সম্পাদকীয়

ইতিহাস গড়া হলো না হিলারি ক্লিনটনের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হওয়ার সৌভাগ্য জুটলো না তাঁর কপালে। ধূলিসাৎ হয়ে গেলো হিলারির স্বপ্ন। নির্বাচন-পূর্ব সকল জরিপে হিলারির এগিয়ে থাকা সকল পরিসংখ্যান যেনো ভুল প্রমাণিত হলো। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সকল আলোচনা-সমালোচনাকে ছাপিয়ে, সকল হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে তিনিই এখন আমেরিকার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের পর আমেরিকা জুড়ে মানুষের প্রতিবাদ বিশেষ করে ‘ডাম্প ট্রাম্প, নট মাই প্রেসিডেন্ট’- লেখা পোস্টার, ফেস্টুন ও শ্লোগানমুখরিত আওয়াজ প্রমাণ করে যে সে দেশের জনসংখ্যার বিরাট একটা অংশ আগামীর আমেরিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী ও মুসলিম-বিরোধী নানা বক্তব্যই এর কারণ। নারীকে নিয়ে রয়েছে তাঁর কুরুচিপূর্র্ণ মন্তব্য। যাহোক তিনিই এখন হোয়াইট হাউজের মালিক। তার পথচলায় থাকছে চ্যালেঞ্জের দীর্ঘ ফিরিস্তি। একদিকে আমেরিকার বিরাট একটি অংশের বিরোধিতা, অন্যদিকে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে টানাটানি। সব মিলিয়ে কণ্টকাকীর্ণ এক নতুন গলিপথে চলতে হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

দেখতে দেখতে কেটে গেলো বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটির ৪৪টি বছর, ৪৪টি বসন্ত। তবে সময়টা কিন্তু একেবারেই কম নয়। এখন হিসাব করার সময় এসেছে স্বাধীনতার আগে ও পরে আমাদের জীবনযাত্রা, আমাদের পথচলার সফলতা-ব্যর্থতার পরিসংখ্যান বের করা। বাংলাদেশের ইসলামী চেতনার কবি মতিউর রহমান মল্লিক তাইতো গেয়ে গেছেনÑ ‘এখনো মানুষ মরে পথের পরে/ এখনো আসেনি সুখ ঘরে ঘরে।’ শিল্পী হায়দার হোসেন আজ থেকে দেড় দশক আগে গেয়েছেন- ‘কী দেখার কথা কী দেখছি? কী শোনার কথা কী শুনছি?/কী ভাবার কথা কী ভাবছি? কী বলার কথা কী বলছি?/ তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।’ জনপ্রিয় এই শিল্পীর কণ্ঠের সাথে বাংলাদেশের মানুষ সুর মিলিয়ে আজো গেয়ে যাচ্ছে ৪৪ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।

ঠুনকো অজুহাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর চলছে নির্মম নির্যাতন। শান্তি আর স্বাধীনতার রক্ষাকবচ নামক মহারথীরা আজ নির্বিকার। সম্প্রতি মিয়ানমারের মুসলমানদের প্রতি দেশটির শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্বরতার সেই ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আরাকানের মুসলমানদের ছিল গৌরবময় একটি সোনালি ইতিহাস। অথচ আজ সাধারণ একজন নাগরিক হয়ে বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও তাদের নেই। দেশটির অধিকারহারা মানুষের আহাজারি আর লাশের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে আরাকানের আকিয়াব হয়ে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া আর ইন্দোনেশিয়ার সাগরছোঁয়া সবুজ গহিন বন পর্যন্ত। কিন্তু কেন আজ ওরা অধিকারহারা! কেন নিজের প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে ভাসছে সাগরের বুকে! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে অজানা-অচেনার পথে! বেঁচে থাকার স্বপ্নে ওরা মন্তব্য ও গন্তব্যহীনভাবে ছুটছে নিরন্তর! খুঁজছে নতুন পথ!

ফিলিস্তিন, মিয়ানমার, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তরে ইসলামপন্থীরা আজ নির্যাতিত, অপমানিত ও লাঞ্ছিত। ক্ষমতালিপ্সুরা তাদের বাসনা পূরণে প্রতিদিন নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষকে রিমান্ড, গুম, খুনের মাধ্যমে মসনদকে দীর্ঘ করার নেশায় মেতে উঠেছে। এ দিকে মজলুম মানুষের কান্না যেনো বিশ্ববিবেকের কানেই পৌঁছাচ্ছে না। সত্যি সেলুকাস! জাতিসঙ্ঘ, ওআইসি, মুসলিমবিশ্ব এবং বিশ্বের সকল মানবাধিকার সংগঠনগুলো যদি সোচ্চার হয়, সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হয় তাহলে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে; এগিয়ে যাবে আগামীর বিশ্ব।

SHARE