সম্পাদকীয়

ডিসেম্বর মানে বাংলাদেশ নামক এই ছোট্ট মানচিত্রটির জন্মের মাস। ২৫ মার্চের ভয়াল কালো রাতের পর শুরু হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। মরণপণ এই সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল গাঁয়ের কৃষক, নৌকার মাঝি, শ্রমিক, কুলি, মজুর, স্কুল-কলেজের ছাত্র, পাড়ার যুবক, বাজারের ব্যবসায়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্তরের মুক্তিপাগল মানুষ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের আলো দেখতে পায় এই ভূখণ্ড।

আজ বিজয়ের ৪৮ বছর তথা চার যুগ পার হতে চলেছে। কিন্তু জনতার চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মিলছে না এখনো। সেই কঠিন দুর্দিন তথা ’৭১-এর যুদ্ধে এদেশের জনতা ছিল এক ও অভিন্ন। এখন আমাদের মাঝে দানা বেঁধেছে অনৈক্য ও ভিন্নতা। দলে, মতে, চিন্তায় শুধু বিভাজন আর বিভাজন। সরকারি-বেসরকারিতে বাম-রাম-সেক্যুলারে, ধর্ম-অধর্মে, মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধায় দ্বন্দ্ব ও সঙ্ঘাত। ভোটকেন্দ্র দখল, অগ্নিসংযোগ, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে তথা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় যাওয়া সরকার ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে জিম্মি এখন ১৬ কোটি জনগণ। ভিন্নমত তথা বিরোধী দল দমনের জন্য মিথ্যা মামলা, হামলা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য, জেল, জুলুম, বন্দুকযুদ্ধ, বিচারিক হত্যা যেন স্বাধীন বাংলাদেশের নিত্যসঙ্গী। এই চিত্র পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংসতা অরাজকতাকেও হার মানায়। বর্তমান সরকারের অতিমাত্রায় ভারত-প্রিয়তা ও ভারতের নিয়ন্ত্রণমুখিতা দেশকে ফেলেছে চরম হুমকির মুখে।

ভারতের মোদি সরকার কর্তৃক কাশ্মির জবরদখলের সাথে সাথে মুসলমানদের প্রিয় উপাসনালয় বাবরি মসজিদকে মন্দিরে পরিণত করার রায়ে হতবাক গোটা মুসলিমবিশ্ব। অথচ দীর্ঘ বারো শত বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিমরা ভারতবর্ষ শাসন করেছিল। তারা জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অধিকার সংরক্ষণ করেছিল। পরম মমতায় ভারতবর্ষকে গড়ে তুলেছেন ইতিহাসের সেরা একটি রাষ্ট্র হিসেবে। অথচ সেই জনপদে মুসলিমরা দফায় দফায় নির্যাতন ও হত্যার শিকার। ভারত সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে দাবি করে অথচ বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপি উগ্রহিন্দু জাতীয়তাবাদী দল। তাই ইসরাইল রাষ্ট্রের মতো তারাও মুসলিমদের দমনে অতি বাড়াবাড়ি করছে। তাদের এই আচরণ শুধু ভারতের জন্য নয়, বরং পৃথিবীর মুসলমানদের শান্তি, সংহতি ও নিরাপত্তার জন্যেও হুমকিস্বরূপ।

চেতনাব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি, স্বাধীনতার সবক শুনিয়ে ধর্ম মূলোৎপাটনের চক্রান্ত; কুরআন, সুন্নাহ, রাসূল সা.-এর প্রতি চরম বেয়াদবি গোটা পৃথিবীসহ বাংলাদেশের ইতিহাসকে করেছে কলঙ্কিত। এহেন এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইসলাম ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঐক্য। সকল বিভেদ মতানৈক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সোনালি পৃথিবী গঠনে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সবাইকে।

SHARE

Leave a Reply