সম্পাদকীয়

মুসলিমরা আজ নিজেদের স্বকীয়তা ভুলে বিশে^ নিন্দিত, পরাজিত ও ঘৃণ্য জাতিতে পরিণত হয়েছে। এর মূল কারণ পবিত্র কুরআনকে সঠিকভাবে না বুঝা ও কুরআনকে কুরআনের দাবি অনুযায়ী না মানা। এই পবিত্র গ্রন্থের প্রথম যে শব্দটি মহানবী (সা.)-এর কাছে নাজিল হয় তা ‘ইকরা’ অর্থাৎ ‘পড়ো’। মুসলমানরা ঠিকই একসময় ‘ইকরা-র’ বাস্তবায়ন করে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। তখন মুসলমানরা বুঝতো বই মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পার্থিব সম্পদ সব নষ্ট হয়ে গেলেও বই থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান কখনও নিঃশেষ হয় না। তাই মুসলমানরা পবিত্র কুরআনের মর্মবাণীকে সাধারণ জ্ঞানের সাথে সমন্বয় করতে বিভিন্ন ধরনের বই পড়তো ও রচনা করতো। বই মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে মনের ভিতর আলো জ্বালাতে সাহায্য করে। ২০০৯ সালে টহরঃবফ শরহমফড়স-এর একটি বিশ^বিদ্যালয়ে গবেষকরা হার্ট রেট ও মাসেল টেনশন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখেন। তারা বলেন, কিছু কিছু কাজ আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। বই পড়ার মধ্য দিয়ে মানুষ এক মুহূর্তেই অজানা এক জগতে পৌঁছে যায়। এই অভ্যাস উবসবহঃরধ এবং অষুযবরসবৎ’ং নামে দুটি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ফলে মানুষের উদ্দীপনা ও উত্তেজনা থেকে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে।

ইসলাম মানবতার জন্য নিবেদিত ও উদারপন্থী এক ধর্ম। এই ধর্মের শুধু একটি শাখা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেই পরিপূর্ণতা আসে না। সামর্থ্য অনুযায়ী সব কয়টি শাখায়ই অংশ নিতে হয়। মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্যবোধ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা আছে এ ধর্মে। ইসলাম মানুষের খিদমতে ও সমাজের উপকারে ব্যক্তির সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসতে বলে। এতে অশান্তি ও অবজ্ঞা দূর হয়ে সমাজজীবনে নেমে আসে শান্তি। আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় মানবজাতি ধনী ও গরিব দুই শ্রেণিতে বিভক্ত। তিনি কিছু মানুষকে বিশেষ দয়ায় বেশি নিয়ামত দান করেছেন আর কিছু মানুষকে বিশেষ হিকমতের কারণে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছেন। ফলে কিছু মানুষ ধনী লোকের সম্পদের মুখাপেক্ষী হয়। এই ব্যবধান মূলত কারো প্রতি জুলুম নয়। এটি বান্দার জন্য আল্লাহ তায়ালার পরীক্ষা। তিনি কাউকে সম্পদের সুপরিমিত ব্যবহার করছে কি না সেই পরীক্ষা করেন আবার কাউকে ধৈর্য ও সন্তুষ্টির পরীক্ষা করেন। নিজের যোগ্যতা আর বুদ্ধি দিয়ে কেউ সম্পদশালী হতে পারে না। এজন্য সম্পদশালীদের মানবসেবায় এগিয়ে আসার ব্যাপারে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।

‘আয়াসোফিয়া’ পৃথিবীর আলোচিত ও ঐতিহাসিক একটি স্থাপনা। বাইজেন্টাইন সা¤্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে এটি নির্মিত হয়েছিল। মূলত খ্রিস্টানদের চার্জ ও বাইজেন্টাইনের রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো আয়াসোফিয়া। এটি হাজিয়া সোফিয়া নামেও পরিচিত। ১৪৫৩ সালে উসমানী সুলতান মেহমেদ ফাতিহ এই শহর বিজয় করে নাম রাখেন ইস্তাম্বুল। আয়াসোফিয়াকে তখন ওয়াকফ্ করে মসজিদে রূপান্তর করা হয়। প্রায় ৬০০ বছর মুসলমানরা এটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করে। সেক্যুলার স্বৈরশাসক কামাল আতাতুর্কের সময় আয়াসোফিয়াকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। তখন থেকে দেশের মুসলমানদের হৃদয়ের বাসনা ছিল এখানে আবার আজান ও নামাজ হবে। দীর্ঘদিনের এই আকুতি বর্তমান এরদোগান সরকারের প্রচেষ্টায় গত ১০ জুলাই ২০২০ তারিখ রোজ শুক্রবার তুরস্কের আদালতের রায়ের মাধ্যমে পূরণ হয়। হ

SHARE

Leave a Reply