সম্পর্ক উন্নয়নের মেরুদণ্ড -ড. মোবারক হোসাইন

‘যখন আপনার দৃষ্টি এক বছর পর্যন্ত প্রসারিত। তখন ফুলের গাছ চাষ করুন। যখন দৃষ্টি দশ বছর পর্যন্ত প্রসারিত। তখন ফলের গাছ লাগান। যখন আপনার দৃষ্টি অনন্তকাল প্রসারিত তখন মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করুন।’ – প্রাচ্য প্রবাদ

সভ্যতার প্রাথমিক স্তরে বা মানুষ পৃথিবীতে আবির্ভাবের পর থেকে একে অপরের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। প্রথম অবস্থায় মানুষ ইশারায় বা সাংকেতিক ভাষায় যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। পরবর্তীতে ভাষার পূর্ণ বিকাশ ঘটলে একে অপরের সাথে শব্দ বা বাক্যের বিনিময়ে যোগাযোগ প্রচলন শুরু হয়। বর্ণমালা আবিষ্কারের পর মানুষ লিখিত যোগাযোগের প্রচলন ঘটান। পরবর্তীতে যোগাযোগ প্রযুক্তি আবিষ্কার হলে যোগাযোগ মাধ্যমের বিপ্লব ঘটে। বর্তমানে রেডিও, টেলিভিশন, প্রিন্ট মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট-ভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা অধিক গতিশীল। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে : Human minds are like parachutes, they don’t until they are opened.” “মানুষের মন হচ্ছে অনেকটা বিমান থেকে লাফিয়ে পড়া প্যারাসুটের মতো যা না খোলা পর্যন্ত কাজ শুরু করে না।” একটি সংগঠনের কর্মীদেরও মনের দরজা খুলে দিয়ে তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য সুষ্ঠু যোগাযোগ দরকার। মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যোগাযোগ করা শিখিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা সূরা আর-রাহমানে বলেছেন, তিনি করুণাময়। তিনিই কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি কথা বলতে শিখিয়েছেন। (৫৫ : ১-৪)

যোগাযোগ কী?
সাধারণ অর্থে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা পক্ষের মধ্যে কোনো তথ্য বা সংবাদের আদান-প্রদানকে যোগাযোগ বলে। তাই ব্যাপক অর্থে বলা যায়, যোগাযোগ এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে সংবাদ প্রেরক এবং প্রাপক তাদের মধ্যে কোনো তথ্য, সংবাদ, মতামত, ধারণা ইত্যাদির আদান-প্রদান করে।
বিভিন্ন পণ্ডিত এবং গ্রন্থকারগণ যোগাযোগকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নি¤েœ তাদের কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:
Oxford Dictionary তে বলা হয়েছে, যোগাযোগ বলতে বুঝায় কোন কিছু জ্ঞাত করা, প্রদান করা এবং অংশগ্রহণ করা।
অতএব, যোগাযোগ বলতে যোগাযোগকারী এবং যোগাযোগ গ্রহীতার মধ্যে কোনো তথ্য, সংবাদ, ঘটনা, চিন্তা মতামত, ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা, মনোভাব ইত্যাদির বিনিময়কে বুঝায়।
যোগাযোগের মূলনীতি

