সম্পাদকীয়

দেখতে দেখতে কেটে গেলো একচল্লিশটি বছর। আমাদের পথ চলার প্রতিটি মুহূর্ত যেমন আনন্দের তেমন বেদনারও বটে। কঠিন এক ক্রান্তিকালে জাতির প্রয়োজনে, অনিবার্য আবেদনে এই মিছিলটির যাত্রা। পথহারা ছাত্রসমাজের আলোকবর্তিকায় যখন প্রশংসামুখর ঠিক তখনি একদল নপুংসক চরম বিরোধিতায় মেতে ওঠে। আজ অবধি সেই ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে আছে। তবে আমরা কিন্তু থেমে যাইনি। এতো সব ষড়যন্ত্রকে মাড়িয়ে চলার পথে সাহস জুগিয়েছেন একদল আল্লাহপ্রেমিক তৌহিদী জনতা। যারা কেবল দুনিয়ার মোহাবিষ্ট না হয়ে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ের স্বপ্ন বুকে এঁকে এখনও দৃঢ়তার সাথে মিছিলের সামনে পতাকাবাহী। আবার কেউ কেউ ‘আল কুরআনের আহবানে, দ্বীন কায়েমের প্রয়োজনে’ আল্লাহর রাহে হাসিমুখে জীবন বিলিয়ে গেছেন। শত জুলুম-নির্যাতন, বাধা-বিপত্তি, বন্ধুর পথ অতিক্রম করে আমাদের কাফেলা এগিয়ে চলেছে বিজয়ের লক্ষ্যে দুর্বার গতিতে। নতুন বছরে নতুন স্বপ্নে আবারো জেগে উঠি। আর আমাদের উদ্বেলিত কণ্ঠে ধ্বনিত হোকÑ সত্যের সেনানীরা নেবে নাকো বিশ্রাম/আমাদের সংগ্রাম চলবেই অবিরাম।

২.
ফেব্রুয়ারি মাস। ভাষার মাস। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে এ মাসজুড়ে চলে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম। বিভিন্ন পত্রিকা বের করে বিশেষ ক্রোড়পত্র। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ মাস চলে গেলে বাংলাভাষার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ শিকেয় ওঠে। আমরা আজও অনেক ভাষাসৈনিককে মূল্যায়ন করতে পারিনি; পারিনি ভাষা সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে। এ ব্যর্থতা আমাদের রাষ্ট্রের। আমাদের সকলের।

৩.
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ বছরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আসলেই কি সকল দলের অংশগ্রহণমূলক স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার এগোচ্ছে নাকি সরকারের অ্যাসাইনমেন্ট বাস্তবায়নের কাজে আবারো একটি একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটছে সেটা এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়ে গেছে। একতরফা কোনো কিছুই সুফল বয়ে আনে না। একটি দেশের গণতন্ত্রকেও সমৃদ্ধ করতে হলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আবশ্যকীয়। একটি নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব সকল দলকে নিয়ে স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি ও প্রস্তুতি গ্রহণ। কিন্তু আমরা দেখছি তাঁর উল্টোটা। তিনি নিজেও একজন দলীয় মুখপাত্রের ভূমিকায়। কে নির্বাচনে যোগ্য কিংবা অযোগ্য সেটার জন্য একটা নীতিমালা আছে। তবে তিনি সকল নীতিমালাকে উপেক্ষা করে হরহামেশা বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক ও অনাকাক্সিক্ষত মন্তব্য করার মাধ্যমে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন এদেশের জনগণকে আশাহত করেছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার এমন ধৃষ্টতা যেন আর দেখতে না হয়।

SHARE

Leave a Reply