সময়টাকে হাতে ধরো জীবনটাকে সফল করো

মোস্তাফিজুর রহমান আশু #

Asu-Vaiলক্ষ্য অর্জন, লক্ষ্যে পৌঁছা মানুষের জীবনের অনবদ্য ব্রতী। লক্ষ্য নির্ধারণ ছাড়া কোনো অর্জনকেই আশা করা যায় না। তাই বাস্তব জীবনকে স্বাভাবিকভাবে ভাবতে, নতুন কিছু করতে সাড়া জাগানো কিছু করতে, অবশ্যই নতুন টার্গেট নির্ধারণ করা উচিত। আর এই টার্গেট হতে পারে জীবনের সফলতার, পেশাগত সমৃদ্ধির, সাংগঠনিক লক্ষ্য অর্জনের কোনো নতুন ইউনিট। এ ছাড়া দুষ্টু বা মেধাবী কোন ছাত্রকে সংগঠনের প্রভাববলয়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যও হতে পারে। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের কিছু কৌশল আত্মস্থ করা চাই। নতুন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। অভ্যাস পরিবর্তন করা একেবারে সহজ বা একেবারে অসম্ভব নয়। মানুষ অভ্যাসের দাস নয় বরং অভ্যাসকে মানুষের দাস বানাতে হবে। এই অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য চাই দৃঢ় সিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তের ওপর অটল বা অবিচল থাকা। হতাশা নয় বরং আশাবাদী হতে হবে, স্বপ্ন দেখতে হবে, স্বপ্ন জাগাতে হবে।

লক্ষ্য কি ? What is a Goal?
A observable and measurable end result having one or more objectives to be achieved within a more or less fixed timeframe. অর্থাৎ স্বপ্ন ও দীর্ঘমেয়াদি সময়ের মধ্যে এক বা একাধিক কর্মের দৃশ্যত ও মূল্যায়নযোগ্য ফলাফলই হলো লক্ষ্য।
মানুষ শুধু একটি শরীর নয়; শরীর ও আত্মার সমষ্টি। আমরা মূলত supreme absolute এর খন্ড-বিখন্ড।

Goal Setting
লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য Smart শব্দটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। Goal setting-এর জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। প্রত্যেক Goal setting-র জন্য এই ধাপগুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তব জীবন বা প্রাত্যহিক কাজের জন্যও Smart শব্দটি বহুল আলোচিত একটি পদ্ধতি। Project এর outline তৈরির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। Smart check list এর মাধ্যমে সহজে সঠিকভাবে Goal setting করা যায়। এটি Goal setting-এর প্রতিবন্ধকতাকে পরিষ্কার করে ও বাস্তবায়নকে নিশ্চিত করে।
Smart কিভাবে কাজ করে
S= Specific (নির্দিষ্ট)
প্রকৃতপক্ষে তুমি কি অর্জন করতে চাও। এটি আরো নির্দিষ্ট করে বর্ণনা করো। ঝসধৎঃ নির্দিষ্ট করে পরবর্তী ১০ বছরে তুমি লাখপতি হবে, না কোটিপতি হবে। তুমি তোমার কাজকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে, জনশক্তির সংখ্যা কত হবে বা তোমার ক্যারিয়ারে অর্জনগুলো কী হবে, সুনির্দিষ্ট করে নির্ধারণ করা।
নির্ধারণ করার জন্য নিজেকে নি¤েœাক্ত প্রশ্নগুলো করতে হবে।
* সত্যিকার অর্থে তুমি কী অর্জন করতে চাও
* কোথায়?
* কিভাবে?
* কখন?
* কার সাথে/ কার মাধ্যমে?
* কী অবস্থা ও কী সীমাবদ্ধতা
* সত্যিকারার্থে আমি কেন এ লক্ষ্য অর্জন করতে চাই- সেটি অর্জন করার জন্য আমার সামনে কী কী বিকল্প ধরনের পথ রয়েছে?
