সম্পাদকীয়

মাতৃভাষা মহান আল্লাহর বিশেষ দান। এ নিয়ামতের গুরুত্ব অপরিসীম। ভাষার মাধ্যমে মানুষ তার পরিচয় সাবলীলভাবে তুলে ধরতে পারে। বস্তুত মাতৃভাষা প্রত্যেক মানুষের একটি অধিকার। বেঁচে থাকার জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশের জনগণ। ইতিহাসের পথপরিক্রমায় নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে সালাম, বরকত, জব্বারের আত্মত্যাগ যেমন প্রেরণার; তেমনি এদেশের কুলি-মজুর থেকে শুরু করে ছোট-বড় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ হৃদয়ে হৃদয় মিলিয়ে যেভাবে একাগ্রতা প্রকাশ করে শত্রুর মোকাবেলা করেছিলো সেটি আরো বড় বিষয়। ভাষা আন্দোলনের সফলতার জন্য আজ আমরা কথা বলতে পারছি, লিখতে পারছি। মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে পথহারা মানুষকে সহজে তাওহিদের দিকে ডাকতে পারছি। বাংলা ভাষার অধিকার অর্জনের মাধ্যমেই আমরা ইসলামিক তাহজিব তমদ্দুন চর্চায় এগিয়ে চলেছি। যার বিপরীতে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ চক্রান্তের বিপরীতে দেশের তরুণ ছাত্রসমাজ যেমন দায়িত্বের পরিচয় দিয়েছে তেমনি আমাদের স্বকীয় সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চাওয়া কুমতলবি এসব শক্তির ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশের মহান বিজয় অর্জনে ছাত্র নেতৃত্বের যে অপরিসীম ভূমিকা ছিল তা ভুলে যাওয়া যায় না। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এদেশে অপসংস্কৃতি গ্রাস করে ফেলে দেশের তরুণদের। শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির নোংরা খেলায় নিমজ্জিত হতে থাকে ছাত্রসমাজ। নব্য জাহেলিয়াতের নগ্ন থাবায় দিশেহারা, পথহারা হয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব ও অস্তিত্বকে ভুলে গিয়ে গা ভাসিয়ে দিচ্ছিলো ধ্বংসের পথে। এই কঠিন দুর্দিনে ছাত্রসমাজের কাণ্ডারি হয়ে জন্ম নেয় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একটি সুখী সমৃদ্ধ ও ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশগঠনের জন্য সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি তাদের স্বপ্ন। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে শুরু হয় এক ঐতিহাসিক পথপরিক্রমার। ছাত্রসমাজের মূূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও নৈতিক মানদণ্ড অর্জনের জন্য অবিরামভাবে কাজ করে যাচ্ছে এই কাফেলা। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া প্রিয় কাফেলাটি ৪৪ বছরের দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে যাচ্ছে। এতদিনের বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে শিবির আজ একটি আলোকিত ও বিকশিত সংগঠন। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে; বুকে হিম্মত নিয়ে এগিয়ে চলেছে প্রেরণার এ মিছিল।

সম্প্রতি আনুশকা ও দিহানের অনৈতিক দুর্ঘটনায় দেশ ও জাতি স্তম্ভিত। অশ্লীল সংস্কৃতির ভয়াবহতা কত নিচে নামিয়েছে আমাদের সন্তানদের। লোকচক্ষুর আড়ালে এরকম কত যে দুর্ঘটনা চাপা পড়ে আছে তার ইয়ত্তা নেই। সন্তানদের জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে চরিত্রকে জলাঞ্জলি দিতে দিতে প্রগতিশীল নামধারী তথাকথিত সুশীলরা আজ নিজেরাই অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলেছে নিজেদের। ধর্মীয় শিক্ষাকে অবজ্ঞা ও গুরুত্বহীন মনে করার পাশাপাশি ছাত্রদের মাঝে তাকওয়াবান হওয়াটাকেও যারা সহ্য করতে পারেন না তাদের সমাজব্যবস্থা এই জাতিকে এর চেয়ে ভালো আর কী উপহার দিতে পারে..? মা-বাবা ও পারিবারিক উদাসীনতা এর জন্য দায়ী নয় কি..? আদর্শ মা-বাবার কর্তব্য হলো সন্তানের ব্যাপারে সতর্ক থাকা, সোচ্চার থাকা। একইসাথে সত্য ও ন্যায়ের পতাকাবাহী সচেতন ছাত্রসমাজকে জাতির এই পরিস্থিতির উত্তরণে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

SHARE

Leave a Reply