সংগঠনের লক্ষ্য অর্জন ও সফলতা লাভের পূর্বশর্ত হলো উত্তম যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু উত্তম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে কতকগুলো অপরিহার্য শর্ত পালন করা দরকার। কাজেই যোগাযোগকে উন্নত, কার্যকর এবং স্বাচ্ছন্দ্য করার জন্য সর্বজনস্বীকৃত নিয়ম বা রীতিনীতিই হচ্ছে যোগাযোগের নীতিমালা। যোগাযোগের প্রধান প্রধান নীতিগুলো হচ্ছে-
– বক্তব্যের ব্যাখ্যা : প্রয়োজনবশত যোগাযোগের প্রত্যেকটি সংবাদের বিবরণের পাশাপাশি তার বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়বস্তুর পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা উচিত।
– স্পষ্টতা : ভাষার স্পষ্টতা যোগাযোগের অন্যতম নীতি। যোগাযোগের বিষয়বস্তুকে বোধগম্য করার জন্য সহজ-সরল ভাষা ব্যবহার করা উচিত।
– উদ্দেশ্যকেন্দ্রিতা : যোগাযোগ ব্যবহৃত ভাষার যোগাযোগকারীর মনের ইচ্ছার প্রতিপালন থাকা আবশ্যক। ভাব ও ভাষার সংহতি যোগাযোগের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি করে।
– সম্পূর্ণতার নীতি : যোগাযোগের ক্ষেত্রে তথ্য পরিবেশনে সম্পূর্ণতার নীতি মেনে চলা আবশ্যক। আংশিকভাবে তথ্য উপস্থাপিত হলে যোগাযোগ অপূর্ণাঙ্গ থেকে যায়।
– সঙ্গতি : সঙ্গতি বলতে সংগঠনের উদ্দেশ্য, সময়, পরিস্থিতি ইত্যাদি সকল বিষয়ের সাথে বক্তব্যের সঙ্গতিপূর্ণ হওয়াকে বোঝায়।
– সংক্ষিপ্ততা ও সহজবোধ্যতা : যোগাযোগের তথ্য যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য হওয়া আবশ্যক।
– মনোযোগ : আদর্শ যোগাযোগের উল্লেখযোগ্য নীতি হলো যোগাযোগের বিষয়বস্তুর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ প্রদান।
– প্রাসঙ্গিকতা : প্রতিটি যোগাযোগ উদ্দেশ্য এবং বিষয়ভিত্তিক হওয়া আবশ্যক।
– অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক : শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করলে যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় না। তাই আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের পরিপূরক হিসেবে প্রয়োজনমতো অনানুষ্ঠানিক ব্যবহার করাও উচিত।
– পরিচ্ছন্নতা ও নির্ভুলতা : লিখিত যোগাযোগের ক্ষেত্রে লিখিত বক্তব্য পরিচ্ছন্ন ও নির্ভুল হওয়া আবশ্যক।
– পূর্ণ প্রস্তুতি : যে কোন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হোক না কেন, পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া আবশ্যক।
– পরস্পর নির্ভরশীলতা : যোগাযোগপ্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব থাকা উচিত।

যোগাযোগকারীর বৈশিষ্ট্য
যোগাযোগকারীকে কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে। ১. কম কথা বলা। ২. অত্যধিক ধৈর্যের পরিচয় দেয়া। ৩. বেশি কথার পরিবর্তে চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে প্রভাব সৃষ্টি করা। ৪. ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ও স্পষ্ট ধারণা রাখবেন। ৫. কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে ব্যক্তিত্ব অক্ষুণœ রেখে সময় নেবেন। ৬. গোঁজামিলের আশ্রয় না নেয়া। ৭. যার সাথে সাক্ষাৎ করা হচ্ছে তার মন-মানসিকতার দিকে লক্ষ্য রাখা। ৮. যোগাযোগকৃত ছাত্রের রোগ দূর করার জন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করা। ৯. তার দুর্বলতার সমালোচনা না করে সৎ গুণাবলি বিকাশে সহযোগিতা করা। ১০. ব্যবহারে অমায়িক হওয়া। ১১. তার সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া। ১২. মনকে অহেতুক ধারণা থেকে মুক্ত রাখা। ১৩. সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে ভ্রমণ, একত্রে নাস্তা করা, খাওয়া, নিজ বাসায় নিয়ে আসা, তার বাসায় যাওয়া, উপহার দেওয়া ইত্যাদি উপায় অবলম্বন করা।