M= Measurable  (পরিমিত)
পরিমাপ করে নির্ধারণ করা তুমি কতটুকু দেখে শুনে অর্জন করতে চাও। এটা তোমার লক্ষ্যকে সংখ্যায় ও পরিমাণে ভেঙে উপস্থাপন করে। তোমাকে আনন্দময়তার সাক্ষ্য হিসেবে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। যেমন সপ্তাহের এতোগুলো দিন তুমি সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকবে, বা সপ্তাহের এতোগুলো দিন তুমি কি ভধপবনড়ড়শ ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে। সপ্তাহে ২ দিন সুস্বাস্থ্যের জন্য তুমি কাঁচা সবজিযুক্ত খাবার খাবে। প্রতিদিন দাওয়াতি কাজে যোগ দিবে বা সপ্তাহে ২ দিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বে। সফলতার এই পরিমাণ নির্ধারণ দীর্ঘ সফলতার সময় পথ চলার জন্য সহায়ক।
A= Attainable (লভ্য)
তোমার লক্ষ্য কি বাস্তবমুখী? যা তুমি লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছ তা তোমার জন্য গ্রহণযোগ্য কিনা। তোমার যোগ্যতা, সময়, সামর্থ্য (শারীরিক আর্থিক, আনুষঙ্গিক) সাথে তোমার লক্ষ্য মানায় কিনা তা মূল্যায়ন করা। তোমার যদি অর্থ, সময়, বা যোগ্যতার সমন্বয় না ঘটে তাহলে এড়ধষ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
R= Relevant (প্রাসঙ্গিক)
তোমার লক্ষ্য অবশ্যই সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। তোমাকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে ঐ ধরনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য তোমার ব্যক্তিত্ব ও সামর্থ্যরে মধ্যে সমন্বয় হয় কি না। যদি ঐ লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোন দক্ষতা তোমার কম থাকে তবে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঐ দক্ষতা অর্জন করে ঐ লক্ষ্য অর্জনের জন্য তুমি প্রস্তুতি নিতে পার। এখানে আসল প্রশ্ন হলো ঐ লক্ষ্য কেন তুমি অর্জন করতে যাচ্ছো এবং সে লক্ষ্য তোমার উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা। এবং ঐ লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার মত কি না।
T= timely  (সময়োপযোগী)
সময়ই সম্পদ। প্রত্যেক কাজের জন্য সময় নির্ধারণ বিশেষ জরুরি। প্রত্যেকেই জানে সময়মত পরিশ্রমই সফলতা। সুতরাং তোমার কাজের জন্য সময় নির্ধারণ কর ও পরিশ্রমে ঝাঁপিয়ে পড়, লক্ষ্য তোমায় ধরা দেবেই। এই সূত্র না মানলে তোমার লক্ষ্য হবে সুদূর পরাহত। Smart+Goal= Success.
.

Goal setting  এর প্রয়োজনীয়তা
proactive I reactive একজন ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা, বিশ্ব পরিচালনা- সবার জন্যই প্রয়োজন। লক্ষ্য ছাড়া আমরা শুধুই একা। লক্ষ্য নির্ধারণ মানুষকে proactive ও reactive করে।
শুধুমাত্র Goal setting ই যথেষ্ট নয়। Goal setting হলো অর্জনের প্রথম ধাপ।

লক্ষ্য অর্জনের জন্য চাই পরিশ্রম : ভালো কিছু অর্জন করতে হলে তোমাকে অবশ্যই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে দুর্বল দিক সম্পর্কে জানা তোমার লক্ষ্য অর্জনকে সহজ করে দেবে। লক্ষ্য অর্জনের কৌশল ও কর্ম ছাড়া হয়তো তুমি জীবনের জন্য কিছু অন্ধ পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারবে। কিন্তু এই অন্ধ পরিবর্তন সফলতার জন্য সঠিক পথ নয়। সফলতা অর্জনের জন্য ‘ভাবিয়া করিতে হবে, করিয়া ভাবিলে চলবে না।’
বিজয়ী হওয়া বা লক্ষ্য অর্জনের সূত্র : যখনই তুমি কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করবে লক্ষ্য অর্জনকে সুসম্পন্ন করার জন্য লক্ষ্য অর্জনের কৌশলগুলো ব্যবহার করবে। উদাহরণস্বরূপ তুমি তোমার বিক্রি বাড়াতে চাও, যখন তুমি সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করবে, তখন শুধু লিখে রাখলে হবে না। আমি আমার বিক্রি বাড়াব এ ধরনের লক্ষ্য খুব সাধারণ।
