সম্পাদকীয়

শিক্ষা মানবজীবনের সামগ্রিক দিক ও বিভাগ উন্নত করে। এজন্যই বলা হয়ে থাকে ‘যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত।’ ১৯৬১ সালের ডিসেম্বর মাসে পৃথিবীর সব দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো দিবসটি প্রথম উদযাপন করে। পাশাপাশি বাংলাদেশেও ১৯৭২ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। নিজের নাম স্বাক্ষর করার যোগ্যতা অর্জন, নিত্যদিনের আদান-প্রদানযোগ্য সামগ্রীর সুচারু ব্যবহার ও হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা দেশ ও নাগরিক উভয় পক্ষেরই লাভ। কারণ সাক্ষরতা মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি সমাজকাঠামোর ভিত্তি, স্থিতি ও স্থায়িত্ব দান করে। বাংলাদেশে এখনো ২৬ শতাংশ মানুষ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। একটি জাতির উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া উপায় নেই। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশেও প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়। করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে সারা বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়েছে অনেক বেশি। ফলে নতুন করে ঝরে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থী। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটানো ও বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নানান সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে। উঠতি বয়সের তরুণদের ভুল পথে চালিত করার পাশাপাশি লোকদেখানো কাজের অযথা মূল্যায়ন বেড়েছে। লোকজনের সামনে প্রদর্শন করে বাহবা পাওয়া যায় এমন কাজের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে প্রতিটি অঙ্গনে, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে খানিকটা বেশিই বেড়েছে। ইসলামী আন্দোলনের বৃহত্তর লক্ষ্য যে ‘আল্লাহকে খুশি করানো’। প্রতিটি কাজের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা ও একনিষ্ঠতা যে খুবই জরুরি তা বেমালুম ভুলে যায় অনেকে। অনেকে নীরবে নিভৃতে কাজ করে আন্দোলনের গতি বৃদ্ধি করেন আবার কৌশলগত কারণে অনেকে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন না। তাদের কাজগুলোর ফলাফল অনেক বছর পর পাওয়া যায়। ফলে চক্ষুর সামনের কাজগুলো শুধু নয়, এর অন্তরালের কাজগুলোকে অদৃশ্যভাবেই সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে হবে।

বাংলাসাহিত্যের অন্যতম দিকপাল প্রফেসর ড. এবনে গোলাম সামাদ গত ১৫ আগস্ট ২০২১ রোববার এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ১৯ আগস্ট ২০২১ বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দুই আলোকিত পথিকৃতের প্রথমজন বাংলাসাহিত্য জগতের রাহবার। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে নিগূঢ় তত্ত্ব সংগ্রহ করে জাতিকে জাগ্রত করার প্রয়াসে আজীবন খিদমত করে গেছেন। দ্বিতীয়জন বাংলাদেশে অনৈক্যের বেড়াজাল ছিন্ন করে নাস্তিক-মুরতাদদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করেছেন। পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার বিস্তারে দ্বীনের দাঈ হিসেবে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমান সময়ের ঈমানী আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার ছিলেন। আল্লাহ তাঁদের উভয়কেই জান্নাতবাসী করুন। আমিন।

SHARE

Leave a Reply