কিভাবে ফলপ্রসূ যোগাযোগ করবেন

যোগাযোগ হচ্ছে মূলত অপর কোনো পক্ষের সাথে তথ্য বা সংবাদ আদান প্রদান করা। দায়িত্বশীল যতটা কার্যকরভাবে কমিউনিকেশন করতে পারবেন তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা ততটাই বেশি। মূলত একজন ভালো নেতা হওয়ার পূর্বশর্তই হলো ভালো যোগাযোগকারী হওয়া। নি¤েœ কিছু উপাদান তুলে ধরা হলো যেগুলো যোগাযোগকে কার্যকর করতে ভালো ভূমিকা রাখে।
– পূর্ব-চিন্তা : যোগাযোগের পূর্বেই উত্তমভাবে চিন্তা-ভাবনা করে ভাবকে ভাষায় রূপান্তরিত করতে হয়। এ কারণে বর্তমানে বৈজ্ঞানিক ও সৃজনশীল চিন্তাকে যোগাযোগের অপরিহার্য গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
– সুপরিকল্পিত : ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই হচ্ছে পরিকল্পনা। কাজেই যোগাযোগকারীকে যোগাযোগ ফলপ্রসূ যোগাযোগ স্থাপনের পূর্বেই এর বিষয়বস্তু, উপস্থাপন পদ্ধতি, স্থান, সময় ইত্যাদি সম্পর্কে পরিকল্পনা গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়ে।
– নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য : যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে যোগাযোগকারীর স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক এবং এ উদ্দেশ্য সামনে রেখে যোগাযোগ করা উচিত।
– সময় বিবেচনা : তথ্য পরিবেশনে সময় বিবেচনা করতে হবে।
– যথার্থ মাধ্যম নির্বাচন : যোগাযোগকারীকে যোগাযোগের ভাব বা তথ্যের গুরুত্ব, প্রয়োজন ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন সাপেক্ষে কার্যকর মাধ্যম নির্বাচন করতে হবে। এরূপ যথার্থ মাধ্যম সহজ, দ্রত ও ফলদায়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করে।
– নির্ভুলতা ও পূর্ণাঙ্গতা : বার্তার বিষয়বস্তু হতে হবে নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ।
– সংক্ষিপ্ততা : আদর্শ যোগাযোগের একটি গুণ হলো সংক্ষিপ্ততা। যোগাযোগের বক্তব্য যত বেশি সংক্ষিপ্ত প্রাসঙ্গিক ও সাবলীল হয়, যোগাযোগের কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পায়।

যোগাযোগের বিভিন্ন পদ্ধতি
যোগাযোগ পদ্ধতি ভাষার সাথে সম্পৃক্ত। ভাষা ছাড়া যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয় না। এ ভাষার ওপর নির্ভর করে যোগাযোগ পদ্ধতিকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন ১. শাব্দিক যোগাযোগ এবং ২. শব্দ-বহির্ভূত যোগাযোগ। এর আওতায় বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ পদ্ধতি গড়ে উঠেছে। তার কতিপয় নি¤েœ রেখাচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
১. শাব্দিক যোগাযোগ
শব্দের মাধ্যমে যখন কোনো যোগাযোগ রক্ষা করা হয় তখন তাকে শাব্দিক যোগাযোগ বলা হয়। শাব্দিক যোগাযোগ নি¤েœাক্ত দুই প্রকার :
ক. মৌখিক যোগাযোগ : সংবাদ প্রেরক যখন কোনো সংবাদ, তথ্য, মতামত, ভাব, অনুভূতি লিখিতভাবে প্রকাশ না করে মৌখিক ভাষায় সংবাদ প্রাপকের কাছে উপস্থাপন করে তখন তাকে মৌখিক যোগাযোগ বলে।
খ. লিখিত যোগাযোগ : সংবাদ প্রেরক যখন কোনো তথ্য, সংবাদ, ভাব, মতামত বা অনুভূতি অলিখিতভাবে প্রকাশ না করে লিখিতভাবে সংবাদ প্রাপকের কাছে উপস্থাপন করে তখন তাকে লিখিত যোগাযোগ বলা হয়।

