সম্পাদকীয়

গত ৯ মে মালয়েশিয়ার ১৪তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জনতার রায়ে আবারো বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন মালয়েশিয়ার কিংবদন্তি নেতা ডা: মাহাথির মোহাম্মদ। ১৯৮৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ডা: মাহাথির মোহাম্মদ। একটানা ২২ বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব! অতঃপর ইতিহাস গড়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন ২০০৩ সালে। পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসেন বারিসান ন্যাশনাল পার্টির নেতা নাজিব রাজাক। তাঁর শাসনামলে দুর্নীতি ও দুঃশাসনে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। উন্নয়নশীল মালয়েশিয়ার সকল কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেয়। বিরোধী জোটের নেতাদেরকে নানা ধরনের নির্যাতন করে একক আধিপত্য বিস্তারের নেশায় মেতে ওঠে। এই জুলুম নির্যাতনের চিত্র দেখে মর্মাহত হন মাহাথির মোহাম্মদ। এক সময়ে রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তে আনোয়ার ইব্রাহিমকে জেল খাটানোর ব্যাপারেও তিনি অনুতপ্ত হন। বারিসান ন্যাশনাল পার্টি থেকে পদত্যাগ করে আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে পাকাতান হারাপান জোটে যোগ দেন। আর এই জোটটি এখন মালয়েশিয়ার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। মালয়েশিয়ার নির্বাচন প্রমাণ করে জুলুম নির্যাতন করে ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়ী আসন দখল করে রাখা সম্ভব নয়। আর স্বৈরাশাসকদের অধঃপতনের করুণ দৃশ্যটি কেমন হয় সে বিষয়টি দেখল সারাশ্ব্বে। এখন সবার চোখ মালয়েশিয়ার দিকে। এতো বড় একটি নির্বাচনে কোথাও ভোট কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্রদখল, বিরোধীজোটের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার কোনো দৃশ্য দেখতে হয়নি। কোথাও কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। মালয়েশিয়ার রাজনীতি থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। মালয়েশিয়ার এই নির্বাচন বিশ্ব রাজনীতিতে একটি পরিবর্তনের মোড় ঘুরিয়ে দিবে বলে মনে করেন বিজ্ঞজনেরা। অচিরেই হয়তো সেই আলোর রশ্মি ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে সে প্রত্যাশা করতেই পারি। মালয়েশিয়ার নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের এই বিজয় বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক। আমাদের বিশ্বাস এই বিজয় মুসলিম উম্মাহকে নতুন বিপ্লবের সূচনায় আশান্বিত করবে।

২.
যত দিন না কায়েম হবে
খোদার ধরায় তারই দীন
কিসের আবার ঈদের খুশি
এই অনুষ্ঠান অর্থহীন।
– কাজী নজরুল ইসলাম

সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে ঈদের আগমন। মহাসমারোহে চারিদিকে ঈদের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ততার যেন অন্ত নেই। কেনাকাটা, সাজগোজ আরো কত কী! পত্রিকাগুলোর রয়েছে বিশেষ ঈদ আয়োজন ‘ঈদসংখ্যা’। আমরা ঈদ উৎসব পালন করছি। কিন্তু ঈদ কাদের জন্য, কিসের ঈদ একটুও কি ভেবে দেখেছি? সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেকে কতটুকু শুদ্ধতার রঙে রঙিন করতে পেরেছি সে প্রশ্নটি সামনে এসে হাজির। আজ সারশ্ব্ব্বে মাজলুমানের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। কোথাও যেন নেই মানবাধিকার; মুসলমানদের বেঁচে থাকার অধিকার। ঈদ ধনী-গরিব, আমির-ফকিরের ব্যবধানকে ধূলিসাৎ করে পরস্পর সেতুবন্ধনে মহাসম্মিলনের যে আহবান জানায় তা সমাজজীবনে বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি হবে তখনই যখন একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম হবে। সার্থক হবে আমাদের ঈদ আয়োজন, ঈদ উৎসব। আসুন সেই কাক্সিক্ষত ঈদের জন্য নতুন করে শপথ নিই।

SHARE

Leave a Reply