সম্পাদকীয়

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখার অপরাজনীতি ও ইসলামপ্রিয় তাওহিদি জনতার রক্ত বন্যার পর থেকে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি ঘৃণিত ও সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের নানা নাটক শুরু হয়েছে। মর্মান্তিক ঘটনাটির সমাধান তো দূরের কথা দেশের প্রশাসন ও সরকার নিজের হাতেই এই নাটক মঞ্চস্থ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে। সরকারি দলের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নানাভাবে অত্যাচার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের অপচেষ্টা এখনও অব্যাহত রেখেছে। হিন্দুদের অনুষ্ঠান ঘিরে মুসলিমদের উসকে দেওয়া; বরাবরের মতো এবারো ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে দেশে। কুমিল্লার ঘটনা অবশ্যই স্পর্শকাতর একটি ঘটনা। কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে মিডিয়ার কোনো নাড়াচাড়া নেই। বিপথগামী বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করার মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে আলেম-ওলামাদের হেয় করা। ঘটনার বাস্তবতা ও সত্যতা যখন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় তখন তার প্রচারণায় কোনো ভূমিকা দেখা যায় না মিডিয়া নামে কলঙ্ক হলুদ মোর্চাদের। উল্টো এসব হলুদ মোর্চা আলেম-ওলামাদের হেয় করা দায়িত্ব মনে করে পরবর্তী পদক্ষেপে নামে।

দেশের তথাকথিত সুশীলরা দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত হয়ে অহেতুক নিজেদের লাইমলাইটে আনতে বেপরোয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। নব্বই ভাগ মুসলমানের বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ইসলামকে নিজেদের তাহজিব-তমদ্দুন হিসেবে বেছে নিয়ে পথ চলছে। এতে করে কোনোদিন তাদের পারস্পরিক কষ্টবোধ তৈরি হয়নি। সাম্প্রদায়িকতার উটকো আলোচনা যারা সামনে আনছে, তারাও ব্যক্তিজীবনে ইসলামের চর্চা করে। তারপরও এজেন্ডা নিয়ে এমন উদ্ভট কাজ করছে বলে আমরা মনে করছি।

গত ২৯ শে সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের জনপ্রিয় নেতা মো: মুহিবুল্লাহকে কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে হত্যা করে। ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’-এর চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনার এক মাস পার না হতেই ক্যাম্পে অবস্থিত একটি মাদরাসায় ভোর রাতে ছয় রোহিঙ্গাকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করা হয়। এটা কি রোহিঙ্গা সঙ্কট নাকি মুসলমান নিধনের নতুন ষড়যন্ত্র? এসব সঙ্কটের শেষটা আসলে কোথায়? বিশ্বমোড়ল আর মুসলিমবিশ্ব অসহায় এসব নির্যাতিত মুসলিমের সুরক্ষায় কী করছেন? এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার যেন কেউ নেই এখন। তরুণদের আগামীকে ধোঁয়াশার চাদর থেকে বের করে আনার দায়িত্ব আমাদের সবার।

SHARE

Leave a Reply