসন্তুষ্টির কারণ হয় এমন কার্য করার? জলে বাস করে তো কুমিরের সাথে লড়াই করা যায় না! স্বাভাবিকভাবেই বিচারকগণ নিজেদেরকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত অনুগত রাখাকেই নিরাপদ এবং সন্তুষ্টির পথ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার ১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে ‘পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারালয় কর্তৃক ন্যায্য ও প্রকাশ্য শুনানি লাভের অধিকার’। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদেও এ অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। একইভাবে সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করতে বলা হয়েছে। এরই আলোকে ২০০৭ সালের নভেম্বরে বিচার বিভাগকে স্বাধীন বলে ঘোষণাও করা হয়েছে। এরকম সুনির্দিষ্ট আইন সৃষ্টির অনেক পূর্বে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তার ‘দি স্পিরিট অব লজ’ গ্রন্থে ‘ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি’র ব্যাখ্যা দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগীয় ক্ষমতাকে যদি পৃথকীকরণ করা না হয় তাহা হলে ব্যক্তিস্বাধীনতা থাকতে পারে না; যদি একে আইন বিভাগের সাথে একত্রীকরণ করা হয় তাহা হলে একই ব্যক্তি আইন প্রণেতা ও বিচারকর্তা হয়ো দাঁড়াবে এবং ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতা স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। যেখানে একই ব্যক্তির হাতে নির্বাহী, আইন ও বিচারÑ এই তিন ধরনের ক্ষমতা একত্রীভূত করা হয় সেখানে কিছুই বাকি থাকবে না’। সুতরাং সংসদের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতার্পণের অর্থ হলো বিচার বিভাগ চলে গেল এক প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীনে। তার হাতে বিচারকদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বেতন-ভাতা ইত্যাদির নিয়ন্ত্রণ পূর্ব থেকেই ছিল এবার অপসারণের ক্ষমতাও বগলদাবা হয়ে গেল। কোন বিচারক তার কথার বাইরে গিয়ে সরকারের বিপক্ষে নাগরিকের অধিকারের পক্ষে আর কোন আদেশ, রায় বা সিদ্ধান্ত দিবেন বলে মনে করার কোন কারণ নেই। অতএব বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এখন অর্থহীন, মৃত। এ প্রাণহীন কাগুজে স্বাধীনতাকে জিইয়ে রাখার আর দরকার কী? ¯্রফে ঘোষণা দিয়েই বোধ করি বলা উচিত, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আর নেই, তা আজ থেকে রহিত করা হলো’!
ত্রয়োদশ শতাব্দেিত ব্রাকটন বলেছিলেন, ‘রাজাকে অবশ্যই ঈশ্বর ও আইনের অধীন হতে হবে’। পরবর্তীতে আইনবিদ হেনরি জে আবরাহাম ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’-এর সংজ্ঞা উপস্থাপন করেছেন। অন্য অনেক আইন বিজ্ঞানীও এ মতবাদের প্রবক্তা। ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’ হচ্ছে সরকার কর্তৃক প্রণীত কোন আইন, আইনগত কার্যক্রম বা অফিসিয়াল কার্য সংবিধান পরিপন্থঅ বা অন্যায়মূলক হলে সেটিকে অসাংবিধানিক ও অকার্যকর ঘোষণা করার ক্ষমতা। যে ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের। সুপ্রিম কোর্টই মূলত সংবিধান ও আইনের রক্ষক। এ কারণে মাননীয় বিচারপতিদের শপথবাক্য হলো- ‘আমি বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব; এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন-অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।’ এই শপথকে সামনে রেখে সুপ্রিম কোর্ট ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’-এর ক্ষমতাবলে সরকারের বেআইনি ও অন্যায় কাজের লাগাম টেনে ধরতে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭, ২৬ ও ১০২(২) অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট এ ক্ষমতার ব্যবহার করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারেন। কিন্তু ধরেই নেয়া যায় যে, যিনি বিচারককে অপসারণের ক্ষমতা রাখেন তার প্রণীত কোন আইন বা কার্যকে বাতিল করার ধৃষ্টতা উক্ত বিচারক দেখাতে যাবেন না। সুতরাং কোন আইন করতে বা কোন কাজ করতে গিয়ে সরকারকে আর সাত পাঁচ ভাবতে হবে না যে সেটি সংবিধান পরিপন্থী বা অন্যায়মূলক হচ্ছে কি হচ্ছে না। অনায়াসে যাচ্ছে তাই করে যাবে বাধাহীন, বল্গাহীনভাবে।