প্রথমত (লক্ষ্যকে নির্দিষ্ট কর) আমি ৩ মাসে ২৫% বিক্রি বাড়াব। লক্ষ্য নির্দিষ্টকরণ মূল্যায়ন করা সহজ হবে। মাস শেষে মূল্যায়ন করা যাবে গত মাসের চেয়ে কী পরিমাণ বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে অথবা পায়নি।
প্রত্যেক লক্ষ্য নির্ধারণে এই সাধারণ সূত্রটি প্রয়োজন আমি (লক্ষ্য নির্দিষ্ট করব) + লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করব)
এইভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করে ও অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করে জীবনের জন্য এক বা একাধিক লক্ষ্য অর্জন করা যাবে।
লক্ষ্য + কর্ম = সফলতা
কী ঘটবে যখন তুমি লক্ষ্য অর্জনের ধাপগুলো অতিক্রম করবে? সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকার জন্য সাধারণ মানুষের চেয়ে তোমার লক্ষ্য মূল্যায়ন সহজ হবে। এবং যে কোনো সময় অর্জিত সাফল্য পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করতে পারবে ও বাস্তবভিত্তিক নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। যাতে যেকোনো সময় ছোট ছোট বিষয় লক্ষ্য অর্জন ও সফলতা নির্ধারণ ও নিজের কাজের প্রতি ও নিজের প্রতি আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে। লক্ষ্য অর্জন করতে হলে জীবনকে আরো কর্মমুখর করতে হবে আর জীবনকে কর্মমুখর করতে হলে সময়গুলো আরো ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে।
যারা একদিনে অনেক কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকে নি¤েœাক্ত কৌশলের মাধ্যমে তারা আরো বেশি আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজে কর্মক্ষমতাকে ক্রমান্বয়ে উন্নতি করতে পারবে।
সময় ব্যবস্থাপনার ১১ কৌশল
১. মূল্যায়ন করা সময়ের যথার্থ ব্যবহার। আমরা আসলে জানি না ২৪ ঘণ্টা সময় আমরা কিভাবে অতিবাহিত করি। সময় অপরিবর্তনীয় আমাদের সকলেই সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করা দরকার, আমাদের কী আছে এবং এই সময়গুলো কিভাবে কাজে লাগান যায় তার ব্যবহারটাও জরুরি।
২. খুঁজে বের করতে হবে কিভাবে সময় নষ্ট।
আমরা অধিকাংশই কাজ ছাড়া সময় নষ্ট করি। আমাদের সময় অনেক সীমিত। কিন্তু আমরা Internet ব্যবহার করে, E-mail পড়ে mobile এ অযথাই কথা বলে সময় অতিবাহিত করি।
এই নষ্ট হওয়া সময়ের উৎসগুলো খুঁজে বের করা ও যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা লক্ষ্যকে অর্জন করার জন্য জরুরি।
৩. সময় ব্যবহারে লক্ষ্য নির্ধারণ কর। মনে রাখতে হবে সময়ের যথার্থ ব্যবহার তোমার আচরণের পরিবর্তন করবে কিন্তু এ সময়কে তুমি পরিবর্তন করতে পারবে না। এর জন্য উত্তম উপায় হলো সময় অপচয় বন্ধ করা। প্রতি সপ্তাহের জন্য কিছু কাজের লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেমন:
কোনো অপ্রয়োজনীয় কল করবে না। বা কল করে অযথা সময় নষ্ট কর না বা কম সময়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ শেষ করবো অথবা নিজের ও অন্যের সময় নষ্ট করবো না, সপ্তাহ শেষে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নিজের সফলতা মূল্যায়ন করা ও পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করা।
