সম্পাদকীয়

প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচতে চায়। নতুন করে জাগতে চায়। কিন্তু সে স্বপ্ন আজ অনেকটা অবান্তর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্বাভাবিক মৃত্যুর যেন কোনো গ্যারান্টি মিলছে না!

নাগরিক জননিরাপত্তা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। এটি এমনটি নয় যে কারো প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ নং ধারায় বলা হয়েছে- আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হইতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না। প্রত্যেক মানুষের জন্মসূত্রে জীবনের অধিকার রয়েছে। তবে সব আইনকানুন যেন এখন শুধু খাতা-কলমে। বন্দুকযুদ্ধের নামে প্রায় প্রতিদিন নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষের লাশ মিলছে নর্দমায়, ম্যানহোলে কিংবা রাস্তার পাশে। প্রথমে গুম, পরবর্তীতে অভিযানের নামে ঠাণ্ডা মাথায় নির্দয়ভাবে হত্যা করা হচ্ছে এই মানুষগুলোকে। কখনো কখনো গুম করে অস্বীকারের প্রবণতাও কম নয়। এভাবে চলতে থাকলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আমাদের বাংলাদেশ?

নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আজ অনেকটা ভুলে গিয়ে দিন দিন ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রতি ঝুঁকে পড়ছে এদেশের মানুষ। অবাধে ভিনদেশি সিরিয়ালের প্রবেশ ঘরসংসার আর পরিবারকেই শুধু ধ্বংস করছে না, ধ্বংস হচ্ছে আমাদের ইতিহাস, আমাদের সোনালি অতীত। খুব সূক্ষ্মভাবে আমাদের মূল্যবোধকে বিকৃত করা হচ্ছে। অথচ আমরা শুধু নির্বিকার হয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকায় থেকে গলাধঃকরণ করছি তাদের সেই সংস্কৃতি। আমাদের কি কিছুই করার নেই?

উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে বাংলাদেশ- এমন স্লোগানের ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের অব্যক্ত কথা। বোবা কান্না। উন্নয়নের কভারেজ দিতে দিতে মিডিয়াকর্মীরা ক্লান্ত হয়ে হয়তো ভুলে গেছেন আমজনতার কথা! কিংবা তাদের অ্যাসাইনমেন্টের তালিকায় নেয়া নিষেধ আছে। যাইহোক দেশে কি গণতন্ত্রের চর্চা আছে? ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন ভোটের মাধ্যমে গঠিত হয় এই সরকার। এই নির্বাচন শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন। ইচ্ছেঘুড়ির মতো চলছে দেশ। ফলে দিন দিন তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সঙ্কট। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা আবারও সরব হয়ে উঠছে। সবার প্রত্যাশা সকল দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ফিরে আসুক গণতন্ত্র।

“অতীতের অনুশোচনা, ভবিষৎতের রঙিন স্বপ্ন, বর্তমান পরিকল্পনাহীন জীবন বেকুবের জিন্দেগি”। দেখতে দেখতে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে চলে গেলো আরো একটি বছর। আমাদের অনুশোচনায় উঠে আসুক আমাদের বিগত প্রতিদিনের চিত্র, কর্মময় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব, নতুন দিনের স্বপ্ন এঁকে আবার নতুন করে ছড়িয়ে পড়ি দিগ-দিগন্তে।

SHARE