ষোড়শ সংশোধনী বিলটি পাসের আগে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি এই সংসদে বিলটি পাসের পক্ষে ১০১টি কারণ বলতে পারব। তার মধ্যে একটি হচ্ছে এই সংসদ সংবিধান অনুযায়ী জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংসদ। সুতরাং আমরা এই সংসদে বিলটি পাস করতে পারি।’ আসলে কি তাই? যে সংসদের ৩০০ জন সদস্যের মধ্যে ১৫৪ জনই বিনা নির্বাচনে, বিনা ভোটে সদস্য হয়েছেন এবং বাকিরাও নির্বাচিত হয়েছেন অনুল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটে সে সংসদকে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বলা শতাব্দীর ¯্রষ্টে মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু হতে পারে কি? যারা জীবনে কখনো ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বরও হতে পারেনি বা পারতো না, তারাও আজ সংসদ সদস্য। আর তারাই পাস করলো দেশের সর্বস্তরের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা নিজেদের হস্তগত করার বিল! আইনমন্ত্রীসহ এ বিলের পক্ষপাতিত্বকারী অনেক রথি মহারথিই যুক্তি হিসেবে ব্রিটেন, আমেরিকা, ভারত, জার্মানি, ফ্রান্সসহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে এ বিধান রয়েছে মর্মে বলার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু তারা এ কথা চিন্তা করেন না সেসব রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের কাঠামো এবং ভিত্তি কত মজবুত। বাংলাদেশের মত অনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দিয়ে তাদের পার্লামেন্ট গঠিত নয়। তাদের পার্লামেন্ট বিরোধী দলহীন নয় এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বহীন নয়। বিভিন্ন দল ও মতের মধ্যে বিশ্বাসহীনতা আর আস্থাহীনতা দিয়ে ভরা নয়। তাদের গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত ও পূর্ণরূপে বিকশিত। তাদের নির্বাচনে পক্ষপাতদুষ্ট সূক্ষ্ম আর স্থুল কারচুপির সয়লাব বয়ে যায় না। সর্বোপরি এসব দেশের বিচার বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উল্লেখ করার মতো এমন কোন নজির নেই বললেই চলে। সুতরাং অবাস্তব ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ উদাহরণ টেনে ‘লিয়াকত আলী আর জুতার কালী’কে এক করে দেখার এবং বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের হাতে নেয়াকে যুক্তিপূর্ণ ও যথোচিত বলার কোন সুযোগ নেই। প্রসঙ্গত একটি কথা না বললেই নয়, এ রকম একটি স্পর্শকাতর, জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নীতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কারও সাথে কোনো পরামর্শ করারও প্রয়োজন মনে করেনি সরকার। অথচ যে কোন আইন প্রণয়ন বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে দেশের প্রথিতযশা আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করা এবং দেশের মানুষের জন্য কল্যাণকর কিনা সে বিষয়ে গভীরভাবে হিসাব-নিকাশ করা অত্যন্ত জরুরি।
সংবিধানের এ ষোড়শ সংশোধনীর আদৌ কি কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল? কারণ বিদ্যমান ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’-এর বিধান সম্পর্কে আজ পর্যন্ত কোন সমালোচনা বা অভিযোগ শোনা যায়নি। কেউ কোন সন্দেহ বা প্রশ্ন উত্থাপন করেনি। তাহলে কেন সেটিকে ছেঁটে ফেলতে হবে? বাস্তবতা হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হাঁটছেন তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর পথ ধরে। ‘সংবিধান, সাংবিধানিক আইন ও রাজনীতি : বাংলাদেশ প্রসঙ্গ’ বইয়ে লেখক উল্লেখ করেছেন, ‘বাংলাদেশে মুজিবের সময়কাল সংসদীয় প্রকৃতির ছিল না, ছিল প্রধানমন্ত্রী শাসিত একনায়কতান্ত্রিক’। একইভাবে আবারও একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের উদ্দেশ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ষোড়শ সংশোধনী, সম্প্রচার নীতিমালাসহ অন্যান্য যাবতীয় কার্যক্রম। এ দেশের ভাগ্যাকাশে মহাপ্রলয়ের পূর্বাভাষ পাওয়া যাচ্ছে। বাতাসে কান পাতলেই শোনা যায় নয়া বাকশালের পদধ্বনি। ধেয়ে আসছে কালবোশেখি। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা সবকিছুকে তছনছ করে দেবে সে ঝড়। সুতরাং অবধারিত সত্য এটাই যে, জনগণকে আবার জাগতে হবে। আন্দোলনই হবে একমাত্র সমাধান। ইতিহাস সাক্ষী, রক্তাক্ত সংগ্রামের পথ বেয়েই আসে সত্যিকার মুক্তি।
লেখক : কলাম লেখক এবং আইনজীবী, বালাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
