সম্পাদকীয়

গ্যাস ছাড়া আমাদের নাগরিক জীবনের একটি দিনও অতিবাহিত করা দুরূহ। গ্যাস আমাদের প্রতিদিনের নিত্য অনুষঙ্গ। রান্নাঘর থেকে শুরু করে বড় বড় কলকারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাস ছাড়া অকল্পনীয়। আর এই সব প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা ও আমাদের দেশ উপকৃত হয়। সেক্ষেত্রে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে দেখা উচিত। গ্যাস যেহেতু আমাদের জীবনঘনিষ্ঠ সেক্ষেত্রে তাকে উপেক্ষা করে চলাও মুশকিল। হঠাৎ করে ২৩ মার্চ, ২০১৭ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জনদাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে দুই ধাপে গ্যাসের দাম বাড়ানোর নোটিশ দিয়েছে। এতে সাধারণ জনগণের নাভিশ্বাস বাড়িয়েছে বহু গুণ। এটা মূলত বিদেশি কোম্পানিকে সুবিধা দেয়ার পদক্ষেপ, এমনটি বিশ্লেষণ বিশিষ্টজনদের। এদিকে সরকারিভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী দিনে এই সঙ্কট আরো ঘনীভূত হবে।

২.
চালচলনে খ্রিষ্টান তুমি / হিন্দু তুমি সভ্যতায় /
এই তো সেই মুসলিম যাকে / ইহুদি দেখেও লজ্জা পায়।
– আল্লামা ইকবাল

সাম্প্রতিক সময়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনার নামে মুসলিম পরিবারের সদস্যদের হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবকে নিজেদের উৎসবে পরিণত করার দৃশ্য লক্ষণীয়। ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এই শ্লোগানের ব্যানারে দাঁড়িয়ে স্বীয় ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নিজস্বতাকে হারাতে বসেছে মুসলিম সম্প্রদায়। আসলে প্রকৃত উদ্দেশ্য দুনিয়াবি স্বার্থসিদ্ধির। অন্যদিকে ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রতাপে প্রভাবিত অনেকাংশে। তবে পুরোটাই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলে চালিয়ে দেয়া সমীচীন হবে কি? যার ধর্ম তারই উৎসব, নিজেকে অতিমাত্রায় অসাম্প্রদায়িকতার লেবাসে উপস্থাপন মোটেও কল্যাণীয় নয়। মুসলিম সংস্কৃতিতে তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাতের কথা উল্লেখ থাকলেও অন্য ধর্মে সেটি নেই। তাই মুসলিম তাহজিব-তমদ্দুনকে গুলিয়ে ফেললে আমাদের নৈতিক পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। ইদানীং মুসলিম পরিবারের অনেক অনুষ্ঠানেও হোলি খেলার প্রবণতা পরিলক্ষিত। মুসলিম পরিবারের পরিচয় দেয়ার পরও যারা এমন সংস্কৃতিতে সম্পৃক্ত, তাদের উচিত এই উৎসব পালনের আগে ইতিহাসের গোড়ার কথা জানা।

৩.
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লি পতি সে তো কোন ছার
[শিক্ষাগুরুর মর্যাদা- কাজী কাদের নেওয়াজ]

একজন শিক্ষক মানে জাতি গড়ার একজন কারিগর। কিন্তু এখন কি আমরা সেটা শুধু শ্লোগানে শুনবো? প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কতিপয় শিক্ষক আজ ছাত্রী যৌন হয়রানি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। যাদের কাছ থেকে নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মশুদ্ধির পাঠ নেয়ার কথা ছিলো তারা নিজেরাই আজ অন্ধকারে। যারা নিজেরা অন্ধকারে তারা কিভাবে আলোর মশাল জ্বালাবেন- সে প্রশ্ন আজ সবার? প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েও বার বার ব্যর্থ; আর এই ব্যর্থতার মূল কারণ রক্ষকই ভক্ষক। যারাই দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত তারাই আবার দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য, তারাই তদন্ত কমিটির মহারথী। শিক্ষা আজ সেবা না হয়ে বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে এক শ্রেণির অসাধু মানুষই তাদের স্বার্থ লুফে নেয়ার কাজে ব্যস্ত। দুর্নীতির শত শত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের বিধান না থাকায় দিনকে দিন এই মহামারী আরো বেড়ে চলেছে। যে শিক্ষকের কণ্ঠ দুর্নীতির বিরুদ্ধে উদ্বেলিত থাকার কথা ছিলো, তিনি নিজেই আজ এইসব অপরাধকর্মের নায়ক। আগামীর বাংলাদেশকে যারা নেতৃত্ব দেবে তাদের শুরুটা যদি এই হীনকর্মের সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাহলে আমাদের জাতিসত্তার ভিত্তিও আজ অনুমেয়। আমরা যদি সত্যিই আমাদের এই বাংলাদেশকে ভালোবাসি তাহলে ভালোবাসতে হবে আমাদের প্রজন্মকে আর দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে শিক্ষাব্যবস্থাকে। প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে শুধু আধুনিক প্রযুক্তিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ। আর সেটির জন্য প্রয়োজন ইসলামী শিক্ষানীতি। তাই শিক্ষানীতি নিয়ে রাজনীতির খেলায় না গিয়ে আমাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামীকরণ এখন সময়ের দাবি।

SHARE