সম্পাদকীয়

২০২১ ঈসায়ী সালের শুভেচ্ছা। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর পার করলাম আমরা। বিজয়ের সুখ কতটা উপভোগ হয়েছে তা দেশের নানা পেশার মানুষ নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে পারবে হয়তো। তবে পুরনো দিনের দুঃখগুলো ধুয়ে-মুছে নতুন বছরে নতুন পথচলা শুরু করতে চায় সবাই। নতুন স্বপ্ন বুকে নিয়ে গতদিনের ব্যর্থতাগুলো ভুলে যাওয়া হয় এই নতুন বছরেই। একজন আদর্শ মানুষ নতুন বছরের শুরুতে একটি সুন্দর পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ব্যক্তির আত্মগঠন, মানউন্নয়ন ও সফল ক্যারিয়ার গঠনে সুন্দরভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে পরিকল্পনার বিকল্প নেই। এবার বাস্তবতার নিরিখে মেধাবীদের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে। করোনার জন্য বন্ধ হওয়া সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন পরেও না খোলা হতাশাজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেলায় যে ‘ছুটি’ শব্দটি আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়া কাগজের নৌকা। এখন এই ‘ছুটি’ বিষাদের সরোবর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাজ গবেষকদের মতে, বর্তমানে সব প্রতিষ্ঠান যখন খোলা; সব কাজ-কারবার যখন দিব্যি চলছে তখন শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার কোন মানে হয় না। কারণ হতে পারে ভিন্ন কোন উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ। মূলত একটি দেশে গণতেন্ত্রর নামে ফ্যাসিবাদ শাসন যখন চলে তখন ন্যায়বিচার ও ভালো কিছু আশা করা যায় না। সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদে এ দেশের ছাত্রসমাজকে প্রায়ই সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এরই প্রতিশোধ নিতে সরকার এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে তৎপর। দেশের মানুষ শিক্ষিত ও সচেতন হলে স্বৈরাচার সরকারের ক্ষমতার খুঁটি নড়বড়ে হয়ে যায়। তাই একটি অশিক্ষিত, অকর্মণ্য ও অসচেতন জাতি তৈরি করতে দ্বিধা নেই বর্তমান সরকারের। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে জনগণের মৌলিক অধিকার তথা মত প্রকাশে স্বাধীনতার অধিকার ‘ভোট’ নিয়ে যে তামাশা ও ভাঁওতাবাজি করা হচ্ছে, তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই অগণতান্ত্রিক শক্তিকে প্রতিরোধের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে খুব শীঘ্রই। এমন স্বপ্ন দেখছেন আগামীর স্বপ্নচারী সেনানীরা।

বর্তমানে দেশে অনেকগুলোর সঙ্কটের মধ্যে চেতনা ও চেতনাবিরোধী আন্দোলন। সরকার, তথাকথিত কিছু আলেম ও প্রগতিশীলতার ধারক-বাহকরা নিজেদের ধর্মীয় স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে এদেশের ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীকে শিরকে নিমজ্জিত হতে বাধ্য করছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা ও গ্রেফতার এখন পান্তাভাতের মতো। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মামুনুল হক ও চরমোনাই পীর সৈয়দ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে গত ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর পৃথক দু’টি মামলা করা হয়। দেশের আপামর জনতার ভালোবাসায় সিক্ত আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর দীর্ঘ তিনমাস পর হত্যা মামলা দায়ের করে আহমেদ শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ স্বার্থন্বেষী কিছু আলেম। হেফাজতে ইসলামের বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ কয়েক জনের সুনির্দিষ্ট নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারের নামে অবিচারের নাট্যমঞ্চ দেশের মানুষের কাছে এখন পরিষ্কার। ইনশাআল্লাহ দেশবিরোধী ও ইসলামবিরোধী সকল অপশক্তিকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করবে এদেশের নতুন প্রজন্ম।

SHARE

Leave a Reply