ধংধফরঁশ@ুধযড়ড়.পড়স বর্তমান সরকারের অন্যায় ও অপরিণামদর্শী কার্যকলাপের ষোলকলা পূর্ণ হলো সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অভিশংসন বিল পাসের মধ্য দিয়ে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে বিচারপতিদের ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীনতার বুকে সর্বশেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়া হলো। সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা নেয়া হলো সংসদের হাতে। সংবিধানের ৯৬ (৩) দফায় বর্ণিত ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’-এর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ প্রক্রিয়া ছেঁটে ফেলে দিয়ে চালু করা হলো সংসদের মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণ প্রক্রিয়া। এখন দেশের সবচেয়ে সম্মানিত, জ্ঞানী, শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত মানুষদেরকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার অধিকার পেল জাতীয় সংসদের সেই সব সদস্য যাদের মধ্যে অধিকাংশই অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত, খুনের আসামি, কালোবাজারি বা দুর্নীতিবাজ। অর্বাচীন পুরাণের ভবিষ্যদ্বাণী হলোÑ ‘কলিকালে শূদ্র রাজা হবে’ আর কলিকাল শুরু হয়েছে অনেক আগেই। এ দেশে শূদ্র রাজাও হয়েছে এবং তারা আজ ব্রাহ্মণের বিচারও করছে!
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ে তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক উল্লেখ করেছেন, ‘ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে কোন রাষ্ট্রে যখনই সুপ্রিম কোর্ট তথা বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভাকে সংবিধান ও আইনের আওতায় রাখিতে ব্যর্থ হয় এবং নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ হইয়া দাঁড়ায় তখনই রাষ্ট্রে ও নাগরিকদের জীবনে চরম বিপত্তি দেখা দেয়’ (যদিও তিনি নিজেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছেন)। বাংলাদেশে রাষ্ট্র ও নাগরিকদের বিপত্তির সর্বোচ্চ চূড়া অতিক্রান্ত হলো উক্ত সংশোধনীর মাধ্যমে। এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প রইল না। বিচারপতিদের নিয়োগের ক্ষমতা তো ছিলই, শেষমেশ তাদের অপসারণের ক্ষমতাও বাগিয়ে নিলেন সরকার বাহাদুর। অতএব সরকার যা বলবে, যেভাবে বলবে তা-ই করতে বাধ্য হবেন মাননীয় বিচারকগণ। এর অন্যথা হলে চাকরির গলায় ফাঁসির রশি পড়তে সময় লাগবে না। এককথায় জনগণের আশ্রয়ের শেষ ঠিকানাটিও নিরাপদ থাকতে পারল না।
অতি প্রাচীন ইংল্যান্ডের বিচারব্যবস্থায় রাজার ইচ্ছা ও শর্তানুসারে বিচারক নিয়োগ হতো এবং বিচারকগণ রাজার নামে ও তার পক্ষে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। রাজার অসন্তুষ্টির কারণ হলে বিচারকগণ তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হতেন। এ কারণে বিচারকগণ অন্যান্য রাজ কর্মচারীদের মতো রাজার একান্ত বশংবদ সেবক থাকতেই নিজেদেরকে সন্তুষ্ট ও গর্বিত মনে করতেন। বাংলাদেশের বিচারপতিদেরকেও সেই প্রাচীনকালে ফিরিয়ে নেয়ার পথ তৈরি করা হলো সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন ইংল্যান্ডের মতো বাংলাদেশেও মূলত শাসন চলে একজনেরই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা ইচ্ছা করেন তা-ই হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান কোন রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে উক্ত দলের সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়া বা মতামত দেয়ার পথ রহিত করে দিয়েছে। দলীয় প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেয়াই অবশ্য কর্তব্য দলীয় সংসদ সদস্যদের। যেহেতু অনির্বাচিত হলেও সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংসদ সদস্যই এখন সরকারি দলের, সেহেতু প্রধানমন্ত্রী নিজে অথবা কারো ইচ্ছায় বা প্ররোচনায় কোন বিচারপতির প্রতি কোনভাবে অসন্তুষ্ট হলে তাঁর আর রক্ষে নেই। অর্থাৎ এককথায় বলা যায়, এক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে এখন বিচারপতিদের স্বপদে বহাল থাকা আর না থাকা। সুতরাং মাননীয় বিচারপতিদের কী প্রয়োজন আছে সরকারের অসন্তুষ্টির কারণ হয় এমন কার্য করার? জলে বাস করে তো কুমিরের সাথে লড়াই করা যায় না! স্বাভাবিকভাবেই বিচারকগণ নিজেদেরকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত অনুগত রাখাকেই নিরাপদ এবং সন্তুষ্টির পথ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার ১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে ‘পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারালয় কর্তৃক ন্যায্য ও প্রকাশ্য শুনানি লাভের অধিকার’। