সমুদ্রে কতটুকু বাংলাদেশের জয়

indexসরকার মিয়ানমারের মত এবারও ভারতের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর বণ্টনে মহাজয় হয়েছে বলে তুমুল প্রপাগাণ্ডা চালাচ্ছে।
তবে মিয়ানমারের তুলনায় ভারতের সাথে জয়ী হওয়ার আনন্দ মাত্রা কিছুটা কম বোধকরি এটা সচেতন দেশবাসী অনুধাবন করেছেন। মিয়ানমারের সাথে আওয়ামীলীগের ভাষায় সমুদ্র জয়ের পর যে মাত্রায় শেখ হাসিনাকে নিজের দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা, প্রশংসা ও স্তুতিবাক বর্ষণ করা হয়েছে ভারতের সাথে জয়ের পর সেরকমটা দেখা যায় নি। এর কারণ আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা সম্ভবত অনুধাবন করেছেন তালপট্টি দ্বীপ হারানোয় এবার বোধকরি এতটা উচ্ছসিত হংয়ার কোনো কারণ নেই।
১৯৭০ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনার অদূরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ জেগে ওঠে। নদীর মোহনা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ১৯৭৪ সালে একটি আমেরিকান স্যাটেলাইটে আড়াই হাজার বর্গমিটার এ দ্বীপটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। পরবর্তিতে সার্ভে চালিয়ে দেখা গিয়েছিল, দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বাড়ছে এবং একপর্যায়ে এর আয়তন ১০ হাজার বর্গমিটারে দাঁড়ায়। দ্বীপটি বাংলাদেশ সমুদ্রসীমায় পরলেও ১৯৮১ সালে ভারত সেখানে সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে তাদের পতাকা উড়ায়।
নিরপক্ষ বিবেচনায় মিয়ানমারের মত ভারতের সাথেও সমুদ্র বণ্টনে ঠকেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ভারত দারুণ সন্তেুাষ্ট। বাংলাদেশ যদি সমুদ্র বিজয় করত প্রকৃত অর্থে তবে তাতে ভারতের এরূপ আনন্দিত হবার কোনই কারণ থাকতো না। নিতান্ত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে দেশবাসীকে রাজনৈতিক ধোকা দিতেই সরকারের এমন মহা-প্রপাগাণ্ডা।
ভারতের সাথে বঙ্গোপসাগরের সীমানা বণ্টনে এ রায়ে বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমায় জেগে ওঠা বাংলাদেশের সার্বভৌমাঞ্চল দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। এতে ভারতের সংবাদ মাধ্যম হিসেবেই বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ১০০ ঞ.ঈ.ঋ. (ঞসরষঃরড়হ পঁষঃরপ ভবপঃ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ সম্ভারের ন্যায্য মালিকানা থেকে।
বলা যায়, ‘ভারত-বাংলাদেশ’ কিংবা ‘মিয়ানমার-বাংলাদেশ’ কোন বণ্টনেই বাংলাদেশ লাভবান হয় নি। মূলত কৌনিক ভাবে সীমারেখা নির্দিষ্ট হয়ে যাওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। তাহলে সমুদ্রে কতটুকু বাংলাদেশের জয় হলো এই প্রশ্ন থেকেই যায়।

সম্প্রচার নীতিমালা বনাম মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সম্প্রচার নীতিমালার নামে সরকার গনমাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করে ক্ষমতা স্থায়ী করতে চায়। এটি একটি পুরোনো ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার ‘নতুন’ পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন।
নিখিল ভারতে সম্প্রচার নীতিমালা বা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন আইন চালু হয়েছে ব্রিটিশ আমলে। ঔ ব্রিটিশ আইনের মূল লক্ষ্য ছিল পরাধীন নাগরিকদের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে রাখা। সে আইন এখনো ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে চালু আছে। কোনো সরকারই ওই সব আইনকে গণমুখী করেনি। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান নাগরিকদের শাস্তি দেয়ার জন্য ১৯৭৪ সালে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট করেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে করা নিবর্তনমূলক আইন ৫৪ ধারা এখনো জারি আছে। এই আইনের দ্বারা পুলিশ বা সরকার যেকোনো নাগরিককে কোনো কারণ না দেখিয়ে গ্রেফতার করতে পারেন। বিশেষ ক্ষমতা আইন বলে যেকোনো নাগরিককে আটক করে বিনা বিচারে আটক রাখতে পারে। রাজনীতিতে অসত্য বা মিথ্যা একটি বড় অস্ত্র বা হাতিয়ার। এর মাধ্যমে জগৎবাসী, দেশবাসী ও জনগণকে সহজেই বিভ্রান্ত করা যায়।
মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান একদল করেছিলেন ভিন্ন মতকে জোর করে দমিয়ে রাখার জন্য। তিনি সরাসরি প্রকাশ্যে একদল করে ভুল করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা সে ভুল করছেন না। ঘোষণা না দিয়ে একদলীয় শাসন চালু করে বাকশালের মতো দেশ চালাচ্ছেন। এ ধরনের নীতি পাকিস্তানে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, ভারতে ইন্দিরা গান্ধীও গ্রহণ করেছিলেন। দমননীতি দ্বারা যেকোনো দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হয়। স্বৈর শাসকেরা এ বিষয়টি কখনোই বুঝতে চায় না। এ ধরনের দেশে গণতন্ত্র থাকে না, তাই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নও আসে না।
প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্টের ইতিহাস পড়লে জানা যায়, পাকিস্তান আমলে এমনকি আইয়ুবের আমলেও ডেপুটি কমিশনাররা পত্রিকার ডিক্লারেশন দিতে পারতেন। এখন তারা তা পারেন না। পত্রিকার ডিক্লারেশনের ব্যাপারে ডিসি অফিস শুধু পোস্ট অফিসের ভূমিকা পালন করেন।
ওই অ্যাক্টের দাদা পরদাদা হলো ব্রিটিশ প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট। এখন পত্রিকা প্রকাশের অনুমতির জন্য প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ছুটতে হয়। মাঝখানে থাকে এসবি, এনএসআই, ডিজিডিএফআই-সহ নানা ধরনের এজেন্সি।
এখন তো অনলাইন পত্রিকা, সোস্যাল মিডিয়া, রেডিও, টেলিভিশন, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ইত্যাদি প্রকাশমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
মতপ্রকাশের জন্য পত্রিকাকে বাঁচিয়ে রাখা অনেক বেশি জরুরি। আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামী টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ান, মাহমুদুর রহমান ও ইনকিলাব এর জ্বলন্ত উদাহরণ।
সরকার প্রণীত সম্প্রচার নীতিমালার ‘সপ্তম অধ্যায়’ এর ‘বিবিধ’ এ বলা হয়েছে- ‘‘(৭.৪) এই নীতিমালায় উল্লেখ নেই অথবা অন্য কোনো নীতিমালা বা আইনের সাথে সাংঘর্ষিক এমন বিষয়ে তথ্য মন্ত্রলায় স্বিদ্ধান্ত প্রদান করবে।
(৭.৫) সম্প্রচার ও সম্প্রচার কমিশন সম্পর্কিত আইন, বিধিমালা এবং নীতিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত তথ্য ম›ত্রনালয় সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্বিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’’
বাংলাদেশে সম্প্রচার নীতিমালার উদ্দেশ্য নাগরিকের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে রাষ্ট্রের অধিকার এর নামে সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা করা এবং সরকারের অধীনে গণ মাধ্যমকে ইচ্ছেমত নিয়ন্ত্রন করা।

SHARE

Leave a Reply