৪. সময় ব্যবহারের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। লক্ষ্যের পরিবর্তন আচরণের পরিবর্তন করবে ও সাধারণ লক্ষ্য অর্জনকে সহজ করবে। নিজের কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেবে ও মানসিক চাপ কমাবে। সুতরাং শুধু লক্ষ্য নির্দিষ্ট করলেই হবে না, লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে অতিরিক্ত কাজও করতে হবে।
৫. সময় ব্যবহারে কৌশল প্রয়োগ। সারাদিনের কাজের একটি software program এর মতো ছক তৈরি করতে হবে। একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে তুমি কোথায় কোন সময় ব্যয় করবে। Software তোমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে কখন তোমাকে কোন কাজটি করতে হবে বা করা উচিত।
৬. গুরুত্ব অনুসারে কাজের ক্রম নির্ধারণ। Priority base কাজের ক্রম নির্ধারণ করা ও লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা। ধর, দিনের জন্য ২০টি কাজ নির্ধারণ করা হলো প্রয়োজন ও গুরুত্ব মূল্যায়ন করে।
৭. ব্যক্তি ও পরিবেশ থেকে শিক্ষা অর্জন। তোমার এটা চিন্তা করার কিছু নেই তোমার কাজ ছোট না বড়। লোকে কী বলবে এ বিষয়ে থেকে নিজেকে ফেরানো, তুমি তোমার জন্য যে কাজকে ভালো মনে কর আন্তরিকতা দিয়ে সেই কাজ সম্পন্ন কর। প্রকৃতপক্ষে তুমি তোমার নিজের কাজের ব্যাপারে আন্তরিক হও।
৮. Routine তৈরি করা ও যতটা সম্ভব মানার জন্য চেষ্টা করা। যখন তুমি নিয়ম মানতে পারবে তখন তোমার কাজ ও সফলতা দুটোই বৃদ্ধি পাবে।
৯. কাজের জন্য সময় নির্ধারণ। যদি তুমি মোবাইল, ফেসবুক, গেমস নিয়ে বস, সারা দিন চলে যাবে। এ ক্ষেত্রে দিনের মধ্যে আধা ঘণ্টা এসব কাজের জন্য নির্ধারণ কর ও কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য চেষ্টা কর।
১০. নিশ্চিত কর পদ্ধতি যাতে গঠনমূলক হয়। তুমি কি Computer এর পেছনে অনেক সময় নষ্ট কর?  File management system এর জন্য সময় নির্ধারণ কর। Filing system এর মধ্যে নির্ধারিত থাকবে তুমি কী করবে। পুনরায় মূল্যায়ন কর। তোমার প্রয়োজনীয় বিষয়টি কিভাবে আয়ত্ত করতে পারবে। File setting এর জন্য বেশি পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করবে।
১১. সময় নষ্ট করবে না। কখনই সময় নষ্ট করবে না। এবং সময় নষ্ট থেকে বাঁচার জন্য check look ব্যবহার করা যেতে পারে। Technology এই কাজগুলোকে সহজ করে দিয়েছে। তোমার মোবাইল ফোন, ট্যাব তোমাকে এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারে।
সময় যেহেতু অনেক মূল্যবান, লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র মাধ্যম, তাই সময় বাঁচানোর কৌশল আয়ত্ত করা বিশেষ জরুরি।

সময় বাঁচানোর অসংখ্য কৌশল আছে। এর মধ্যে ১০টি সময় বাঁচানোর কৌশল আলোচনা করা হলো।
১. প্রত্যেকটি জিনিস তার নির্দিষ্ট স্থানে রাখ। ঘরের চাবি বা গাড়ির চাবি টেবিলে বা ড্রয়ারে রাখ ও কাজ শেষ করে আবার ঐ একই জায়গায় রেখে দাও। তাহলে চাবি খোঁজার জন্য তোমার অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হবে না। ঠিক একইভাবে অন্যান্য বিষয়গুলো সংরক্ষণ করা যায়।
২. কখনো এক সাথে একাধিক কাজ করবে না (Don’t multitask) এটি অধিকাংশ লোকের সময় নষ্ট করার অন্যতম কারণ। একদল আমেরিকান গবেষকের গবেষণার ফলাফলে পাওয়া যায়। Multitasking-এর জন্য ৪০% Productivity কমে যায় কারণ হিসেবে দেখান হয় এক কাজ শেষ না করেই অন্য কাজ শুরু করলে নতুন কাজের জন্য mentality তৈরি হয়ে কাজ শুরু করতে অনেকটা সময় নেয় যা কাজের ফলাফলকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