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদেও এ অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। একইভাবে সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করতে বলা হয়েছে। এরই আলোকে ২০০৭ সালের নভেম্বরে বিচার বিভাগকে স্বাধীন বলে ঘোষণাও করা হয়েছে। এরকম সুনির্দিষ্ট আইন সৃষ্টির অনেক পূর্বে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তার ‘দি স্পিরিট অব লজ’ গ্রন্থে ‘ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি’র ব্যাখ্যা দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগীয় ক্ষমতাকে যদি পৃথকীকরণ করা না হয় তাহা হলে ব্যক্তিস্বাধীনতা থাকতে পারে না; যদি একে আইন বিভাগের সাথে একত্রীকরণ করা হয় তাহা হলে একই ব্যক্তি আইন প্রণেতা ও বিচারকর্তা হয়ো দাঁড়াবে এবং ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতা স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। যেখানে একই ব্যক্তির হাতে নির্বাহী, আইন ও বিচারÑ এই তিন ধরনের ক্ষমতা একত্রীভূত করা হয় সেখানে কিছুই বাকি থাকবে না’। সুতরাং সংসদের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতার্পণের অর্থ হলো বিচার বিভাগ চলে গেল এক প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীনে। তার হাতে বিচারকদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বেতন-ভাতা ইত্যাদির নিয়ন্ত্রণ পূর্ব থেকেই ছিল এবার অপসারণের ক্ষমতাও বগলদাবা হয়ে গেল। কোন বিচারক তার কথার বাইরে গিয়ে সরকারের বিপক্ষে নাগরিকের অধিকারের পক্ষে আর কোন আদেশ, রায় বা সিদ্ধান্ত দিবেন বলে মনে করার কোন কারণ নেই। অতএব বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এখন অর্থহীন, মৃত। এ প্রাণহীন কাগুজে স্বাধীনতাকে জিইয়ে রাখার আর দরকার কী? ¯্রফে ঘোষণা দিয়েই বোধ করি বলা উচিত, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আর নেই, তা আজ থেকে রহিত করা হলো’!
ত্রয়োদশ শতাব্দেিত ব্রাকটন বলেছিলেন, ‘রাজাকে অবশ্যই ঈশ্বর ও আইনের অধীন হতে হবে’। পরবর্তীতে আইনবিদ হেনরি জে আবরাহাম ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’-এর সংজ্ঞা উপস্থাপন করেছেন। অন্য অনেক আইন বিজ্ঞানীও এ মতবাদের প্রবক্তা। ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’ হচ্ছে সরকার কর্তৃক প্রণীত কোন আইন, আইনগত কার্যক্রম বা অফিসিয়াল কার্য সংবিধান পরিপন্থঅ বা অন্যায়মূলক হলে সেটিকে অসাংবিধানিক ও অকার্যকর ঘোষণা করার ক্ষমতা। যে ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের। সুপ্রিম কোর্টই মূলত সংবিধান ও আইনের রক্ষক। এ কারণে মাননীয় বিচারপতিদের শপথবাক্য হলো- ‘আমি বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব; এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন-অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।’ এই শপথকে সামনে রেখে সুপ্রিম কোর্ট ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’-এর ক্ষমতাবলে সরকারের বেআইনি ও অন্যায় কাজের লাগাম টেনে ধরতে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭, ২৬ ও ১০২(২) অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট এ ক্ষমতার ব্যবহার করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারেন। কিন্তু ধরেই নেয়া যায় যে, যিনি বিচারককে অপসারণের ক্ষমতা রাখেন তার প্রণীত কোন আইন বা কার্যকে বাতিল করার ধৃষ্টতা উক্ত বিচারক দেখাতে যাবেন না। সুতরাং কোন আইন করতে বা কোন কাজ করতে গিয়ে সরকারকে আর সাত পাঁচ ভাবতে হবে না যে সেটি সংবিধান পরিপন্থী বা অন্যায়মূলক হচ্ছে কি হচ্ছে না। অনায়াসে যাচ্ছে তাই করে যাবে বাধাহীন, বল্গাহীনভাবে।