২. অশাব্দিক যোগাযোগ
অমৌখিক ভাষা; যেমন- নীরবতা, হাসি-কান্না, আকার-ইঙ্গিত, অঙ্গভঙ্গি, ছবি, আর্ট, মডেল, গ্রাফ, সাঙ্কেতিক চিহ্ন বা গাণিতিক চিহ্ন দ্বারা যখন কোনো যোগাযোগ রক্ষা করা হয় তখন তাকে শব্দ-বহির্ভূত যোগাযোগ বলা হয়। শব্দ-বহির্ভূত যোগাযোগ ছয় প্রকার-
ক. দৃশ্যমান যোগাযোগ : যে যোগাযোগব্যবস্থায় কেবলমাত্র বিভিন্ন ছবি, চিত্র, মানচিত্র ও নকশার মাধ্যমেই যোগাযোগ স্থাপন করা হয়, তাকে দৃশ্যমান যোগাযোগ বলা হয়।
খ. শ্রবণযোগ্য যোগাযোগ : এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থায় যোগাযোগ রক্ষাকারী যোগাযোগ গ্রহীতার কানে শব্দ পৌঁছে দেয় এবং যোগাযোগের গ্রহীতা তার যথাযথ প্রত্যুত্তর প্রদান করে থাকে।
গ. শ্রবণ-দর্শন যোগাযোগ : দৃশ্যমান এবং শ্রবণযোগ্য যোগাযোগের সংমিশ্রণে এ ধরনের যোগাযোগের উৎপত্তি হয়। এ পদ্ধতিতে দৃশ্যমান এবং শ্রবণযোগ্য উভয়ের সমন্বয় ঘটে বলে এটি অধিকতর উন্নত পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত।
ঘ. আকার-ইঙ্গিতে যোগাযোগ : আকার-ইঙ্গিত, অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদির দ্বারা যখন কোনো যোগাযোগ কার্য সম্পন্ন হয়, তখন তাকে আকার-ইঙ্গিত যোগাযোগ বলা হয়।
ঙ. নীরবতা/ নিষ্ক্রিয় যোগাযোগ : নীরবতা পালন করে অথবা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় যেসব যোগাযোগ কার্য সম্পাদন করা হয় তাকে নীরবতা বা নিষ্ক্রিয় যোগাযোগ (Passive means) বলা হয়।
চ. কাজের মাধ্যমে যোগাযোগ : কার্য সম্পাদনও যোগাযোগ পদ্ধতির মাধ্যমে বা কৌশল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। কারণ একজন নির্বাহী তার দৃষ্টান্তমূলক কার্য সবার সামনে উপস্থাপন করে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন।

যোগাযোগের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা
মানুষ প্রতিনিয়তই যোগাযোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সংগঠন ক্ষেত্রে এ বিষয়টি আরও বেশি প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করেই সংগঠন পরিচালনা করতে হয়। নি¤েœ যোগাযোগের গুরুত্ব বা ভূমিকা বর্ণনা করা হলো-

– পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন : সংগঠন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। আর যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমেই এরূপ কার্য সম্ভব।
– লক্ষ্য অর্জন : লক্ষ্য অর্জনই সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য। আর এ লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে সংগঠন বিভিন্ন জনশক্তির সাথে যোগাযোগ করতে হয়।
– তথ্যের বিনিময় : তথ্যের আদান প্রদান ব্যতীত কোনো সংগঠন তাদের কার‌্যাবলি পরিচালনা করতে পারে না। কারণ যোগাযোগের মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রকার তথ্য সংগ্রহ করে তা পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করা সম্ভব হয়।
– সিদ্ধান্ত গ্রহণ : একজন ব্যক্তি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেই বিভিন্ন সমস্যাবলি সমাধান করে থাকেন। আর সুষ্ঠু যোগাযোগের মাধ্যমেই বিভিন্ন উৎস থেকে সঠিক তথ্যাদি সংগ্রহ করা সম্ভব- যা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিশেষ সহায়তা প্রদান করে।
– সমন্বয় সাধন : সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে একজন দায়িত্বশীল বিভিন্ন বিভাগীয় কার‌্যাবলি যোগাযোগের মাধ্যমে সমন্বয় করেন।
– সামাজিক দায়িত্ব পালন : সামাজিক দায়িত্ব পালনেও যোগাযোগ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
– পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন : সংগঠনের ভিতরে বিভিন্ন ব্যক্তি বা পক্ষের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে যোগাযোগ একান্ত অপরিহার্য।
– দক্ষতা ও মনোবল উন্নয়ন : জনশক্তির দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও যোগাযোগ একান্ত অপরিহার্য।
– কার্য সন্তুষ্টি : সংগঠনের জনশক্তির কার্য সন্তুষ্টি বিধানেও যোগাযোগ অপরিহার্য।
– সফল নেতৃত্ব সৃষ্টি : সফল নেতৃত্ব সৃষ্টিতেও যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
– গুজব নিরসন : গুজব অনেক সময় সংগঠনের বিভ্রান্তি, তথ্য বিকৃতি, ভুল বোঝাবুঝি এবং অসন্তোষ ছড়ায়। ফলে দায়িত্বশীল ও কর্মীদের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়। সেরূপ অবস্থায় সুষ্ঠু যোগাযোগ এরূপ অনভিপ্রেত অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করে।