৩. একটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার কর এবং সেখানে তোমার কী করা দরকার লিখে রাখ এবং কখন করতে হবে তাও লিখে রাখ। এটা খুব কঠিন নয় তুমি তোমার কাজগুলো electronic calendar বা কাগজে লিখে রাখবে। যদি তুমি এটা মানতে পার তাহলে তুমি একটির পর একটি কাজ সুন্দরভাবে শেষ করতে পারবে। এটি দু’টি উদ্দেশ্য পূরণ করবে (১) গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ বাদ পড়বে না, (২) তালিকার সব কাজ করতে পারবে। ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা (অথবা smart phone apps ব্যবহার)-তোমার আগের দিনের ও পরের দিনের কাজের সফলতার সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশ করবে।
৪. সফলতার জন্য বারবার চেষ্টা করা। আমরা অবলীলায় অনেক সময় নষ্ট করি। একটি কাজকে নির্দিষ্ট করা ও শেষ করা, এরপর অন্য কাজ শুরু করা যথাসময়ে অনেক কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। পূর্বের সফলতা পর্যালোচনা করে ও তোমার মনোযোগ বৃদ্ধি করে তুমি তোমার কাজের যোগ্যতাকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করতে পার।
৫. বদঅভ্যাস বন্ধ কর। বদঅভ্যাস তোমার নিজের শত্রু। কী ধরনের তোমার বদঅভ্যাস আছে এবং তার জন্য কী ক্ষতি হচ্ছে তা মূল্যায়ন কর এবং overcome করার জন্য চেষ্টা কর। বিভিন্ন ধরনের ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সৌন্দযের্র স্বাদ আস্বাদন কর। এটি শুধু তোমার ছোট ছোট সময় বাঁচাবে তাই নয় তোমার নিজেকেও অন্যের সামনে সহজ করে তুলবে।
৬. কী ধরনের কাজ করবে তার পরিকল্পনা কর এবং তোমার পছন্দকে নির্ধারণ কর।
অনেক ধরনের কাজের মধ্যে তুমি কোন ধরনের কাজকে পছন্দ কর তা নির্ধারণ কর।
৭. রুটিন মেনে চলাকে ভালোবাসতে শেখ। রুটিন সময়কে যথাযথ ব্যবহারের একটি উত্তম হাতিয়ার। উদাহরণস্বরূপ একজন ব্যক্তি প্রতিদিন সন্ধ্যায় Coffee shop-এ যায় এবং নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করে ফিরে আসে। রুটিন কাজকে গতিশীল করে নতুন কিছু অন্বেষণের পথকে সুগম করে। এবং এটা একটার পর একটা নুতন চিন্তাকে সন্নিবেশ করার সুযোগ তৈরি করে।
৮. সময়ের ক্রমোন্নত ব্যবহারকে প্রাত্যহিক কাজের অংশ হিসেবে তৈরি কর। সময়ের যথার্থ ব্যবহারের গতিকে দিন দিন বৃদ্ধি করতে থাক। এটা যেন তোমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে যে তোমার নিজের পরিবার ও সমাজের জন্য এটি করা প্রয়োজন।
৯. তোমার ব্যক্তিগত সময় নষ্টের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত কর ও দূর করার চেষ্টা কর। কেউ যদি প্রতিদিন সকাল ঘুমের জন্য ৪৫ মিনিট নষ্ট করে ৫ মিনিট কমানোর জন্য নরম বিছানার পরিবর্তে শক্ত বিছানার ব্যবহার শুরু করা উচিত। এভাবে এক সময় সে ঐ নষ্ট করা সময়গুলো কাজে লাগাতে শিখবে। তার সাথে (ll time management tips) প্রয়োগ করার জন্য চেষ্টা করবে।
১০. বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপমুক্ত থাকা। আমরা স্বাভাবিকভাবে আমাদের জীবনের ২০টি বছর সফলতার সাথে অতিক্রম করি কিন্তু আমরা যদি পেছনের দিকে লক্ষ করি, দেখা যাবে আমরা ভুল পথে অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছি, যা চিন্তা করতে গেলে আমাদের মাঝে অনেক হতাশা আসবে। কিন্তু আমাদের ঐ হতাশাকে দূরে ঠেলে সামনের পথে চলতে হবে। এবং এখান থেকেই জীবন গড়ার জন্য কাজ শুরু করতে হবে। সময় বাঁচানো স্বাস্থ্য বাঁচানোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এটা মনে রেখে আমাদের কাজ করতে হবে
আমরা যদি সময়ের ছকে জীবনটাকে বাঁধতে পারি সফলতার সুখ পাখিটা আমাদের হাতে ধরা দেবেই ইনশাআল্লাহ।

লেখক : সাবেক কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply