সম্পাদকীয়

আহলান সাহলান মাহে রমাদ্বন। আসছে রহমত-মাগফিরাত-নাজাতের মাস। মুক্তির বারতা নিয়ে পবিত্র কুরআন সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে সত্যের পথে; মুক্তির পথে। বিশ্বব্যাপি মুসলিম নির্যাতন ও করোনাভাইরাস আতঙ্ক যখন মহা বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন আমাদের ঝরাতে হবে অশ্রু; চাইতে হবে ক্ষমা; হতে হবে আল্লাহর প্রিয়তম। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতে চাইলে এবং সাফল্যের উচ্চ শিখরে উঠতে চাইলে তাহাজ্জুদ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ধরনা দিতে হবে। একা একা নিভৃতে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে চোখ দিয়ে পানি গড়াতে হবে যা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। আল্লাহ তায়ালা এই শ্রেণির বান্দাহকে জাহান্নামের শাস্তি দেন না; করেন না কঠিন কোন পরিস্থিতির মুখোমুখী। দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছেই সবকিছু চাইতে হবে।

বিশ্বব্যাপি এখন করোনা আতঙ্কে দিন কাটছে মানুষের। করোনা ভাইরাস রূপ নিয়েছে অপ্রতিরোধ্য মহামারীতে এখনো আবিষ্কৃত হয়নি কোন প্রতিষেধক। দিশেহারা বিশ্ববাসীর জন্য পথের দিশা হতে পারে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বানী। মহামারীর ক্ষেত্রে প্রিয়নবী (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যখন কোনো এলাকায় মহামারী ছড়িয়ে পড়ে তখন যদি তোমরা সেখানে থাকো তাহলে সেখান থেকে বের হবে না। আর যদি তোমরা বাইরে থাকো তাহলে তোমরা সেই আক্রান্ত এলাকায় যাবে না।’ (বুখারী ও মুসলিম)। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)কে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে রাসূল (সা.) তাঁকে বললেন, এটা আজাব; আল্লাহ তায়ালা যার প্রতি ইচ্ছা করেন তার জন্য এটি পাঠান। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা একে মু’মিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দেন। ফলে যে ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হবে এবং নিজ দেশে ধৈর্য সহকারে (নেকির নিয়তে) অবস্থান করবে, সে জানুক, তাঁকে তাই পাবে যা আল্লাহ তায়ালা তার জন্য লিখে দিয়েছেন, ফলে সেই ব্যক্তির জন্য শহীদের মত পুরস্কার রয়েছে।” (সহীহ বুখারী ও আহমাদ)

এপ্রিল মাস ঐতিহাসিক গ্রানাডা ট্র্যাজেডির মাস। মুসলিম উম্মাহর শোকের মাস এটি। ১৪৯২ সালের পহেলা এপ্রিল স্পেনের খ্রিস্টানরা সম্মিলিতভাবে ঘৃণ্যতম প্রতারণার মাধ্যমে রাজধানী গ্রানাডাতে অসংখ্য মুসলমান নারী-পুরুষকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে এবং পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিল। বিশ্ব খ্রিস্টান সম্প্রদায় তাদের রচিত প্রতারণাকে স্মরণ করে রাখতে ১৫০০ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই দিনকে ‘এপ্রিল ফুল’ হিসেবে হাসি, ঠাট্টা এবং মিথ্যা প্রেম দেয়া-নেয়ার দিন হিসেবে পালন করে থাকে। এ বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে মুসলমানদের উপর হামলা, বাড়িঘরে আগুন ও অসংখ্য মুসলমানকে হত্যা বিশ্ববিবেককে করেছে কলঙ্কিত। নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শুরু হয় ‘পাবলিক লিঞ্চিং’। বাস, ট্রেন বা রাস্তায় সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধরে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়। না বললে বেধরক মারপিট বা গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। মুসলমানদের উপর বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় নির্যাতন চালানোর কারণ হলো তাঁদের এক আল্লাহকে রব হিসেবে বিশ্বাস করা; ইসলামকে সত্য দ্বীন হিসেবে মেনে নেয়া; দুঃখ-কষ্ট, অভিযোগ সবকিছুই আল্লাহর জন্য বরদাস্ত করার মনমানসিকতাকে অত্যাচারের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা। এমতাবস্থায় আমাদের সাহস হারালে চলবে না। আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আস্থা ও অবিচল বিশ্বাসের সাথে পথ চলতে হবে।

SHARE

Leave a Reply