যোগাযোগের বিভিন্ন ধরন বা প্যাটার্ন
যোগাযোগের যে তথ্য বা ভাব বহন করে তা মৌখিক বা অন্য কোনো উপায়ে গ্রাহকের নিকট পৌঁছে।
(ক) তথ্য প্রবাহের ভিত্তিতে যোগাযোগকে আমরা নি¤েœাক্ত চার ভাগে ভাগ করতে পারি:
– নিম্নগামী যোগাযোগ : এ ধরনের যোগাযোগ সংগঠনের উচ্চপর্যায় বা স্তর থেকে ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন মধ্যবর্তী পর্যায় অতিক্রম করে সংগঠনের নিম্নতম পর্যায়ে পৌঁছে।
– ঊর্ধ্বগামী যোগাযোগ : সাধারণত গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে ঊর্ধ্বগামী যোগাযোগ সংঘটিত হয়। এ ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের অধীনস্থদের কাছ থেকে তাদের সম্পাদিত কাজ ও বক্তব্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হয় বলে এরূপ যোগাযোগকে ফলবর্তন যোগাযোগ নামেও অভিহিত করা হয়।
– সমান্তরাল যোগাযোগ : বিভিন্ন বিভাগের একই মর্যাদাসম্পন্ন লোকজনের মধ্যে সংঘটিত যোগাযোগ হলো সমান্তরাল যোগাযোগ।
– কৌণিক যোগাযোগ : কৌণিক যোগাযোগ মানে সবার সাথে যোগাযোগ, উদাহরণস্বরূপ নির্বাহী কমিটির সাথে কার্যকরী কমিটিসহ অধস্তন সহ-কার্যকরী কমিটির সাথে সংঘটিত যোগাযোগই হলো কৌণিক যোগাযোগ।

(খ) সাংগঠনিক পরিবেশভিত্তিক যোগাযোগ-
সাংগঠনিক পরিবেশের ভিত্তিতে যোগাযোগ নি¤েœাক্ত দুই ধরনের হয়ে থাকে-
– অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ : সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সংঘটিত যোগাযোগ হলো অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ।
– বাহ্যিক যোগাযোগ : সংগঠনের বাহ্যিক পরিবেশে অবস্থানরত বিভিন্ন পক্ষের সাথে বিভিন্ন প্রয়োজনে যোগাযোগ রাখতে হয়।

(গ) অনুষ্ঠানকভিত্তিক যোগাযোগ-
প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নিয়ম কানুন ও চ্যানেল ভিত্তিতে যোগাযোগ নি¤েœাক্ত দু’ভাগে হয়ে থাকে-
ষ আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ: সংগঠনের নিয়ম-কানুন ও নীতির ভিত্তিতে এবং প্রতিষ্ঠিত চ্যানেলের মাধ্যমে যেসব যোগাযোগ সংঘটিত হয় সেসকল যোগাযোগকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বলে।
ষ অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ : সংগঠনের অভ্যন্তরস্থ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের বাইরে বা পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই চলতে ফিরতে যেসব যোগাযোগ সংঘটিত হয় তাকে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বলে।

