সম্পাদকীয়-২০১৮ নভেম্বর

জনবিচ্ছিন্ন বিটপীকুঞ্জে শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি স্তব্ধ হয়ে গেলে ঘুমিয়ে পড়ে ডাহুক, তবু ঝিঁঝিপোকা ডেকে যায় ক্ষণে ক্ষণে। উত্তাল সমুদ্রে টলটলায়মান ঊর্মিমালার গগনবিদারী হুঙ্কার নিমিষেই নিঃশব্দ হয়ে গেলে ঝিমিয়ে পড়ে স্পন্দন, শুধু বয়ে যায় স্রোত। অ্যান্টার্কটিকার কোলাহলমুখর পেঙ্গুইনগুলো আনন্দ স্নান শেষে চুপি চুপি ঘুমিয়ে গেলে তাদের নিয়ে কেউ ভাবে না, ভাবেন শুধুই দায়িত্বশীল সাহিত্যিক। জাতিকে স্বপ্নের প্রেরণা দিতে তারা নিরলস, অদম্য।
জিহাদের এই কাফেলা বন্ধু /চিরদিন জেগে থাকবে,
সত্যের পথে মুক্তির পথে /তোমাকে আমাকে ডাকবে।

হতাশার মেঘে ঢাকা ঐ সীমাহীন আকাশটা যখন নীলের আলো হারিয়ে ফেলে, তেজোদীপ্ত সূর্যশিখা আটকে পড়ে ধোয়ার সুতোয়। ক্ষত-বিক্ষত জর্জরিত বীভৎস মাজলুমের আর্তনাদ আজাজিলের প্রাচীর ডিঙিয়ে আসতে পারে না সবসময়, মাঝে মাঝে আসে। তাদের প্রতিবাদী রক্তকণাগুলো ছুটে চলে আগুনের মতো, অস্ফুট বাক্যবিলাপ অনুরণিত হয়ে কলমের ধারায় উথলে ওঠে প্রেরণা।
সত্যের, মুক্তির, আদর্শের, শান্তি ও শৃঙ্খলার একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথের নাম ইসলাম। ইসলামের সুমহান কাণ্ডারি হজরত মুহাম্মদ সা.-এর আগমন ও ওফাত আরবি রবিউল আউয়াল মাস তথা এ মাসেই। মানবতার কল্যাণে সমস্ত দিক ও বিভাগে তিনি জাতিকে পথ বাতলে দিয়েছেন। প্রেরণা নভেম্বর সংখ্যায় থাকছে সেই প্রিয় রাসূলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর আলোচনা পর্যালোচনা।
ওঠো দুনিয়ার গরীব ভুখারে জাগিয়ে দাও/ধনিকের দ্বারে ত্রাসের কাঁপন লাগিয়ে দাও
কারো ঈমানের আগুনে তপ্ত গোলামী খুন/বাজের সমুখে চটকের ভয় ভাঙিয়ে দাও
ঐ দেখ আসে দুর্গত দ্বীন-দুখীর রাজ!/পাপের চিহ্ন মুছে দাও, ধরা রাঙিয়ে দাও।
(কবি ফররুখ আহমদ)

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এখন চরম হুমকির মুখে। সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের জন্য বারবার হোঁচট খায় দেশের মানুষ। সত্যকথা প্রকাশ ও ন্যায্য দাবি চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ছাত্ররা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষা না নিয়ে উল্টো পৈশাচিক নির্যাতন করার সংবাদকেও গুজবের মামলায় বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার বানায় ভুসিখোর প্রশাসন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জাতীয় একাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন দল। বিরোধী দলকে মোকাবেলার জন্য সব ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলছে সরকার। এ যেন তালগাছের একক দাবিদার জুলুমবাজ। তবে নানা গুঞ্জনের মধ্যেও সজাগ দৃষ্টিতে কাজ করছে ছাত্রসমাজ।
তোমরা ভয় দেখিয়ে করছো শাসন/ জয় দেখিয়ে নয়
সেই ভয়ের টুঁটি ধরবো চেপে/ করবো তারে লয়।
(কাজী নজরুল ইসলাম)

বাংলার ইতিহাস বারবার কলঙ্কিত হয়েছে। যার অগ্নিঝরা বক্তব্য শুনে এ দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে, রক্ত-ঘাম-খুন ঢেলে দিয়ে আনলো বিজয়, তিনি আবার নিজের পরিবারের সুবিধার জন্য জাতিকে জিম্মি করে বাকশাল কায়েম করেন। যে জাতি তার নিজের জীবন-ইজ্জত-আবরু বিলিয়ে দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করলো সে জাতি কখনও এরকম বেঈমানী মেনে নিতে পারে না। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির জন্য প্রত্যাশা ছিল আরো একটি বিপ্লব। আর সেই প্রত্যাশার দাবি থেকে আমরা পাই ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।
বিশ্বের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত মার খেয়ে যাচ্ছে ইসলামের অনুসারীগণ। আজ চীন, কাশ্মির, আরাকান যেন জীবন্ত হাবিয়ার প্রতিচ্ছবি। জাতিসংঘ, ওআইসি আর অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের জন্য কিছুই করছে না। এইভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। মুসলিম জনগোষ্ঠী জাগতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে ইসলামী গণতন্ত্রের প্রতি লোকজনের জনসমর্থন বাড়ছে। এসব বিষয়ে গবেষকগণের পর্যাপ্ত লেখা এসেছে।
আমাদের সবাইকে আরো ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পরিমণ্ডলে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে এবং সকল বাতিল মতবাদের ওপর ইসলামী মতবাদ ও ইসলামী ঐক্যবোধ তথা ইসলামী গণতন্ত্রের আদর্শ বেশি বেশি প্রচার করতে হবে। এবারের প্রেরণায় যে সকল লেখক, কলামিস্ট, সাংবাদিক, কবি, গবেষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। প্রেরণার সকল সদস্য, সম্পাদক যারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে নভেম্বর ২০১৮ সংখ্যাকে আলোর মুখ দেখিয়েছে তাদের জন্য মহান রবের কাছে উত্তম জাজা কামনা করছি। আমাদের শত চেষ্টার পরেও মুদ্রণজনিত কোনো ত্রুটি থেকে যেতে পারে। তাই আপনাদের দৃষ্টিগোচর হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি। বড় কোনো ভুল হলে আমাদের জানাবেন যেন আমরা পরবর্তীতে আরো সচেতন হতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর দ্বীনের পথে কবুল করুন। ওয়া আখিরি দা’ওয়ানা আনিলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। ওয়াস সলাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিহিল কারিম।

SHARE

Leave a Reply