সম্পাদকীয়

জন্মের পর মায়ের কোল থেকেই বাংলাভাষায় কথা বলা বাঙালি আমরা। এই ভাষাতে এদেশের কৃষক-মজুর, তাঁতি-জেলে, কামার-কুমার, ছোট-বড় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ভাবের আদান প্রদান করে থাকে। ভাবুক হৃদয়ের কবি সাহিত্যিক লৌকিক জগৎ থেকে অলৌকিক জগতে ডুব দিয়ে ছন্দ তুলে কবিতায়; গল্পে। শিল্পীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে গেয়ে যায় হৃদয়কাড়া গান। ছোটরা কথা বলতে শিখে ধীরে ধীরে। এ ভাষা ছাত্র-শিক্ষক, বৃদ্ধ-বনিতা সবারই যেন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সবাই অন্তরে লালন করি মাতৃভাষার শ্রদ্ধা। দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসামের বরাক উপত্যকা এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বসবাসকারী স্থানীয় লোকজনের ব্যবহৃত ভাষার নাম বাংলা। ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার রয়েছে আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস। এই ইতিহাস থেকে প্রেরণায় উদ্ভাসিত হয়ে পাকিস্তানের শোষণমুক্ত হয় বাংলাদেশ।

পৃথিবীর দিকে দিকে চলছে মুসলমানদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার। চীনের উইঘুরিস্তান, ভারতের কাশ্মির, মিয়ানমারের আরাকান, সিরিয়া, ফিলিস্তিনে চলছে বর্বরতার চরম অধ্যায়। জিংজিয়াং-এ মুসলমানদের ওপর কমিউনিস্ট চীনের; ভারতের কাশ্মিীর হিন্দুদের; আরাকানে মগ সেনা ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের দমন-পীড়নের এসব অভিযোগ বেশ পুরনো। কিন্তু জাতিসংঘ ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শুধু উদ্বেগই প্রকাশ করে যাচ্ছে বারবার। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নিতে কখনোই দেখা যায়নি তাদের। মুসলিমদের বিশ্বস্ত সংস্থা ‘ওআইসি’কেও কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি ফিলিস্তিন-সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। দেখা যায়নি নতুন করে সৃষ্টি হওয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোনো সমাধানমূলক পন্থা গ্রহণ করতেও। এত কিছুর পরেও কাশ্মির, উইঘুর, ফিলিস্তিনের মুসলমানেরা স্বপ্ন দেখে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের। আশায় বুক বাঁধে তাদের হারানো স্বাধিকার আবারও ফিরে পাবে বলে। যেখানে তারা নিজেদের ধর্ম ও জীবনাচার নিজেদের স্বাধীন মতো পালন করতে পারবে। সেই সোনালি দিনের প্রত্যাশায় নির্যাতিত মুসলমানরা লক্ষ্য ও সংগ্রামে অবিচল; আপসহীন। ওদের কণ্ঠে যেন ধ্বনিত হচ্ছে-

‘আমাকে যখন কেউ প্রশ্ন করে
কেন বেছে নিলে এই পথ?
কেন ডেকে নিলে এ বিপদ?
জবাবে তখন বলি মৃদু হেসে যাই চলি
বুকে মোর আছে হিম্মত!
বাতাসের সাথে স্রোত বিরোধিতা করে বলে
বুকে উঠে ঢেউ সাগরের….
সাগরের বুকে ঢেউ আছে বলে বন্ধু
ভাঙ্গে গড়ে পৃথিবী মোদের!’
(মতিউর রহমান মল্লিক)

সামনে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা। এ দেশের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবকের হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর দিনরাত সাধনার পর একটু যেন আশার স্ফুরণ। অনেকেই অনেকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে এজন্য। পরীক্ষায় ভাল করার জন্য দিনরাত বই পড়াসহ যাবতীয় রুটিন মেনে চলছে সবাই। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা, এ পেশার মাধ্যমে একজন শিক্ষক তার ওপর অর্পিত সামাজিক, মানবিক ও নৈতিক দায়িত্বগুলো অত্যন্ত সুচারুরূপে পালন করতে পারেন। একজন শিক্ষকই অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করতে পারেন। ইংরেজ আমলের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়; পাশ্চাত্য ভাবধারার একটি জাতিগঠনের জন্য যা যা করতে হয় তার সবই অত্যন্ত সুকৌশলে করা হয়েছে। মুসলমানদের ঈমানী চেতনার ইতিহাস থেকে যদি আমরা শিক্ষা না নেই তবে পরাধীনতার শৃঙ্খলে চিরদিন ঝুলতে হবে আমাদের। একদিন হয়তো আমরা ভুলে যাব আমাদের শিকড়ের অস্তিত্ব। এই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা খুব জরুরি। আমাদের প্রয়োজনেই যারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক মেধা, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নিয়মতান্ত্রিক পরিশ্রম, দূরদর্শিতা এবং কাজের প্রতি একাগ্রতা প্রদর্শন করতে পারবে। তাদের হাত ধরে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির পথে। ‘একটি দেশে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার থাকতে পারে; কিন্তু প্রশিক্ষিত কোনো বেকার থাকে না।’ প্রশিক্ষিত জনশক্তি কোনো না কোনো কাজে নিয়োজিত থাকে। এ জন্য জাতিকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরির চিন্তা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আমাদের অপরিহার্য দায়িত্ব।

SHARE

Leave a Reply