(ঘ) কার্যভিত্তিক যোগাযোগ : প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগে কার্যাদি সম্পাদন করতে গিয়ে যে যোগাযোগ করার প্রয়োজন পড়ে তাকে কার্যভিত্তিক যোগাযোগ বলে। এরূপ যোগাযোগ নি¤েœাক্ত ধরনের-
– সাংগঠনিক যোগাযোগ : সাংগঠনিক বিভিন্ন প্রয়োজনে সংঘটিত যোগাযোগ হলো সাংগঠনিক যোগাযোগ।
– নৈমিত্তিক বা রুটিন যোগাযোগ : দৈনন্দিন কার‌্যাবলি পরিচালনাকালে তথ্যাদির যেসব বিনিময় হয় তা নৈমিত্তিক বা রুটিন যোগাযোগ নামে পরিচিত।
– বিশেষায়িত বিভাগীয় যোগাযোগ : বিভিন্ন বিভাগ কোনো বিশেষ বিভাগ কর্তৃক যোগাযোগ বিশেষায়িত নামে অভিহিত।
– উন্নয়নমূলক যোগাযোগ : সংগঠনের সুনাম প্রতিষ্ঠা ও গণসংযোগ রক্ষা এবং এর উন্নতিকল্পে যেসব আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ সংঘটিত হয় সেগুলো উন্নয়নমূলক যোগাযোগ নামে পরিচিত।

