সম্পাদকীয়

১১ মে কুরআনের জন্য জীবনদানের এক অবিস্মরণীয় দিন। গতবারের মতো এবারও কুরআন নাজিলের মাস ও কুরআন দিবস একসঙ্গে অতিবাহিত করছি আমরা। প্রতি বছর কুরআনের আলোয় আলোকিত হওয়ার জন্য যেমন রমজান ফিরে আসে তেমনি কুরআন প্রতিষ্ঠার দুর্বার আন্দোলনের প্রেরণা জোগাতে ফিরে আসে ১১ মে। শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত হয় হাজারও রাশেদুল। শীষ মুহাম্মাদ বা শহীদ শাহাবুদ্দিনের অসমাপ্ত কাজের আঞ্জাম দিতে তৈরি হয় নবীন মুজাহিদেরা। এ যেন বদরের শিক্ষায় উজ্জীবিত কুরআনের কর্মীদের হার না মানার শপথ। কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় রক্ত দিয়ে কেনা এ জমিনে কুরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বিজয়ী হবেই ইনশাআল্লাহ।

বিশ্বজুড়ে ২২০ কোটি মুসলমানের হৃদয় রাঙাতে ঈদ আসে প্রতি বছর। অনুপম আনন্দের ফল্গুধারা বয়ে যায় ইসলামী সমাজের প্রত্যেক সদস্যের প্রাণে প্রাণে। ধনী-গরিব, বিত্তবান-বিত্তহীন ভুলে যায় ভেদাভেদ। সমগ্র বিশ্বের মুসলমান একই বিশ্বাস ও বিধানের অনুসারী হওয়ায় আরব-আজম, মধ্যপ্রাচ্য-দূরপ্রাচ্যের যেখানেই তাঁদের বসবাস সেখানেই আছে ঈদ। সভ্যতা-সংস্কৃতি আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত বলেই মুসলমানরা সাংস্কৃতিক একই মূল ধারার অধিকারী।

একীভূত মুসলিমদের অগ্রগতি ব্যাপক। ঊর্ধ্ব জন্মহার আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের দিক থেকে আমরা এগিয়ে চলেছি বিশে^র সর্বোচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি হওয়ার পথে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণা মতে আগামী শতাব্দীর শুরুতেই মুসলিমরা বিশে^ সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিতে পরিণত হবে। সম্ভবত এই বিষয়টিকে আঁচ করতে পেরেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে ইহুদি-খ্রিষ্টান চক্র।
অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের আড়ালে মুসলিম তরুণ-যুবকদের চরিত্র হননের সকল কার্যক্রম এখন অবাধ। বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনা প্রকোপের বিপরীতে চলমান লকডাউনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় অনিরাপদ ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা করেছে সরকার। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। নৈতিকতা নয়, অনৈতিকতাই শিক্ষার বিষয় হয়ে উঠেছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। এমতাবস্থায় ইসলামিক চিন্তাবিদদের নির্ভাবনা এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এর বিপরীতে তৎপর হওয়া ছাড়া মুহূর্ত পার করা আত্মঘাতী হবে বলে মনে করছি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে চরমভাবে আতঙ্কিত বাংলার প্রতিটি জনপদ। এর বিপরীতে সরকারের উদ্যোগসমূহ নির্মোহ যাচাই করলে রাষ্ট্রের স্বল্প চিন্তার নাগরিকরাও সহজে নির্বুদ্ধিতায় হাসবেন। সহস্রাধিক বেডের হাসপাতাল উধাও হওয়ার পর পুনরায় হাসপাতাল স্থাপন করা হলো; তবুও আইসিইউ সঙ্কটে মৃত্যুর মিছিল দৈনিক শতকের কোঠায় পৌঁছলো। আল্লাহ একমাত্র পরিত্রাণদাতা। মাহে রমাদানের শুরু থেকে অপ্রত্যাশিত এই নতুন পরীক্ষা থেকে পানাহ চায় মানুষ। স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি মানুষ যদি আত্মিক, নৈতিক ও আদর্শিকভাবে পরিচ্ছন্ন না হয় তবে মানসিক প্রশান্তি অসম্ভব। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি শারীরিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও পরিবেশগত নোংরামি থেকে বিশ^বাসীকে মুক্ত করে সুস্থ সুন্দর আবর্জনামুক্ত স্বচ্ছ মানবসমাজ গঠনে তৎপর হতে হবে আমাদেরকে।

SHARE

Leave a Reply