ষোড়শ সংশোধনী বিলটি পাসের আগে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি এই সংসদে বিলটি পাসের পক্ষে ১০১টি কারণ বলতে পারব। তার মধ্যে একটি হচ্ছে এই সংসদ সংবিধান অনুযায়ী জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংসদ। সুতরাং আমরা এই সংসদে বিলটি পাস করতে পারি।’ আসলে কি তাই? যে সংসদের ৩০০ জন সদস্যের মধ্যে ১৫৪ জনই বিনা নির্বাচনে, বিনা ভোটে সদস্য হয়েছেন এবং বাকিরাও নির্বাচিত হয়েছেন অনুল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটে সে সংসদকে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বলা শতাব্দীর ¯্রষ্টে মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু হতে পারে কি? যারা জীবনে কখনো ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বরও হতে পারেনি বা পারতো না, তারাও আজ সংসদ সদস্য। আর তারাই পাস করলো দেশের সর্বস্তরের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা নিজেদের হস্তগত করার বিল! আইনমন্ত্রীসহ এ বিলের পক্ষপাতিত্বকারী অনেক রথি মহারথিই যুক্তি হিসেবে ব্রিটেন, আমেরিকা, ভারত, জার্মানি, ফ্রান্সসহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে এ বিধান রয়েছে মর্মে বলার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু তারা এ কথা চিন্তা করেন না সেসব রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের কাঠামো এবং ভিত্তি কত মজবুত। বাংলাদেশের মত অনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দিয়ে তাদের পার্লামেন্ট গঠিত নয়। তাদের পার্লামেন্ট বিরোধী দলহীন নয় এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বহীন নয়। বিভিন্ন দল ও মতের মধ্যে বিশ্বাসহীনতা আর আস্থাহীনতা দিয়ে ভরা নয়। তাদের গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত ও পূর্ণরূপে বিকশিত। তাদের নির্বাচনে পক্ষপাতদুষ্ট সূক্ষ্ম আর স্থুল কারচুপির সয়লাব বয়ে যায় না। সর্বোপরি এসব দেশের বিচার বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উল্লেখ করার মতো এমন কোন নজির নেই বললেই চলে। সুতরাং অবাস্তব ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ উদাহরণ টেনে ‘লিয়াকত আলী আর জুতার কালী’কে এক করে দেখার এবং বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের হাতে নেয়াকে যুক্তিপূর্ণ ও যথোচিত বলার কোন সুযোগ নেই। প্রসঙ্গত একটি কথা না বললেই নয়, এ রকম একটি স্পর্শকাতর, জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নীতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কারও সাথে কোনো পরামর্শ করারও প্রয়োজন মনে করেনি সরকার। অথচ যে কোন আইন প্রণয়ন বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে দেশের প্রথিতযশা আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করা এবং দেশের মানুষের জন্য কল্যাণকর কিনা সে বিষয়ে গভীরভাবে হিসাব-নিকাশ করা অত্যন্ত জরুরি।
সংবিধানের এ ষোড়শ সংশোধনীর আদৌ কি কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল? কারণ বিদ্যমান ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’-এর বিধান সম্পর্কে আজ পর্যন্ত কোন সমালোচনা বা অভিযোগ শোনা যায়নি। কেউ কোন সন্দেহ বা প্রশ্ন উত্থাপন করেনি। তাহলে কেন সেটিকে ছেঁটে ফেলতে হবে? বাস্তবতা হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হাঁটছেন তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর পথ ধরে। ‘সংবিধান, সাংবিধানিক আইন ও রাজনীতি : বাংলাদেশ প্রসঙ্গ’ বইয়ে লেখক উল্লেখ করেছেন, ‘বাংলাদেশে মুজিবের সময়কাল সংসদীয় প্রকৃতির ছিল না, ছিল প্রধানমন্ত্রী শাসিত একনায়কতান্ত্রিক’। একইভাবে আবারও একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের উদ্দেশ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ষোড়শ সংশোধনী, সম্প্রচার নীতিমালাসহ অন্যান্য যাবতীয় কার্যক্রম। এ দেশের ভাগ্যাকাশে মহাপ্রলয়ের পূর্বাভাষ পাওয়া যাচ্ছে। বাতাসে কান পাতলেই শোনা যায় নয়া বাকশালের পদধ্বনি। ধেয়ে আসছে কালবোশেখি। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা সবকিছুকে তছনছ করে দেবে সে ঝড়। সুতরাং অবধারিত সত্য এটাই যে, জনগণকে আবার জাগতে হবে। আন্দোলনই হবে একমাত্র সমাধান। ইতিহাস সাক্ষী, রক্তাক্ত সংগ্রামের পথ বেয়েই আসে সত্যিকার মুক্তি।
লেখক : কলাম লেখক এবং আইনজীবী, বালাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
asadiuk@yahoo.com

SHARE

Leave a Reply