যোগাযোগ স্থাপনের পন্থা
যোগাযোগ স্থাপনের যত কারণ থাকবে পথও তত হবে।
– অভ্যন্তরীণ শক্তি থেকে বলিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে। জনশক্তির উপর কর্তৃত্ব করার চেষ্টা না করা।
– সময়ের অভাব, এ অজুহাত ত্যাগ করে আপনার কর্ম সম্পর্কিত জামায়াত বা ক্যাম্পের সকলের সাথে যোগাযোগ করবেন।
– প্রতিটি ছুটি বা বিরতির সময় নতুন নতুন লোকের সাথে কথা বলুন। অন্যের সাথে খানা খান। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে সকলের সাথে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পারবেন।
– সভায় যারা দেরিতে আসে তাদের জন্য অপেক্ষা করবেন না। যদি তা করেন, তা হলে আপনি যারা দেরিতে আসছে তাদেরকে ঠিক আছে বলে স্বীকৃতি দিচ্ছেন এবং যারা নিয়মানুবর্তী তাদেরকে শাস্তি দিচ্ছেন।
– সঠিকভাবে কথা বুঝা এবং অন্যকে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সঠিক শব্দস্বর (paraphrase) করতে পারেন।
– মনে রাখবেন, আমরা যত বুঝতে পারব, তত সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারব;
– নির্দেশ বা তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে যতটুকু বলা প্রয়োজন ততটুকুই প্রদান করতে হবে
– কর্মীর আগ্রহের বিষয়টিকে বিবেচনায় আনতে হবে
– প্রশ্নের মাধ্যমে বুঝাতে হবে যা বলা হয়েছে তা কর্মী সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে কি না
– প্রথমেই বেশি যুক্তি তর্কের অবতারণা না করে বিষয়টি ভালোভাবে শুনতে হবে
– বক্তাকে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে
– আপনি যার সাথে যোগাযোগ করছেন তিনি আপনাকে কি বলতে চান বা তিনি আপনার থেকে কি চাচ্ছেন সেটা আগে ভালোভাবে শুনে নিতে হবে। তারপর সহজভাবে তাকে বোঝাতে হবে।
– অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট তথ্য প্রদান করা প্রতিনিয়ত বিরত থাকতে হবে, সর্বদা প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করতে হবে।
– যোগাযোগের সময় ভদ্রতা, নমনীয়তা, শিষ্টাচার ইত্যাদি বজায় রাখতে হবে।
– সংক্ষেপে এবং পরিষ্কারভাবে বিষয়বস্তু তুলে ধরার চেষ্টা করতে হবে।
যোগাযোগ ও বিনিময়কালে কথাবার্তার আদব ও ব্যবহার
– সব সময় হাসি-খুশি থাকবেন, ভ্রুকুটি করা বা গোমড়া মুখে থাকা এড়িয়ে চলবেন।
– সব সময় নরম ও কোমলভাবে কথা বলবেন, স্বর উঁচু করবেন না।
– নরম ভাবে হাসবেন, বজ্রাঘাতের মত নয়।
– যার সাথে কথা বলছেন, তিনি দাঁড়িয়ে থাকলে আপনিও দাঁড়িয়ে যাবেন ও দাঁড়িয়ে থাকবেন; অন্যথায় তাকে বসতে বলুন, তিনি বসলে আপনিও বসবেন।
– “আসসালামু আলাইকুম” বলে তাকে প্রথমে সম্বোধন করুন।
– “ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহ্মাতুল্লাহি” বলে পূর্ণভাবে সালামের জবাব দিন। আনন্দিত, খুশি, বা আকর্ষণীয় এবং অভিভূত সুরে জবাব দিন।
– জনসমক্ষে হাই তোলবেন না, যদি তা এসে যায় তবে তা ন¤্রভাবে দমনের চেষ্টা করুন বাঁ হাত দিয়ে মুখে আড়াল সৃষ্টি করুন। হাই তোলার পর এ দোয়া পড়–ন : “লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ।”
– সব সময় সোজাভাবে থাকুন। একলা না হলে ধপ করে পড়ে বা বসে যাবেন না বা কাত হবেন না।
– আপনাকে যা বলা হয় তার প্রতি পূর্ণ দৃষ্টি ও খেয়াল দিবেন।
– কথা বলার সময় বা কথা শোনার সময় যিনি কথা বলছেন বা যার প্রতি কথা বলছেন তার মুখের বা অবয়বের ওপর নজর দিন।
– কেউ যদি হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়ে তা হলে সাথে সাথে ‘ইয়ার হামুকল্লাহ” বলে দ্রুত জবাব দিন।
– নিজের সম্পর্কে অন্যকে যথাসম্ভব সবচেয়ে কম কথা বলুন। পূর্ণ হলেও অন্যের অপবাদ বা দুর্নাম বলা এড়িয়ে চলুন।
– আলাপচারিতাকালে সর্বাবস্থায় আলাপকারীর ওপর আল্লাহর রহমত কামনা করুন।
– নেতৃত্বের দায়িত্বের মধ্যে ৩টি ভূমিকা (The Roles Communication in Leadership)
– যোগাযোগের ক্ষেত্রে দূরদৃষ্টি থাকাটা জরুরি
– মানুষের প্রয়োজনের কথাগুলো উচ্চস্বরে বলতে হবে
– যোগাযোগের ক্ষেত্রে আবেগকে প্রকাশ করতে হবে

যোগাযোগের দক্ষতার ৭টি সিএস
আপনি দিনের কতটা সময় বা কতবার অন্যদের সাথে যোগাযোগ করেন তা নির্ধারণ করুন। আমরা চাইলে সারাদিনই যোগাযোগ করতে পারি। তবে অহেতুক কাজ করে লাভ নেই। আমাদের বুঝতে হবে কিভাবে কাজ করলে আমরা বেশি লাভ হাসিল করতে পারবো। কোন পদ্ধতিতে যোগাযোগ রক্ষা করলে আমরা বেশি কার্যক্ষমভাবে কাজ করতে পারবো সেটাও নির্ধারণ করা জরুরি। এই কারণে যোগাযোগের ৭টি সিএস সহায়ক। অধ্যাপক স্কট এম. কাটলিপ এবং এ্যালেন এইচ. সেন্টার ১৯৫২ সালে এই সেভেন সি এর কথা উল্লেখ করেন।
– Clear বা স্বচ্ছতা
– Concise বা সংক্ষিপ্ততা
– Concrete বা সুবিন্যস্ত
– Correct বা সঠিক
– Coherent বা সামঞ্জস্যপূর্ণ
– Complete বা সম্পূর্ণ
– Courteous বা সৌহার্দ্যপূর্ণ।

নেতৃত্ব যোগাযোগ কৌশল
আপনি একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা জানার পর আপনার যোগাযোগ কৌশল পরিকল্পনা করতে পারেন। যোগাযোগ কর্মকৌশলটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। দায়িত্বশীলকে অবশ্যই জনশক্তিকে বার্তা দিতে হবে যে সংগঠন এখন কোন কৌশলে এগুচ্ছে, কিভাবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে এবং সেজন্য জনশক্তিকে কী করতে হবে। যোগাযোগ কর্মকৌশলটা এমনভাবে প্রণয়ন করা হবে যাতে-
– নেতা ও জনশক্তির মাঝে বিশ্বাস ও আস্থার বন্ধন সৃষ্টি হয়।
– সাংগঠনিক লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করা।
– সংগঠনের নেতা থেকে জনশক্তি আবার জনশক্তি থেকে নেতা, ওপর থেকে নিচ বা নিচ থেকে ওপরে দুই স্তরের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা।
– সংগঠন যা হাসিল করতে চেয়েছিল তার কতটা হলো সেটা ক্রমাগত মূল্যায়ন করতে হবে এবং নানা কৌশল অবলম্বন করে মূল লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালাতে হবে।

ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপায়
ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নি¤েœর বিষয়গুলোর উপর খেয়াল রাখতে হয়:
– সার্বিক বিষয় আয়ত্ত করা
– সার্বিক পরিবেশের উপর খেয়াল দেয়া উচিত
– উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ
– কাক্সিক্ষত বা নির্ধারিত বিষয়ে প্রশ্ন সাজানো
– প্রশ্নের ধারাবাহিকতা রক্ষা
– যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে, যাতে তথ্যদাতার মনে কোনোরূপ ভয় বা চিন্তা উদয় না হয়।
– মনোযোগী শ্রোতা হন:
– ধনাত্মক মনোভাব পোষণ করুন:
– ভুল স্বীকার করুন:
– শারীরিক অঙ্গ-ভঙ্গির দিকে খেয়াল করুন:
– বেশি বেশি অনুশীলন করা: ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, চৎধপঃরপব সধশবং ধ সধহ ঢ়বৎভবপঃ।

যোগাযোগবিদ রজার্স একটা আনুমানিক হিসেব দিয়েছেন। কোন নতুন প্রসঙ্গ জনসাধারণের সামনে আনলে ২.৫% মানুষ শুরুতেই তাতে সাড়া দেয়। এরপর ১৩.৫% সাড়া দেয়। তারপর ৩৪% মানুষ আগ্রহী হয়। এভাবে শতকরা হার বাড়তে থাকে। অর্থাৎ পরের দিকে যারা সাড়া দেয় তাদের ক্ষেত্রে বারবার বলতে হয়। কুরআনের অন্য একটি নাম জিকর। বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিক সফলতা আসে খুব অল্প কয়জন ভাগ্যবান মানুষের ক্ষেত্রেই, কিন্তু অধিকাংশ মানুষকেই অনেক চড়াই উতরাই পার হয়েই সফলতার মনজিলে পৌঁছাতে হয়। – হার্ভে পেনিক।

সর্বশেষ
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যোগাযোগের দক্ষতা সবারই অতি প্রয়োজন। আমাদের সবারই কমবেশি এই দক্ষতা আছে। কিন্তু যে ব্যক্তি যতবেশি এই দক্ষতাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবে তিনি ততই সফলতার সাথে কাজ করতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে যোগাযোগের দক্ষতার মাধ্যমে জনশক্তির সাথে সম্পর্কের উন্নয়নের তৌফিক দান করুণ। আমিন।
লেখক : কলামিস্ট ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply